অন্ধেরা কীভাবে শোনায় দক্ষ? উত্তরে ক্রস-মডাল প্লাস্টিসিটি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ১২:০০:২৯
অন্ধেরা কীভাবে শোনায় দক্ষ? উত্তরে ক্রস-মডাল প্লাস্টিসিটি
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের মস্তিষ্কের অসাধারণ অভিযোজন-ক্ষমতাকে ‘ক্রস-মডাল প্লাস্টিসিটি’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় এক ইন্দ্রিয়ের ঘাটতি পূরণে মস্তিষ্কের অন্য অঞ্চলগুলো নিজেদের পুনর্গঠন করে নতুনভাবে কাজের দায়িত্ব নেয়। অর্থাৎ যে অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, সেই স্থানটি দখল করে নেয় স্বাস্থ্যবান অন্য কোনো সংবেদনশীল অঞ্চল। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানব মস্তিষ্কের অন্যতম বিস্ময়কর অভিযোজন বলে মনে করেন।

দৃষ্টিহীন বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত উদাহরণ পাওয়া যায়। শ্রবণশক্তি হারালে অনেকের পার্শ্বদৃষ্টি অস্বাভাবিকভাবে তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে, আবার অন্ধ ব্যক্তিদের স্পর্শ ও শ্রবণ শক্তি অসাধারণভাবে উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বধির ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের শ্রবণ কর্টেক্স দৃশ্যমান ও স্পর্শ-সংক্রান্ত তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে শুরু করে। অপরদিকে অন্ধ ব্যক্তিদের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স স্পর্শবোধ ও শব্দ প্রক্রিয়াকরণে সক্রিয় থাকে।

এই পুনর্গঠনের মাত্রা পরবর্তীকালের চিকিত্সা যেমন কক্লিয়ার বা রেটিনাল ইমপ্ল্যান্ট কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। কারণ, যাদের দৃষ্টিশক্তিহীনতার পর ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স পুরোপুরি অন্য ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে রেটিনাল ইমপ্ল্যান্ট প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে।

ক্রস-মডাল প্লাস্টিসিটির প্রকৃতি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। এতে বয়স, ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা এবং কোন সংবেদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: যারা দীর্ঘদিন গন্ধ বা স্বাদ অনুভব করতে অক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে অন্য ইন্দ্রিয়েও কখনো কখনো সংবেদনশীলতা কমে যায়। আবার দৃষ্টিশক্তিহীন শিশুদের খুব অল্প বয়সে প্রয়োজনীয় স্পর্শ-শিক্ষা না দেওয়া হলে তাদের মস্তিষ্ক দ্রুত অভিযোজনের সুযোগ হারিয়ে ফেলে।

অভিজ্ঞতার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্রেইল পড়া অন্ধ ব্যক্তিদের স্পর্শবোধকে অসাধারণভাবে তীক্ষ্ণ করে তোলে। একইভাবে, বহু বছর সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহারকারী বধির ব্যক্তিদের দৃশ্য-সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। মস্তিষ্কের যে অঞ্চল যেসব ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন অনুশীলনের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে, সেই অঞ্চলগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দখল করে নিতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে বিজ্ঞানীরা একসময় মনে করতেন যে প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের জন্য নির্দিষ্ট মস্তিষ্ক অঞ্চল ‘হার্ডওয়্যার’-এর মতো স্থায়ীভাবে নির্ধারিত। কিন্তু ২০শ শতকের শেষভাগে নিউরোসায়েন্স প্রমাণ করে যে মানুষের মস্তিষ্ক বহুমাত্রিক সংবেদন তথ্য পরস্পর সংযুক্তভাবে প্রক্রিয়া করে এবং প্রয়োজনমতো গঠন পাল্টাতে সক্ষম।

এই ধারণাকে বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি দেন মার্কিন নিউরোসায়েন্টিস্ট পল বাখ-ই-রিটা, যাঁর ১৯৬০-এর দশকের গবেষণা নিউরোপ্লাস্টিসিটির আলোয় নতুন অধ্যায় সূচনা করে। তাঁর নিজের বাবার স্ট্রোক-পরবর্তী আশ্চর্যজনক সুস্থতা তাঁকে আরও গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে। তিনি ‘ট্যাকটাইল ভিশন সাবস্টিটিউশন সিস্টেম’ (TVSS) তৈরি করেন, যাতে জন্মান্ধ ব্যক্তিরা পিঠে কম্পনের মাধ্যমে ক্যামেরা-তোলা মানুষের মুখ বা বস্তুর আকৃতি চিনতে সক্ষম হন। এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে স্পর্শ-তথ্যও ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে পৌঁছে ‘চোখের’ কাজ করতে পারে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির উন্নতিতে এমন যন্ত্রও তৈরি হয়, যা জিভের ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পাঠিয়ে বধির ব্যক্তিদের ‘শোনা’র অনুভূতি দিতে সক্ষম।

এই আবিষ্কারগুলো দেখায় মানুষের মস্তিষ্ক একটি স্থির কাঠামো নয়, বরং এটি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলে নিতে পারে এবং যেকোনো ক্ষতি পুষিয়ে নতুনভাবে কাজ শিখতে পারে। আজও এই গবেষণা পুনর্বাসন চিকিৎসা, শিশু বিকাশ, দৃষ্টিহীনতা ও শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা–সম্পর্কিত প্রযুক্তি উন্নয়নে গভীরভাবে প্রভাব রাখছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা


এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ২১:৩০:১১
এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

উদ্ভিদ তার পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটার মাধ্যমে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে—এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি বহু শতাব্দী ধরে স্বীকৃত হলেও সেই অতি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়াটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষকরা একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভিদের এই ‘ম্যাজিক’ প্রক্রিয়াটি এখন চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব হচ্ছে। ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ নামের এই যন্ত্রটি পাতার ওপর থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্রগুলোর কার্যপ্রণালি বিস্তারিতভাবে উন্মোচন করেছে, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা অনেক সময় উদ্ভিদের ‘মুখ’ হিসেবে অভিহিত করেন। স্টোমাটা মূলত আলোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং ট্রান্সপিরেশনের মাধ্যমে জলীয় বাষ্পের নির্গমন—এই দুইয়ের মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করে। নতুন এই প্রযুক্তিটি সেই জটিল ভারসাম্য রক্ষার দৃশ্যটিই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে ভিডিওর মাধ্যমে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এই অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে উচ্চ রেজুল্যুশনের কনফোকাল মাইক্রোস্কোপ, অত্যন্ত নির্ভুল গ্যাস-আদান-প্রদান পরিমাপক সেন্সর এবং ছবি বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত উন্নত মেশিন-লার্নিং সফটওয়্যারের এক আধুনিক সংমিশ্রণ। গবেষণার সময় পাতার একটি ছোট অংশকে হাতের তালু-আকারের একটি বিশেষ কম্প্যাক্ট চেম্বারের ভেতরে স্থাপন করা হয়। এই চেম্বারের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গবেষক দলের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ভিদ যখন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প নির্গত করে, তখন গ্যাসের চলাচল কতটা গতিশীল ও নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে আলো, তাপ ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের সাথে সাথে স্টোমাটার কোষীয় স্তরের সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়াগুলো এই প্রথমবার এত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু লিকি জানিয়েছেন যে, আলো থাকলে স্টোমাটা কেন খোলে এবং অন্ধকারের কেন বন্ধ হয়—সেই রহস্য এখন অনেক বেশি স্পষ্ট।

উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ এই সূক্ষ্ম কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাপ্ত নতুন জ্ঞান বিশ্বজুড়ে ফসলের জাত উন্নয়ন কৌশলে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন স্টোমাটার খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ভৌত ও রাসায়নিক সংকেতগুলো সম্পর্কে বিশদ ধারণা পেয়েছেন। এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান ব্যবহার করে এমন সব জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা ফসলের পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং পানির স্বল্পতা বা খরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে সক্ষম এমন ফসল উদ্ভাবন করা গেলে তা কেবল উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না বরং খরাপ্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন ইতোমধ্যে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তির পেটেন্ট গ্রহণ করেছে এবং বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘প্ল্যান্ট ফিজিওলজি’ জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। যদিও ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ প্রযুক্তিটি এখনও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়নি, তবে গবেষকদের প্রত্যাশা এটি শিগগিরই বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের জন্য উৎপাদন করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই কঠিন সময়ে উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা এবং পানি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন জ্ঞান ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষক দলটি এখন স্টোমাটার ঘনত্বের প্রভাব এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সীমাবদ্ধতায় উদ্ভিদের কোষীয় আচরণের পরিবর্তন নিয়ে আরও গভীরতর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: এনডিটিভি


অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:৫৬:০৪
অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী বা ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে শনিবার এক আবেগঘন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নাসা তাদের বিশালাকার নতুন চন্দ্র রকেটকে উৎক্ষেপণ প্যাডের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি কয়েক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। এই বিশাল রকেটের মাধ্যমে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, যা হবে গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো মানববাহী চন্দ্রাভিযান। শনিবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে ৩২২ ফুট বা ৯৮ মিটার লম্বা এই রকেটটির ধীরগতির যাত্রা শুরু হয়। প্রতি ঘণ্টায় মাত্র এক মাইল গতিতে অগ্রসর হওয়া এই দানবীয় যানটির চার মাইল দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মূল প্যাডে পৌঁছাতে প্রায় পুরো দিন লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রকেটটির এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যাত্রা সশরীরে প্রত্যক্ষ করতে ভোরের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার নাসা কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। জনাকীর্ণ সেই পরিবেশে এক বিশেষ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার সূচনা হয়, যেখানে সমবেত জনতাকে নেতৃত্ব দেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এবং এই ঐতিহাসিক মিশনের জন্য মনোনীত চার মহাকাশচারী।

সমগ্র যানটির ওজন প্রায় ৫০ লাখ কিলোগ্রাম, যা মূলত স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট এবং এর মাথায় থাকা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলের সমন্বয়ে গঠিত। রকেটটিকে একটি বিশাল ট্রান্সপোর্টারের ওপর চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ঐতিহাসিকভাবে অ্যাপোলো এবং শাটল যুগেও ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে এসএলএস রকেটের এই অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা তৈরি করতে ট্রান্সপোর্টারটিকে বিশেষভাবে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথমবার এসএলএস রকেটটি পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল, তবে সেবার কোনো মানুষ ছিল না। এবার ওরিয়ন ক্যাপসুলে রক্ত-মাংসের মানুষ থাকবে বলেই এই মিশন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে। নাসার কর্মকর্তা জন হানিকাট এই বিষয়ে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন যে, এবার রকেটে মানুষকে বসিয়ে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যদিও এই যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না; এর আগে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা বর্মে কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সেসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে, যার কারণে এই মিশনটি নির্ধারিত সময় থেকে কয়েক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল।

এবারের ১০ দিনের এই বিশেষ মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না এবং এর কক্ষপথেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন না; বরং তারা চাঁদকে একবার চক্কর দিয়ে সরাসরি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ বা বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এর পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে, যা আরও কয়েক বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই যুগান্তকারী অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কচ, যাদের প্রত্যেকেরই আগে মহাকাশে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের সাথে যোগ দিচ্ছেন কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন, যিনি একজন সাবেক ফাইটার পাইলট হিসেবে এবারই প্রথম রকেট যাত্রার রোমাঞ্চ নিতে যাচ্ছেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে পাড়ি জমাতে চলেছেন, যা বিশ্ববাসীর জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। নাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণ প্যাডে রকেটটির চূড়ান্ত জ্বালানি পরীক্ষা করা হবে এবং সেই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই মহাকাশচারীরা যাত্রা শুরু করতে পারেন, তবে আবহাওয়া বা কারিগরি কারণে দেরি হলে মিশনটি মার্চ মাসে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নাসার কর্মীদের মতে, এই রকেটটি কেবল একটি যান্ত্রিক কাঠামো নয় বরং এটি পৃথিবীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সাধনার প্রতীক, যা আবারও মানুষকে রহস্যময় চাঁদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: এপি


ক্যামেরা তাক করলেই অনুবাদ; গুগল ট্রান্সলেটের নতুন চমক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২০:৩৪:৪৭
ক্যামেরা তাক করলেই অনুবাদ; গুগল ট্রান্সলেটের নতুন চমক
ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণের সময় বিদেশের রাস্তায় অচেনা ভাষার সাইনবোর্ড, রেস্টুরেন্টের জটিল মেনু কার্ড, স্থানীয় পত্রিকা কিংবা লিফলেট—সবই অনেক সময় পর্যটকদের জন্য এক বিভ্রান্তিকর গোলকধাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি শব্দ আলাদা করে গুগল ট্রান্সলেটে টাইপ করে অর্থ বের করা যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি এটি বেশ বিরক্তিকরও বটে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর সেই চিরাচরিত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। আপনার হাতের স্মার্টফোনটির ক্যামেরা কোনো লেখার দিকে তাক করলেই এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অনুবাদ হয়ে যাবে আপনার পছন্দের ভাষায়। সম্প্রতি গুগল ট্রান্সলেটের ক্যামেরা টুলে বড় ধরণের একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে যেখানে আরও ৬০টি নতুন ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ঘরে বসে বা প্রবাসে মোট ৮৮টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। নতুন এই আপডেটের একটি বিশেষ দিক হলো এটি এখন নিজে থেকেই শনাক্ত করতে পারে কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হচ্ছে, যা মূলত এক জায়গায় একাধিক ভাষার ব্যবহার থাকলে বিশেষভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে সরাসরি অনুবাদের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন উভয় প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যায়। এই সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রথমে ফোনে গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। অ্যাপটি খোলার পর সেখানে থাকা ক্যামেরা আইকনে ট্যাপ করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করলে এর মূল ফিচারটি সচল হয়। অ্যাপের ভেতরের ক্যামেরাটি চালু হলে ওপরের অংশে থাকা ভাষার অপশন থেকে 'ডিটেক্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ' এবং ডান পাশে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভাষাটি নির্বাচন করে নিতে হবে। এরপর যে লেখাটি অনুবাদ করতে চান সেটির দিকে ক্যামেরা ধরলে স্ক্রিনে থাকা 'পজ ট্রান্সলেশন' বাটনে চাপ দিয়ে লেখাটি স্থির করে পড়া যাবে। পরবর্তী কোনো অংশ অনুবাদের জন্য পুনরায় 'কন্টিনিউ ট্রান্সলেশন' বাটনে চাপ দিলেই হবে। এই প্রযুক্তিটি বর্তমানে সরাসরি ক্যামেরা ছাড়াও ফোনের গ্যালারিতে থাকা পূর্বের তোলা ছবি থেকেও লেখা অনুবাদ করতে সক্ষম, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।

ফোনের গ্যালারিতে থাকা কোনো ছবি বা সাইনবোর্ডের ভাষা বুঝতে চাইলে প্রথমে সেই ছবিটি তুলে রাখতে হবে এবং অ্যাপের ভেতরে ক্যামেরা আইকনে গিয়ে নিচের ডান পাশে থাকা 'ইমপোর্ট' আইকনে চাপ দিতে হবে। এরপর গ্যালারি থেকে নির্দিষ্ট ছবিটি নির্বাচন করে আঙুল দিয়ে লেখার অংশে টেনে নিয়ে গিয়ে সিলেক্ট করলেই অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটির অনুবাদ প্রদর্শন করবে। যদিও এই ধরণের ডিজিটাল অনুবাদ সবসময় শতভাগ নিখুঁত নাও হতে পারে, তবে অজানা ভাষা বুঝতে এবং বিদেশের মাটিতে সাধারণ যোগাযোগ বা চলাফেরার ক্ষেত্রে এটি বর্তমানে অন্যতম সেরা সহায়ক টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গুগল ট্রান্সলেটের এই জাদুকরী ফিচারের কারণে এখন আর মোটা ডিকশনারি বা দীর্ঘ টাইপিংয়ের প্রয়োজন নেই; বরং আপনার পকেটে থাকা স্মার্টফোনের ক্যামেরাই হয়ে উঠতে পারে আপনার ব্যক্তিগত দোভাষী।

সূত্র : সিনেট


এক বছরে দুই বিপর্যয়; ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় নজিরবিহীন অন্ধকার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২১:২৭:০৬
এক বছরে দুই বিপর্যয়; ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় নজিরবিহীন অন্ধকার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব এবং অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে পিএসএলভি রকেটকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের আস্থার প্রতীক বা ‘ওয়ার্কিং হর্স’ হিসেবে বিশ্বদরবারে গর্বের সাথে উপস্থাপন করে এসেছে, সেই আস্থার স্তম্ভেই এখন গভীর ফাটল দৃশ্যমান। গত শুক্রবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে পিএসএলভি-সি৬২ সফলভাবে উড্ডয়ন করলেও শেষ পর্যন্ত তা তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মিশনটি পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের মহাকাশ মুকুটে এক বড় ধরণের আঘাত লেগেছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত বছরের মে মাসেও ঠিক একইভাবে একটি মিশন ব্যর্থ হয়েছিল; অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একই ধরণের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি কেবল ভারতের প্রযুক্তিবিদদের নয়, বরং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

এই ধারাবাহিক ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে ভারতের সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশ এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন—এই বিপর্যয় কি নেহাতই প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি এর নেপথ্যে কোনো পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত বা নাশকতামূলক তৎপরতা লুকিয়ে আছে? এই সন্দেহের দানা বাঁধার পেছনে কারণটি বেশ জোরালো। এবারের মিশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র তৈরি অত্যাধুনিক সামরিক উপগ্রহ ‘অন্বেষা’।

ভারত-চীন এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত ও সংলগ্ন অঞ্চলের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি চালাতে সক্ষম এই উপগ্রহটি কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপিত হলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতো বলে দিল্লির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাবি ছিল। মহাকাশের অতল গহ্বরে ‘অন্বেষা’ হারিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পিছিয়ে গেল এবং বিশ্লেষকদের মতে, এতে সীমান্ত ওপারের শত্রু শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে। গত বছর রাজস্থানে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ডিআরডিও-র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা এই নাশকতার সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ শক্তিকে স্তিমিত করতে বিদেশি কোনো গুপ্তচর সংস্থা, বিশেষ করে আইএসআই বা অন্য কোনো প্রতিকূল শক্তি কি তবে ইসরোর অন্দরেই কোনো জাল বুনেছে? কারণ হিসেবে তারা বলছেন, যে পিএসএলভি রকেটের সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের বেশি, সেখানে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঠিক একই ধরণের প্রযুক্তিগত ভুল হওয়া বিজ্ঞানীদের কাছেও বেশ অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক।

বিপর্যয়ের পর ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অভিযানের তৃতীয় ধাপে রকেটটির গতিপথ বিচ্যুত হয় এবং প্রয়োজনীয় উচ্চতা অর্জন করতে না পারায় মিশনটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তবে তিনি এখনই কোনো নাশকতার তত্ত্বকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ এবং একে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

ইসরো চেয়ারম্যান তদন্তের আশ্বাস দিলেও সংস্থার অন্দরমহলের পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। অনেক বিশেষজ্ঞই ইসরোর ভেতরের দীর্ঘদিনের অন্তর্কলহ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে পারস্পরিক রেষারেষির পুরনো অভিযোগগুলো নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন। চন্দ্রযান-২ এর ব্যর্থতা এবং পূর্বসূরি বিজ্ঞানীদের নিয়ে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের সাম্প্রতিক বিতর্কিত সব বয়ান এই আলোচনাকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ইসরোর বাণিজ্যিক সুনাম নষ্ট করতে এবং ভারতকে বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর লাভজনক ব্যবসা থেকে ছিটকে দিতে পরিকল্পিতভাবে এই বিপর্যয় ঘটানো হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন। এই ব্যর্থতার ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাণিজ্যে ভারতের যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ না দিলেও পিএসএলভি-র এই বিপর্যয়ের গূঢ় রহস্য খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।


মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ক্লাউড-৯’: তারাশূন্য এক ব্যর্থ গ্যালাক্সি!

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২১:২৫:১৫
মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ক্লাউড-৯’: তারাশূন্য এক ব্যর্থ গ্যালাক্সি!
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্বের আদিম এবং অজানা রহস্য উন্মোচনে আবারও এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি বস্তুর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’। এটি এমন এক বিস্ময়কর মহাজাগতিক সত্তা, যার ভেতরে কোনো তারার অস্তিত্ব নেই, অথচ এটি গ্যাসে পরিপূর্ণ এবং মূলত ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য পদার্থের এক বিশাল ভাণ্ডার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি ‘ব্যর্থ গ্যালাক্সি’, যা মহাবিশ্বের শুরুর দিকে তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারেনি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্লাউড-৯ পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি মহাকাশের কাছাকাছি থাকা সর্পিল গ্যালাক্সি মেসিয়ার–৯৪ (M94)-এর পাশেই অবস্থান করছে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘রিআয়োনাইজেশন-লিমিটেড এইচ আই ক্লাউড’ (Reionization-Limited H I Cloud) বা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ (RELHIC)। মূলত এটি নিউট্রাল হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি সুবিশাল আধার। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গ্যাসমেঘটি প্রায় ৪ হাজার ৯০০ আলোকবর্ষ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। দৃশ্যমান গ্যাসের হিসেবে এর ভর সূর্যের ভরের প্রায় ১০ লাখ গুণ হলেও, এর আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এর অদৃশ্য ভরে। গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্লাউড-৯ এর ভেতরে থাকা ডার্ক ম্যাটারের ভর প্রায় ৫০০ কোটি সূর্যের সমান।

"ক্লাউড-৯ হলো মহাবিশ্বের শুরুর দিকের একটি ‘জীবাশ্ম’। এটি আমাদের তত্ত্বীয় ধারণাকে বাস্তবে প্রমাণ করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এখানে কোনো তারা না থাকাই প্রমাণ করে যে, এটি একটি আদিম গ্যালাক্সি যা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই থমকে গিয়েছিল।" — আলেহান্দ্রো বেনিতেজ-ইয়াম্বে, গবেষক, মিলান-বিকোকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণার ফলাফলগুলো ইতিমধ্যে বিখ্যাত ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ক্লাউড-৯ আমাদের ডার্ক ইউনিভার্স বা অদৃশ্য মহাবিশ্বকে বোঝার জন্য একটি অনন্য জানালা খুলে দিয়েছে। যেহেতু ডার্ক ম্যাটার কোনো আলো বিকিরণ বা প্রতিফলন করে না, তাই সরাসরি একে দেখা অসম্ভব। ক্লাউড-৯ এর মতো গ্যাসমেঘগুলো যেখানে ডার্ক ম্যাটারের বিপুল উপস্থিতি রয়েছে, তা বিজ্ঞানীদের জন্য এই অদৃশ্য শক্তির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করার এক বিরল ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। এটি মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং কীভাবে গ্যালাক্সিগুলো তৈরি হয়, সেই জটিল সমীকরণ মেলাতে সাহায্য করবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বে এমন অনেক সুবিশাল বস্তু ছড়িয়ে রয়েছে যা আমাদের সাধারণ টেলিস্কোপের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। ক্লাউড-৯ এর মতো ‘ব্যর্থ গ্যালাক্সি’গুলোর অনুসন্ধান ভবিষ্যতে ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে নাসা এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থার জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।


মহাকাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে রঙিন শকওয়েভ: অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে বিরল আবিষ্কার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২১:৩০:৩৪
মহাকাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে রঙিন শকওয়েভ: অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে বিরল আবিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ মানেই এক নিস্তব্ধ ও স্থির জায়গা—এমন প্রচলিত ধারণা আবারও নতুন এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কিওয়েতে বা ছায়াপথে একটি মৃতপ্রায় অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী সাদা নক্ষত্র বা 'হোয়াইট ডোয়ার্ফ' শনাক্ত করেছেন। অত্যন্ত ঘন এবং প্রায় পৃথিবীর আকারের এই মৃত নক্ষত্রটি মহাকাশের বুক চিরে চলার পথে সৃষ্টি করছে অদ্ভুত ও রঙিন এক ধরণের 'শকওয়েভ' বা তীব্র ধাক্কাজনিত তরঙ্গ। এই আবিষ্কারটি কেবল মহাকাশের গতিশীলতাকেই তুলে ধরেনি, বরং মৃত নক্ষত্রের আচরণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন রহস্য উন্মোচন করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, এই সাদা নক্ষত্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের অধিকারী এবং এটি একটি 'বাইনারি সিস্টেম' বা নক্ষত্রযুগলের অংশ হিসেবে অবস্থান করছে। জোড়া অবস্থায় থাকা এই ব্যবস্থায় সাদা নক্ষত্রটি তার সঙ্গী ছোট নক্ষত্রটির খুব কাছে অবস্থান করে এবং তার প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দিয়ে সঙ্গী নক্ষত্র থেকে ক্রমাগত গ্যাস টেনে নিচ্ছে। এই নক্ষত্রযুগল পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৩০ আলোকবর্ষ দূরে ‘অরিগা’ নামক নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থান করছে। চিলিতে অবস্থিত ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ ব্যবহার করে এই নক্ষত্রের চলার পথে তৈরি হওয়া বিরল শকওয়েভটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা নক্ষত্র থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা পদার্থগুলো যখন আশপাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা খাচ্ছে, তখন সেখানে এক উজ্জ্বল রঙের বিচ্ছুরণ ঘটছে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই ধাক্কার ঢেউকে বলা হয় ‘বো শক’, যা অনেকটা শান্ত জলে দ্রুতগতিতে নৌকা চলার সময় সামনে যেভাবে বাঁকানো ঢেউ তৈরি হয়, ঠিক তেমন আকৃতির হয়ে থাকে। এই শকওয়েভের ভেতরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস উত্তপ্ত হয়ে নির্দিষ্ট রঙে জ্বলে ওঠে, যা এই দৃশ্যকে আরও রহস্যময় করে তোলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, শকওয়েভটিতে দেখা যাওয়া লাল রঙের উৎস হলো হাইড্রোজেন গ্যাস, সবুজ রঙের উৎস হলো নাইট্রোজেন এবং নীল রঙের উজ্জ্বল আভা আসছে অক্সিজেন থেকে।

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো নক্ষত্রটির চারপাশে কোনো গ্যাসীয় চক্র বা ডিস্কের অনুপস্থিতি। এর আগে বিভিন্ন নক্ষত্রের চারপাশে শকওয়েভ দেখা গেলেও সেগুলোর ক্ষেত্রে গ্যাসের একটি সুনির্দিষ্ট ডিস্ক বা আস্তরণ থাকত। কিন্তু এই সাদা নক্ষত্রটির ক্ষেত্রে কোনো ডিস্ক না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় আকারের শকওয়েভ তৈরি হচ্ছে এবং কেন গ্যাসগুলো এভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই শকওয়েভের বিশাল আকার দেখে বোঝা যায় যে, এই মহাজাগতিক প্রক্রিয়াটি অন্তত এক হাজার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। এটি কোনো আকস্মিক বা ক্ষণস্থায়ী ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী এক মহাজাগতিক তাণ্ডব, যা এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২১:২৪:৩৪
সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সূর্য থেকে ধেয়ে আসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সৌর ঝড় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তা নিয়ে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ওই সৌর ঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে মহাকাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলো সাময়িকভাবে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সূর্যের পৃষ্ঠে যখন হঠাৎ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকে উত্তপ্ত গ্যাসের প্রবল স্রোত মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে সৌর ঝড় বলা হয়। এই প্রাকৃতিক ঘটনা থেকেই সৃষ্টি হয় ‘স্পেস ওয়েদার’ বা মহাকাশের আবহাওয়া। এই বিশেষ আবহাওয়া পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর জীবনযাত্রার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এটি মূলত পৃথিবীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস বা নেভিগেশন সিস্টেম এবং এমনকি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় ২০২৪ সালের সেই ঝড়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় সূর্য পর্যবেক্ষণকারী বিশেষ মহাকাশযান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌর ঝড়ের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাব তখন দেখা দেয়, যখন এর একটি বড় অংশ সরাসরি পৃথিবীকে আঘাত করে। সে সময় পৃথিবীর সুরক্ষা বলয় বা চৌম্বক ক্ষেত্র অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে। এর ফলে কিছু ভূস্থির কক্ষপথের (Geostationary Orbit) স্যাটেলাইট, যেগুলো মূলত নির্দিষ্ট স্থানে থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে, সেগুলো সাময়িকভাবে মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশের সরাসরি সম্মুখীন হয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, ওই সৌর ঝড়ের কারণে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে অত্যন্ত শক্তিশালী বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে উপরের বায়ুমণ্ডল অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বায়ুমণ্ডলের কণার নির্গমন (Particle Emission) অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশে থাকা মূল্যবান সম্পদ এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এ ধরনের সৌর ঝড় সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করা এখন সময়ের দাবি। সঠিক সময়ে সতর্কতা সংকেত পেলে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদগুলো আরও নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।


মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা 

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৯:০১:৩৪
মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা 
ছবি : সংগৃহীত

মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমের সার্ভার ও আইপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিটিআরসির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য ও সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর সিস্টেমটি পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এই সিস্টেম চালুর মূল লক্ষ্য হলো—বিদেশ থেকে অবৈধভাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি রোধ করা, চুরি হওয়া ফোন শনাক্ত করা, অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ দমন এবং সরকারের সঠিক রাজস্ব নিশ্চিত করা। তবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সিস্টেমটির সার্ভারের অবস্থান এবং আইপি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করছে কমিশন।

বিভ্রান্তি নিরসনে বিটিআরসি স্পষ্ট করেছে যে, এনইআইআর সিস্টেমের সব তথ্য বা ডাটা দেশের অভ্যন্তরে একটি অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে রাখা (হোস্ট করা) হয়েছে। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি নিজস্ব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করেছে। এছাড়া সিস্টেমটি তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান ‘ডাটা প্রোটেকশন আইন’-এর সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনইআইআর সিস্টেমে ব্যবহৃত আইপি (IP) এপিএনআইসি (APNIC) কর্তৃক বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে কারিগরিভাবে এই সিস্টেমের কোনো তথ্য বা ট্রাফিক বিশ্বের অন্য কোনো দেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিটিআরসি আরও নিশ্চিত করেছে যে, এনইআইআর সিস্টেম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব রিকোয়েস্ট বা অনুরোধ দেশের ভেতরেই প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। আইপি রুটের বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমেই সিস্টেমটির দেশের ভেতরের অবস্থান ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংস্থাটি সাধারণ জনগণকে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছে।


পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৮:৫৯:২৩
পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ থেকে ১৬০ কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হয়, যা থেকে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে পাহাড় সমান ইলেকট্রনিক বর্জ্য। সাধারণত এই ই-বর্জ্য বা পুরোনো মোবাইল, ল্যাপটপ ও সার্কিট বোর্ডগুলোকে আমরা আবর্জনা মনে করে ফেলে দিই। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রতিটি যন্ত্রের ভেতরে ভালো কন্ডাক্টিভিটির জন্য ব্যবহার করা হয় সামান্য পরিমাণে স্বর্ণ ও প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু। সম্প্রতি চীনের গবেষকরা একটি বিস্ময়কর ও সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে এই ফেলে দেওয়া যন্ত্রগুলো থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সোনা বের করে আনা সম্ভব।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ে ই-বর্জ্য থেকে সোনা আলাদা করা যাবে। সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পদ্ধতিতে খরচ বর্তমানের প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, মোবাইল ফোনের সিপিইউ এবং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড থেকে প্রায় ৯৮.২ শতাংশের বেশি সোনা এবং ৯৩.৪ শতাংশ পর্যন্ত প্যালাডিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব। এই আবিষ্কার শুধু মূল্যবান ধাতুর জোগানই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিক স্তরে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাবে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো—তাদের পুরোনো ও অকেজো গ্যাজেটগুলো এখন আর ফেলনা থাকবে না। বড় বড় ইলেকট্রনিক কোম্পানিগুলোও এখন ই-বর্জ্য রিসাইকেল করে তাদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে পারবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে এত কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে স্বর্ণ নিষ্কাশন করার এই পদ্ধতিটি ২০২৬ সালের বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮

পাঠকের মতামত: