ঈদের খুশিতে যুদ্ধের বিষাদ: মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের স্বজনদের চোখে কান্নার জল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১০:৪৭:৪০
ঈদের খুশিতে যুদ্ধের বিষাদ: মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের স্বজনদের চোখে কান্নার জল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে বাংলাদেশের লাখো প্রবাসী পরিবারে এখন ঈদের আনন্দের বদলে কেবলই হাহাকার, দুশ্চিন্তা আর গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, মুন্সিগঞ্জ ও নোয়াখালী অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন ঈদের প্রস্তুতির বদলে চলছে প্রিয়জনের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নিরন্তর প্রার্থনা। যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেমন হাজার হাজার প্রবাসীর বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি রণাঙ্গনের খুব কাছে অবস্থান করায় তাঁদের জীবন নিয়েও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে দেশে থাকা স্বজনদের।

কুমিল্লায় ঘরে ঘরে হাহাকার

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার নূরপুরের ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এবারের ঈদ করবেন পরিবারের সঙ্গে। ২৮ রমজান তাঁর দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁর আর ফেরা হচ্ছে না। জাকিরের বড় ভাই ইমন হোসেনের কণ্ঠে সেই বিষাদ ফুটে উঠল; তিনি জানালেন, ভাইয়ের না ফেরা যেমন কষ্টের, তার চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা এখন তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে। বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামের কামাল হোসেন ধারদেনা করে সৌদি আরব গেলেও এখন যুদ্ধের কারণে কাজে বের হতে পারছেন না। একই গ্রামের খায়রুল ইসলাম কাতারে তাঁর কর্মস্থলের পাশে বোমা হামলার শব্দ শুনে অর্ধেক কাজ রেখেই বাসায় ফিরে এসেছেন। লাকসাম ও দোগই গ্রামের পরিবারগুলোতেও একই চিত্র—ফোনের রিং বেজে উঠলেই বাবা-মায়েরা আঁতকে উঠছেন এই ভেবে যে, না জানি কোনো দুঃসংবাদ আসে!

চট্টগ্রামে ২০ লাখ প্রবাসীর পরিবারে আতঙ্ক

চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানান, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য প্রবাসে থাকায় বাড়িতে মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অজানা শঙ্কায়। সাধারণত ঈদের আগে প্রবাসীরা প্রচুর টাকা পাঠালেও এবার যুদ্ধের কারণে অনেকে কাজে যেতে পারছেন না, ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোও বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার ভয়ে অনেকেই ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যা তাঁদের পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে ঈদের আনন্দ নেই

মুন্সিগঞ্জের কাতার প্রবাসী সবুজের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাগো কি আর ঈদ আনন্দ আছে? পোলার লেইগা দিনরাত দোয়া করি।” সদর উপজেলার আলাউদ্দিন বা গজারিয়া উপজেলার সাজেদা বেগমের মতো শত শত মা এখন টিভিতে যুদ্ধের খবর দেখে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকছেন। নাতি-নাতনিদের জন্য ঈদের কেনাকাটা তো দূরের কথা, সন্তানের সুস্থভাবে ফেরার খবরটুকু পেতেই তাঁরা ব্যাকুল। একইভাবে নোয়াখালীর মাইজদীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার পরিবারের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় পুরো জেলায় এক ধরনের গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। যুদ্ধের আগুন যেন প্রবাসীদের হাত ধরে বাংলাদেশের এই প্রান্তিক জনপদগুলোর ঈদ আনন্দকে পুরোপুরি কেড়ে নিয়েছে।

/DHL


শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:৩৫:১৭
শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে এক নতুন ও বিধ্বংসী মাত্রা যোগ করেছে শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুতগতির ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো এই কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রটি তার পাল্লা এবং গতির কারণে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। এটি প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো এর গতি; এটি শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি দ্রুত (হাইপারসনিক গতির কাছাকাছি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, যা বর্তমান বিশ্বের অনেক আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে শনাক্ত বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে, বিখ্যাত সামরিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ দাবি করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। এটি এখন কেবল ইসরায়েল নয়, বরং ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে যেকোনো শত্রু ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। প্রথমবারের মতো অপারেশনাল এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ মোড় নিল।

/আশিক


ট্রাম্পকে খোলা চ্যালেঞ্জ ইরানের! ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:১৫:৪০
ট্রাম্পকে খোলা চ্যালেঞ্জ ইরানের! ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ‘ইরানি নৌবাহিনী ধ্বংস’ করার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর এক প্রতিবেদনে এই পাল্টা চ্যালেঞ্জের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে তাঁকে এক প্রকার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

জেনারেল নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প যদি মনে করেন তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছেন, তবে তাঁর ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠিয়ে দেখা উচিত। তিনি দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি আইআরজিসি নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য নাইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ পাঠালেই বোঝা যাবে কার শক্তি কতটা অবশিষ্ট আছে এবং সেখানে মার্কিন জাহাজের জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

মূলত গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নৌবহর প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিকে কেবল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তারা তাদের সমুদ্রসীমা রক্ষায় আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত এবং যেকোনো উস্কানির সমুচিত জবাব দিতে সক্ষম।

/আশিক


মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা আঘাত: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:৫৬:৪৪
মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা আঘাত: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের ১৭তম দিনে এসে ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ৫৪টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বিবিসির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় তারা অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির খোররামশাহর সুপার-হেভি মিসাইল (দ্বৈত ওয়ারহেড বিশিষ্ট), খায়বার-শাখান, কদর এবং এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে জ্বালানি চালিত ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসির প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, এই সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে মাত্র সাত মিনিটে তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দ্বিতীয় দফার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি শনাক্ত করেছে। প্রথম দফার হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দুই ঘণ্টার ব্যবধানে এই নতুন হামলাটি চালানো হয়। উল্লেখ্য, গত ১৭ দিন ধরে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। পাল্টা জবাবে ইরানের এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


গোপন মিশনে রাশিয়ায় খামেনি পুত্র: রুশ বিমানে মস্কো যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:০৪:১৭
গোপন মিশনে রাশিয়ায় খামেনি পুত্র: রুশ বিমানে মস্কো যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা ও রহস্য। কুয়েতি সংবাদমাধ্যম ‘আল জারিদা’র এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনিকে পায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ উদ্যোগে একটি রুশ সামরিক বিমানে করে তাঁকে রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরুতেই মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি মেইল’ ও ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি সম্ভবত কোমায় আছেন এবং তাঁর একটি বা দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে (অঙ্গহানি)। এমনকি তাঁর যকৃৎ ও পাকস্থলীও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুতিনের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং সেখানে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সংবাদ সম্মেলনে মোজতবা খামেনির গুরুতর আহত হওয়া ও অঙ্গহানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে নেই এবং যুদ্ধের ওপর তাঁর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। অধিকাংশ সামরিক কমান্ডারও তাঁদের নতুন নেতার বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন। বর্তমানে ইরানের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও নেতার জীবন-মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন বেড়েই চলেছে।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় ২৪ অভিযান! মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৮:৫৫:২৫
২৪ ঘণ্টায় ২৪ অভিযান! মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। রোববার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ২৪টি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযানগুলোতে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তেহরানে চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ঘটনার পর ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইরানের এই পাল্টা আঘাতের ঢেউ এখন জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতেও অনুভূত হচ্ছে। একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইআরআই-এর এই ব্যাপক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং তা আরও নতুন নতুন ফ্রন্টের দিকে মোড় নিচ্ছে।

/আশিক


ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৭:২১:০৩
ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার পরপরই বেশ কিছু স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ড এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, যা পুরো এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলে।

তেল আবিবকে লক্ষ্য করে চালানো এই নতুন দফার হামলায় ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভগ্নাংশের আঘাতে অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্টার নিদা ইব্রাহিম অধিকৃত পশ্চিম তীরের হুয়ারা থেকে জানান, হামলার আগে সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল এবং পরে আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এরপরই স্থানীয় বেশ কিছু স্থাপনা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা প্রায় প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৫১:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ডালপালা এবার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে উভয় দেশই দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে ইরানের ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আল-খার্জ এলাকার আকাশে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো অবস্থিত, সেখানেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে সৌদি বাহিনী।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দুবাইয়ের মারিনা এবং আল-সুফৌহ এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরান প্রথমবারের মতো আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আল্টিমেটাম দিয়েছে, যা কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের ওপর সরাসরি বড় হুমকি। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে, যাতে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ


তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৪:২৬
তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আহ্বান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সাহায্য ও সমন্বয় করবে।” তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে, চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ট্রাম্পের অনুরোধে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে নীরবতা পালন করছে। ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফ্রান্স চাইছে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে একটি নিরাপত্তা জোট গঠন করতে, আর যুক্তরাজ্য মিত্রদের সাথে বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিকে রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি আরব জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ইরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

/আশিক


ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২০:০৫
ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ১৬তম দিনে এসে দেশের প্রধান নির্বাহীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়াকে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে রোববার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলে বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এসব স্পর্শকাতর বৈঠক নেতানিয়াহু নিজেই পরিচালনা করে থাকেন। তবে রোববারের বৈঠকে তার আসনটি খালি ছিল। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়া নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। তার পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর থেকেই এই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোব অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত ‘নিখোঁজ’। প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে, যখন প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেব করে নিতে হয়, তখন নেতার অনুপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ভিডিও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো সরাসরি উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো কোনো গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন অথবা কোনো ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকদিন আগে তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত নিহত অথবা অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পর্দার অন্তরাল থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন।

নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়েছে গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। তবে নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি করেছেন, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, যা ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি এক পর্যায়ে তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। যদিও ফ্যাক্ট-চেকাররা একে ‘ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল’ বা লেন্সের কারসাজি বলে দাবি করেছেন, তবুও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘকালীন নীরবতা এই জল্পনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে নেতানিয়াহুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নিশিছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় গুঞ্জনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এদিকে, রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ওয়েবসাইটে এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তারা তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান থামাবে না। আইআরজিসি জানায়, “আমরা এই শিশুহত্যাকারী অপরাধীকে পূর্ণ শক্তিতে ধাওয়া অব্যাহত রাখব।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

/আশিক

পাঠকের মতামত: