ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ২১:৫৫:০৯
ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের ৩৪তম দফার শক্তিশালী হামলা পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট চার ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসির তথ্যমতে, এই দফার হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের ভেতরে থাকা রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হামলার তীব্রতা বোঝাতে ইরান দাবি করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের ছোঁড়া শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে (লঞ্চার) সরাসরি আঘাত হেনেছে। তবে এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা


ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৯:১৫:০০
ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে যেমন যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, অন্যদিকে তাঁর কৌশলে কিছু অসামঞ্জস্যতাও ফুটে উঠেছে। সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং তাঁরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বললেও কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি। এরই মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একটি সম্মানজনক ‘প্রস্থানপথ’ বা এক্সিট র‍্যাম্প খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চান যা বহু বছরের শান্তির পথ উন্মুক্ত করবে। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন, যা তেহরানের অনমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য অভ্যন্তরীণ মতভেদের খবরকে ‘আজেবাজে’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করতে উপদেষ্টারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা স্ববিরোধী চিত্রও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ এবং প্রয়োজনে স্থলবাহিনী পাঠানোর ইঙ্গিত দিলেও সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তেমন কোনো নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি তিনি নেই। তবে কিছু সূত্রের দাবি, তেহরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নতুন ইরানি নেতার ওপর কঠোর পদক্ষেপের পক্ষপাতী। মূলত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং এর ফলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্পের অনেক মিত্র ও রিপাবলিকান নেতা এখন বেশ উদ্বিগ্ন।

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুরের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর ওপরই তার প্রভাব পড়ে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের সমীকরণ মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধের সমাপ্তি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রই লাভবান হবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তাঁকে যুদ্ধের একটি দ্রুত ও টেকসই সমাধানের দিকে ধাবিত করছে। শেষ পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কতদূর গড়াবে, তা এখন পুরোপুরি হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।


ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:৪৮:৪৭
ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলার অভিযোগ তোলার মাত্র কয়েক দিন পরই আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানে বড় ধরনের মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। বাকুর এই পদক্ষেপকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি প্রশমনের একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যেন ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই দুই দেশ এই ইতিবাচক কূটনৈতিক পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে আজারবাইজান অভিযোগ করেছিল যে, একটি ইরানি ড্রোন তাদের বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং একটি স্কুলের পাশে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইরান সীমান্তবর্তী নাখিচেভান অঞ্চলে ঘটা এই ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাঁর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তেহরান থেকে নিজ দেশের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও ইরানের সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ইসরায়েলের উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।

উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গত ৮ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান টেলিফোন করেন আলিয়েভকে। ফোনালাপে পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দেন। এই আলোচনার পরই আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধবাহী সহায়তা ইরানে পাঠানোর ঘোষণা দেয়। দুই নেতার এই সরাসরি যোগাযোগ এবং বাকুর পক্ষ থেকে পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী নির্দেশ করছে যে, দুই দেশই বর্তমান সংকটকে আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল বাকুর ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের ওপর গোয়েন্দাগিরি ও হামলার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানে বড় হামলা চালানোর পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইরানে বসবাসরত বিশাল সংখ্যক জাতিগত আজারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নিয়েও তেহরানের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে বর্তমান এই মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনার ফলে দুই দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:৩২:৪৬
ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশ্বাসের খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে কোনো বাধার মুখে পড়বে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরান এই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে পূর্বেই অবহিত করলে সেগুলোকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। ইরানের এই আশ্বাসে দেশের জ্বালানি খাতের সাময়িক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটেছে।

দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জাহাজে করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের বাড়তি চাহিদা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা এড়াতেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও সরকার পরিকল্পিতভাবে প্রতিদিন ৯ হাজার টন সরবরাহ নিশ্চিত করছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে আসা মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে অন্তত ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা অনায়াসেই পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ মোট আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সাহায্য করছে।

এদিকে বাংলাদেশের এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বন্ধুপ্রতীম দেশ চীন ও ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দেশে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও এক বার্তায় জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বেইজিং ঢাকার পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দেবে। সংকটকালীন এই সময়ে আন্তর্জাতিক মিত্রদের এমন অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার দেশব্যাপী নজরদারি বা মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করেছে যাতে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। এছাড়া মজুতদারি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমনে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:১০:০৯
ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, তা নিরসনে এবার নতুন একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইসরায়েল' প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, ছবিটি গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) ধারণ করা হয়েছে। মূলত গত কয়েক দিন ধরে হিব্রু ভাষার বিভিন্ন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যুর যে জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, এই ছবি প্রকাশের মাধ্যমে তার একটি পরোক্ষ জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এর আগে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু সংস্করণে নেতানিয়াহুর অন্তর্ধান নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে প্রায় তিন-চার দিন ধরে নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশিত হয়নি এবং তাঁর নামে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ছিল কেবল লিখিত। যেখানে আগে প্রতিদিন একাধিক ভিডিও বার্তা আসত, সেখানে এই দীর্ঘ নিরবতা জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি করেছিল। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে তাঁর বাসভবনের চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর এই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।

রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল করা হয়। এই সফরের বাতিলের পেছনে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে অনেকে ধরে নেন। পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর টেলিফোন আলাপের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে কেবল একটি লিখিত বিবরণ প্রকাশ করাও এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল।

বর্তমানে প্রকাশিত ছবিটি সেই রহস্যের চাদর কিছুটা সরালেও ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো জোরালো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও আলোচনা চলছে যে, পরিস্থিতি কি আসলেই স্বাভাবিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর সমীকরণ রয়েছে। তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত এই ছবিটি আপাতত উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করার প্রচেষ্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:০৪:০৮
ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব সীমান্তে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ইরাক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেনা মোতায়েনই নয়, বরং সীমান্তজুড়ে নজরদারিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ইরাক ও ইরানের সীমান্ত এলাকা মূলত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে, যা বর্তমানে বাগদাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তের এই বিশেষ তৎপরতার মাধ্যমে বাগদাদ প্রশাসন মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাইছে। ইরাক কোনোভাবেই চায় না তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের ওপর হামলা চালাক। এর মাধ্যমে মূলত ইরাক তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে চায় বাগদাদ। ওই চুক্তির আওতায় ইরাক তার উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের তৎপরতা দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে ইরান ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ইরাক নিজের ভূমিকে অন্য দেশের যুদ্ধের ময়দান হতে দিতে চায় না। নতুন করে কোনো বড় ধরনের সংঘাত বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই ইরাক সরকার সীমান্তে এই বিশেষ সতর্কতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

/আশিক


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৫৪:৩০
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
সোমবার ইসরায়েলের ইয়েহুদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং দু’জন আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১৯১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেককে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাকি আহতদের অনেকেই বিস্ফোরণের আঘাত, ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া কিংবা আতঙ্কে আহত হয়েছেন।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর ইহুদ এলাকায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন বলে জানা গেছে। হামলার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।

গত প্রায় দশ দিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান হামলা এবং সামরিক পাল্টা অভিযানের কারণে উভয় পক্ষেই উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়ছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র:আল-জাজিরা


ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১২:৩৩:০৭
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর এই দাবির স্বপক্ষে তাসনিম নিউজ নিশ্চিত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নাম সম্বলিত একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের ওপর ভিত্তি করে এই সংবাদ প্রচার করেছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকলেও তারা বেশ কিছু পরিস্থিতিগত বিষয়কে সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর নতুন কোনো ভিডিও বার্তা জনসম্মুখে না আসা, তাঁর বাসভবনের চারপাশে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তার খবর এবং জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত সফর স্থগিত হওয়া। এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে নেতানিয়াহুর একটি ফোনালাপের রেকর্ড প্রকাশ করা হলেও সেখানে আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। এসব বিষয়কে পুঁজি করেই মূলত নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ কর্মকাণ্ড ছিল গত ৭ মার্চ, যখন তিনি বিরশেবা এলাকায় ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন। এর আগে গত ২ মার্চও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সেই দাবিকে ‘নিছক গুজব’ বলে নাকচ করে দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম রহস্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর জোরালো দাবি এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরবতা—সব মিলিয়ে এক অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। তবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। অনেকের মতে, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে এ ধরনের খবর প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে, যা গত কয়েক সপ্তাহে বারবার লক্ষ্য করা গেছে।

সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট


খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১২:১৫:৪৩
খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পরিচালিত এই সামরিক তৎপরতা কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা নিরসনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কৌশলগত নৌঘাঁটিসহ বিভিন্ন শক্তিশালী সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামক এই বিশেষ অভিযানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

বর্তমান সামরিক পদক্ষেপকে একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভাবনীয় সামরিক সক্ষমতার কারণেই এই সংঘাত দীর্ঘদিন টেনে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ইরানের সামরিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি মার্কিন সামরিক কৌশলের এই সফলতার চিত্র তুলে ধরেন।

যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, সেটিকেও সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে সামান্য অস্থিরতা দেখা দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে এবং এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১১:৫৯:২১
ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ 'খুব দ্রুতই শেষ হবে'—ট্রাম্পের এমন আশ্বাসের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে অভাবনীয় পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ না করার বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর সতর্কবার্তার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে অস্থির তেলের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধের কোনো চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সামরিক অভিযান মূলত কিছু 'অশুভ শক্তিকে' দমনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁর বিশ্বাস—এই সংঘাত কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

ট্রাম্পের এই ইতিবাচক ও দৃঢ় অবস্থানের প্রভাবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯২ ডলারে নেমে এসেছে, যা সোমবারও ছিল ১২০ ডলার। একইভাবে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ১০.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেলের বাজারের এই হঠাৎ পতনকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে বাজারে বর্তমানে তেলের দাম কমলেও একটি আশঙ্কার দিক এখনো রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান দাম সোমবারের তুলনায় কম হলেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এটি এখনো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। ফলে বাজার পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরেছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আসলেই ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত শান্ত হয়, তবেই তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: