বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরিতে জর্জরিত আর্জেন্টিনা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২২:১২:৪৬
বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরিতে জর্জরিত আর্জেন্টিনা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগেই চোটের উপুর্যপরি ধাক্কায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যেখানে অন্য পরাশক্তিরা পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে, সেখানে ইনজুরিতে জর্জরিত আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অন্তত সাতজন তারকা ফুটবলার বর্তমানে মাঠের বাইরে ও গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ এবং দলের শক্তি নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে অনায়াসে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের ভেতরের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি জানিয়ে স্কালোনি বলেন, "আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এখনও শতভাগ ফিট নয়। বিষয়টি শুধু একজন ডিফেন্ডারকে ঘিরে নয়, আরও কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। সামনে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। সেটি শেষ হওয়ার পরই পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। মঙ্গলবারের আগে চূড়ান্ত স্কোয়াড নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।"

হন্ডুরাস ম্যাচের আগের দিনই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খায় আর্জেন্টিনা; কাফ ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বকাপ থেকেই পুরোপুরি ছিটকে যান নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি, যদিও তাঁর বদলি হিসেবে এখনও কারও নাম ঘোষণা করেননি স্কালোনি। এদিকে দলের রক্ষণভাগের বড় ভরসা—দুই রাইটব্যাক গঞ্জালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মলিনা দুজনেই বর্তমানে মাংসপেশির চোটে ভুগছেন। একই সাথে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক লিয়ান্দ্রো পারেদেসও গ্রেড-১ পর্যায়ের মাংসপেশির ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে প্রধান স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ আঙুলের প্রদাহে ভুগলেও বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী মেডিকেল টিম।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে দলের বিশ্বস্ত বাজপাখি তথা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের চোট। সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের শিরোপা জেতা এই তারকা গোলকিপার এখনও তাঁর ডান হাতের আঙুলের চিড় থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আলো ছড়ানো তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজও বাম পায়ের তীব্র ব্যথার কারণে শতভাগ ফিট নন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্কালোনির ড্রেসিংরুম যেন ছোটখাটো একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আর্জেন্টিনা ভক্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


১ বছরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ: রোনালদো কি এখনও পর্তুগাল দলের ‘অটো-চয়েজ’?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২০:২২:১৭
১ বছরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ: রোনালদো কি এখনও পর্তুগাল দলের ‘অটো-চয়েজ’?
ছবি : সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগাল ফুটবল এখন স্পষ্ট দুটি শিবিরে বিভক্ত। ২০০৩ সালের আগস্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ডেডিউ করা মেদেইরার সেই তরুণ আজ ৪১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়তে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৩টি গোল করা এই মহাতারকা পর্তুগিজ ফুটবলের মানসিকতাই বদলে দিয়েছেন। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে এসে পর্তুগালের ফুটবল মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পর্তুগাল দল কি আসলেই রোনালদোকে ছাড়া বেশি কার্যকর, এবং ৪১ বছর বয়সে তিনি কি এখনও দলের ‘অটো-চয়েজ’?

একটা সময় পর্তুগালে রোনালদোর স্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা অসম্ভব মনে হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় পরিস্থিতি বদলেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলা পর্তুগিজ কিংবদন্তি আন্তোনিও সিমোয়েসের মতো সাবেক তারকারা এখন প্রকাশ্যেই বলছেন যে, রোনালদো এখন আর দলের স্বার্থে নয়, বরং নিজেকে লাইমলাইটে রাখার জন্য খেলছেন। দেশের ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করেন, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা একটি দলের শুরুর একাদশে থাকার মতো ফুটবলীয় ধার বা গতি এখন আর সিআরসেভেনের নেই।

এই আলোচনার পেছনে শক্ত ভিত্তি জোগাচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান। পর্তুগাল দলের বর্তমান কোচ রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে দল যখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় দুটি জয় তুলে নেয়—লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ৯-০ এবং আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচ; দুটি ম্যাচেই রোনালদো মাঠের বাইরে ছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তরুণ ও গতিময় পর্তুগিজ মাঝমাঠ রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আরও বেশি স্বাধীন ও ক্ষুরধার হয়ে ওঠে কি না।

তবে এই সমালোচনার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন কোচ রবের্তো মার্তিনেস এবং রোনালদোর সাবেক সতীর্থরা। মার্তিনেস এই বিতর্ককে স্রেফ চায়ের আড্ডার গল্প হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। কোচের অধীনে শেষ ৩১ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড।

মার্তিনেস সাফ জানিয়েছেন, রোনালদো অতীতে কী করেছেন সেই যোগ্যতায় নয়, বরং এখনও সর্বোচ্চ স্তরে গোল করছেন বলেই দলে আছেন। সমর্থকদের মতে, ৪১ বছর বয়সে গতি কিছুটা কমলেও তার নিখুঁত ফিনিশিং, পজিশনিং সেন্স এবং মাঠে তরুণদের ওপর তার মানসিক প্রভাব প্রতিপক্ষের জন্য সমান বিপজ্জনক। আগামী ১৭ জুন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল যখন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে, তখন দলের মূল রণকৌশল যে তাকে ঘিরেই সাজানো হবে, তা স্পষ্ট।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও রোনালদোর প্রভাব ও বিতর্ক কম নয়। কাতার বিশ্বকাপে তাকে বেঞ্চে বসানোর খেসারত দিতে হয়েছিল তৎকালীন কোচ ফেরনান্দো সান্তোসকে, হারাতে হয়েছিল চাকরি। এ ছাড়া সম্প্রতি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন রোনালদোর মালিকানাধীন একটি কোম্পানির সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি করায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে, যদিও ফেডারেশন তা অস্বীকার করেছে।

ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনকা অবশ্য জানিয়েছেন, রোনালদো-পরবর্তী যুগের জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং তার বিদায়ের পর ফেডারেশনের আর্থিক কোনো ক্ষতি হবে না। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে রোনালদোর সামনে এখন দুটি প্রধান লক্ষ্য—ইউসেবিওর করা পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৯ গোলের রেকর্ড ভাঙা (রোনালদোর বর্তমানে ৮ গোল) এবং দেশকে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেওয়া। সমস্ত আলোচনা ও সমালোচনাকে পেছনে ফেলে সিআরসেভেন তার শেষ বিশ্বকাপে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিবিসি


বিসিবি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৯:৩৪:১৬
বিসিবি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল
ছবি : সংগৃহীত

বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ রবিবার (৭ জুন) সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল আলোচিত নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল ক্লাব ক্রিকেটের ‘ক্যাটাগরি-২’ (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবসমূহ), যেখান থেকে ১২ জন বোর্ড পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ ৭৩টি ভোট পেয়ে রেকর্ড ব্যবধানে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ড্যাশিং ওপেনার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ জন প্রার্থী পরিচালনা পর্ষদের পদের জন্য লড়াই করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তামিম ইকবাল ছাড়া বাকি যে ১১ জন ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন— সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (৭২ ভোট), ইসরাফিল খসরু (৭২ ভোট), মাসুদুজ্জামান (৭০ ভোট), ফয়সাল ইয়াসির (৬৮ ভোট), ফাহিম সিনহা (৬৬ ভোট), শানিয়ান তানিম (৬৬ ভোট), সাকিফ আহমেদ (৬৫ ভোট), আসিফ রব্বানি (৬৪ ভোট), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (৬৩ ভোট), রফিকুল ইসলাম বাবু (৫৩ ভোট) এবং ডা. শামী (৪১ ভোট)। নবনির্বাচিত এই পরিচালকরা আগামী মেয়াদে দেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখবেন।

অন্যদিকে, হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে ভোটারদের মন জয়ে ব্যর্থ হয়ে পরিচালনা পর্ষদের রেস থেকে ছিটকে গেছেন বাকি ৪ জন প্রার্থী। পরাজিত এই চারজন হলেন— বোরহানুল পাপ্পু (৪০ ভোট), আমজাদ হোসেন (৩২ ভোট), ফৈয়াজুর মিতু (২৩ ভোট) এবং মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ (২০ ভোট)। নতুন এই পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে বিসিবিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে ক্রিকেট মাঠের পর এবার ক্রিকেট প্রশাসনেও তামিম ইকবালের সরাসরি পথচলা শুরু হলো।

/আশিক


মেসিকে বেঞ্চে রেখেও আর্জেন্টিনার সহজ জয়, হারল হন্ডুরাস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৩:০১:২০
মেসিকে বেঞ্চে রেখেও আর্জেন্টিনার সহজ জয়, হারল হন্ডুরাস
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শনিবার (৬ জুন) টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। কাইল ফিল্ডের গ্যালারিজুড়ে আকাশি-সাদা সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও গর্জন থাকলেও, দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি পুরো ম্যাচে বেঞ্চে বসে কাটানোয় দর্শকদের একটি বড় অংশকে হতাশ হতে দেখা গেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধেই লিড আদায় করে নেয়। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে নিকোলাস তালিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তারকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড জিউলিয়ানো সিমিওনে। লাউতারোর একটি চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বল জালে জড়ান।

সিমিওনের গোলের পর ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হলেও কোচ লিওনেল স্কালোনি বেঞ্চে থাকা লিওনেল মেসিকে মাঠে নামানোর কোনো ঝুঁকি নেননি। ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা গত ২৫ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় ডান পায়ে হালকা চোট পান। জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেই চোটের এই সমস্যা থাকায় বিশ্বকাপের মূল পর্বের কথা মাথায় রেখে স্কালোনি তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে আগামী ৯ জুন নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। উল্লেখ্য, আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে খেলবে আর্জেন্টিনা, যেখানে ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে তাদের মূল অভিযান শুরু হবে। গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে আকাশি-সাদাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

/আশিক


উদ্বোধনী আসরে জে বালভিন ও মানাসহ একঝাঁক তারকার মেলা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২১:৪৫:১২
উদ্বোধনী আসরে জে বালভিন ও মানাসহ একঝাঁক তারকার মেলা
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের সবুজ গালিচার তীব্র লড়াই নয়; মাঠের বাইরের সুরের মূর্ছনা, বৈশ্বিক বিনোদন আর গ্ল্যামারের ছটাও এর সমান আকর্ষণীয় অংশ। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে এক নজিরবিহীন জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের।

এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে, যার মূল কারণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাতে বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা এবং ডান্সিং কুইন নোরা ফাতেহিসহ একঝাঁক আন্তর্জাতিক তারকার উপস্থিতি। মেক্সিকোর সেই মূল মঞ্চেই ল্যাটিন পপ আইকন শাকিরা নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় আফ্রোবিট গায়ক বার্না বয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে পরিবেশন করবেন এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’।

আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক ৯০ মিনিট আগে এই জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তবে বিনোদনের এই মহোৎসব কেবল মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; ফুটবলপ্রেমীদের শতভাগ বিনোদন দিতে এবার আয়োজক তিন দেশেই থাকছে ভিন্ন ভিন্ন চমক। মেক্সিকোর গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১২ জুন যৌথ আয়োজক কানাডা এবং আমেরিকার দর্শকদের জন্য আলাদা দুটি বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

কানাডার টরন্টোর মেগা মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত বলিউডের ডান্সিং সেনসেশন নোরা ফাতেহি। টরন্টোর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে নোরার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গান গাইবেন বিশ্বখ্যাত পপ গায়ক মাইকেল বুবলে এবং অ‌্যালানিস মরিসেট। অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে পপ সংগীতের মায়াজাল বুনে দিতে মঞ্চে উঠবেন মার্কিন পপ সুপারস্টার কেটি পেরি এবং জনপ্রিয় আমেরিকান র‌্যাপার ফিউচার।

মেক্সিকোর মূল উদ্বোধনী মঞ্চে শাকিরা ও বার্না বয় ছাড়াও ল্যাটিন ও বৈশ্বিক সংগীতের একঝাঁক শীর্ষ তারকাকে পারফর্ম করতে দেখা যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জমকালো এই তালিকায় আরও রয়েছেন আলেহান্দ্রো ফের্নান্দেস, বেলিন্দা, ড্যানি ওশেন, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জিলেস আজুলেস, মানা এবং টাইলারের মতো দুর্দান্ত সব জনপ্রিয় পারফর্মাররা। ফুটবল ও সংস্কৃতির ইতিহাসে একই টুর্নামেন্টে এত বড় বড় তারকাদের একসঙ্গে পারফর্ম করার নজির সত্যিই বিরল।

তবে চমকের এখানেই শেষ নয়; বিশ্বকাপের শুরুটা যেমন রাজকীয় হচ্ছে, এর সমাপনী অনুষ্ঠানটি ঠিক ততটাই চোখধাঁধানো করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষে সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও পুনরায় মঞ্চ মাতাতে চলেছেন শাকিরা। তবে সমাপনী মঞ্চে তার সঙ্গে এবার জুটি বাঁধবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা পপ কুইন ম‌্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত কে-পপ বয়ব্যান্ড ‘বিটিএস’ (BTS)। সব মিলিয়ে, মাঠের ফুটবল আর মঞ্চের বিশ্বসংগীতের এমন মহাকাব্যিক মেলবন্ধন দেখার জন্য এখন থেকেই প্রহর গুনছেন কোটি কোটি দর্শক।

/আশিক


গোয়ায় রানার্সআপ বাংলাদেশ: দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারও সাফের মুকুট ভারতের ঘরে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২১:৪১:১৭
গোয়ায় রানার্সআপ বাংলাদেশ: দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারও সাফের মুকুট ভারতের ঘরে
ছবি : সংগৃহীত

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে ট্রফির হ্যাটট্রিক করার যে স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ, তা শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেল। গোয়ার মাটিতে স্বাগতিক ভারতের অদম্য ফুটবলের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের।

আজ শনিবার (৬ জুন) গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের এই মহা-ফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমার দুর্দান্ত গোলে বাংলাদেশ সমতায় ফিরলেও, বিরতির পর রক্ষণভাগের ভুলে আরও দুই গোল হজম করে শিরোপা হাতছাড়া করে লাল-সবুজের মেয়েরা। এই হারের ফলে ২০১৬ সালের সাফের ফাইনালের পর আবারও ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের কাছেই শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের, ওদিকে দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল ভারত।

ঐতিহাসিক এই ফাইনালে মাঠে নামার আগে শুরুতেই বড় চমক দেখান কোচ পিটার বাটলার। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে ইনফর্ম সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমহেলা মারমাকে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নিয়ে শুরুর একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। ম্যাচের ১২ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, তবে ঋতুপর্ণা চাকমার চমৎকার ক্রস থেকে বক্সে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তহুরা খাতুন। এর ঠিক দুই মিনিট পর আবারও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পান তহুরা, তবে বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে তহুরার আরও একটি শট অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। উল্টো এর পরের মিনিটেই (৪২ মিনিটে) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে স্বাগতিক ভারতকে এগিয়ে নেন তারকা স্ট্রাইকার পেয়ারিজাদা। বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান ভারতের এই ১০ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার।

তবে বিরতির ঠিক আগে এবং ম্যাচের শেষভাগে ভারতের রক্ষণভাগের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ঋতুপর্ণা চাকমার এক জাদুকরী শটে গোল করে ১-১ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলে মারিয়া মান্ডারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠের দর্শকদের করতালিতে উজ্জীবিত ভারত একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে প্রতিপক্ষের উইঙ্গার মালাভিকাকে ডি-বক্সে আটকাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। মালাভিকার বাড়ানো পাস থেকে বক্সের মাথায় বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের লিন্দা কম। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে ভারত। আর গ্রুপ পর্বের পর ফাইনালেও ভারতের গতি ও কৌশলের কাছে হেরে ট্রফি অক্ষুণ্ন রাখার মিশন ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের।

/আশিক


একবার চার্জে ৬ ঘণ্টা চলবে বিশ্বকাপের বল, থাকছে হাইবারনেশন মোড

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২০:২০:২০
একবার চার্জে ৬ ঘণ্টা চলবে বিশ্বকাপের বল, থাকছে হাইবারনেশন মোড
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে কেবল দলসংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই নয়, বরং নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণেও ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ এবং যুগান্তকারী স্থান করে নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই বৈশ্বিক আসর।

এবারের বিশ্বকাপের জন্য বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’ হবে সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত একটি উচ্চপ্রযুক্তির স্মার্ট বল। ম্যাচ পরিচালনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও দ্রুততর করতে এই বলটি রেফারিদের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। বলটির ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্ত করা হয়েছে ৫০০ হার্টজ (Hz) গতির একটি অত্যন্ত উন্নত মোশন সেন্সর। এই শক্তিশালী সেন্সরটি মাঠে বলের প্রতিটি স্পর্শ, নিখুঁত গতিপথ এবং সামান্যতম নড়াচড়াও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার শনাক্ত করে সরাসরি ভিএআর সিস্টেমে ডেটা পাঠাবে। এর ফলে অফসাইড, গোললাইন প্রযুক্তি এবং পেনাল্টি বা হ্যান্ডবলের মতো চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো রেফারিরা মুহূর্তের মধ্যে কোনো ভুল ছাড়াই নিতে পারবেন।

অ্যাডিডাস তাদের এই বলের ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বলের ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে প্রতিটি ম্যাচের আগে একটি বিশেষ চার্জিং স্টেশনে বলগুলোকে চার্জ করা হবে। একবার পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন হলে বলটি টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা সক্রিয়ভাবে মাঠে ডেটা পাঠাতে পারবে। ম্যাচের বাইরে বা বলটি মাঠের বাইরে চলে গেলে এর সেন্সরটি ব্যাটারি বাঁচাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হাইবারনেশন মোডে’ (নিষ্ক্রিয় অবস্থা) চলে যায়, যার ফলে এর ব্যাটারির কার্যকারিতা কয়েক দিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’ বলটির বাহ্যিক নকশাতেও তিন আয়োজক দেশের সংস্কৃতির চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি আকর্ষণীয় এই বলটিতে কানাডার ঐতিহ্যবাহী ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর জাতীয় প্রতীক ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা চিহ্নের প্রতীকী ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে। মূলত তিন দেশের এই মেলবন্ধন ও ‘তিন তরঙ্গ’ বা ‘থ্রি ওয়েভস’ ধারণা থেকেই বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’।

বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মাঝে এই বলটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে অ্যাডিডাস এই বলটিকে মোট চারটি ভিন্ন সংস্করণে বাজারে ছাড়ছে—প্রো (Pro), কম্পিটিশন (Competition), লীগ (League) এবং ক্লাব (Club)। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘প্রো’ সংস্করণটিই বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা ব্যবহার করবেন, যাতে আসল সেন্সর প্রযুক্তি এবং ‘ফিফা কোয়ালিটি প্রো’ সার্টিফিকেশন রয়েছে।

বিশ্ববাজারে সংস্করণভেদে বলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ থেকে ১৭০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। যেখানে আসল প্রযুক্তি সংবলিত প্রো সংস্করণের মূল্য পড়বে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার এবং সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের খেলার জন্য তৈরি লীগ ও ক্লাব সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ২৫ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে।

/আশিক


সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৮:০৮:৪৪
সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আজ হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই মেগা ফাইনাল আজ কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়; বরং দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবলীয় মর্যাদা, আঞ্চলিক আধিপত্য, পুরোনো প্রতিশোধ এবং নতুন ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত লড়াই।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে এক বিরল ও মহাকাব্যিক কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের শিরোপাজয়ী লাল-সবুজের মেয়েরা আজ জিততে পারলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন তথা ট্রফির হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করবে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে স্বাগতিক ভারতের একমাত্র লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

একসময় যে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কেবল অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখত, ধারাবাহিক উন্নতি আর ইস্পাতকঠিন আত্মবিশ্বাসের জোরে সেই মঞ্চেই আজ নিজেদের আঞ্চলিক পরাশক্তিতে রূপান্তর করেছে তারা। বাংলাদেশের এই উত্থানের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন ভারতের শিলিগুড়িতে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে উঠেছিল দলটি। সেবার ভারতের কাছে হারলেও সাবিনা খাতুন ও সিরাত জাহানরা নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ এবং ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ট্রফি জিতে ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী ভিত গড়ে তোলে বাংলাদেশের মেয়েরা, যার চূড়ান্ত ফল আসে ২০২২ সালে প্রথম সিনিয়র সাফ জয় এবং ২০২৪ সালে তার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে।

তবে ট্রফি ধরে রাখার এই মিশন মারিয়া মান্ডাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। কারণ চলতি আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই ভারতের কাছেই ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। অবশ্য সেই মানসিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে লাল-সবুজের দল। অপরদিকে, ভারত সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে তাদের ফাইনাল টিকিট নিশ্চিত করে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের পর এই প্রথম সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সেবারের ফাইনালে ভারত ৩-১ গোলে জিতলেও গত কয়েক বছরে ভারতকে একাধিকবার হারিয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ফাইনালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার জন্যও। ২০১৬ সালের সেই রানার্সআপ দলের সদস্য মারিয়ার কাঁধেই এখন দলের নেতৃত্বের ভার। ফলে মাঝমাঠের এই মূল ভরসার সামনে আজ পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়ার যেমন সুযোগ, তেমনি রয়েছে অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। এখন দেখার বিষয়, ভারতের দুর্গ ভেঙে বাংলাদেশ কি পারবে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের মুকুট নিজেদের করে নিতে, নাকি স্বাগতিকদের গর্জনেই ট্রফি থেকে যাবে ভারতের ঘরে।

/আশিক


৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:৩০:১৮
৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে
ছবি : সংগৃহীত

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা এবার ২০২৬ আসরেও নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে মাঠে নামছে। তবে ফুটবলের মহাযজ্ঞে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করা কতটা কঠিন, তা ইতিহাসই বলে দেয়। আজ থেকে দীর্ঘ ৬৪ বছর আগে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে শেষবারের মতো এই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল।

এবার ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পথ এবং শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা কেমন, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেছে বিখ্যাত ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘অপটা’। তাদের সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশন বা গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এবার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা অন্তত ১৮ শতাংশ।

এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ তিন দল—আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। এই গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা আকাশচুম্বী। অপটা সুপারকম্পিউটার বলছে, ৯৬.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের বাধা পার করবে। পুরো টুর্নামেন্টে কেবল স্পেনের গ্রুপ পার করার সম্ভাবনা (৯৮.৬%) আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি।

গ্রুপ পর্ব পার হতে পারলে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৩ জুলাই মিয়ামি গার্ডেন্সে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ল্যাটিন পরাশক্তি উরুগুয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই উরুগুয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো গোল করতে পারেনি, যার মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে তারা। ফলে এই বাধা টপকে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে ৬৩.২ শতাংশ এগিয়ে রাখছে অপটা।

উরুগুয়ে বধের পর শেষ ১৬-তে আলবিসেলেস্তেদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে তুরস্ক। দুই দলের পূর্বে মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইতিহাস না থাকলেও শক্তির বিচারে এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনা পার করে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যার সম্ভাবনা ৪৫.৭ শতাংশ। তবে আসল রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মহাকাব্যিক ‘মেসি বনাম রোনালদো’ দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাবে। এর আগে ২০১১ সালের এক প্রীতি ম্যাচে রোনালদো গোল করলেও ৮৯ মিনিটে মেসির পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩০.৬ শতাংশ।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসেবে ১৬.৫ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্প্যানিশরাই এবার ট্রফি জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে; এর আগে আর্জেন্টিনা যে পাঁচটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে, তার প্রতিটিতেই জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

এবারও স্পেনের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ। আর সব বাধা পেরিয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে এমবাপের ফ্রান্স।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব ২০২২ কাতার ফাইনালের রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি দেখবে। অপটা ট্রফি জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও (১২.৮%) আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাও ১০.৪ শতাংশ। যদি এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতে, তবে লিওনেল মেসি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি টানা দুইবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনন্য কীর্তি গড়বেন।

/আশিক


শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:২০:৫৩
শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্র আবহের মাঝেই ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বর্তমানে তুরস্কের আনতালিয়ায় একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পে অবস্থান করছে ইরান ফুটবল দল। সেখান থেকেই আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটবলারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং কয়েকজন প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীর ভিসাও অনুমোদিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কারও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দূতাবাস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হতে পারবে বলে জানা গেছে।

ভিসা অনুমোদনের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই প্রতিনিধিদলের ওপর বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ইসলামিক রেভলশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে এই বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “খেলোয়াড় বা প্রকৃত ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলাধুলার বাইরে আইআরজিসির ছদ্মবেশী কাউকে মার্কিন ভূখণ্ডে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করায় এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। চলতি বছরের শুরুতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ফিফা শুরু থেকেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিল। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়েটলে মিশরের মুখোমুখি হবে দলটি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: