সৌদি প্রবাসীদের দেশে ফেরা নিয়ে বড় সুখবর

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৫:৫৮:২৭
সৌদি প্রবাসীদের দেশে ফেরা নিয়ে বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে দেশে যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে একমুখী বিমানের টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা, যা দীর্ঘদিনের প্রবাসী ভোগান্তি লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। এতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা কম খরচে দেশে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এতদিন হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় অনেক একমুখী ফ্লাইট ফাঁকা অবস্থায় পরিচালিত হতো। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সেই ফাঁকা আসনগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে মদিনা–ঢাকা–মদিনা এবং জেদ্দা–ঢাকা–জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়কালে।

এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতির একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে এর জন্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করেন যে, প্রবাসীদের স্বার্থে নেওয়া অনেক ভালো উদ্যোগ সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকির অভাবে টেকসই হয়নি। তাই এই কর্মসূচি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে এবং ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

-রাফসান


নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৩৯:১০
নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নাতাঞ্জ (Natanz) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জের ‘শহীদ আহমাদি রোশন’ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (NPT) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই একবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যার প্রমাণ মিলেছিল স্যাটেলাইট ছবিতে। ২০২৫ সালের জুনেও ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।

এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল দাবি করেছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২০টি ইরানি ড্রোন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভূপাতিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২২:১৫:৩৫
যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী 'হরমুজ প্রণালি' (Strait of Hormuz) নিয়ে এক বিস্ফোরক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিয়ি জানান, এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন থেকে ইরানকে 'টোল ও কর' দিতে হবে—এমন একটি আইন প্রণয়নের কাজ করছে দেশটির পার্লামেন্ট।

আইএসএনএ (ISNA) নিউজ এজেন্সির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সোমায়ে রাফিয়ি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যে শ্রম ও শক্তি ব্যয় করে, তার বিনিময়ে এখন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কর দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার শত্রুদের 'আরাম-আয়েশ' কেড়ে নিয়েছে এবং এই নতুন বাস্তবতা তারা মেনে নিতে পারছে না।

রাফিয়ি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন যে, এই যুদ্ধে ইরানের 'চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়' ঘটবে এবং এরপর থেকে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করা ইরানের শত্রুদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:২২:০১
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি যুদ্ধের আগুন এবার কুয়েতে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়েতের দুটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ (Mina Abdullah) এবং মিনা আল-আহমাদি (Mina Al-Ahmadi) শোধনাগারের অপারেশনাল ইউনিটগুলোতে পর্যায়ক্রমে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই দ্বৈত হামলায় শোধনাগার দুটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

কুয়েত নিউজ এজেন্সির (KUNA) তথ্যমতে, প্রথমে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হামলা হয় এবং এর কিছু সময় পরেই মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ড্রোনটি আঘাত হানে। ৬টি অগ্নিনির্বাপক দল এবং জরুরি রেসপন্স টিমের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কেপিসি জানিয়েছে, হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হলেও কোনো কর্মী হতাহত হননি।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছিল। কুয়েতের এই দুটি শোধনাগারই দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং মিনা আল-আহমাদি প্রতিদিন ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করার ক্ষমতা রাখে।

/আশিক


ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৯:৪৭:৪৩
ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক এখন খাদের কিনারে। সৌদি আরবের ওপর তেহরানের সাম্প্রতিক হামলাকে 'ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত' আখ্যা দিয়ে চ চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

রিয়াদে আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের আঞ্চলিক যুদ্ধের কৌশল অবিলম্বে পরিবর্তন না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে 'সম্মিলিত বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ' নেওয়া হবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে, কিন্তু তা অসীম নয়।" তিনি দাবি করেন, ইরানি কূটনীতিকরা হামলার কথা অস্বীকার করলেও ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু প্রমাণ করে যে এগুলো অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করার পর এই উত্তেজনা আরও বাড়ে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একাধিক ড্রোন ও মিসাইল ভূপাতিত করার খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধের এই দামামার ফলে তেহরানের ওপর থেকে রিয়াদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৯:৩৬:৫৪
জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফফান (Ras Laffan) শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৭টার দিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতির মাধ্যমে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই এলএনজি (LNG) হাব লক্ষ্য করে চালানো ইরানি হামলায় ওই অঞ্চলের গ্যাস অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার পরপরই রাস লাফফান শিল্পাঞ্চলে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা নেভাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াই করতে হয়েছে জরুরি পরিষেবা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। কাতার এনার্জি (QatarEnergy) জানিয়েছে, এই হামলায় স্থাপনাগুলোর 'মারাত্মক ক্ষতি' হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপদ রয়েছেন।

এর আগে গতকাল বুধবারও কাতার জানিয়েছিল যে লস রাফফানের গ্যাস অবকাঠামোতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান পুনরায় হামলা চালালে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইসরায়েলে ইরানি মিসাইলের তাণ্ডব; লারিজানি হত্যার বদলায় জ্বলছে তেল আবিব

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৯:৪৩:১৫
ইসরায়েলে ইরানি মিসাইলের তাণ্ডব; লারিজানি হত্যার বদলায় জ্বলছে তেল আবিব
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইসরায়েলজুড়ে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে তেহরান। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতভর চালানো এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো শক্তিশালী 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' যুক্ত মিসাইল ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এই বিধ্বংসী অভিযানে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও দেশটির প্রাণকেন্দ্র রামাত গানে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা এই শহরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজানিসহ ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধান এবং আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই ‘কঠিন প্রতিশোধের’ হুমকি দিয়ে আসছিল। বুধবারের এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


লারিজানি-সোলেইমানির পর ইরানের আরও এক শীর্ষ নেতার পতন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৭:২৪:৩৮
লারিজানি-সোলেইমানির পর ইরানের আরও এক শীর্ষ নেতার পতন
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছে বলে বুধবার (১৮ মার্চ) চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে যেকোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই তাদের হত্যা করা যাবে। কাৎজ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন যে, গত রাতেই এক বিশেষ অভিযানে গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিবকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছে।

এসমাইল খাতিবের এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েল ইতিমধ্যে ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করেছে। উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবারই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যার তালিকায় খাতিবের নামও ছিল। কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলার তীব্রতা এখন আরও এক ধাপ বাড়ছে এবং যেকোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসমাইল খাতিব সাম্প্রতিক ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেছে তেল আবিব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ আরও যোগ করেন যে, আজকের দিনেও সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ‘চমক’ দেখা যেতে পারে, যা ইরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

/আশিক


২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৩:১২:৩৮
২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে আরও প্রায় ৪৫ মিলিয়ন (৪.৫ কোটি) মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছে। ডব্লিউএফপি-র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কার্ল স্কাউ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই সংঘাত সরাসরি কোনো শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলে (Breadbasket region) না হলেও, এটি বিশ্বের জ্বালানি হাব বা শক্তির কেন্দ্রে অবস্থিত। জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, সার ও কৃষি খরচ বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কার্ল স্কাউ সতর্ক করে বলেন, "এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় ধাক্কা (shockwaves) পাঠাবে এবং যারা আগে থেকেই চরম অর্থকষ্টে আছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বাড়ায় সার ও জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে ডব্লিউএফপি-র নিজস্ব শিপিং খরচ ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটি ইতিমধ্যে সুদান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

ডব্লিউএফপি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ২৪ শতাংশ, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ২১ শতাংশ এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সোমালিয়া ও সুদানের মতো দেশগুলো এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

সূত্র : শাফাক নিউজ


সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১২:৪১:৪৬
সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শেষ হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের প্রহর গুনছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের ২৯ রমজান উপলক্ষে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুসন্ধান করবেন দেশটির নাগরিকরা। আজ সন্ধ্যায় যদি সৌদির আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারই সেখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি আজ চাঁদ দেখা না যায়, তবে দেশটির মুসলমানরা আরও একদিন রোজা রাখার সুযোগ পাবেন এবং ঈদ হবে শুক্রবার।

সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন যে, যদি কেউ খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তা যেন দ্রুত নিকটস্থ আদালত বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করেন। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদ্‌যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন যে, এবার আরব দেশগুলোতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঈদের সঠিক দিনটি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: