পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১১:২৬:৫১
পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক নতুন ও কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি জানান, সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এখন থেকে পাকিস্তানে সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস নির্ধারণসহ বেশ কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া ত্রিমুখী যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহের চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই ভয়াবহ সংকটের মুখে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান সরকার।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ বলেন, বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশের অঞ্চল এক গভীর সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পশ্চিম সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী প্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলার ঘটনাগুলোকেও তিনি একইভাবে সমালোচনা করেন। শাহবাজ শরিফ জানান, এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তার মিত্রদের পাশে থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

/আশিক


এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১০:৩০:১৮
এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। ইরানের এই হুমকির ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

আইআরজিসির এই হুমকির বিপরীতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা যদি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সামান্যতম পদক্ষেপও নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে এমন ভয়াবহ হামলা চালাবে যা তারা এর আগে কখনো কল্পনাও করেনি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলার মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে যা দেশটির পুনরুত্থানকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।

বর্তমান রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে, তবে আইআরজিসি সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নির্ধারণ করবে, মার্কিন বাহিনী নয়। তারা আরও দাবি করেছে যে, অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যতের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চান না, তবে মার্কিন স্বার্থ বিঘ্নিত হলে ইরানকে ‘মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের’ মোকাবিলা করতে হবে। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি এখন এতটাই নাজুক যে, সামান্য ভুল পদক্ষেপ থেকেও একটি বিশাল আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১০:১১:২৮
একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই রক্তক্ষয়ী হামলার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারও তেহরানের আকাশ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। তবে সর্বশেষ এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

বিস্ফোরণের এই ধারা কেবল রাজধানী তেহরানেই সীমাবদ্ধ নেই; সোমবার সারা দিন জুড়ে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ইরানের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটছে। তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহানসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিকটবর্তী এলাকায় হামলা হওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ইসফাহানের গভর্নরের কার্যালয়েও বড় ধরনের হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের ঐতিহাসিক নিদর্শনেও আঘাত হেনেছে হামলাকারীরা। বোমা হামলায় ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা অভিযানে ইরানের সাধারণ নাগরিক ও জাতীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

/আশিক


ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১০:০৫:২৫
ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও ব্যারাক লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরের দিকে তারা ইসরায়েলের সাফেদ শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত গিভা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। একই সময়ে তারা সীমান্ত সংলগ্ন ইফতাহ ব্যারাকেও বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করে।

সামরিক এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় হিজবুল্লাহ আরও জানায় যে, এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সকালেও তারা হাইফা শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত জিপোরিত সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া ওই দিন সন্ধ্যায় তেল আবিবের সন্নিকটে অবস্থিত তেল হাশোমের সামরিক ঘাঁটিতেও নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে গোষ্ঠীটি।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর এই অব্যাহত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করছে। বিশেষ করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার ঘটনা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তের উভয় পাশেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যা বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

/আশিক


যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:২৩:০৩
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। এই তিন পরাশক্তি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সরাসরি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরান তাদের প্রধান শর্ত স্পষ্ট করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে সবার আগে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের বিদেশি আগ্রাসন চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করেও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে সংঘাতটি দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এক চরম অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা ছিল, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব ধরনের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যেতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে সংঘাত থামার নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা


আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৯:৪৭:৪৭
আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ কর্তৃক মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের এই শীর্ষ পদে স্থায়িত্ব পেতে ওয়াশিংটনের ‘অনুমোদন’ বা সম্মতির প্রয়োজন হবে।

ট্রাম্প বলেন, “তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি আমাদের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন সরকারকে একই সমস্যার সমাধানে নতুন করে যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানে জড়াতে দেখতে চান না। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি চাই না পাঁচ বছর পর মানুষকে আবারও একই পরিস্থিতিতে ফিরতে হোক... বা তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসুক।” তিনি এর আগে মোজতবা খামেনিকে ‘লাইটওয়েট’ বা অযোগ্য হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এখানে বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেব না। এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের জনগণের সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে এবং ট্রাম্পের বরং এই যুদ্ধের ধ্বংসলীলার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ৯ দিন পর ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করা হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিনের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব এবং মোজতবা খামেনিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

/আশিক


তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৮:৫২:৫৭
তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার তুরস্কের আকাশসীমায় পৌঁছেছে। ইরান থেকে তুরস্ক লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। সোমবার (৯ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। তবে তুরস্কের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হওয়ার পর এর কিছু অবশিষ্টাংশ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপ এলাকায় আছড়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় তুর্কি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আঙ্কারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অধিকার তুরস্ক সংরক্ষণ করে।

অন্যদিকে, ইরান এই হামলার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে। সোমবার তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, গত এক সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানে ইরান থেকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হয়নি। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরাতে শত্রুপক্ষ এই ধরনের হামলার নাটক সাজাতে পারে। ইরান বারবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বললেও তুরস্কের এই দাবি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরানের নতুন অধ্যায়ে রাশিয়ার সমর্থন; মোজতবা খামেনিকে পুতিনের বিশেষ বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৫৪:৫২
ইরানের নতুন অধ্যায়ে রাশিয়ার সমর্থন; মোজতবা খামেনিকে পুতিনের বিশেষ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিন তাঁর বার্তায় মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি তাঁর প্রয়াত পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট মোজতবা খামেনির প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে ইরান যে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবেন। পুতিন তাঁর বিবৃতিতে এই কঠিন সময়ে তেহরানের প্রতি মস্কোর অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়া সবসময় তার ইরানি বন্ধুদের পাশে থাকবে এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সংহতি বজায় রাখা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ও সংহতি তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মূলত দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করতেই পুতিন এই অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের কাছেও একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৩৩:৩৭
ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সরকারি সিদ্ধান্তে আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আজ সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে। এর ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ গত ১০ দিন ধরে বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানি নাগরিকেরা টানা ২১৬ ঘণ্টা ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন, যা সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শাটডাউন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

নেটব্লকসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই চরম শাটডাউনের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্যই এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১০ দিনের এই ডিজিটাল নীরবতায় ইরানের সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার এই চরম পন্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইন্টারনেট না থাকায় দেশটির অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল, যা ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তির এই শূন্যতার কারণে ইরানের ভেতরে বর্তমানে ঠিক কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের জন্য জানা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকস উল্লেখ করেছে, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি ব্ল্যাকআউট যার মাধ্যমে ৯ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তেহরান তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

/আশিক


জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৪:০৪:০৬
জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে বিশ্বের প্রধান উন্নত অর্থনীতির জোট জি৭। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার উপায় হিসেবে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ জি৭ জোটের অন্তত তিনটি দেশ এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সমন্বয়ে সোমবার জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল-ও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সূত্রের মতে, এক বিরল টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন জি৭ অর্থমন্ত্রীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইইএ’র তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি মজুদ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এই পরিমাণ আইইএ’র মোট কৌশলগত মজুদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের সমান। বর্তমানে সংস্থাটির অধীনে জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল সংরক্ষিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি মজুদ থেকে তেল বাজারে ছাড়া হলে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমানো এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

সূত্র:ফিন্যান্সিয়াল টাইমস,রয়টার্স,ওয়েল প্রাইস,আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: