সৌদি প্রবাসীদের দেশে ফেরা নিয়ে বড় সুখবর

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে দেশে যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে একমুখী বিমানের টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা, যা দীর্ঘদিনের প্রবাসী ভোগান্তি লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। এতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা কম খরচে দেশে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এতদিন হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় অনেক একমুখী ফ্লাইট ফাঁকা অবস্থায় পরিচালিত হতো। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সেই ফাঁকা আসনগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে মদিনা–ঢাকা–মদিনা এবং জেদ্দা–ঢাকা–জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়কালে।
এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতির একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে এর জন্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করেন যে, প্রবাসীদের স্বার্থে নেওয়া অনেক ভালো উদ্যোগ সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকির অভাবে টেকসই হয়নি। তাই এই কর্মসূচি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে এবং ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
-রাফসান
দুবাইয়ের রাজপথে এবার সোনার চমক: তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম গোল্ড স্ট্রিট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর বরাবরই তার আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিশ্বের মানচিত্রে অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। তবে এবার তারা এমন এক প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে যা আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ দুবাই মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’-এ বিশ্বের প্রথম সোনায় মোড়ানো সড়ক বা ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইভিত্তিক প্রভাবশালী আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘ইথরা’র পক্ষ থেকে এই ঘোষণাটি দেওয়া হয় গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর। যদিও সড়কটির নির্মাণশৈলী এবং নকশা সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে আনা হবে। এই সড়কটি কেবল একটি যাতায়াতের পথ হিসেবে নয়, বরং পর্যটন শিল্পের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণ বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও জোরালো করতেই দুবাইয়ে এই অত্যাধুনিক গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। আরব আমিরাত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার হিসেবে পরিচিত এবং এই নতুন ডিস্ট্রিক্টকে দেশটির ‘হোম অব গোল্ড’ বা স্বর্ণের নতুন ঘর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই বিশেষ অঞ্চলে স্বর্ণ ও গহনা সংশ্লিষ্ট পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে বৃহৎ বিনিয়োগের সব সুবিধা এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি মার্কিন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে যা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বর্তমানে আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্বর্ণ বাণিজ্যের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুবাই এখন নিজেদের বিশ্বের প্রধান স্বর্ণ নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দুবাইয়ের ‘ডি৩৩’ বা ইকোনমিক এজেন্ডার একটি বড় অংশ যা শহরটির খুচরা বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ইথরা ডিরেক্টরদের মতে, গোল্ড স্ট্রিট পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হবে এবং এটি ধাপে ধাপে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হবে। ডিস্ট্রিক্টটিতে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং সোনায় মোড়ানো সড়কের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, দুবাই কেবল তেলনির্ভর অর্থনীতি নয় বরং বিশ্বমানের বাণিজ্যিক এবং পর্যটন হাব হিসেবে নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে চায়। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এই নতুন পদক্ষেপ আরব আমিরাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর মধ্যপ্রাচ্যে
ওমানে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশির জন্য স্বস্তির খবর এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা আগামী দুই মাসের মধ্যেই পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ওমানের শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশের পথ খুলে যাবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট কনফারেন্স–এর পার্শ্ববৈঠকে এই অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বৈঠকে মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি বাংলাদেশের ড. আসিফ নজরুল–কে জানান, খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা পুনরায় কার্যকর করা হবে।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওমান সরকার ইতোমধ্যে তাদের শ্রমবাজার পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করেছে এবং সেই আলোকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন বন্ধ ছিল ওয়ার্ক ভিসা
বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করতে ২০২৩ সাল থেকে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে জরিমানা ছাড়াই অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সম্পন্ন হওয়ায় আগামী দুই মাসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উচ্চদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, বরং প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও নার্সসহ উচ্চদক্ষ পেশাজীবীদের ওমানের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের অনুরোধও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরা
বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া অভিবাসন খাতের সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে আইনি সংস্কার, ডিজিটাল প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসে যাওয়ার আগে ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শ্রম সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ
দুই দেশের শ্রমবাজারের সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে চলতি বছরের প্রথমার্ধে মাসকাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন ড. আসিফ নজরুল। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত স্বাক্ষরের অনুরোধও জানানো হয়।
এ সময় অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়াই বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ওমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা।
-শরিফুল
মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী দমন-পীড়নের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচশত জন ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালীন তথাকথিত সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয় এবং আন্দোলনকারীরা সরাসরি সরকার পতনের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে গত ৮ জানুয়ারি ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের দমনে মাঠে নামানো হয় বিশেষ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও লাশের সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালীন সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দিশ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই পাঁচ হাজার নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত চূড়ান্ত এবং এটি আর খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই বিপুল প্রাণহানির জন্য ইরান সরাসরি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইসরাইলসহ বেশ কিছু বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সরাসরি অর্থ ও মারণাস্ত্র সরবরাহ করে এই অস্থিরতা উসকে দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, দেশের মানুষের এই রক্তপাতের নেপথ্যে থাকা বিদেশি অপরাধীদের কোনোভাবেই বিনা শান্তিতে পার পেতে দেওয়া হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা স্বীকার করার আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) তাদের নিজস্ব তদারকির ভিত্তিতে একটি হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছিল। শনিবার তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৩ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল যে, আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর খবর তাদের কাছে রয়েছে যা তারা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করে দেখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তুলনায় ইরানের সরকারি সূত্রের দেওয়া নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বড় এবং এটি আন্দোলনের সময়কার ব্যাপক সহিংসতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন ইরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভ্রমণ ও পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের নজিরবিহীন ভিড়ের কারণে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিড়ম্বনা এড়াতে এবং বাড়তি ব্যয় থেকে বাঁচতে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। এর ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থা এবং হোটেল আবাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওমরাহ প্যাকেজের মূল্যের ওপর।
পরিবহন ও প্যাকেজ মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ওমরাহ অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে যারা বাসে ওমরাহ করতে চান তাদের জন্য প্যাকেজ মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ দিরহাম। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই প্যাকেজের মূল্য বেড়ে ২ হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে।
অন্যদিকে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির হার আরও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম হলেও রমজান শুরু হওয়ার পর তা ৫ হাজার ২০০ দিরহাম থেকে শুরু হয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে যখন মুসল্লিদের ভিড় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, তখন খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
কেন বাড়ছে এই ব্যয়? পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মূলত হোটেল ভাড়াই এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর চাহিদা রমজানে চরমে থাকে। ফলে এই হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অনেক ওমরাহ যাত্রী শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় অপেক্ষা করেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় তারা উল্টো বেশি দাম গুণতে বাধ্য হন।
ভিসা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা হজের প্রস্তুতির সুবিধার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওমরাহ ভিসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ মার্চের পর নতুন করে ওমরাহ ভিসার আবেদন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ওমরাহ পালনের জন্য ২ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীদের দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাই পরামর্শ দিয়েছেন যে, ধর্মীয় ও আর্থিক—উভয় দিক বিবেচনা করে এখন থেকেই পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় শেষ মুহূর্তের বুকিং যাত্রীদের ওপর বিশাল এক আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রথমবারের মতো এই প্রাণহানির মাত্রা 'হাজারের ঘরে' বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে এই বিপুল পরিমাণ মৃত্যুর জন্য তিনি নিজ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চেয়ে বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকেই সরাসরি দায়ী করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার তেহরানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে খামেনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তিগুলোর সুপরিকল্পিত এবং সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
বক্তব্য চলাকালে খামেনি বিক্ষোভের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপশক্তিগুলো ইরানের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।” স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, খামেনি তাঁর ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানবিরোধী সর্বশেষ এই রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনাটি অতীতের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে আলাদা ছিল, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এবং সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। খামেনির এই অভিযোগ মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে দেশটি তাদের যেকোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘মাঠপর্যায়ের অপারেশন’ এবং ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে আসছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিশেষ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ এর আগে ইরান সরকারের কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ এবং এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টিই প্রাধান্য দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, এই বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার। খামেনি যখন প্রকাশ্যে ‘হাজার হাজার’ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন, তখন তা প্রকারান্তরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে বিক্ষোভের মাত্রা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ইরান সরকারের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে খামেনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সীমান্তের বাইরে নতুন করে কোনো সংঘাত বাড়াতে চায় না বা দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধে টেনে নিতে আগ্রহী নয়। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না; কিন্তু একই সঙ্গে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেসব অপরাধী এই অস্থিরতা ও হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা কোনোভাবেই শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না।” আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে।
বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি

মাহির তালুকদার
বাহরাইন প্রতিনিধি
রাজধানী মানামায় স্থানীয় একটি হোটেলে মোহাম্মদ আক্তার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে যৌথ সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সী,ও জিয়াউল হক।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির' সভাপতি ফয়সাল মাহমুদ চৌধুরী, গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আকবর হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা সাবের আহমেদ, প্রধান বক্তা বাহরাইন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোকবুল হোসেন মুকুল, আনোয়ার হোসেন, নাজমুল হাসান সোহাগ, আহসান উল্লাহ,সম্রাট নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী,মানামা মহানগর বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মোবারক রজব,উপদেষ্টা হারুনর রশীদ,
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ সোলাইমান, মোহাম্মদ মাসুদ, সাইদুর রহমান সহ অনেকে,,
অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি হস্তান্তর করা হয়, শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সহ দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়।
মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় হার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলার সমান ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ইরানি রিয়াল।
মুদ্রাবাজারে আকস্মিক ধস
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের শেষভাগ থেকেই রিয়ালের মান ধারাবাহিকভাবে কমছিল। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে এই পতনের গতি তীব্রতর হয়। বিশেষ করে গত ৬ জানুয়ারি থেকে মুদ্রাবাজারে রিয়ালের গ্রাফে এক বিশাল উল্লম্ফন দেখা দেয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিয়ালের মান কয়েক গুণ কমে যাওয়ার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে।
সংকটের নেপথ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ইরানের এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে কাজ করছে বহুমুখী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
১ ডলারের মান ১০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানে আমদানি করা পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর ফলে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে মুদ্রার এই ব্যাপক অবমূল্যায়ন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি দ্রুত কোনো কার্যকরী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বা ভূরাজনৈতিক উত্তজনা প্রশমিত না হয়, তবে রিয়ালের মান আরও নিচে নেমে যেতে পারে। বর্তমানে ইরানি রিয়াল বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের সংখ্যা ও দায়ভার রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভে যে প্রাণহানি ঘটেছে তার জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে মোট নিহতের মধ্যে কতজন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি। এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর দিলেও সরকারি পর্যায়ে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য এই প্রথম সামনে এল।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও কারণ ইরানের এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই ছোট ছোট প্রতিবাদই দ্রুত দেশজুড়ে বিশাল গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। বিশেষ করে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাগাতার রাস্তায় অবস্থান নিতে শুরু করে।
পরিস্থিতির অবনতি ও রেজা পাহলভির ডাক গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পরপরই তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সময় থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানি ও সহিংসতার খবর প্রচার করতে থাকে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর ও গ্রাম এই বিক্ষোভে উত্তাল।
সরকারের অবস্থান ও তথ্যের সংকট ইরান সরকার এই সামগ্রিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বরাবরই চিরশত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। তেহরানের দাবি, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে হাইজ্যাক বা দখল করে নিয়েছে এবং তারাই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে নিহতের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছানোর খবর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে চায়, তবে তার দেশ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আরাগচি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আলোচনা বনাম যুদ্ধ প্রস্তুতি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি ‘বড় এবং ব্যাপক’।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, “যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়—যেটি তারা আগেও করেছে—আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তবে আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার টেবিলকেই বেছে নেবে।” এসময় তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন।
চলমান অস্থিরতা ও তেহরানের অভিযোগ ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাগচির দাবি, চলমান এই আন্দোলনে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা’ ঢুকে পড়েছে, যারা বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইরান শুরু থেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর মধ্যে শত শত সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট ইরানের এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই অর্থনৈতিক ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঠকের মতামত:
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
- অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান
- প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
- ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত
- গায়ক নোবেল ও তাঁর মাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর
- বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
- শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
- মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
- পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
- অচল চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজকের শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
- কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
- শিক্ষাবৃত্তির আবেদন নিয়ে নতুন ঘোষণা, জানাল বোর্ড
- শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা
- আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির
- ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
- প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা
- মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
- চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
- ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
- রাজধানীসহ ৪৮ স্থানে কম দামে মাংস-দুধ-ডিম বিক্রি
- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- দেশে ফের ভূমিকম্প, কেঁপে ওঠে কয়েকটি জেলা
- শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
- আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
- মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
- নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
- সদরপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না








