বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১০:৩২:৪২
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

চলমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থানের আশঙ্কায় স্বর্ণের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে গত শুক্রবারও স্বর্ণের দাম একলাফে প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পাশাপাশি আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার (OANDA) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানান, বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টিকে মাথায় রেখে হিসাব কষছেন। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বা ইল্ড দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও অনুরোধ উপেক্ষা করে আজ সোমবার পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একলাফে ৩ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বেথ হ্যাম্যাক জানিয়েছেন, মার্কিন শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় থাকলেও মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ (ডিসেম্বরের মধ্যে) ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ। উচ্চ সুদের হারের এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো মূল্যবান ধাতুর বাজারে; আজ স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলার এবং প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১,২২৫.৬৬ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

/আশিক


আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১০:৫২:৪১
আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য, যা বাজারে সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা শঙ্কার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সম্পর্কিত সামরিক তৎপরতা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারে ঝুঁকি মূল্যায়ন নতুন করে করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এসব পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এর আগের লেনদেনেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা টানা কয়েক দিনের মূল্যবৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

-রাফসান


আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১০:২২:১৪
আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও সব ধরনের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের অন্যতম।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানায়, সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।

বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং দেশীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্রয়মূল্যের পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত মূল্য কেবল স্বর্ণের মূল দাম। অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ (মজুরি) আলাদাভাবে যোগ হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে।

এর মাত্র একদিন আগে, ২১ জুলাই, বাজুস প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে সব ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামই আবারও বেড়েছে।

স্বর্ণবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দফা দাম বৃদ্ধি, ৪৭ দফা দাম হ্রাস এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় স্বর্ণবাজারেও মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:৩৩:০৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে বেড়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) আসন্ন সভার দিকে উন্মুখ হয়ে চোখ রাখছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অনিয়ম, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সংকটে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম (Safe-haven asset) হিসেবে সোনার বাজারে নতুন করে ব্যাপক জোয়ার এসেছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম একলাফে ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১১৫ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে আগামী আগস্টে ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের (US Gold Futures) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৬০ ডলারে থিতু হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভট্রেডস’-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা রয়টার্সকে জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিক অনিশ্চয়তায় মূলধন বাঁচাতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুকছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ব্যাকচ্যানেল কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রভাবে তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা-ও স্বর্ণের সুবাতাসে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারেও আজ দারুণ চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ৩৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ লাফিয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্তাপ স্বাভাবিকভাবেই সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া বাজারেও। দেশে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

/আশিক


ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপহার: কাগজ ছাড়াই দেশে আনা যাবে রেমিট্যান্স

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:৪৩:৪১
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপহার: কাগজ ছাড়াই দেশে আনা যাবে রেমিট্যান্স
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রফতানি খাতকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালায় বড় ধরনের ছাড় ও শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, জটিল কাগজপত্র ছাড়াই কেবল অনলাইন বা ইলেকট্রনিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশ থেকে উপার্জিত আয়ের অর্থ সরাসরি দেশে আনতে পারবেন। একই সাথে ক্ষুদ্র অঙ্কের রেমিট্যান্স গ্রহণ, ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড ব্যবহার এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুসারে, বিদেশি ক্লায়েন্ট বা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ঐতিহ্যগত কাগজপত্রের জটিল রফতানি নথির পরিবর্তে এখন থেকে প্ল্যাটফর্মের স্টেটমেন্ট, ই-মেইল কনফার্মেশন, ইনভয়েস এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকেই বৈধ প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংকগুলো গ্রহণ করতে পারবে। ফলে প্রবাস বা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ দেশে স্থানান্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে প্রসেসিং সময় অনেকটাই সাশ্রয় হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি অঙ্কের আন্তর্জাতিক লেনদেন ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র (Declaration) দাখিল করতে হবে না।

পাশাপাশি, অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (OPGSP)-এর মাধ্যমে প্রতি একক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে নিয়ে আসা নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক সেবা ফি পরিশোধ সহজ করতে প্রবর্তন করা হচ্ছে ডুয়াল-কারেন্সি 'ফ্রিল্যান্সার কার্ড'। এছাড়া বিকাশ, নগদ বা উপায়ের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (PSP) মাধ্যমেই রেমিট্যান্স গ্রহণের আইনি সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

সার্কুলারে অর্জিত অর্থ ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রায় জমা রাখার ক্ষেত্রে বড় সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতের ফ্রিল্যান্সাররা সেবা রফতানি থেকে অর্জিত আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ERQ) অ্যাকাউন্টে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। নন-আইটি বা অন্যান্য সেবা রফতানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন জরুরি ফি, সাবস্ক্রিপশন ও কেনাকাটায় তাদের ওপর থাকা আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও ত্বরান্বিত করবে। এটি ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং দেশকে স্মার্ট ও ডিজিটাল-চালিত সেবা রফতানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক কাতারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১০:৫৭:১৬
স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পাকা সোনা)-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গয়নার নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। সেই হিসেবে বুধবার (২২ জুলাই) দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির (Traditional Gold) প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা।

নতুন মূল্য কার্যকরের আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মূল্য ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায়। ফলে সব ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামই নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে বেড়েছে।

বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিশুদ্ধ বা তেজাবি স্বর্ণের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই সময়ে সময়েই স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

তবে বাজুস স্পষ্ট করেছে, ঘোষিত মূল্য শুধুমাত্র স্বর্ণের মূল দাম। কোনো অলঙ্কার কেনার সময় এর সঙ্গে ডিজাইন, কারুকাজ ও মেকিং চার্জ (মজুরি) যুক্ত হবে। ফলে গয়নার ধরন ও নকশা অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

-রাফসান


স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১০:২১:৫৯
স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আপাতত কোনো নতুন মূল্য সমন্বয় হয়নি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম পরিবর্তনের ঘোষণা না দেওয়ায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে আগের নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১৪ জুলাই কার্যকর হওয়া মূল্য তালিকাই এখনো বহাল রয়েছে।

সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের সময় বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

বাজুসের প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকায়। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির (Traditional Gold) প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য রয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্রয়মূল্য পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতেই সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই দামই দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।

তবে ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস নির্ধারিত মূল্য শুধুমাত্র স্বর্ণের মূল দাম। স্বর্ণালঙ্কার কেনার সময় এর সঙ্গে ডিজাইন, কারুকাজ ও মেকিং চার্জ (মজুরি) যোগ হবে। ফলে অলঙ্কারের ধরন ও নকশাভেদে দোকানভেদে মোট মূল্য কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বাজুস আরও স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই নির্ধারিত দামের বাইরে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করার সুযোগ নেই। ক্রেতাদের বিল গ্রহণ এবং অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনারও পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

-রাফসান


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:১৯:৪২
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। গত ১১ জুনের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম। শুধু সোমবারই নয়, গত সপ্তাহজুড়েও ব্রেন্টের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহে এর মূল্য প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সোমবার এর মূল্য ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত ১২ জুনের পর এটিও সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা মার্চের শুরুর পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন বিস্তার। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার নতুন ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি এখন এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি বন্দরকে কার্যত নৌ অবরোধের আওতায় এনেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নির্ধারিত নৌপথের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

পরিস্থিতির প্রতিফলন ইতোমধ্যেই নৌ চলাচলেও দেখা যাচ্ছে। এলএসইজি (LSEG)-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল আটটি। যদিও একই সময়ে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং একটি অতিবৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রণালীতে প্রবেশ করেছে।

এদিকে সোমবার ভোরে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটির কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক বার্কলেজ-এর জ্বালানি বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক অবরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানি কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে আরও পরিষ্কার হবে। তাঁর মতে, বাজার এখনো সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের পূর্ণ ঝুঁকি মূল্যায়ন করেনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের মজুত বর্তমানে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়তে পারে।

-রফিক


২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ০৯:৩২:৪০
২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। বাজুসের ঘোষিত এই মূল্য মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আজ সোমবার (২০ জুলাই)ও দেশের বাজারে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রবণতা, দেশীয় কাঁচা স্বর্ণের মূল্য এবং বাজারের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়ে সময়েই এ ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই কার্যকর থাকবে।

সংগঠনটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, প্রকাশিত মূল্যের মধ্যে সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার বিক্রির সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালির ধরন অনুযায়ী মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে, যা প্রতিটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

চলতি বছরে দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৬ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন ও দেশীয় কাঁচামালের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

-রাফসান


স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১০:৩৫:১১
স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং আজ রোববার (১৯ জুলাই) দেশজুড়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে এই নির্ধারিত দামেই।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, দেশীয় কাঁচা স্বর্ণের মূল্য এবং বাজারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়ে সময়েই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্য তালিকাই কার্যকর থাকবে।

সংগঠনটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ঘোষিত মূল্যের মধ্যে সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার বিক্রির সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, ওজন, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর ভিত্তি করে মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত যোগ হবে, যা প্রতিটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা ছিল উল্লেখযোগ্য। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৬ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার ও স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: