নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২০:২২:২২
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!
ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও নবম পে স্কেল নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি ও তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়তে থাকায় তীব্র উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ চাকুরিজীবী।

আসন্ন ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকর হওয়ার জোর সম্ভাবনা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা থাকলেও চলতি জুন মাসের মধ্যেই যদি এর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তবে আগামীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থ ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ফলে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশার পারদ যেমন চড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠাও। তাদের সব দৃষ্টি এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপনের ডেডলাইনের দিকে।

সরকারি চাকুরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন পে স্কেল চালুর দাবি জানিয়ে রাজপথে ও টেবিলে তদবির করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা করার জোরালো সুপারিশসহ নানা খসড়া প্রস্তাবনার খবর সামনে এলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো উচ্চপর্যায় থেকে এর আনুষ্ঠানিক বা আইনি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই বেতন কাঠামো একযোগে পুরোটা বাস্তবায়নের পরিবর্তে কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার একটি বিকল্প পরিকল্পনা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তবে এই 'ধাপে ধাপে' বেতন বৃদ্ধির ফর্মুলা বা প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ও সচিবালয় কর্মকর্তা সংগঠনের নেতারা।

কর্মচারী নেতাদের স্পষ্ট দাবি—দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষার পর যখন নতুন পে স্কেল চালুর দ্বারপ্রান্তে দেশ, তখন তা আংশিকভাবে বা কিস্তিতে নয়, বরং একযোগেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, বাজারে বর্তমানের লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তার বিপরীতে ধাপে ধাপে সামান্য বেতন বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের আর্থিক চাপ এবং সংসার চালানোর কষ্ট কমাতে বিন্দুমাত্র যথেষ্ট হবে না।

সরকারি চাকুরিজীবীদের একাংশের মতে, নতুন পে স্কেল অবিলম্বে কার্যকর হলে তা সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্যের সাথে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এর ফাইল নিয়ে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারের শীর্ষপর্যায়ের অস্পষ্টতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কাজের স্পৃহা কমিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

/আশিক


বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৯:৫৩:৩৯
বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববাজারের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংসদীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদে দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। নুরুল হক নুর জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত—অর্থাৎ গত ১১ মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী নতুন করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল অদক্ষ শ্রমিক নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দক্ষ, আধাদক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিধি আরও বড় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম বড় উৎস হওয়া সত্ত্বেও যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত আকারে রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় পুরোদমে উন্মুক্ত এবং সম্প্রসারণের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বড় বাজার তৈরি হবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।

/আশিক


রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৮:২২:৪৯
রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি অর্থ অপচয় রোধ ও আমলাতান্ত্রিক ‘প্রমোদ ভ্রমণ’ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের অজুহাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের একটি প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কোনো যৌক্তিকতা নেই; প্রয়োজন হলে কেবল সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এ ধরনের সফরে অংশ নিতে পারেন। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুশাসন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সভিত্তিক ‘আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ (ALAC) পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের একটি ফ্রান্স সফরের যৌথ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রস্তাবের ফাইল নাকচ করে দিয়ে নোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে প্রকৌশলীর অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে।

তবে প্রশাসক নিজে কোনো প্রকৌশলী নন, তাই তাঁর এই সফরে অংশগ্রহণের বিশেষ কোনো গুরুত্ব বা যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাকী সফরের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উদ্ভাবনী বা আধুনিক প্রকল্পে বিদেশমুখী না হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এটিই প্রথম নয়, এর আগে মশকনিধন-সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিলাসবহুল যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও একইভাবে ফাইল ছুড়ে বাতিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তিনি কড়া মন্তব্য করে বলেছিলেন, মশকনিধনের সাধারণ উপায় জানতে সরকারি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিবেশ থেকেই কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব।

কেবল সরকারি টাকায় বিদেশ ভ্রমণ বাতিলই নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সস্তা সংস্কৃতিতেও লাগাম টেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে তিনি তা অনুমোদন দেননি। এর পরিবর্তে বিদ্যমান কোনো সরকারি নাম না বদলে, নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নামকরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরকারি নীতি নির্ধারকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে—বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে পেশাগত সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতাকে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের নীতিতে হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন।

/আশিক


গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেট অধিবেশনে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২২:০৫:১৭
গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেট অধিবেশনে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট (দ্বিতীয়) অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, "আমরা একে লোডশেডিং বলি আর মেরামতজনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটই বলি না কেন—গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এটাই মাঠপর্যায়ের নির্মম বাস্তবতা।" মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি টেনে তিনি আরও বলেন, "মাননীয় মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু আজ এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেখানে এখনও গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।" এরপর তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানায় ঠিক কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, মন্ত্রীর কাছে সেই সুনির্দিষ্ট জবাব চান।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বর্তমানে সার কারখানার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বলেন, "উনি একই সঙ্গে বিদ্যুৎও চাচ্ছেন, আবার ফার্টিলাইজার কারখানাতেও গ্যাস চাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে হচ্ছে বলেই আপাতত সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।" অতীতের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, "গত ১৭ বছরে দেশে কোনো ড্রিলিং বা নতুন খনন কাজ করা হয়নি। আমরা দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি নতুন গ্যাস পাওয়া যাবে এবং তা পেলেই আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানাগুলোতে পুনরায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।"

মন্ত্রীর এমন আত্মপক্ষ সমর্থনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীকে সংসদে দেওয়া তাঁর আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে স্পষ্ট বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।" ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর জ্বালানিমন্ত্রীকেও আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, "সংসদে ভবিষ্যতে যে প্রতিশ্রুতিই দেবেন, তা ড্রিলিংসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে পর্যালোচনা ও স্টাডি করেই দেবেন।"

/আশিক


 বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থান; সীমান্তজুড়ে ৩ দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২১:৪০:৪২
 বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থান; সীমান্তজুড়ে ৩ দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা
শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন ভারতীয় নাগরিকরা/ছবি : সংগৃহীত

জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম আর কাদাপানির মধ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বন্দুকের নলের মুখে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) টানা তিন দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (BSF) চাইনিজ রাইফেল তাক করে পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সশস্ত্র পাহারায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় নারী ও শিশুসহ ২১ জন ভারতীয় নাগরিক খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত অমানবিক ও বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন।

গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের ৭৫৮ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বর্তমানে ভারতীয় শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে আটকা পড়ে আছেন। আজ রবিবার (৭—জুন) দুপুরে বিএসএফ জোরপূর্বক তাদের আবারও বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়; পরে বাংলাদেশ প্রান্তের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে বিএসএফ পিছু হটে।

জমিতে পানি জমে থাকায় তিন দিন ধরে কাদাপানির মধ্যেই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুয়ে-বসে আছেন এবং মাথার ওপর পলিথিন ধরে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। সকালে বিজিবি তাদের পানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিএসএফ তাতে বাধা দেয়। পুশ-ইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, তারা সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে বলেন, "যেহেতু তারা ভারতীয় শূন্যরেখায় আছে, তাই কোনোভাবেই তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অবৈধ কাউকে ফেরত দিতে হলে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন আইন মেনে পুলিশের মাধ্যমে দিতে হবে, বিএসএফের জোরপূর্বক পুশ-ইন বিজিবি মেনে নেবে না।"

অনুরূপভাবে, ৪৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার ১১ জনের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। শনিবার ভোরে ৩ পুরুষ, ৪ নারী ও ৪ শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা বিজিবি প্রতিহত করলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। আটকে পড়াদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে।

পুশ-ইনের শিকার স্কুলছাত্রী রোজিনা আক্তার জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে রেখে ১২ দিন ধরে বিভিন্ন সীমান্তে ঘুরিয়ে অবশেষে এখানে এনে ছেড়ে দিয়েছে। খাবার ও পানির অভাবে তাদের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে; স্থানীয়রা কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা অপ্রতুল। এই বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দুই দফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান মেলেনি। যথাযথ প্রমাণসহ আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে গ্রহণ করা হবে, তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন বিজিবি মেনে নেবে না।

/আশিক


সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙায় জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৪২:০৯
সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙায় জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানকে স্পিকারের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে এর আনুষঙ্গিক ও কারিগরি বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জেরে স্পিকার এই মন্তব্য ও নির্দেশনা দেন।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জ্বালানিমন্ত্রীর পূর্বের একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’ এরপর তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে, মন্ত্রীর কাছে সেই সুনির্দিষ্ট জবাব চান। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘উনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার উনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’ মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘গত ১৭ বছরে কোনোদিন ড্রিলিং (খনন) করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাব। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারব।’

মন্ত্রীর এমন আত্মপক্ষ সমর্থনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে।

সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি।’ ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’ স্পিকারের এই কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পর সংসদ অধিবেশনে কিছুক্ষণের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।

/আশিক


ভারতের যেকোনো অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৩৭:৪৫
ভারতের যেকোনো অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত বৈঠক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই শীর্ষ বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে টেবিল তুলবে।

নিয়ম অনুযায়ী এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি একবার বাংলাদেশে এবং পরেরবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়; এবার আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের পালায় দিল্লিতে এই বৈঠক বসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পুশ ইন রুখে দিতে সরকার প্রস্তুত থাকলেও এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারের বৈঠকটি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এটিই দুই দেশের প্রথম সীমান্ত বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গে নতুন ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার নথিপত্রবিহীন তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, মুছে ফেলা এবং বহিষ্কার) অভিযান শুরু করায় সীমান্ত পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত।

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফের পক্ষ থেকেও সীমান্তপারের অপরাধ, বিএসএফের ওপর হামলা ও ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

/আশিক


ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কাটবে না ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:৫৪:২৫
ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কাটবে না ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উপার্জিত আয়ের ওপর থেকে ৭.৫০ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই খাতকে করমুক্ত করার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শাখায় ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে আরও ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এই কর মওকুফের সিদ্ধান্ত তারই অংশ।

ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট সেবা চালু, ১০ বছরের কর সুবিধা, স্টার্টআপ তহবিল এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

সাধারণত যারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যবহুল, শিক্ষণীয় বা বিনোদনমূলক ছবি ও অডিও-ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব অ্যাডসেন্স, ফেসবুক মনিটাইজেশন কিংবা ব্র্যান্ড প্রমোশনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন, আইনি পরিভাষায় তারাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এতদিন তাদের অর্জিত অর্থ ব্যাংকে আসার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭.৫০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হতো।

২০২৩ সালের আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ের বা নিজস্ব অফিসবিহীন স্বাধীন ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা এই করমুক্ত সুবিধার আওতায় পড়বেন। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়া অফিস তাদের বাণিজ্যিক পেজের আয়ের ওপর আগের নিয়মেই কর প্রদান করবে, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী ব্যক্তিগতভাবে ছোট আকারে আয় করলে তাকে আর কর দিতে হবে না। এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং এই সৃজনশীল খাতকে উৎসাহিত করতেই এই যুগান্তকারী ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরপরই বেসরকারি খাতের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। গত শুক্রবার ব্যাংকটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে এই কর বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর আগে থেকে চলে আসা সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর কর্তন বন্ধে ব্যাংক দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং আগের কাটা অর্থ রিফান্ড করার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, শুধু আইসিটি খাতই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা সম্পূর্ণ বাতিল করেছে সরকার। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর আরোপিত বাড়তি কর, সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার করের প্রস্তাবনাগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি রপ্তানি প্রণোদনার ওপর প্রস্তাবিত বাড়তি করের সিদ্ধান্ত থেকে ইউটার্ন নিয়ে তা অর্ধেক করা এবং ব্যাংকের আবগারি শুল্কের ছাড়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণসহ বেশ কিছু জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।

/আশিক


ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:৪৯:৫৭
ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির পর্দা উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের উচ্চশিক্ষায় কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন আমন্ত্রিত বক্তারা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ক্ষেত্র। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষার প্রসার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে তিনি স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সাক্ষরতার মতো আধুনিক বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামের অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতেও দেশের শিক্ষার্থীদের এখনই প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। উচ্চশিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের (Industry) মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই বেকার থেকে যায়। এই জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্প-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ (Seed Funding) বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সুযোগ তৈরি হবে। শেষাংশে শিক্ষকদের জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠদানকারী নন, তারা সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত রোল মডেল। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:০৩:২৯
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ক্লুলেস ও রোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত মূল ঘাতক সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

এর আগে, সকাল থেকেই এই রায় দেখাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কড়া পুলিশি পাহারার পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে মূল কারাফটক থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীতে এজলাসে তোলার আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। আদালত কক্ষে বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতেই এই রায় পড়ে শোনান।

নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করে। এরপরের দিন ২ জুন মাত্র এক দিনেই মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (৭ জুন) ধার্য করেছিলেন আদালত।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ঘটনার দিনই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে এবং ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল। আজ আদালতের এই সর্বোচ্চ সাজার রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্ষুব্ধ দেশবাসী অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বিচার পেল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: