লঙ্কান সাগরে রহস্যময় সাবমেরিন হামলা: ইরানি জাহাজডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৯:১০:২৯
লঙ্কান সাগরে রহস্যময় সাবমেরিন হামলা: ইরানি জাহাজডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কা উপকূলের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি ইরানি জাহাজে ভয়াবহ সাবমেরিন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লঙ্কান নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলার পর জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত ১০১ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি দ্রুত ডুবতে শুরু করলে লঙ্কান নৌবাহিনী বুধবার সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধারকৃত আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক দল নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা আরোহীদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে দেশটির সামরিক বাহিনী জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই সাবমেরিন হামলাটি ঠিক কারা চালিয়েছে বা হামলাকারী সাবমেরিনটি কোন দেশের, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জাহাজটি ডুবতে শুরু করার আগে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার গলে উপকূল অভিমুখে জরুরি বিপদসংকেত (Distress Signal) পাঠায়। এই সংকেত পাওয়ার পরপরই লঙ্কান কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযানে নামে। মাঝ সমুদ্রে এমন রহস্যময় সাবমেরিন হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-সীমায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স


ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আইআরজিসি-র সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:৪৭:১৭
ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আইআরজিসি-র সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র নৌ শাখা। বুধবার ভোরে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গভীরে ভারত মহাসাগরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি অবস্থান করছিল। ওই সময় একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার জাহাজ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘কদর-৩৬০’ এবং ‘তালাইয়েহ’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানি বাহিনী দাবি করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কার—উভয় জাহাজেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সমুদ্রের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি সামরিক বাহিনী এই অভিযানকে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ইরানবিরোধী মার্কিন ও জায়নবাদী শক্তির অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি একটি চূড়ান্ত ও দাঁতভাঙা জবাব। ভারত মহাসাগরে সরাসরি মার্কিন রণতরীতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনায় একটি নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ


ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:২৯:০৬
ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার (৪ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। কার্নি উল্লেখ করেন যে, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই চালানো হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বা কোনো মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আগাম আলোচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানান মার্ক কার্নি।

অন্যদিকে, ইরানে এই হামলার স্বপক্ষে বাইডেন প্রশাসনের কোনো জোরালো যুক্তি নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আয়োজিত এক ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি তৈরি করছিল—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আইনপ্রণেতাদের দেওয়া হয়নি। ফলে এই হামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এদিকে, এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

/আশিক


ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:৩৩:২৭
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার একতরফা ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে এ সপ্তাহেই এক দ্বিদলীয় প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক অধিকার সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে এই প্রচেষ্টা সফল করা অত্যন্ত দুরূহ ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে।

সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপিটল হিলের এই উদ্যোগে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের বড় অংশের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রতিনিধিও সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েলে পরিচালিত হামলার প্রেক্ষাপটেই এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনারা হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বিলটি যদি কংগ্রেসে পাস হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার আগে আইনসভার অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকবেন। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে কংগ্রেসের হারানো ভূমিকা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনগত পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১১:৪১:০৪
নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে সিআইএর স্টেশনে ড্রোন হামলা।/ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে গত সোমবার এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র (CIA) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অবস্থিত। বুধবার (৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই ড্রোনটি সম্ভবত ইরান থেকেই ছোড়া হয়েছিল। যদিও সিআইএ স্টেশনটিই এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে সিআইএ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত শনিবার থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলার ফলে মার্কিন দূতাবাসের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সিআইএ স্টেশনটি সরাসরি আক্রান্ত না হলেও দূতাবাসের ভেতরে এর অবস্থান হওয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলার উৎস ও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় এই ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে কোনো স্থানই হামলার আওতামুক্ত নয়। ইরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব জায়গাতেই আঘাত হানবে, যার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের এত কাছে হামলা চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী, জটিল এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স


 বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:০৩:১৪
 বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ‘এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না’।

কেপলারের তথ্যমতে, প্রতিদিন সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এরই মধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মূলত এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি এলএনজি ঘাটতি রয়েছে এবং সীমিত মজুতের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। ভারতও তাদের এলএনজি আমদানির ৫৩ শতাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কাতার সোমবার তাদের প্রধান দুটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ড্রোন হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হওয়ায় তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যদিও চীনের কাছে ৭.৬ মিলিয়ন টন এলএনজি মজুত রয়েছে, তবে সংকট দীর্ঘ হলে তাদের আটলান্টিক কার্গোর জন্য ইউরোপের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

অন্যদিকে, জাপানের মোট তেল আমদানির ৭৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই দুই দেশের কাছে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের এলএনজি মজুত থাকলেও জ্বালানির দাম বাড়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো উচ্চ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নোমুরা।

/আশিক


পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ০৯:১১:২৫
পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরই মেজ ছেলে মুজতবা খামেনি। বুধবার (৩ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর ব্যাপক চাপে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মুজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন পরবর্তী নেতা, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা চলছিল, মুজতবার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত বিদায়ী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স। খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান এবং শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। মাশহাদের বিখ্যাত ‘ইমাম রেজা মাজার’ প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই একই মাজারে খামেনির বাবাও সমাহিত রয়েছেন। মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

মুজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। আইআরজিসি-র সঙ্গে তাঁর গভীর সুসম্পর্কের কারণেই বিশেষজ্ঞ পরিষদ এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান যখন এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নতুন নেতার এই অভিষেক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তেহরানে মুজতবা খামেনির নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

/আশিক


ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ২১:৫৯:৪৫
ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জোরালো অভিযোগ তোলা হলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিদর্শকরা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ‘সমন্বিত’ বা ‘পদ্ধতিগত’ কর্মসূচির প্রমাণ পাননি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান, তেহরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কাঠামোবদ্ধ উপাদানের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তবে গ্রোসি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরান ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণ বেসামরিক জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও পরিদর্শকরা এটি নিশ্চিত করতে পারেননি যে ইরান সরাসরি বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, তবুও এই বিপুল পরিমাণ মজুত আন্তর্জাতিক মহলে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধকরণই বর্তমানে আইএইএ-র উদ্বেগের প্রধান কারণ, কারণ এই মাত্রায় উপাদান জমা করার পেছনে কোনো ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গ্রোসি আরও জানান, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্রমাগত ইউরেনিয়ামের উপাদান উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে এই মজুত ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হতে পারত। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে বাস্তবে এমন কোনো অস্ত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলে উত্তর দিয়েছেন। আইএইএ মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলো।

/আশিক


পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ২১:৪৬:৫৮
পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আংশিক লক্ষ্য অর্জন করলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা আছে; হয় খামেনির মৃত্যুকে চূড়ান্ত বিজয় ধরে যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা, নতুবা শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে আক্রমণের মাত্রা দ্বিগুণ করা। সম্প্রতি ট্রাম্প এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পেন্টাগনের কমান্ডাররা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সামরিক শক্তি দিয়ে বড়জোর এক বা দুই সপ্তাহ যুদ্ধ চালানো সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে খোদ পেন্টাগনের ভেতরেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই যুদ্ধকে বিশ্লেষকরা একটি ‘অসম যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে মিলিয়ন ডলারের দামী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীন সমরকৌশল অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছে, কারণ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক হারে ফুরিয়ে আসছে। ইরানের বহুমাত্রিক আক্রমণের কৌশল এবং উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধে জেতা মানেই হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। কিন্তু ইরানের জন্য টিকে থাকাই হলো তাদের বিজয়। আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের বিভিন্ন অংশকে দুর্বল করলেও স্থলভাগে বিদ্রোহ বা গৃহযুদ্ধ শুরু না হলে শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা তেহরানের জন্য কঠিন হবে না। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে মার্কিন জনগণের সমর্থন হারানোর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে, আর সেই সীমা পর্যন্ত ইরান যদি টিকে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

(লেখক: ডমিনিক ওয়াগহর্ন, স্কাই নিউজের আন্তর্জাতিক বিভাগের সম্পাদক)


খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৯:৫১:২১
খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বা মিসইনফরমেশন।

তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, খামেনির কথিত মরুভূমিতে অবস্থানের ছবিটি বর্তমান সময়ের কোনো ঘটনা নয়। মূলত এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি, যার সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো নূন্যতম সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণেও তাঁর জীবিত থাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিছক ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। খামেনির মৃত্যুর খবরটি যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তখন এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। উল্লেখ্য যে, ইরান গত শনিবার এই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই পথে চলাচল স্থগিত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করে এবং চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় দেশটি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: