এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:২৫:৩১
এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এনসিপির লোগো ও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর বর্তমানে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে এনসিপির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় পল কাপুরের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির পাঠানো বার্তায় বৈঠকের সময় নিশ্চিত করা হলেও নিরাপত্তার খাতিরে এর স্থানটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার পর দিল্লি হয়ে পল কাপুর ঢাকা পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মার্কিন এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আজ বুধবারের সূচি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। আজ তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। দিন শেষে সন্ধ্যায় আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং পরে তাঁর সম্মানার্থে আয়োজিত একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার এনসিপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন পল কাপুর। এছাড়া ওই দিন তিনি জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও রাজনৈতিক মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। পল কাপুর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তাঁর সফর শেষ করবেন। মার্কিন দূতাবাসের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা।

/আশিক


একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:৩৮:৩৭
একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

একটি চক্র দেশ ও বিদেশে বসে বর্তমান সরকার এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আসন্ন দুর্গাপূজায় একটি সুদৃঢ় ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার সার্বিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারপ্রধান স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বারবার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন এবং দলের পক্ষ থেকেও একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে পূজা উদযাপিত কমিটিগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে, মণ্ডপগুলোতে পাহারার সুব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পুরোপুরি রক্ষা করতে হবে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জীবনকে অর্থবহ করতে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে মানুষকে বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হতে হয়, কারণ সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। এই শিক্ষার প্রসারে যারা কাজ করেন, তাঁরা অত্যন্ত মহতী ব্যক্তি। এ সময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, যিনি নিজের পেশাগত জীবনে সফলতা অর্জনের পরও নিজের এলাকাকে ভুলে যাননি এবং উন্নয়নের পাশে ছিলেন।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে এলাকার হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত ভালোবাসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খন্দকার আবু আশফাক ইতিপূর্বে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকেছেন। আসন্ন দুর্গাপূজাকে অত্যন্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে নিজকে সুস্থ বিনোদন ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই দেশ আমাদের সবার এবং প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন। কেউ কাউকে ছোট করে দেখবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যন্ত্রাইল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে অতীতে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন, তাই তিনি এলাকাববাসীর যেকোনো উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকবেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তায় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি মণ্ডপে পাহারায় দায়িত্ব পালন করবেন।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু হাসান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাহমিনা আদনান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাধেশ্যাম বাড়ৈর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম, আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

/আশিক


দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২০:৪৫:২২
দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং দেশের চলমান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশ ও দেশের বাইরে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে লকাই বিশ্বাসের পরিবারের হাতে একটি নবনির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া এলাকার নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন এবং বেশ কিছু অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

বিশ্ববাজারে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী-নেতারা দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছেন এবং বর্তমানে সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেরছ আলী ইছা, সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, কৃষকদল নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা রাজিব হোসেন ও বেনজীর আহমেদ তাবরিজসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:৩১:৪১
সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ

সরকারি একটি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর দেওয়া একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসানের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাঞ্চলের পরিচালক পদে ফারুক হাসানের নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন সারজিস আলম। আর এর তীব্র জবাব দিতে গিয়ে মধ্যরাতে ফেসবুকে পাল্টা স্ট্যাটাস দেন ফারুক হাসান। ওই পোস্টে তিনি সারজিসের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাকে রাজনীতি থেকে সরে এসে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন।

সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের সরাসরি জবাবে ফারুক হাসান লেখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের পরিচালকরা সরকারের নির্দিষ্ট গ্রেডভুক্ত কোনো আমলা নন। এই সাধারণ বিষয়টি বোঝার বা জানার জন্য কোনো পিএইচডি করার প্রয়োজন পড়ে না, সামান্য সাধারণ জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী এবং একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সারজিসের মধ্যে এই সাধারণ জ্ঞানটুকু না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর।

এখানেই থেমে থাকেননি ফারুক হাসান। নিজের স্ট্যাটাসে তিনি সারজিসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের ব্যানারে পরীক্ষা ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সারজিস আলমও ঠিক একই পথ অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সারজিসের ভর্তির সময়কার যাবতীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা।

কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষায় নিজের সমালোচনা শেষ করে সারজিস আলমের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরামর্শ দেন গণঅধিকার পরিষদের এই শীর্ষ নেতা। তিনি সারজিসকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজের পড়াশোনায় পুরোপুরি মন দেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। তার মতে, এই মুহূর্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দিলে তা ভবিষ্যতে সারজিসের নিজের জন্যই বেশি কাজে আসবে। মূলত ফারুক হাসানের এই নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট ও বিতণ্ডা এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২১:২৩:৪৮
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রতিবাদী পোস্টে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য উসকে দিচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে ধরনের ন্যাক্কারজনক অপকর্ম ঘটিয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।

এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলো ফের প্রমাণ করে যে তারা প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিস্ট। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতা এবং তৎপরতা যে থামেনি, তা তারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও উন্মোচন করে দিয়েছে। পোস্টের একেবারে শেষাংশে ইংরেজিতে ‘শেইম’ বা লজ্জা শব্দলিখে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

/আশিক


আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:০৭:৪৭
আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ বহাল রাখা হলেও মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক—এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পুনর্গঠনের পর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা হবে ১৫১ জন।

বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বে পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। ওই সভায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। দলটির দুই বছর পূর্তিতে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে এই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:১৪:৩৭
বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম
ছবি: কালবেলা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের কার্যকারিতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিএনপি কেবল নিজেদের দলীয় গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত সরকার হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং চাকরিতে নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সারজিস আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অধিক আসন পেয়ে বিএনপি সত্যিকারের অর্থে জনগণের সরকারে রূপ নেবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয়করণ চলছে। সারের ডিলার নিয়োগ কিংবা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতা বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার চেয়ে কে কোন নেতার আত্মীয় বা দলীয় কর্মী, সেটিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষকে পুনরায় ১৬ বছরের পুরোনো জুলুম ও নির্যাতনের যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন এই এনসিপি নেতা।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় আদালতের রায় বা আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এছাড়া থানায় ফোন করে পুলিশ কর্মকর্তাদের দলীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য করা এবং অন্যথায় বদলির হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতার অপব্যবহারের এই পুরোনো সংস্কৃতি যারা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের আচরণে ১৬ বছর আগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই ফুটে ওঠে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ আর কখনো মসনদে টিকে থাকতে পারবে না।

এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও সদস্য ইমরান হোসেনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:০৬:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দুর্বৃত্তরা যে অশালীন ও ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে, তার পুরো দায়ভার পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।

সরকারের প্রতি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও যে এই ফ্যাসিস্ট চক্র তাদের সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতা ও অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি, যা তারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও প্রমাণ করল। পোস্টের শেষাংশে চরম ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি লেখেন—‘শেইম...’।

/আশিক


চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৪৭:৫২
চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি রহস্যঘেরা পোস্ট দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এই আকস্মিক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

তবে এই সংক্ষিপ্ত ও প্রতীকী বার্তার পেছনে ঠিক কী ধরনের প্রেক্ষাপট বা অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে কিংবা তিনি এটি সুনির্দিষ্টভাবে কাকে বা কাদের উদ্দেশে লিখেছেন, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো ধরনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা ঘটনার উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝেও নানা ধরনের কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারী কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পোস্টটির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করায় এটি মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই বার্তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

/আশিক


মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:৩২:৫২
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে নানা তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে সচেষ্ট রয়েছেন। এই ধরনের দাবি ও অবস্থানের পেছনে তাদের কী ধরনের যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিয়ের বয়সসীমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের মিশর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান যুগের বাস্তবতার কোনো তুলনাই চলে না। বর্তমান সময়টি রোবটিকস ও প্রযুক্তির যুগ—এমনকি ২০২৬ সালে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হওয়াটা অত্যন্ত হতাশার ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর টেকসই ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেবল কিছু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ববি হাজ্জাজ। তার মতে, নারীর ভেতরের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং পরিশেষে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক মানসিকতার পরিবর্তন হওয়াও সমানভাবে জরুরি।

বাল্যবিয়ে রোধ করার ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার উদ্বেগ, বিভিন্ন সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেয়েদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, যথাযথ দক্ষতা অর্জন এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার সুযোগ বাড়াতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিজেরাই নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলোর বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের জন্য হাতে নেওয়া বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তাদের পরিবারকেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নের জন্য কেবল কঠোর আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়ালেই চলবে না, এর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: