দক্ষিণ লেবাননের ৫ শহরে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৩৩:২১
দক্ষিণ লেবাননের ৫ শহরে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও কৌশলগত এলাকায় নতুন করে তীব্র বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণ লেবাননের কালাউইয়া, আল-কাত্রানি, বাইব্লোস, রিহান এবং দেইর কিফা শহরের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বারাশিত ও চাকরা এলাকায় রাতভর ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি আর্টিলারি ইউনিট। সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমাগত এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতি নতুন করে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননে চালানো এই বিশেষ অভিযানে তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রায় ১৫০টি কৌশলগত অবকাঠামো ও সামরিক অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। আইডিএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিমান ও গোলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল হিজবুল্লাহর গোপন অস্ত্রাগার, আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার, রকেট উৎক্ষেপণ প্যাড এবং সীমান্তসংলগ্ন অন্যান্য সামরিক স্থাপনা।

পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানে থাকা ইসরায়েলি সেনাবহর এবং সীমান্তসংলগ্ন একটি প্রধান ইসরায়েলি আর্টিলারি পজিশন লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিরোধের মুখে উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দফায় দফায় সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজতে থাকে। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার রাতে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী সুইসাইড ড্রোন দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রবর্তী অবস্থানের খুব কাছাকাছি আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

/আশিক


কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:২৯:৪১
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আবারও বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছে ইরান। গতকাল শনিবার (৬ জুন) ভোরের দিকে চালানো এই আকস্মিক হামলার বেশিরভাগই আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ রবিবার (৭ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, এর আগে পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার ইরানি উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন; আর তারই পাল্টা জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বাহরাইন সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানকে অনতিবিলম্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এমন উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই প্রত্যক্ষ সংঘর্ষের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা নাজুক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে উৎসবের কাছে ভয়াবহ গোলাগুলি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:২৫:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে উৎসবের কাছে ভয়াবহ গোলাগুলি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবস্থলের কাছে আকস্মিক এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও স্থানীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাতে ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত এই ঘটনার পর জড়িত বন্দুকধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় কাউন্টি পুলিশ। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ রবিবার (৭ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

টলেডো পুলিশ বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল এলাকায় আকস্মিক গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একাধিক টহল দল। সেখানে পৌঁছে উৎসবের প্রবেশমুখের কাছ থেকে একাধিক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি দল।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না বা আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কতটা আশঙ্কাজনক, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওহাইও চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ।

গোলাগুলির কারণ এবং হামলাকারীরা সংখ্যায় কতজন ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। টলেডো পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ নিবিড় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দা এবং উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের সাময়িকভাবে দুর্ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে টলেডো সিটি প্রশাসন। উৎসবের মাঝে এমন আকস্মিক বন্দুক হামলার ঘটনায় পুরো ওহাইও অঙ্গরাজ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


ফিলিস্তিনিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের বর্বরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২১:৪৮:৫৯
ফিলিস্তিনিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের বর্বরতা
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর বর্বর হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ শনিবার (৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই নিদারুণ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজা থেকে আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, আনন্দঘন পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করেই একটি নির্দিষ্ট তাঁবুকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। মুহূর্তের মধ্যে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ঘটনাস্থলেই হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন সময়ে এবং গাজা সিটির সুনির্দিষ্ট কোন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি আল জাজিরা।

এদিকে গাজার ঐতিহাসিক আল-শিফা হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সূত্র গণমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে এবং বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানে ইসরাইলের এমন কাপুরুষোচিত বিমান হামলা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

/আশিক


ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২০:১২:৪৯
ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা যৌথ বিমান হামলার মুখে তেহরানের অধিকাংশ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’-এর বিখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের ড্রোনগুলো বর্তমানে কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের ড্রোন তৈরির প্রধান প্রধান কারখানাগুলো ঠিক কোন কোন স্থানাঙ্কে অবস্থিত, সে সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযানের ফলে ইরানের অধিকাংশ ড্রোন কারখানা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একইভাবে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বেশিরভাগ ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

তবে পারস্য উপসাগরে চলমান এই সংঘাতের মাঝে ইরানের সামরিক তহবিলে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবশিষ্ট রয়েছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সুরক্ষার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।

অবশিষ্ট সক্ষমতার বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “নিশ্চিতভাবেই তেহরানের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে। তবে যদি শতকরা হিসেবে বলতে হয়, তবে হয়তো তাদের আগের মোট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মাত্র ২১ বা ২২ শতাংশ এখন টিকে আছে।” ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, একটি দেশের জন্য এই পরিমাণ অস্ত্রও ‘অনেক’ বা ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তীব্র যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলার আগের সক্ষমতার তুলনায় এটি একেবারেই নগণ্য।

সামরিকভাবে এত বিপর্যস্ত হওয়ার পরও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি না হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প। এর পেছনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘অতিরিক্ত অহংকার ও আত্মমর্যাদা’কে দায়ী করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তারা নিজেরাও বিশ্বাসই করতে পারছে না যে তারা আজ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

তারা অত্যন্ত গর্বিত জাতি। ফলে আজ তাদের এমন কিছু শর্তে টেবিলে বসতে হচ্ছে, যা তারা অতীতে কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু শান্তি চুক্তি করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই।” অবশ্য এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিছুটা ইতিবাচক সুর টেনে দাবি করেছিলেন যে, পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ‘বেশ ভালোই এগোচ্ছে’। সম্ভাব্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তির সময়সীমা নিয়ে তিনি যোগ করেন, “এটি শেষ মুহূর্তে ভেস্তেও যেতে পারে, তবে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই একটি বড় সমঝোতা চলে আসতে পারে।”

/আশিক


হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৭:৪১:৩৮
হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এবার সরাসরি প্রকাশ্য ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান এবং কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মার্কিন বা মিত্রজোটের পক্ষ থেকে আর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে বিশ্ব তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আজ শনিবার (৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত বাণিজ্যিক ও জ্বালানি ট্যাংকার চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার জেরে ইরানের কেশম ও সিরি দ্বীপে তাদের সামরিক যোগাযোগ টাওয়ারে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। পেন্টাগনের এই আচমকা আগ্রাসনের জবাবেই ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত হানে। ইরানি বাহিনী কুয়েতের কৌশলগত ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে একের পর এক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

আইআরজিসির প্রকাশিত বিশদ তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে একটার দিকে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল চারটি রহস্যময় ট্যাংকার জাহাজ। ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং কোনো পূর্ব-সমন্বয় ছাড়াই তারা জোরপূর্বক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইআরজিসি একটি ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালিয়ে সেটিকে অবরুদ্ধ করে।

এই ঘটনার পর বাকি তিনটি জাহাজ উল্টো পথে ফিরে যায়। তবে এর মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে, রাত দুটার দিকে কেশম ও সিরি দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির দুটি প্রধান টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে সুনির্দিষ্ট মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়। যার চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভোররাতেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি ছড়ায় তেহরান। বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের আগ্রাসনমূলক তৎপরতা আবারও ঘটলে ইরানের জবাব আর সীমিত থাকবে না এবং এর ফলে যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়, তবে তার সব অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক দায়ভার পুরোপুরি মার্কিন-ইসরায়েল জোটকেই বহন করতে হবে।

/আশিক


ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১১:৫১:৪৬
ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ প্রায় ১০০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছালেও তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের বহু যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলে, কিন্তু আমরা মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” তবে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা শান্তি চুক্তি হয়নি।

ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরানের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের সাথে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো মোটেও সহজ কাজ নয় এবং চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ার ভেতর এখনও বেশ কিছু গভীর ভূরাজনৈতিক জটিলতা রয়ে গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার পথ খুঁজছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালীতে রণক্ষেত্র: মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১০:০৮:২৮
হরমুজ প্রণালীতে রণক্ষেত্র: মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের ভূকৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের একাধিক সামরিক রাডার স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক এই অভিযানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী এলাকায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের সন্দেহজনক তৎপরতার জবাবেই এই লক্ষ্যভিত্তিক হামলা পরিচালিত হয়েছে।

হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের রাডার ও আকাশসীমা নজরদারি সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করে দেওয়া, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই হামলা কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা বৃহৎ আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়, বরং সম্ভাব্য বড় হুমকি মোকাবিলায় অত্যন্ত সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক একটি সামরিক পদক্ষেপ।

এদিকে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর চরম ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক কৌশলগত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের মূল ঘাঁটিগুলোতে’ তারা এই নিখুঁত হামলা চালিয়েছে এবং এই অভিযানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ‘অ্যারোস্পেস মিসাইল’ বা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ প্রকাশিত আইআরজিসি’র এই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের সিরিক শহর এবং কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন যুদ্ধবিমানের বেআইনি হামলার মোক্ষম জবাব হিসেবেই এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা কতজন সেনা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন পেন্টাগন বা তেহরান বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছায়াযুদ্ধ ও উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়ে এক নতুন বিপজ্জনক মাত্রা পেল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ড্রোন ভূপাতিত করা, বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একাধিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছিল, যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটল এই মুখোমুখি হামলায়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ ধস নামবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

ওয়াশিংটনের এই বিমান হামলার পর তেহরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও আইআরজিসি’র এই তাৎক্ষণিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব বা সামরিক স্থাপনায় আঘাত এলে ইরান আর মুখ বুজে থাকবে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিস্তৃত ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এই ঘটনার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সবকটি ঘাঁটিতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে নিরাপত্তা সতর্কতা সর্বোচ্চ স্তরে জোরদার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে চরম সংযম প্রদর্শন এবং অবিলম্বে সামরিক পথ পরিহার করে কূটনৈতিক সমাধানের টেবিলে ফিরে আসার জোর আহ্বান জানিয়েছে

সূত্র: আল-জাজিরা


সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ১৭:০৮:১৭
সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা

নাইজারের বিস্তীর্ণ সাহারা মরুভূমিতে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাদের বহনকারী ট্রাক বিকল হয়ে যায়। চারদিকে বালুর সমুদ্র, মাথার ওপর প্রখর সূর্য আর পানির শেষ ফোঁটাটুকুও ফুরিয়ে যাওয়ার পর একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তারা।

নাইজারের আগাদেজ গভর্নরেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান (ঈদ উৎসব) শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাদের ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। মরুভূমির প্রত্যন্ত এলাকায় আটকা পড়া যাত্রীদের কাছে থাকা সীমিত পানির মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। সাহায্য পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় তারা চরম তাপদাহ ও পানির সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হন।

ঘটনাস্থলটি ছিল আসামাকা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে। আসামাকা নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংযোগস্থল, যা মালি সীমান্তেরও কাছাকাছি অবস্থিত।

স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকের চালক, সহকারী এবং যাত্রীরা প্রথমে নিজেরাই যানবাহনটি মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই ট্রাকটি সচল করা সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মরুভূমির দহনজ্বালা, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা এবং পানির অভাবে তারা কার্যত মৃত্যুফাঁদে আটকা পড়ে যান।

তবে এই মৃত্যুমিছিলের মধ্যেও দুজন ব্যক্তি অবিশ্বাস্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। তারা মরুভূমির মধ্যে পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে একটি পানির উৎসের সন্ধান পান। সেখান থেকে তারা আসামাকায় পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

পরে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। পিপাসা, ক্লান্তি ও তীব্র গরমে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে গণকবরে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিশ্বের অন্যতম কঠোর ও বৈরী প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে পরিচিত সাহারা মরুভূমিতে প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সীমান্ত অতিক্রমকারী যাত্রী, শ্রমিক কিংবা অভিবাসীরা প্রায়ই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পানিশূন্যতা, তাপদাহ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাণ হারান।

সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সাহারার বুকের হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নির্জন পথ কতটা নির্মম হতে পারে। যেখানে একটি বিকল ট্রাক, এক বোতল পানির অভাব কিংবা সাহায্য পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টার বিলম্বই কয়েক ডজন মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে।


ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ০৯:০৬:৪৮
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে বুধবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি আলোচনা চললেও দুই পক্ষ এখনো কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন বা War Powers Act প্রয়োগের প্রস্তাব তোলা হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হলে কংগ্রেস যেন সেই সংঘাত বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ১৯৭৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি না থাকলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই আগে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যার সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিণতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন।

ভোটাভুটিতে ২১৫ জন প্রতিনিধি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২০৮ জন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, কেন্টাকির থমাস ম্যাসি এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। এর আগেও তিনজন রিপাবলিকান একই ধরনের ভোটে দলীয় অবস্থান ভেঙেছিলেন; এবার তাঁদের সঙ্গে আরও একজন যুক্ত হন। এটি ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতে রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পাশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ট্রাম্প স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোট কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; রিপাবলিকান দলের ভেতরেও ক্রমবর্ধমান সংশয়ের প্রতিফলন।

তবু এই ভোটকে এখনই কার্যকর বাঁধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দফা ভোটের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা এখনো তা ঠেকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাব এগোয়নি। যদিও সেখানে চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বোঝা যায়, যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ফলে “শত্রুতা শেষ” হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কংগ্রেসে শুনানির সময় বলেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ।” প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে War Powers Act-এর আওতায় বর্তমান পরিস্থিতিকে সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। সিনেটর জিন শাহিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথ তথ্য না দিয়ে যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রশাসন যখন বলছে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় শত্রুতায় নেই, তখনও বাস্তবে সামরিক সংঘাত ও প্রতিরোধমূলক হামলা চলেছে।

এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে। তিনি মে মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ইরানে হামলা আবার শুরু করতে পারেন এবং প্রশাসনের হাতে তা করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি War Powers Act-এর ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আবারও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।

এই অবস্থান সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে প্রশাসন সময়সীমা পুনর্গণনা করতে পারে এবং কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন হামলার পথ খোলা রাখতে পারে। এতে মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছেন। ইরান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ বিতর্কের নতুন অধ্যায়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন করদাতাদের অর্থ একটি “বেপরোয়া পছন্দের যুদ্ধে” ব্যয় করছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি এখন শুধু নৈতিক বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, “আত্মরক্ষা”র এই বিস্তৃত ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেও তা এখনো যুদ্ধ থামানোর কার্যকর আইনি হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি। এটি কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, রিপাবলিকানদের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হাতে এখনো ভেটো ক্ষমতা আছে, সিনেটে রিপাবলিকান প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে নিজের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইছে।

তাই প্রশ্নটি এখন শুধু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মার্কিন কংগ্রেস কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? নাকি ইরান যুদ্ধও সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে কংগ্রেস আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টই সামরিক নীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন? আপাতত প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়।

পাঠকের মতামত: