আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৩৮:০৩
আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস হাউসগুলোর কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময়ও নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম চলমান থাকবে, তবে ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস হাউস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সচল রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনবিআর মনে করছে, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে যদি কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তাহলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস, শিপমেন্ট এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা দেশের প্রধান কাস্টমস হাউসগুলোর কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, বেনাপোল কাস্টম হাউস, আইসিডি কমলাপুর, মোংলা কাস্টম হাউস এবং পানগাঁও কাস্টম হাউস।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকেও একই ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (পশ্চিম), ঢাকা (পূর্ব), ঢাকা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট, রংপুর ও কুমিল্লা কমিশনারেট উল্লেখযোগ্য।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত বন্দর ও কাস্টমস হাউসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ ছুটির সময় এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকলে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। এনবিআরের এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

-রাফসান


বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১২:৫০:০২
বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরকার তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেসব পরিকল্পনা জনগণের ভাগ্য বদলে দেবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবে সরকার তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই বিশেষ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয়েছে এক আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ‘দারিদ্র্য সূচক’ বা প্রক্সি মিনস টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, শিক্ষার হার, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের অবস্থা এমনকি রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ডাবল ডিপিং বা দ্বৈত ভাতা গ্রহণ রোধ এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই পদ্ধতির ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোই রাষ্ট্রের এই সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সারাদেশে বিস্তৃত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১১:৪৪:০২
নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপকারভোগীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ বুঝে নিতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিটি দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। বিশেষ করে ‘ডাবল ডিপিং’ বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণ রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে অর্থ লোপাট বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই সরাসরি সুফল পাবেন। কড়াইল বস্তির মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

/আশিক


৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:১৫:০৮
৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা সরাসরি উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত ভাতা গ্রহণকারী ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৬ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত হন অথবা নারী প্রধান নিজে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, তবে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। সরকার ভবিষ্যতে এই নগদ সহায়তার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য প্রদানের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে দেশের অর্থনীতির সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছানো যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারকে এই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

/আশিক


জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:০৩:৫০
জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এই আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল বাংলাদেশে আসবে এবং মঙ্গলবারের মধ্যেই তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে এবং আকস্মিক কোনো সংকট এড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে এক বৈঠকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ভারতের কাছে পেশ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ২১:৫৪:২৮
দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরিভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। মূলত ডিলারদের আকস্মিক অতিরিক্ত চাহিদা এবং ডিপোগুলোতে তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনা ছাড়াও খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্থাপনা রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা 'কেপিআই' (Key Point Installation) ভুক্ত হওয়ায় এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে যেন আতঙ্ক না ছড়ায় এবং জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ শৃঙ্খল যেন কোনো অসাধু চক্রের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

/আশিক


টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৭:২৯:১১
টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশের প্রথম 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই যুগান্তকারী প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) পদ্ধতিতে সম্পন্ন করায় এখানে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি স্মার্ট কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী।

পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তীতে নগদ টাকার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত কোনো নারী যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে নতুন কার্ডের অন্তর্ভুক্তিতে সেই পুরনো সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী, পেনশনভোগী বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। এই পাইলট প্রকল্পের জন্য জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ (২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা) সরাসরি সাধারণ মানুষের নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে এবং বাকি অংশ তথ্য সংগ্রহ ও সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


হাদির খুনিদের ফেরত দিতে ভারতকে বলা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৭:২৩:২৪
হাদির খুনিদের ফেরত দিতে ভারতকে বলা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে নিহত হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভারতকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে বিরাজমান ‘মব কালচার’ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে মব কালচারকে কখনো আর এগোতে দেবো না। এটি চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ থেকে এটি বিলুপ্ত হবে।” জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কক্সবাজারের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও পর্যটন নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, একটি শক্তিশালী ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শহর ব্যবস্থাপনায় পুরো কক্সবাজার শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যানজট নিরসনে শহরে টমটম চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উখিয়া-টেকনাফ রুটে মাদক পাচার সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজা চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৩:০২:৩৩
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজা চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ছবি: BNP Media Cell

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ও শিল্প বিনিয়োগের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল এবং শিল্পায়ন সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর অবদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেপজার ভূমিকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বেপজার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, শিল্প অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বেপজার অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পাঞ্চল পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপন করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই শিল্পাঞ্চলগুলো দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

-শরিফুল


হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন  আইজিপি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৫২:১৭
হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন  আইজিপি
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদযাত্রার সময় ছিনতাই, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

বেতন-ভাতা নিয়ে পোশাকশিল্প খাতে সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইজিপি। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে কিছু সদস্য দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়েই পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হবে।

আইজিপি আরও জানান, অপরাধ তদন্তকে আরও কার্যকর করতে সিআইডিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানাগুলোকে “জিরো কমপ্লেইন” ব্যবস্থায় রূপান্তর এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে থানায় ম্যাজিস্ট্রেসি সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: