মাথা উঁচু রেখেই যুদ্ধ শেষ করতে চাই: আমেরিকার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মাঝেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক বক্তব্য দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান মাথা উঁচু রেখে এবং সম্মানজনক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো এখতিয়ার ট্রাম্পের নেই।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA)-র বরাত দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “ট্রাম্প বলছেন ইরান পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু তিনি তো এর কারণ বা ইরানের অপরাধ কী তা ব্যাখ্যা করছেন না।” তিনি দেশকে ‘রক্তপিপাসু ও নিষ্ঠুর শত্রুর’ বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে যেন ইরানকে ‘যুদ্ধপ্রিয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে; কারণ ইরান কেবল নিজের আত্মরক্ষার জন্য লড়ছে।
ভাষণে তিনি জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপে নারী ফুটবল দলের সাফল্যের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, যারা শত্রুর প্ররোচনায় ভুল পথে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই দুই নারী ফুটবলারের প্রতি ক্ষমাশীল মনোভাব প্রদর্শন করে তিনি বলেন, “তাদের জন্য আমাদের দুয়ার সব সময় খোলা, তারা যখনই ফিরে আসবে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন যুদ্ধের অবসানের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জাতীয় সম্মান রক্ষার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র: আনাদলু
অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দে এবং নীতিনির্ধারণী মহলে চরম উত্তেজনা ও গভীর রাজনৈতিক ফাটল তৈরি হয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধকালীন সংকটময় মুহূর্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বর্তমান ইরানি শাসকেরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল বিপ্লবী আদর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত হয়ে নরম অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সমঝোতার মাধ্যমে আলোচক নেতারা কার্যত রাষ্ট্রের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই কট্টরপন্থীরা।
সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত সাবেক ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা প্রকাশ্যে চলে আসে। জানাজায় অংশ নিতে আসা ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সেখানে উপস্থিত কট্টরপন্থী একদল মানুষের চরম অসন্তোষের মুখে পড়েন। শোক প্রকাশের পরিবর্তে ওই উত্তেজিত জনতা সরাসরি দেশের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ‘আপসকারীর মৃত্যু হোক’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করে।
একই জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চরম লাঞ্ছনা ও ক্ষোভের শিকার হতে হয়েছে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নেপথ্যে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দীর্ঘ আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ কূটনীতিককে লক্ষ্য করে জানাজায় ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়া হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। পরবর্তীতে নিরাপত্তারক্ষীরা আইনি প্রটোকল মেনে তাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
ইরানের চরমপন্থী ও সুপার রেভল্যুশনারি গোষ্ঠীগুলোর মূল ক্ষোভের কারণ হলো, তাদের মতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার মোক্ষম ও কঠোর সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একপ্রকার আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে। তারা দাবি করছেন, বর্তমান অন্তরালে থাকা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দেওয়া স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও শর্তাবলি সম্পূর্ণরূপে অমান্য করেই এই সমঝোতা চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে।
যদিও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে খুব একটা আসছেন না। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আড়ালে অবস্থান করছেন বলা হলেও, কট্টরপন্থীদের একাংশের সন্দেহ তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে আড়ালে রাখা হয়েছে।
এমন এক ধোঁয়াশাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান সমঝোতাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিই যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় সবচেয়ে দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই কট্টরপন্থী দলগুলো এখন এই ত্রয়ীর বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের ও আদর্শ চ্যুতির অভিযোগ তুলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরান বিষয়ক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ আরাশ আজিজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কট্টরপন্থীদের সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পথ খোলা না থাকায় তারা গালিবাফ ও পেজেশকিয়ানের বর্তমান যৌথ নেতৃত্বকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তারা সমাজে এই প্রচার ছড়াচ্ছেন যে, এই নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন।
মূলত খামেনির জানাজায় সমবেত হওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই ছিল ইসলামি বিপ্লবের কট্টর সমর্থক। তারা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি তোলেন এবং ওয়াশিংটনের সাথে সম্পাদিত যেকোনো প্রকার আপস বা চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন।
অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল আকার ধারণ করে যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৈশ্বিক জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে নিজস্ব সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালালে দুই দেশের সদ্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির মূল ভিত্তিটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে কট্টরপন্থীরা আবারও সোচ্চার হয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন এই তথাকথিত চুক্তি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এমনকি এই সমঝোতা চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই কট্টরপন্থী ধারার নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও সরাসরি হুমকি দিতে শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি তেহরানের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তা মোহাম্মদ আলি বখশি বর্তমান সরকারের নীতি ও সমঝোতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে উদ্দেশ্য করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া শর্তগুলো অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা না হয়, তবে প্রেসিডেন্টের জন্য পরিস্থিতি নরকের মতো করে তোলা হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনাব রাষ্ট্রপতি, যদি নেতার শর্ত অমান্য করা হয়, তবে আমরাই হবো ধারালো তরবারি আর আপনার গলা থাকবে তার নিচে।’ তবে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়াবহ ও উসকানিমূলক জীবননাশের হুমকি দেওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে ওই বক্তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্পিকার গালিবাফের বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীদের মূল অভিযোগ হলো, তিনি সুকৌশলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে দেশের সংসদ এবং খোদ সর্বোচ্চ নেতার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ও একচ্ছত্র প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এটি আসলে ধাপে ধাপে একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক অভ্যুত্থান বাস্তবায়নের সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।
নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীও অবশ্য পাল্টা প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ‘জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন’ থেকে মাহমুদ নাবাভিয়ানসহ চুক্তির ঘোর বিরোধী দুই কট্টরপন্থী সদস্যকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই নাবাভিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অতি গোপনীয় আলোচনার স্পর্শকাতর নথিপত্র গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়ে পুরো চুক্তিটি ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
বহিষ্কৃত এই নাবাভিয়ান এবং তার কট্টরপন্থী সমর্থকেরা মূলত ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ফ্রন্ট ‘জেবহে-ই পায়দারি’ বা ‘এনডিউরেন্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের মূল কট্টর আদর্শের একমাত্র অতন্দ্র প্রহরী ও দাবিদার এই গোষ্ঠীটি নিজেদের ‘সুপার রেভল্যুশনারি’ বা পরম বিপ্লবী হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে এবং বর্তমান পেজেশকিয়ান প্রশাসনকে মার্কিনপন্থী ও আদর্শচ্যুত মনে করে।
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের বিশিষ্ট গবেষক হামিদরেজা আজিজি এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করে জানান, ইরানের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো ও মূল নীতিনির্ধারকেরা এখন ধীরে ধীরে এই কট্টরপন্থীদের রাজনৈতিক প্রভাব সংকুচিত ও সীমিত করার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হলো, কট্টরপন্থীদের এই অতিরিক্ত যুদ্ধংদেহী ও অনমনীয় অবস্থান বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং তাদের ভেতরের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে বিশ্বমঞ্চে লজ্জাজনকভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।
যদিও এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি সংখ্যাগত দিক থেকে খুব বেশি বড় নয়, তবুও ইরানের জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে কট্টরপন্থী শীর্ষ নেতা সাঈদ জালিলি এককভাবে এক কোটিরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন, যা দেশের সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাদের গভীর ও মজবুত রাজনৈতিক ভিত্তির কথাই প্রমাণ করে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্বমঞ্চে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর ভেতরে একটি গভীর ও অপূরণীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরানের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য ও ক্ষমতার লড়াই বিদ্যমান থাকলেও রাষ্ট্রের মূল ৩টি মৌলিক বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে এখনো একটি অলিখিত ঐকমত্য রয়েছে। বিষয়গুলো হলো—চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
তা সত্ত্বেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিন যাবত জনসম্মুখের আড়ালে থাকা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কট্টরপন্থীদের শর্তসাপেক্ষ অনড় অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসিত সামরিক প্রভাব এই চরমপন্থীদের দিন দিন আরও বেশি সাহসী ও আগ্রাসী করে তুলছে। তারা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির পথ পরিহার করে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে জনমত তৈরি করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান কট্টরপন্থী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা মানুচেহর মোত্তাকি সম্প্রতি দেশটির একটি মূল ধারার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চরম উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অন্তত শতাধিক মার্কিন সেনাকে বন্দি করে জিম্মি হিসেবে ইরানে নিয়ে আসাই হবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ও যোগ্য জবাব।
/আশিক
কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালালে ঠিক সমপরিমাণ শক্তি ও উপায়ে পাল্টা আঘাত করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটির এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। নিজেদের এই অনমনীয় অবস্থানের সপক্ষে এবং পাল্টা আক্রমণকে বৈধতা দিতে বাহিনীটি এবার পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার একটি বিশেষ আয়াতের উদ্ধৃতিও ব্যবহার করেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই কঠোর মনোভাবের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক কিছু হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকার বিভিন্ন মিত্র দেশের ওপর পাল্টা প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরপরই আইআরজিসির তরফ থেকে এই নতুন ও বড় হুঁশিয়ারিটি এলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-এর সূত্রের বরাত দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি সামরিক অভিযান ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা বৈশ্বিক ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। আর এই কারণেই নিজেদের সুরক্ষায় শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র ধরা ছাড়া তেহরানের সামনে এই মুহূর্তে অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। প্রকাশিত ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৯৪ নম্বর আয়াতটি সরাসরি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “সুতরাং কেউ যদি তোমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে তোমরাও তাদের ওপর ঠিক সমপরিমাণ বা সমান আক্রমণ করো।”
বিবৃতিতে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশ আমেরিকাকে নিজেদের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলায় অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে, তাদেরও চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। ওই অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে মার্কিন আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে গণ্য করে এর জন্য তাদের কঠোর জবাবদিহি করতে হবে বলে ইরানি এই বাহিনীটি হুঁশিয়ার করেছে।
দুই দেশের মধ্যকার এই চরম উত্তেজনা এমন এক সংকটময় সময়ে সামনে এলো, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট ‘হরমুজ প্রণালি’-র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। মাঠপর্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই অঞ্চলের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অদূর ভবিষ্যতে হ্রাস পাওয়ার মতো কোনো লক্ষণ বা আভাস এই মুহূর্তে দৃশ্যমান নয়।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে হরমুজ প্রণালি এলাকাটি বিশ্বের বড় বড় ও প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপরিহার্য একটি পথ। চলমান উত্তেজনার পারদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এই সামুদ্রিক অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের মাত্রা ও পরিধি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘আল আজরাক’-এ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার ও দাবি করেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) আইআরজিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একটি হামলার জাবাবে তারা এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই আক্রমণটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২০তম ধাপের অংশ হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে আইআরজিসি দাবি করে, তাদের মহাকাশ শাখা বা অ্যারোস্পেস ফোর্সের বিশেষ দল একই সময়ে এবং সমন্বিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে। আক্রমণকারীদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল আল আজরাক ঘাঁটির ভেতরে মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার বিশেষ বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র (হ্যাঙ্গার) এবং বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা সামরিক বিমান পার্কিং জোন।
ইরানি এই বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের চালানো আকস্মিক ও তীব্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং তিনটি সামরিক কার্গো বা অন্য কোনো বিশেষ বিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই পার্কিং এলাকায় অবস্থান করা আরও বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
পাল্টা এই হামলার কারণ এবং মার্কিন সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে বিবৃতিতে অভিযোগ আনা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি হতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নিজেদের এই ব্যর্থতা আড়াল করার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেলপথ, বন্দর এবং বেসামরিক বিমানবন্দরে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে।
বিবৃতির একেবারে শেষ অংশে আইআরজিসি জর্ডানের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতির বিরোধিতা করে উল্লেখ করে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এখন জর্ডানের সাধারণ জনগণ এবং দেশটির নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর সোচ্চার হওয়ার ও কার্যকর ভূমিকা রাখার উপযুক্ত সময় এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ানো আইআরজিসির এই বড় ধরনের সামরিক দাবির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জর্ডান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
/আশিক
খামেনি হত্যার মোক্ষম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি তাঁর বাবার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) গালফ নিউজের বরাতে প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া কেবল প্রশাসনের বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র ইরানি জনগণের একাট্টা দাবি এবং তা যেকোনো মূল্যে অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত বা দায়ী, তাদের প্রত্যেককে অবশ্যই এর ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে এবং তারা শান্তিতে ঘুমানোর স্বপ্ন কবরে নিয়ে যাবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই প্রতিশোধের মিশন তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, এটি রাষ্ট্রীয় নীতি। বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লেখেন, ‘আমরা সব অপরাধী হত্যাকারীদের হাত থেকে আমাদের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং এই দুই যুদ্ধে প্রাণ হারানো সব শহীদের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করছি। এই ঐতিহাসিক প্রতিশোধ নিশ্চিত এবং অবধারিত।’
উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এই বিবৃতিটি প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্টের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা প্রকাশিত হয়েছিল। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি মার্কিন স্বার্থ বা তাঁকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার চেষ্টা করে, তবে তার কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। ওয়াশিংটনের সেই প্রকাশ্য হুমকির মাঝেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় পাল্টাহুঁশিয়ারি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে এক মারাত্মক উত্তেজনার পারদ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই জোরালো লিখিত বিবৃতি জারি করলেও, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের জনসমক্ষে বা সরাসরি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।
/আশিক
শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো আমেরিকার ব্যাপক বিমান হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত বুশেহর প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এই প্রদেশের চাগাদেহ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চাগাদেহ এবং তার আশপাশের সাধারণ বাসিন্দারা দফায় দফায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে উক্ত বিস্ফোরণগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা এর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত কোনো তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
অবশ্য স্পর্শকাতর এই হামলার পরপরই তেহরান প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, বুশেহরে অবস্থিত দেশটির একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাত লাগেনি। এই প্রদেশের গভর্নর ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মার্কিন বিমান বাহিনী বুশেহর প্রদেশের একাধিক কৌশলগত পয়েন্টে আক্রমণ চালানোর পরেই মূলত এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো সামনে আসে। ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক বিমান অভিযানের ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে এক মারাত্মক সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌচলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের পক্ষ থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি তৈরি করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতেই মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর এই অতিরিক্ত ও জোরালো বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।
অথচ এর আগে গত ১৭ জুন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সইয়ের লক্ষে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। কিন্তু আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আকস্মিকভাবে সেই চুক্তিটি ‘পুরোপুরি ভেস্তে গেছে’ বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত একতরফা ঘোষণার পরপরই দুই পরাশক্তির মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী সামরিক সংঘাতের নতুন পর্বের সূচনা হলো।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
গাজায় দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনের অবসান, নিজেদের শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর একটানা গাজা উপত্যকার ক্ষমতা ও শাসনভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পর অবশেষে উপত্যকাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ‘শাসন কমিটি’ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। সোমবার (৬ জুলাই) সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঐতিহাসিকভাবে এই বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) জানিয়েছে, হামাসের এই নজিরবিহীন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রস্তাবিত একটি নিরপেক্ষ ‘টেকনোক্র্যাট কমিটি’র ক্ষমতা গ্রহণের পথ অনেকটাই সহজ ও পরিষ্কার হলো।
হামাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই গাজা শাসনকারী এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। এই বিলুপ্তির মাধ্যমে মূলত একটি সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির অধীনে গাজায় বেসামরিক ও প্রশাসনিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হলো। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল হামাস।
এরপর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে উপত্যকাটি শাসন করে আসছিল তারা। গত অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হামাস বারবার আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে আসছিল যে, তারা গাজার দৈনন্দিন বেসামরিক শাসনকাজ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে বেসামরিক শাসন থেকে সরলেও হামাসের সশস্ত্র উইংয়ের নিরস্ত্রীকরণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল সামরিক বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গাজার শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম তদারকির জন্য জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য একজন বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি ব্যক্তিত্বকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একটি সর্বজনীন ‘জাতীয় কমিটি’ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজার দায়িত্ব বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এই প্রশাসনিক সমন্বয় কাজ চালিয়ে যাবেন। হামাসের অফিশিয়াল গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
সংগঠনটির আরেক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ফিলিস্তিনের অন্যান্য রাজনৈতিক উপদলগুলোকে হামাসের এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ফাতাহসহ অন্যান্য উপদলগুলো হামাসের এই ত্যাগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছে এবং একে গাজার সামগ্রিক শাসনভার একটি একক জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হামাসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বড়, বাস্তবমুখী ও আন্তরিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
হামাসের এই ঐতিহাসিক ছাড় ও গ্রিন সিগন্যালের ফলে প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) এখন গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ বেসামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাধিক স্বাধীন তদন্তে গাজা উপত্যকায় ইসরাইল কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালানোর অকাট্য প্রমাণ মিললেও, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এখনও এই নির্মম সত্যকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অতি সম্প্রতি, গত ২৩ জুনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি নতুন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি জনগণের—বিশেষ করে শিশুদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ অপরাধের বিশদ বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো গাজায় গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছিল। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাইভ সম্প্রচারিত হওয়া ধ্বংসযজ্ঞ, জাতিগত নিধন ও চরম অনাহারের চিত্র দেখার পরও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা এই বাস্তবতার দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন এবং খোদ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নিজস্ব বক্তব্য যেখানে এই গণহত্যার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে, সেখানে ইউরোপ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো একটি কঠোর ও একঘেয়ে অবস্থান বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনগুলোর ওপর পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে, যা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।
রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্ষেত্রে গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার করা যেন এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ট্যাবুতে পরিণত হয়েছে। এই দ্বিচারিতা বিশ্ববাসীর মনে এই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে যে, গণহত্যার স্বীকৃতি এখন নির্ভর করছে অপরাধীর পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের মর্যাদার ওপর।
পশ্চিমাদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো তাদের বহুল ব্যবহৃত কূটনৈতিক বাক্য—‘‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে’’। এই শব্দবন্ধটিকে ইসরাইলি নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করছে।
অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা বা তাদের ভূমিতে চেপে বসা সামরিক দখদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকারের বিষয়টি এখানে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই গণহত্যাকে অস্বীকার বা আড়াল করছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধীদের আরও বড় যুদ্ধাপরাধ করতে উৎসাহিত করছেন। স্পেন বাদে আর হাতেগোনা কয়েকজন পশ্চিমা নেতা ছাড়া কেউই ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা বলে আখ্যা দেওয়ার সাহস দেখাননি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যেখানে ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দ্বিচারিতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে। ফিলিস্তিনিদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাকে পশ্চিমাদের এই অবস্থান অন্য সবার চেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।
এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও পশ্চিমা সমালোচনা কেবল ইসরাইলি সরকারের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী—ইটামার বেন গাভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কতিপয় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মূল হোতা হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং তাদের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সব ধরনের জবাবদিহিতা থেকে সুকৌশলে দূরে রাখা হচ্ছে।
পরিকল্পিত এই গণহত্যাকে তারা কেবল একটি মানবিক সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের মামলাকে সমর্থন করার পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রসিকিউটর ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ওপর নানাভাবে চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের রাজনীতি চলছে।
পশ্চিমা বিশ্বের এই ক্রমাগত অস্বীকৃতি ও সহযোগিতা কেবল আন্তর্জাতিক আইনকেই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকেও এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রথম দিনেই রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকেই কালো পোশাক পরিহিত লাখো শোকাহত মানুষ রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে তাঁদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন। ইরান ও ইরাকজুড়ে এই শেষকৃত্য মেগা ইভেন্টে আগামী কয়েক দিনে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।
আনুষ্ঠানিকতা শুরুর বহু আগে থেকেই সাধারণ মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এমনকি অনেকেই প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান নিয়েছেন, যাতে গেট খোলার সাথে সাথেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহদি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘‘১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো বিষয়ই নয়। মনে হচ্ছে যেন নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’’ ৩৭ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রেজা জানান, শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিয়েছিলেন, আজ তা রক্ষা করতেই এখানে এসেছেন।
কয়েক মাস আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক যৌথ হামলায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ফলে শেষকৃত্যের এই শোকের আবহ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনায়। সকাল থেকেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সমবেত জনতাকে তীব্র যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে এবং খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। আরাশ রাহিমি নামের এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, ‘‘এখানে আসা প্রতিটি মানুষ সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ চান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এই বিরোধ আর কখনো শেষ হবে না।’’
ঐতিহাসিক এই জনসমাগম ও শেষকৃত্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সপ্তাহান্তজুড়ে তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ প্রথম তিন দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র কোম শহরে, যেখানে জামকারান মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ জুলাই) মরদেহ বিমানযোগে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে তাঁর জন্মস্থান ‘ইমাম রেজা মাজার’ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে নতুন পদে আসীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি। ফলে দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোকের এই আনুষ্ঠানিকতায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সশরীরে উপস্থিত হন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও বিবিসি
অসলো চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলে দেওয়ার গোপন ছক ফাঁস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) নিয়ন্ত্রিত অধিকৃত পশ্চিম তীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত ‘এ’ অঞ্চলের প্রায় ১০০টি স্থান একযোগে দখল করার এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক পরিকল্পনা ফেঁদেছে ইসরাইলি উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো। মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হাইয়োম’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থী ‘সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘হাভাত (ফার্মস) ফোরাম’ যৌথভাবে এই ব্লুপ্রিন্ট বা পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্রকে সম্পূর্ণ ও মৌলিকভাবে বদলে দেওয়া।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই গোপন প্রস্তাবে একটি নির্দিষ্ট দিনকে ‘বাস্তবায়নের দিন’ (ডে অব ইমপ্লিমেন্টেশন) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেই নির্ধারিত দিনে পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে উগ্র বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার একটি বিশদ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, লক্ষ্যবস্তু করা এই স্থানগুলো সম্পূর্ণভাবে অসলো চুক্তির ‘এ’ অঞ্চলের (Area A) অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ঐতিহাসিক অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আইনিভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত রয়েছে।
ইসরাইলি পত্রিকাটির দাবি, এই ভয়াবহ দখলদারিত্বের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে ইসরাইলি সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দখলের তালিকায় ফিলিস্তিনের প্রধান প্রধান প্রধান শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) অধিভুক্ত ‘অ্যান্টি-ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটি’-এর সভাপতি মুয়াইয়াদ শাবান এই খসড়া প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে অধিকৃত সামগ্রিক পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে তেল আবিবের একটি চরম বিপজ্জনক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোরালো দাবি করেন, এটি অবৈধ ও উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর কোনো একক বা স্বাধীন উদ্যোগ নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে বর্তমান উগ্র ডানপন্থি ইসরাইলি সরকারের পর্দার আড়ালে অনুসরণ করা বৃহত্তর ফিলিস্তিন উচ্ছেদ নীতিরই আসল ও নগ্ন প্রতিফলন ঘটেছে।
বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও নগরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব নিয়মিত অভিযানে প্রায়ই নিরীহ ফিলিস্তিনিদের গণগ্রেফতার, মাঠপর্যায়ে অমানবিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং গভীর রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালানো নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র দখলদারদের বর্বর হামলায় ১ হাজার ১৭৩ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জনেরও বেশি এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রায় ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
পাঠকের মতামত:
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন বার্তা
- ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের
- আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
- জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
- স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
- জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
- বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
- দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
- স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
- ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
- সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
- তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
- আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
- দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
- শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন








