তারেক রহমানের নির্দেশে ফেনীতে যুবদলের বন্যার্ত সহায়তা অভিযান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৫ ১৫:০৩:১৫
তারেক রহমানের নির্দেশে ফেনীতে যুবদলের বন্যার্ত সহায়তা অভিযান

ফেনী জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া এই তিনটি বন্যা কবলিত উপজেলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ফেনী জেলা যুবদল। সোমবার একাধিক স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে বন্যার্তদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে শুধু সহমর্মিতা নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও সচেতন প্রতিরোধের বার্তাও তুলে ধরেন নেতারা।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইমরান মজুমদার মিশু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কুদ্দুস, শামসুল আলম রানা, ঢাকার যুবদল নেতা জুলহাস উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবদল সবসময় দেশের মানুষের পাশে থেকে সংকটে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। ফেনী-১ আসন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বিএনপির আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন, “দেশজুড়ে একটি ষড়যন্ত্র চলছে—বিএনপির জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তিকে ভয় পেয়ে একটি মহল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন বানচাল ও অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে যুবদলকে জনগণের পাশে আরও সক্রিয় হতে হবে।”

বক্তারা বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি তোলেন। তারা বলেন, “বিগত সরকার বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বরং বাঁধ নিয়ে দুর্নীতিতে লিপ্ত থেকেছে। এখন সময় এসেছে টেকসই পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার। প্রতিটি দুর্যোগেই প্রমাণ হয়েছে—শুধু বিএনপি ও যুবদলই নয়, পুরো জাতীয়তাবাদী শক্তি মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিনটি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ জন পরিবারের মাঝে উপহারসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মোট তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি বেলাল, আমজাদ হোসেন সুমন, আতিকুর রহমান মামুন, ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম, পরশুরাম যুবদলের আহ্বায়ক শাকিল, জহিরুল ইসলাম জহিরসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

বক্তব্যে তারা বারবার উল্লেখ করেন, “জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকাটাই বিএনপির রাজনীতি”—এই নীতি অনুসরণ করেই তারা মাঠে রয়েছেন এবং থাকবেন।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:৪৯:৫৯
নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান
নেতাদের সাথে তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের প্রতি সাংগঠনিক স্বীকৃতি দিতে নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার সফরসঙ্গী হিসেবে পর্যায়ক্রমে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-এ অবস্থিত বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে দলের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা যে অনন্য ও অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন, তা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের ত্যাগ ও ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানের প্রতিটি সফরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠনের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং নির্বাচনি প্রচারে সাংগঠনিক ঐক্য ও উদ্দীপনা বাড়বে বলে দলটি আশা করছে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আসন্ন সিলেট সফরে কয়েকজন তরুণ ও তৃণমূল নেতা তার সঙ্গে থাকবেন। তারা হলেন—আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রকিবুল ইসলাম রাকিব। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই তালিকা বাছাই করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী তারেক রহমানের সিলেট সফরের মধ্য দিয়েই বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে গভীর রাতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

ড. মাহদী আমিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব রাজনৈতিক দল ইতিবাচক ও সহনশীল মনোভাব নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবে এবং আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সে লক্ষ্যে দলটি শান্তিপূর্ণ প্রচারণা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচনি প্রচারণার সূচনালগ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্বাচনি থিম সং উন্মোচন করা হবে। আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে, অর্থাৎ ২২ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে, ঢাকার লেকশোর হোটেলে থিম সংটি উদ্বোধন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

-রফিক


কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:২১:২৫
কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ২৫৯টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দলটির প্যাডে প্রকাশিত এই তালিকায় সারাদেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে এই তালিকাকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড়-২ আসনে মো. কামরুল হাসান প্রধান, ঠাকুরগাঁও-১ মো. খাদেমুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ মো. রেজাউল করীম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. আল আমিন, দিনাজপুর-১ অ্যাডভোকেট মো. চাঁন মিঞা, দিনাজপুর-২ হা. মাও. মুহা. রেদওয়ানুল করীম রাবিদ, দিনাজপুর-৩ অধ্যক্ষ মুফতি মুহা. খাইরুজ্জামান, দিনাজপুর-৪ মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভী, দিনাজপুর-৬ ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী-১ মুহামাদ আব্দুল জলিল, নীলফামারী-২ অ্যাডভোকেট হা. মাও. হাছিবুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, নীলফামারী-৪ মো. শহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ মুফতি মুহা. ফজলুল করীম শাহারিয়া, লালমনিরহাট-২ মুফতি মো. মাহফুজুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-১ আসনে এ টি এম গোলাম মোস্তফা।

রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনে প্রার্থী হিসেবে আছেন রংপুর-২ মাওলানা মো. আশরাফ আলী, রংপুর-৩ মো. আমিরুজ্জামান পিয়াল, রংপুর-৪ মুহাম্মদ জাহিদ হোসেন, রংপুর-৫ অধ্যক্ষ মো. গোলজার হোসেন, রংপুর-৬ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, কুড়িগ্রাম-১ মুহাম্মদ হারিসুল বারী, কুড়িগ্রাম-২ মুহাম্মদ নুর বখত, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাছ আলী সরকার, কুড়িগ্রাম-৪ অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ মুহাম্মদ রমজান আলী, গাইবান্ধা-২ প্রভাষক মুহা. আব্দুল মাজেদ, গাইবান্ধা-৩ এ টি এম আওলাদ হোসেন, গাইবান্ধা-৪ সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন এবং গাইবান্ধা-৫ অ্যাডভোকেট মো. আজিজুল ইসলাম।

রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-১ এ বি এ মোস্তফা কামাল পাশা, বগুড়া-২ অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, বগুড়া-৩ মুহা. শাহজাহান আলী তালুকদার, বগুড়া-৪ মাওলানা মুহা. ইদ্রিস আলী, বগুড়া-৫ মীর মুহা. মাহমুদুর রহমান (চুন্নু), বগুড়া-৬ আ ন ম মামুনুর রশিদ, বগুড়া-৭ প্রভাষক মুহা. শফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. মনিরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ডা. মো. ইব্রাহীম খলীল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ-১ মাওলানা আব্দুল হক শাহ, নওগাঁ-৩ মুফতি নাসির বিন আছগর, নওগাঁ-৪ মাওলানা সোহরাব হোসেন, নওগাঁ-৫ মাওলানা আব্দুর রহমান এবং নওগাঁ-৬ মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

খুলনা, বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন খুলনা-১ মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ মুফতি আমানুল্লাহ, খুলনা-৩ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৪ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখ, খুলনা-৬ হাফেজ মুহাম্মদ আছাদুল্লাহ আল-গালিব, সাতক্ষীরা-১ মাওলানা রেজাউল করীম, সাতক্ষীরা-২ মুফতি রবীউল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৩ কাজী মো. ওয়েজ কুরনী, সাতক্ষীরা-৪ মোস্তফা আল মামুন মনির, বরগুনা-১ মাওলানা মাহমুদুল হাসান উলীউল্লাহ, বরগুনা-২ মুফতি মিজানুর রহমান, পটুয়াখালী-১ মো. ফিরোজ আলম, পটুয়াখালী-২ মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী, পটুয়াখালী-৩ মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী, পটুয়াখালী-৪ ডা. অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, ভোলা-১ মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা, ভোলা-৩ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন এবং ভোলা-৪ আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন।

ঢাকা ও মধ্যাঞ্চলে দলটির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-২ হাফেজ মাও. মুফতি জহিরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ সুলতান আহমদ খাঁন, ঢাকা-৪ মাও. সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আন মাদানী, ঢাকা-৫ মো. ইবরাহীম খলিল, ঢাকা-৭ আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ঢাকা-৯ শাহ ইফতেখার আহসান তারিক, ঢাকা-১০ আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ঢাকা-১১ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-১২ মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোমতাজী, ঢাকা-১৪ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ, ঢাকা-১৬ প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ আনসারী, ঢাকা-১৮ আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা-১৯ মুহাম্মদ ফারুক খান।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম-১ অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, চট্টগ্রাম-৩ প্রভাষক আমজাদ হোসেন, চট্টগ্রাম-৪ মো. দিদারুল মাওলা, চট্টগ্রাম-৫ মুফতি মতিউল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম-৭ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হারুন, চট্টগ্রাম-৮ মুহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-৯ অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কর (মাহমুদ), চট্টগ্রাম-১০ জান্নাতুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১১ মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ এস এম বেলাল নুর আজিজী, চট্টগ্রাম-১৪ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, চট্টগ্রাম-১৫ শরীফুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ হাফেজ রুহুল্লাহ, কক্সবাজার-১ মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী, কক্সবাজার-২ মাওলানা জিয়াউল হক, কক্সবাজার-৩ মাওলানা আমিরুল ইসলাম মীর, কক্সবাজার-৪ হাফেজ নুরুল হক, খাগড়াছড়ি মাওলানা কাউসার আজিজী, রাঙ্গামাটি জসীম উদ্দিন এবং বান্দরবান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং সে সময় ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা বৈধতা এবং পারস্পরিক সম্মান ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কয়েকটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে শেষ পর্যন্ত ২৫৯ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

-রফিক


জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১২:০৫:৪১
জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতিভিত্তিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি মঙ্গলবার তাদের বহুল আলোচিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ আয়োজন করে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসংক্রান্ত নীতিগত রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কর ও ভ্যাট সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা

পলিসি সামিটে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে চায়। নেতারা বলেন, প্রশাসন, অর্থনীতি ও সেবাখাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই অবস্থানের অংশ হিসেবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব কাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান উচ্চ করহার বিনিয়োগ ও উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই ধাপে ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে করহার ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দলটির মতে, এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং করজালের পরিধি বাড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর

সামিটে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তাকে একীভূত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। দলটির দাবি, এতে ভাতা ও সামাজিক সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

শিল্প ও শ্রমখাতে পরিকল্পনা

শিল্পখাত নিয়ে ঘোষিত নীতির মধ্যে অন্যতম হলো আগামী তিন বছরে শিল্পকারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি না করার অঙ্গীকার। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালুর জন্য পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব হলো, পুনরায় চালু হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা। দলটির মতে, এতে শ্রমিকদের অংশীদারত্ব বাড়বে এবং শিল্পে উৎপাদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা জোরদার হবে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদমুক্ত ঋণ

কৃষিখাতে জামায়াতে ইসলামী সুদবিহীন অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা চালু করা হবে, যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং কৃষক ন্যায্য আয়ের সুযোগ পান। দলটির মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে না।

তরুণ ও শিক্ষাখাতে বড় অঙ্গীকার

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো সামিটের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। দলটি জানিয়েছে, স্নাতক সম্পন্ন করার পর চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে, যা ‘কর্জে হাসানা’ নীতির আওতায় পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত পরিকল্পনা

নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যা উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে দাবি করা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে দলটি জানিয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিক এবং পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি

ঘোষিত নীতিতে ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মা ও শিশুর পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার অঙ্গীকার করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। আদর্শিক অবস্থানের পাশাপাশি দলটি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নির্দিষ্ট ও সংখ্যাভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নীতিভিত্তিক রাজনীতির ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসব প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমতের ওপর নির্ভর করবে।

-রাফসান


ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৫৯:৩৩
ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক দর্শন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি ক্ষমতার মোহে নয় বরং দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যেই রাজনীতি করছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কড়াইল বস্তিবাসী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তারেক রহমান নিজেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে পরিচয়ের চেয়ে ‘জনগণের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে উল্লেখ করেন।

কড়াইল বস্তিবাসীর আবাসন সংকট নিরসনে এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে কড়াইল বস্তির বর্তমান কাঁচা ঘরগুলোর পরিবর্তে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুপরিসর ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হবে এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাট সংশ্লিষ্ট বাসিন্দার নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হবে। বর্তমানে বস্তিবাসী যে মানবেতর কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন, তা পর্যায়ক্রমে দূর করার অঙ্গীকার করেন তিনি। রাজধানীর এই বৃহত্তম বস্তিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বসবাস করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান সেখানে একটি আধুনিক ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

শিক্ষার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমরা চাই আপনাদের সন্তানেরা বিদেশি ভাষায় কথা বলতে শিখুক এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা পাক।" এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণআন্দোলনে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

একই দিনে সন্ধ্যায় বনানীতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আরেকটি দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারেক রহমান। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটিসহ বিভিন্ন ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক করুণ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। তারেক রহমান জানান, এক সময় তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন এবং সেই বাড়িটি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি আজও ভুলতে পারেননি। নিজের ভিটেমাটি হারানোর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের গৃহহীন থাকার কষ্ট অনুভব করেন এবং সে কারণেই কড়াইলবাসীর জন্য স্থায়ী আবাসনের স্বপ্ন দেখছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান, যার মধ্যেই এই কড়াইল বস্তি এলাকাটি অন্তর্ভুক্ত। এই নির্বাচনি প্রচারণার সময় কোনো ধরণের ষড়যন্ত্র হতে পারে কি না, সে বিষয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনি ব্যস্ততার মাঝেই মঙ্গলবার কূটনৈতিক তৎপরতায় সরব ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। রাজধানীর গুলশানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং নর্ডিক অঞ্চলের দেশ সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা পৃথকভাবে তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান যে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ উন্নয়ন রূপরেখা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রদূতরা মনে করছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘ডেমোক্র্যাটিক ট্রানজেকশন’ বা গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার যে সুযোগ পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও অত্যন্ত আশাবাদী বলে বৈঠকে উঠে আসে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৪১:০৯
ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ পর্যায়ে শুরু হচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথেই প্রার্থীরা শুরু করবেন তাঁদের কাঙ্ক্ষিত প্রচারণা, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চলমান থাকবে। তবে প্রতীক বরাদ্দের এই দিনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি উপেক্ষা করে এখনো প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় ঐক্যে বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি করেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও বিএনপির জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৯২টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জন্য প্রার্থিতা দিলেও তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৮৯টি আসনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হলো ৫০টি আসনে ঝুলে থাকা ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে ঢাকা-১২ আসনে জোটসঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে সমর্থন দেওয়া হলেও সেখানে নির্বাচন করছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। একইভাবে ঢাকা-৭ আসনে ইশহাক সরকার, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে হাসান মামুন এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ ও ৩, চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬, সিলেট-৫, নাটোর-১ এবং ময়মনসিংহের একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই উপস্থিতি নির্বাচনি ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। ২১ জানুয়ারির আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই দলগুলো নিয়ম ভঙ্গ করায় গতকাল মঙ্গলবার দলগুলোর প্রধানদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসি। পাশাপাশি, নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিবেচনা করে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থী (গাজীপুর-১ আসনের মজিবুর রহমান) এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের সাতজন নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নিরাপত্তা তালিকায় থাকা অন্য জামায়াত নেতারা হলেন—ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ ‘পোস্টাল ব্যালট’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিফ্রিংকালে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে কমিশনের "১২টা বাজিয়ে দেওয়া হচ্ছিল"। ১২২টি দেশের প্রবাসীদের জন্য এই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য উপস্থাপনের কারণেই মানুষ সত্য জানতে পারছে। সিইসি’র মতে, বিদেশি বিভিন্ন কালচার ও পোস্টাল আইনের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আজ প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন এই ধরণের ডিজিটাল অপপ্রচার রোধ করাই কমিশনের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৯:০৪:৫৩
আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও তেজস্বী বক্তব্য প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুবকদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে।” তিনি মনে করেন, কেবল একটি শাসনের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে হলে যুবকদের সেই অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে ময়দানে টিকে থাকতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের সামনে অনেক বড় বড় আশা ও সম্ভাবনা জেগেছে এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নতুন রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব।

দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে জামায়াত আমির এক নতুন ধারণার অবতারণা করেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কেবল আর্থিক রেমিট্যান্সই নয়, বরং দেশের কল্যাণে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স’ বা মেধা ও মেধা-ভিত্তিক সহযোগিতাও প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যদি সামগ্রিকভাবে ভালো না থাকে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে ভালো থাকতে পারবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দেশের ভেতর ও বাইরে থাকা সকল মেধাবীদের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ও আর্থিক অংশগ্রহণকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন।

তরুণ প্রজন্মের সফল গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের কাজ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা স্বৈরাচারী শাসককে সরাতে সফল হলেও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা ‘স্বৈরাচারী মানসিকতা’ এখনো বিদায় নেয়নি। এই মানসিকতা দূর করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে যখন দেশের প্রতিটি স্তরে স্বৈরাচারী চিন্তাচেতনার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এজন্য তিনি যুবকদের আদর্শিক ও নৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত সুস্পষ্ট এক শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে শিক্ষা হবে ‘নৈতিকতাভিত্তিক’ এবং একই সাথে অত্যন্ত ‘প্রফেশনাল’ বা পেশাদার। তিনি মনে করেন, শিক্ষার লক্ষ্য যদি সঠিক না থাকে, তবে সত্যিকারের শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা অসম্ভব। বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “এমন এক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে যেখানে কোনো ব্যক্তির সামাজিক প্রভাব বা অবস্থান দেখে বিচার হবে না।” ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের সব ধরণের অন্যায় ও অবিচার এমনিতেই দূর হয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পলিসি সামিটের এই সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমান মূলত একটি আদর্শিক, মেধাবী ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নই দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরলেন।


বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:৩৬:২১
বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
হাত নাড়িয়ে অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: নিউজ টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর বৃহত্তম শ্রমজীবী মানুষের আবাসস্থল কড়াইল বস্তিবাসীদের যেকোনো আপদ-বিপদে পাশে থাকার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২০ জানুয়ারি) মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কড়াইলবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। এই বিশেষ মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও। দীর্ঘ সময় ধরে কড়াইলবাসীর আবাসন ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের এই সফর ও ঘোষণা বস্তিবাসীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বিএনপি যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়, তবে কড়াইলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

দোয়া ও মোনাজাতের পূর্বে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তারেক রহমান তাঁর দলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যেই মা-বোনদের ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা বেগম খালেদা জিয়া করে দিয়েছিলেন, সেই মা-বোনদের আমরা এবার অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে চাই।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি কড়াইলবাসীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে রাজনৈতিক এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ আস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, সবকিছুই রব্বুল আলামিনের রহমতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যদি তৌফিক দান করেন এবং দয়া করেন, তবেই জনসেবার এই কাজে সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল কড়াইলবাসীর আবাসন সমস্যা সমাধান নিয়ে তাঁর সাহসী ঘোষণা। তারেক রহমান বস্তিবাসীদের বর্তমান মানবেতর জীবনযাপনের কষ্ট স্বীকার করে বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আল্লাহ সুযোগ দিলে আপনাদের যে থাকার কষ্ট করছেন, সেই কষ্ট ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই।” তিনি এই জনপদে ঘিঞ্জি ঝুপড়ি ঘরের বদলে সুউচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি ছিল ফ্ল্যাটের মালিকানা সংক্রান্ত; তারেক রহমান ঘোষণা করেন যে, নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো এখানকার বসবাসরত মানুষের নামেই সরাসরি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে নয়, বরং ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক হিসেবে কড়াইলবাসী সেখানে বসবাসের অধিকার পাবেন।

আবাসন ও অর্থনীতির পাশাপাশি বস্তিবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা তাঁর দলের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের এই আধুনিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বস্তিবাসীদের নাগরিক মর্যাদা সুসংহত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের এই দীর্ঘমেয়াদী এবং জনকল্যাণমূলক ঘোষণাগুলো ঢাকার ছিন্নমূল মানুষের কল্যাণে একটি নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:০৫:২৩
সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল ও সরকার গঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ এর বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি নারী প্রার্থী না থাকা এবং দল ক্ষমতায় গেলে শাসনব্যবস্থা কেমন হবে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি কোনো নারী প্রার্থী মনোনীত না করলেও তাঁদের রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সরাসরি নির্বাচনে নারীদের জন্য ৫ থেকে ১৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব এসেছে, যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়, তবে আমরা সরাসরি নারী প্রার্থী দিতে সম্মত আছি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকব।” জামায়াতের এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভবিষ্যতে নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন এলে দলটি নারী নেতৃত্বের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

নির্বাচনী প্রচারণার আধুনিকায়ন নিয়েও কথা বলেছেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে অনলাইন কার্যক্রম একটি শক্তিশালী কৌশলে পরিণত হয়েছে, যা আগে সেভাবে ছিল না। জামায়াতে ইসলামী এবার ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, তবে তা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি বা আরপিও (RPO) অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অনলাইন বিলবোর্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা থাকলেও জামায়াতের মূল নজর থাকবে সনাতন ও কার্যকরী কৌশলের দিকে। তাহেরের মতে, তাঁদের দল ‘ওয়ান টু ওয়ান কন্টাক্ট’ বা সরাসরি ব্যক্তিগত যোগাযোগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য জামায়াতের কর্মীরা প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে গিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জনসংযোগ করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি এসেছে দলের সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে তাঁরা মন্ত্রিসভা গঠনে কেবল দলীয় পরিচয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বরং দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে অর্থমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষের অভাব নেই। তাই যোগ্যতা অনুযায়ী কেবল দলের ভেতর থেকেই নয়, বরং পুরো দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠীকে বিবেচনা করে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি নেওয়া হবে। এই ‘টেকনোক্যাট’ বা বিশেষজ্ঞ নির্ভর শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি একটি পেশাদার সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৫:৫২:১৭
প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কোন কোন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। নির্বাচন কমিশন বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও, তার আগেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনভিত্তিক মুখোমুখি লড়াই।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি এবং জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি অবস্থান নির্বাচনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনেক আসনেই একাধিক জাতীয় পর্যায়ের নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বহুমুখী লড়াই

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার বগুড়া ৬ ও ঢাকা ১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা ১৭ আসনে তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়া সদরের আসনে একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন, যা এই আসনকে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও ১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা ৮ আসনে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখোমুখি লড়াই, কুমিল্লা ১ এ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিপক্ষে জামায়াত প্রার্থী, চট্টগ্রাম ১১ এ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী সব মিলিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায় সব অঞ্চলেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন।

নোয়াখালী, কক্সবাজার, ভোলা, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিপরীতে জামায়াত ও জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সমীকরণকে জটিল করে তুলছেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে

জামায়াতে ইসলামীর আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার সরাসরি ভোটের মাঠে নেমেছেন। ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন।

ঢাকা ১৫, ঢাকা ১৪, ঢাকা ১, কুমিল্লা ১১, রাজশাহী ১ ও খুলনা ৫ আসনের মতো এলাকাগুলোতে জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে অতীতে গুমের শিকার নেতাদের প্রার্থিতা এই নির্বাচনকে নৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও আলোচনায় এনেছে।

এনসিপির নতুন রাজনীতির পরীক্ষা

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও মুখ্য সংগঠকরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজধানীর ঢাকা ১১, ঢাকা ৮, ঢাকা ১০, কুমিল্লা ৪, রংপুর ৪ ও পঞ্চগড় ১ আসনে এনসিপির প্রার্থীরা বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।

নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির এই অংশগ্রহণ ভোটের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও, অভিজ্ঞ ও সংগঠিত দলগুলোর সঙ্গে লড়াই তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জোট ও আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রভাব

এই নির্বাচনে জোটভুক্ত দল, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনেক আসনেই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু আসনে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের কিছু আসনে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে ভোটের হিসাব আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সামনে কী

নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলে প্রার্থিতা ও জোটগত সমীকরণ পুরোপুরি স্পষ্ট হবে। তবে এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বহু আসনে হেভিওয়েট বনাম হেভিওয়েট লড়াইয়ের নির্বাচন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়াবে এবং নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: যুগান্তর

পাঠকের মতামত: