দেশে জ্বালানি রেশনিং শুরু: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ সীমিত করাসহ ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে এক মাসের মজুত থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো খুচরা জ্বালানির দাম এখনই বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের বরাদ্দ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়েও তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া বড় যানবাহন যেমন দূরপাল্লার বাস বা ট্রাকের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কেনাকাটা ও আতঙ্কিত হয়ে তেল জমানোর প্রবণতা রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়েছে এবং অবৈধ মজুতের দায়ে বেশ কিছু পাম্পকে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, নতুন তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোয় মজুত বাড়তে শুরু করেছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে রেশনিং ব্যবস্থা মেনে চলা অপরিহার্য। তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
/আশিক
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণভোটের মাধ্যমে আসা জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে জাতীয় সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনবোধে নতুন করে শপথ নেওয়ার বিষয়টিও একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।'
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, 'যারা মনে করেন চক্রান্ত করে তাঁদের নির্বাচনে হারানো হয়েছে, তাঁদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখা নীতিগতভাবে সঠিক নয়। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং যারা এর সমালোচনা করেছিলেন, তাঁরাও নির্বাচনের পর এতে স্বাক্ষর করেছেন।'
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং উপরাষ্ট্রপতির পদের ক্ষেত্রেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলকে 'অধ্যাদেশ জারির সরকার' হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সেই সময়ে জারি করা ১০০টিরও বেশি অধ্যাদেশ নিয়ম অনুযায়ী উত্থাপন করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, 'আগে সংসদে আসুন, তারপর গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং যতটুকু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, সেটুকুই বাস্তবায়ন করা হবে।' সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/আশিক
খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের খাল পুনখনন কার্যক্রমে যান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে অধিক শ্রমনির্ভর পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে খাল খনন প্রকল্পে মেশিনের ব্যবহার কমিয়ে বেশি জনবল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল পুনখনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও কর্মসংস্থানমুখী করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে অনেক খাল দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। এসব সমস্যার সমাধানে খাল পুনখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রস্তাব করা হয় যে, খাল খনন প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত যান্ত্রিক নির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। এতে একদিকে খাল পুনখনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় বলেন, খাল খনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প নয়; এটি দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে প্রকল্পের সুফল আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
সভায় আরও আলোচনা হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল ও জলপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনেও এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় খাল ও জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালের অনেকগুলোই ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে খাল পুনখনন কার্যক্রম এখন দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খাল পুনখনন কার্যক্রমে শ্রমনির্ভর পদ্ধতির সম্ভাব্য সুবিধা, ব্যয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
-রফিক
ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে নির্ধারিত সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, এই সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে এবং ভাড়া নৈরাজ্যের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলা থেকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। তার মতে, শুধু ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকেই প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর বাইরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের সংখ্যা বিবেচনা করলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা তিন থেকে চার কোটি মানুষেরও বেশি হতে পারে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গণপরিবহন অবকাঠামো বর্তমানে দেশে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে ব্যাপক যাত্রাচাপ তৈরি হবে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং হিউম্যান হলারে প্রায় ৮০ লাখ ট্রিপ পরিচালিত হতে পারে।
এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রেও যাতায়াতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগঠনটির হিসাবে কার ও মাইক্রোবাসে প্রায় ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং ঢাকার সিটি বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ হতে পারে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলেও প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ ট্রিপে যাত্রী পরিবহন হতে পারে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিটি পরিবহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে সিলিং পদ্ধতি চালু থাকলে অনেক পরিবহন তাদের নির্ধারিত ট্রিপ পরিচালনা করতে পারবে না।
তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকলে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বে এবং পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে ঘিরে সড়কপথে যানজট এমনিতেই বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে পরিবহনগুলোকে যদি বারবার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য থামতে হয়, তাহলে যাত্রার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
-রাফসান
ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী সময়ে ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রোববার (৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত এই বিশেষ ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পরিষেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বেশ কিছু খাতকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা খাতগুলো এই ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে না। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সমুদ্র ও স্থলবন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডাক ও যোগাযোগ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।
এছাড়া টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও ছুটির আওতামুক্ত থাকবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকে। সরকার মনে করছে, এই সেবাগুলো বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতকেও এই বিশেষ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম নিয়েও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট।
বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের বিধান অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত দেশে সরকারি ছুটির বিষয়টি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত এই ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব নীতিমালা এবং শ্রম আইনের আলোকে এই ধরনের ছুটি অনুসরণ করে থাকে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঈদের আগে টানা ছুটির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা সহজে করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
-রাফসান
আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস হাউসগুলোর কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময়ও নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম চলমান থাকবে, তবে ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।
সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস হাউস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সচল রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নিতে হবে।
এনবিআর মনে করছে, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে যদি কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তাহলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস, শিপমেন্ট এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা দেশের প্রধান কাস্টমস হাউসগুলোর কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, বেনাপোল কাস্টম হাউস, আইসিডি কমলাপুর, মোংলা কাস্টম হাউস এবং পানগাঁও কাস্টম হাউস।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকেও একই ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (পশ্চিম), ঢাকা (পূর্ব), ঢাকা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট, রংপুর ও কুমিল্লা কমিশনারেট উল্লেখযোগ্য।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত বন্দর ও কাস্টমস হাউসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ ছুটির সময় এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকলে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। এনবিআরের এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
-রাফসান
বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরকার তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেসব পরিকল্পনা জনগণের ভাগ্য বদলে দেবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবে সরকার তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই বিশেষ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয়েছে এক আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ‘দারিদ্র্য সূচক’ বা প্রক্সি মিনস টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, শিক্ষার হার, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের অবস্থা এমনকি রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ডাবল ডিপিং বা দ্বৈত ভাতা গ্রহণ রোধ এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই পদ্ধতির ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোই রাষ্ট্রের এই সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সারাদেশে বিস্তৃত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপকারভোগীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ বুঝে নিতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিটি দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
চূড়ান্ত তালিকায় উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। বিশেষ করে ‘ডাবল ডিপিং’ বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণ রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে অর্থ লোপাট বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই সরাসরি সুফল পাবেন। কড়াইল বস্তির মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
/আশিক
৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা সরাসরি উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত ভাতা গ্রহণকারী ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৬ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত হন অথবা নারী প্রধান নিজে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, তবে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। সরকার ভবিষ্যতে এই নগদ সহায়তার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য প্রদানের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে দেশের অর্থনীতির সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছানো যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারকে এই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
/আশিক
জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এই আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল বাংলাদেশে আসবে এবং মঙ্গলবারের মধ্যেই তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে এবং আকস্মিক কোনো সংকট এড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর আগে গত রবিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে এক বৈঠকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ভারতের কাছে পেশ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
- মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা
- খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
- এক কয়েল মানেই ১৪০টি সিগারেট! মশা তাড়াতে বিষ নয়, বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়
- পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর? ৫টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান!
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ১৭ বছর ধরে খালের গেট দখল! সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার আতঙ্কে গ্রামবাসী
- ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
- পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম
- কুসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় ৫ বিএনপি নেতা
- সাগরে লঘুচাপের প্রভাব! বজ্রসহ বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন সতর্কবার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
- ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
- বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের
- ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
- ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
- ১০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
- ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
- ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
- আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
- ইফতারে চাই নতুন কিছু? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিকেন চিজ বল
- বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?
- ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
- নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানি রেশনিংয়ে স্থবির রাজধানী: গণপরিবহন সংকটে যাত্রী ভোগান্তি
- একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
- ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা
- ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
- রমজানের ২০তম দিনে নামাজের ওয়াক্ত ও ইফতারের সময়
- জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই গড়ব নতুন বাংলাদেশ: খুলনার ইফতারে শপথ এনসিপির
- দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
- আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
- টানা তিন হারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নারী দল: বাটলারে বিদায় ঘণ্টা?
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ মার্চ ২০২৬
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব








