আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:২৫:৩২
আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার হঠাৎ করেই প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে প্রথমবারের মতো উন্নত মানের স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করল, যা বাজারে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, যা একই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয়ের চাপও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিয়ের মৌসুম চলমান থাকায় গহনার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে সামনে আরও সমন্বয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রফিক


বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:১৪:৪৬
বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে নিজ নিজ ডিভাইসের সফটওয়্যার হালনাগাদ করার তাগিদ দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে মারাত্মক ধরনের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি (জিরো-ডে ভালনারেবিলিটি) শনাক্ত হওয়ার পর এই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করল প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপল সূত্রে জানা গেছে, আইফোন ও আইপ্যাডের ছবি ও গ্রাফিক্স প্রদর্শনে ব্যবহৃত ‘কোরগ্রাফিকস’ নামের সফটওয়্যার উপাদানে এই গুরুতর প্রযুক্তিগত দুর্বলতাটি খুঁজে পাওয়া যায়। হ্যাকাররা বিশেষভাবে তৈরি কোনো ক্ষতিকারক ফাইল বা ছবি পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর নির্দেশমালা (মেলিশিয়াস কোড) সক্রিয় করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যে, এই ফাঁককে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু উচ্চপদস্থ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ডিভাইসে অত্যন্ত জটিল সাইবার হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে কার ওপর বা কোন মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি অ্যাপল।

কোন কোন ডিভাইসে এবং কীভাবে হালনাগাদ করবেন

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যাপল পুরোনো সফটওয়্যার চালিত আইফোনের জন্য ‘আইওএস ২৬.৭.১’ এবং আইপ্যাডের জন্য ‘আইপ্যাডওএস ২৬.৭.১’ সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছে। আইফোন ১১ ও পরবর্তী সময়ে বাজারে আসা সব মডেলে এই নিরাপত্তা প্যাকেজ ইনস্টল করা যাবে। অন্যদিকে, সদ্য বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলের প্রাথমিক ত্রুটি সংশোধনে পৃথকভাবে ‘আইওএস ২৭.০.১’ সংস্করণের হালনাগাদ আনা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিভাইস হালনাগাদ করার পূর্বে ব্যক্তিগত ডেটার ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ডিভাইসটিকে চার্জারে যুক্ত করে এবং দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সংযোগে রেখে Settings > General > Software Update অপশনে গিয়ে 'Download and Install' বোতামে চাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংস্করণটি হালনাগাদ হয়ে যাবে।

/আশিক


মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:৩৬:৫৮
মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্বের বিশালতায় মানুষের নিঃসঙ্গতা ভাঙতে এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই মহাশূন্যের গভীর সংকেত পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সৌরজগতের বাইরের একটি এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইদো বার্জার পরিষ্কার করেছেন যে, এই বার্তাটি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর পাঠানো সংকেত নয়; বরং এটি উক্ত গ্রহটির অস্বাভাবিক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘বিটা পিকটোরিস বি’ নামের একটি বিশাল এক্সোপ্ল্যানেট থেকে এই পুনরাবৃত্তিমূলক রেডিও বিস্ফোরণের তরঙ্গ ধরা পড়েছে। বিশালাকার এই গ্যাসীয় গ্রহটির ভর আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়ে অন্তত ১২ গুণ বেশি এবং এটি সূর্যের চেয়ে প্রায় ১.৭৫ গুণ বড় একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গ্রহটি যে নক্ষত্রমণ্ডলীতে অবস্থান করছে তার বয়স মাত্র ২.৩ কোটি বছর, যেখানে আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের আনুমানিক বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থাপিত ৬৪টি বিশালাকার রেডিও টেলিস্কোপ ডিশের সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘মিরক্যাট’ (MeerKAT) প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা এই তরঙ্গ শনাক্ত করেন। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে সংকেতটিকে কেন্দ্রীয় নক্ষত্র থেকে নির্গত বলে মনে করা হলেও, সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রেডিও তরঙ্গটি মূলত গ্রহটি থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।

অধ্যাপক বার্জারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে যেভাবে বায়ুমণ্ডলে মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’ সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি উক্ত গ্রহটিতে চলমান তীব্র চৌম্বকীয় ঝড়ের ফলেই এই শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের উদ্ভব ঘটছে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে দিয়ে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ‘বিটা পিকটোরিস বি’ গ্রহটির চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতা আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়েও অন্তত ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

সাধারণত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব গ্রহের প্রতিরক্ষামূলক চৌম্বকীয় আবরণ থাকে না, যা মঙ্গল বা অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ক্ষতিকারক সৌরঝড় থেকে বায়ুমণ্ডলকে সুরক্ষা দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে এমন রেডিও সংকেতের সৃষ্টি ইতিপূর্বে সৌরজগতের বৃহস্পতি, শনি, এমনকি সূর্য ও বাদামি বামন নক্ষত্রে (ব্রাউন ডোয়ার্ফ) লক্ষ্য করা গেলেও, সৌরজগতের সীমানার বাইরে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট গ্রহ থেকে এটিই প্রথম স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ রেডিও সংকেত।

উৎস উন্মোচনের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কঠোর ‘পিয়ার রিভিউ’ বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, গবেষণার ফলাফল চূড়ান্তভাবে সমর্থিত হলে তা বহির্বিশ্বের গ্রহসমূহের অভ্যন্তরীণ গঠন ও তাদের চৌম্বকক্ষেত্রের আচরণ বুঝতে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এবং বর্তমানে গ্রহটির এই চরমমাত্রার শক্তি উৎপন্ন করার রহস্য উদঘাটন করাই বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:৫৮:৪৮
৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য নির্ধারিত ৯টি প্রাকৃতিক ‘প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি’ বা পরিবেশগত সীমানার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে মানবজাতি। এভাবে পরিবেশের ওপর অনিয়ন্ত্রিত চাপ অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর এমন স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর কখনোই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের ৬০ জনেরও বেশি বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী যৌথভাবে ‘২০২৬ প্ল্যানেটারি হেলথ চেক’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন, সুপেয় পানির চরম সংকট, মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক ও রাসায়নিক দূষণ, সমুদ্রের অতিরিক্ত অম্লতা বৃদ্ধি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রবাহ—এই গুরুত্বপূর্ণ ৭টি প্রাকৃতিক সীমানা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমানে কেবল ওজোন স্তরের স্থায়িত্ব এবং বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসলের সীমানা সুরক্ষিত রয়েছে। ২০০৯ সালে চিহ্নিত এই আন্তর্জাতিক পরিবেশগত বৈজ্ঞানিক ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, সীমানা অতিক্রম করার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ধ্বংস ডেকে না আনলেও তা বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমকে এক মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষ করে আমাজন বন উজাড় এবং কার্বন শোষণের ক্ষমতার হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সূচকে লাল তালিকাভুক্ত করেছেন। তবে প্রখ্যাত বৈশ্বিক জলবায়ু বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রোম জানিয়েছেন, এককভাবে না দেখে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস ও প্রকৃতি ধ্বংস অবিলম্বে রূদ্ধ করা গেলে বিশ্বকে আবারও মানবজাতির জন্য নিরাপদ সীমানায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি


অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৯:২১:৫৪
অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল শনাক্ত করার পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা প্রতারণামূলক লিংক, ফোন নম্বর ও বার্তা যাচাইয়ের সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ট্রুকলার। 'স্ক্যাম চেকার' নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যান্ড্রয়েড সেবা উন্মুক্ত করেছে সুইডেনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে কোনো ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করা ছাড়াই ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক তথ্য পরীক্ষা করার সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই ফিচারটি প্রথম ধাপে ভারতে চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ধাপে ধাপে এটি সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সন্দেহজনক নম্বর, ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা সম্পূর্ণ মেসেজ কপি করে পেস্ট করে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারবেন। কোনো লিংক স্ক্যান করার জন্য জমা দেওয়া হলে সার্ভিসটি সেটির মূল ইউআরএল বের করতে প্রয়োজনে ভেতরের রিডাইরেক্টগুলো একের পর এক খুলবে। এরপর ওয়েব ঠিকানাটির বিস্তারিত তথ্য ট্রুকলারের নিজস্ব ঝুঁকি শনাক্তকরণ ডেটাবেস এবং স্ক্যাম সম্পর্কিত সংকেতগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই পদ্ধতিতে কোনো বার্তা বা মেসেজ পরীক্ষা করার সময় সেটিতে থাকা ফোন নম্বর ও লিংক আলাদা করে বিশ্লেষণ করবে ট্রুকলার।

এই পুরো ঝুঁকি শনাক্তকরণ কার্যক্রমে ট্রুকলার ব্যবহারকারীদের প্রদান করা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি 'স্ক্যামফিড' মুখ্য ভূমিকা রাখছে। ভারতে বর্তমানে এই স্ক্যামফিডে ২০ হাজারের বেশি সক্রিয় প্রতারণার তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে নতুন করে আরও অন্তত ১৩০০টি প্রতিবেদন সেখানে যুক্ত হচ্ছে। ট্রুকলারের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১২.৯ বিলিয়ন মেসেজ পরীক্ষা করে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ বার্তাকে ভুয়া ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নির্দিষ্ট নাম দেখতে হলে ব্যবহারকারীকে ট্রুকলারের মূল অ্যাপ বা সার্ভিসে সাইন ইন করতে হবে।

ডিজিটাল জগতে সময়ের সঙ্গে প্রতারণার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন আসায় কেবল ফোনকল শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে শতভাগ সুরক্ষার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রুকলার জানিয়েছে, বর্তমানে কল ছাড়াও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ, এসএসএস ও লিংকের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জিএসএমএ জরিপের তথ্যমতে, ভারতের ৪৬ শতাংশ ভুক্তভোগী মেসেজিং অ্যাপ, ৩৭ শতাংশ এসএমএস এবং ৩২ শতাংশ ভয়েস কলের মাধ্যমে প্রতারকদের শিকার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বার ওয়েবে সন্দেহজনক লিংক ও ফোন নম্বর যাচাইয়ের কাজ চলে।

ভবিষ্যতে এই স্ক্যাম চেকারে নতুন ধরনের প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি মেসেজের স্ক্রিনশট আপলোড করে তা সরাসরি বিশ্লেষণের সুবিধা যোগ করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে কল আইডেন্টিফিকেশন সেবার পরিধি বাড়িয়ে ভুয়া কল, বার্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে কাজ করছে ট্রুকলার।

/আশিক


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:৪৫:৫৭
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ কাজকর্ম সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানান অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষ এখন ক্রমবর্ধমানভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের নির্ভরতা নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই এআই মানুষের বিকল্প কিংবা প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারে না। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সৌন্দর্য, মানুষের আবেগ, বুদ্ধিমত্তা কিংবা অর্থসংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এআইয়ের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রযুক্তির নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকির কারণে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এআইয়ের মুখোমুখি হওয়া বা এর মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথমেই আসে চেহারা ও সৌন্দর্যের মূল্যায়নের বিষয়টি। পোশাক বা ব্যক্তিগত আকর্ষণ নিয়ে এআই যা বলে, তা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। বেশিরভাগ এআই মডেলকেই ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইতিবাচক ও মনোরম ভঙ্গিতে কথা বলার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়, যা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না।

একইভাবে আবেগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় এআইয়ের মতামত চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কেউ আপনাকে ভালোবাসে কি না বা কারো মনে আপনার জন্য কী অনুভূতি রয়েছে—এ ধরনের প্রশ্নে এআই হয়তো সহানুভূতিশীল জবাব দেবে, কিন্তু মানুষের জটিল মানসিক অনুভূতি ও আচরণ অনুধাবন করার ক্ষমতা তার নেই। যেকোনো মানসিক সংকট বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে কৃত্রিম যন্ত্রের বদলে বিশ্বস্ত মানুষ বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এ ছাড়া নিজের ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা কিংবা আত্মমর্যাদা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকলেও এআই কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব, নিজস্ব ক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যবোধ সঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারে না। ফলে এর কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না।

জরুরি অর্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিনিয়োগ, ঋণগ্রহণ বা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এআই যেসব পরামর্শ দেয়, তা যাচাই না করে প্রয়োগ করা মোটেও ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, স্থানীয় আইনি রূপরেখা এবং পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে কেবল একজন পেশাদার আর্থিক পরামর্শকই সক্ষম।

একই সঙ্গে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সহায়তার বিকল্প কখনো প্রযুক্তি হতে পারে না। কাজের নির্দেশনা বা তথ্য সরবরাহে এআই দক্ষ হলেও বিপদের মুহূর্তে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা মানবিক সহানুভূতি প্রকাশের কাজগুলো এআইয়ের পক্ষে করা অসম্ভব। মূলত উপাত্ত ও অ্যালগরিদমের ওপর ভর করে চলা এআইয়ের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা বা অনুভূতি নেই। তাই একে জীবনের প্রধান ভরসা না বানিয়ে শুধুমাত্র একটি সাধারণ সহায়তামূলক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পন্থা।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপ: আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৪০:১২
যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপ: আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ইস্যুতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগে বড় ধরনের আইনি চাপে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং টিকটকের মাদার কোম্পানি বাইটড্যান্স। তথ্য সুরক্ষায় নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুককে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অপরদিকে আলাবামায় বিচারিক শুনানির মুখে টিকটক ও বাইটড্যান্স ১০ কোটি ডলারের আর্থিক সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে।

নিউ মেক্সিকো রাজ্যের দায়ের করা মামলাটি মূলত আলোচিত কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ও তথ্যের সার্বিক সুরক্ষা কেন্দ্রিক। জুরি বোর্ড দেখেছে যে, ফেসবুক তাদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করে তৃতীয় পক্ষের একটি পার্সোনালিটি কুইজের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিল। এসব গোপন তথ্য রাজনৈতিক কনসাল্টিং ফার্ম কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যা ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়।

আদালত নিশ্চিত করেছেন যে, কেলেঙ্কারি প্রকাশের পরেও ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহকারী থার্ড-পার্টি নিয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে মেটা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছিল এবং কেবল নিউ মেক্সিকোরই প্রায় ২০ লাখ মানুষের সুরক্ষা ইস্যুতে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তবে মেটার মুখপাত্র অ্যালেক্স বার্গোস আদালতের এই রায় প্রত্যাখ্যান করে রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে, আলাবামায় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়ের করা মামলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত ১০ কোটি ডলার দিয়ে আইনি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও বাইটড্যান্স। আলাবামা রাজ্য প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, টিকটকের অ্যালগরিদম অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে ক্রমাগত ক্ষতিকর ও সহিংস কনটেন্ট পৌঁছে দিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। এছাড়া মার্কিন নাগরিকদের তথ্য চীনা সরকারের হাতে পৌঁছানো এবং অ্যাপ স্টোরে ভুয়া রেটিং ব্যবহারের বিষয়ে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্যের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার সমঝোতার শর্তানুযায়ী, টিকটক রাজ্য প্রশাসনকে চুক্তি অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ আর্থিক অর্থ পরিশোধ করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে পরিবর্তন আনছে। এখন থেকে দৈনিক অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টায় সীমিত করা, ১৫ মিনিট পরপর বিরতির সুযোগ এবং ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কঠোর অ্যালগরিদম নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে টিকটক। পূর্বেও শিশুদের গোপনীয়তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাথে ৪০ কোটি ডলার পরিশোধ করে আইনি ঝামেলা চুকিয়েছিল ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটি।

/আশিক


ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২০:৫৩:৩৩
ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা
ছবি : সংগৃহীত

আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে গ্রাহকদের মোট ২৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলা বা ‘ক্লাস অ্যাকশন স্যুট’ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার অংশ হিসেবে এই বিশাল অর্থ পরিশোধ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলার মূল অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপল তাদের বিজ্ঞাপনে নিজস্ব ভার্চুয়াল সহকারী ‘সিরি’র যেসব আকর্ষণীয় এআই সক্ষমতার প্রচার চালিয়েছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার অনেক ফিচারই সচল বা উপস্থিত ছিল না। ফলে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক আইফোন কিনতে উৎসাহিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী ও নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন ভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নির্দিষ্ট ও যোগ্য গ্রাহকেরা নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের ক্ষতির সপক্ষে দাবি পেশ করার পাশাপাশি ইচ্ছে করলে মামলার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই নিষ্পত্তির আওতায় কেবল তারাই আসবেন, যারা ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মডেলের হ্যান্ডসেট কিনেছেন। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে গ্রাহককে উক্ত আইফোনের প্রথম বা মূল ক্রেতা হতে হবে এবং ডিভাইসটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেনা হতে হবে।

শর্তপূরণকারী যোগ্য গ্রাহকেরা ফোনপ্রতি সর্বনিম্ন ২৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন। তবে গ্রাহকভেদে প্রাপ্ত অর্থ বাবদ চূড়ান্ত অঙ্ক কত দাঁড়াবে, তা মোট কতজন গ্রাহক সঠিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের তথ্য মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমাদান শেষে সম্পূর্ণ চুক্তিটি আইনিভাবে পরিমিত ও পর্যাপ্ত কি না তা খতিয়ে দেখতে আগামী ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ


সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২১:৫৩:১২
সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
ছবি : সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রাতের আকাশে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একগুচ্ছ মহাজাগতিক সৌন্দর্য। ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাতের আকাশে শনি গ্রহকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার দারুণ সুযোগ থাকছে। এর পাশাপাশি খালি চোখ ও টেলিস্কোপের সাহায্যে দৃশ্যমান হবে শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহ, শরৎকালীন বিশেষ নক্ষত্রমণ্ডল এবং আমাদের নিকটবর্তী অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি। এছাড়া মাসের শেষভাগে ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার আকাশে উদিত হবে বহুল পরিচিত ‘হারভেস্ট মুন’ বা শরৎকালীন পূর্ণিমার চাঁদ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সেপ্টেম্বর মাস শনি গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য বছরের অন্যতম সেরা সময়। আগামী ৪ অক্টোবরের দিকে গ্রহটি সূর্যের বিপরীত অবস্থানে (অপজিশন) পৌঁছাবে বিধায় সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকেই সূর্যাস্তের পর থেকে শনি আকাশে ক্রমশ উঁচুতে উঠবে এবং পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল অবস্থানে থাকবে। খালি চোখে এটিকে উজ্জ্বল হলুদ বিন্দুর মতো মনে হলেও সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ দিয়েই এর চমৎকার বলয় এবং বৃহত্তম উপগ্রহ ‘টাইটান’ অবলোকন করা সম্ভব হবে।

এই পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে হতে যাওয়া পূর্ণিমা, যা শরৎ বিষুবের নিকটবর্তী হওয়ায় ‘হারভেস্ট মুন’ নামে খ্যাত। দিগন্তের কাছাকাছি থাকার সময় বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবে চাঁদটি সোনালি বা হালকা কমলা আভায় চমৎকার রূপ ধারণ করবে। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা একেবারেই সঠিক নয়; কারণ ২০২৬ সালের আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি ২৭-২৮ আগস্ট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান ছিল না। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদ প্রথম চতুর্থাংশ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে শরৎ বিষুব, যেদিন দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে রাতের ব্যাপ্তি বাড়তে শুরু করবে।

গ্রহগুলোর মধ্যে সূর্যাস্তের পরপরই পশ্চিম আকাশে ‘সন্ধ্যাতারা’ হিসেবে জ্বলজ্বল করবে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ। অন্যদিকে গভীর রাত ও ভোরের আকাশে পূর্ব দিগন্তে স্পষ্টভাবে দেখা মিলবে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির।

সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে নজরকাড়া পেগাসাসসহ শরৎকালীন বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে। পেগাসাসের কাছাকাছি অবস্থিত আমাদের নিকটতম অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের জন্যও সেপ্টেম্বর অত্যন্ত প্রশস্ত সময়। শহরের কৃত্রিম আলোকদূষণমুক্ত যেকোনো খোলা ও অন্ধকার স্থান থেকে বাইনোকুলার কিংবা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম


শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২১:৪১:০৩
শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক চোখ আটকে রাখার অভ্যাস থেকে ব্যবহারকারীদের বের করে এনে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ধরন বদলে দিতে নতুন এক বিপ্লবী হার্ডওয়্যার গ্যাজেট তৈরির দিকে এগোচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুল আলোচিত এই নতুন ডিভাইসের সক্ষমতা বাড়াতে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ক্যামেরা প্রযুক্তির স্টার্টআপ ‘গ্লাস ইমেজিং’কে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যে অধিগ্রহণ করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। শিল্প বিশ্লেষকদের জোরালো ধারণা, স্টার্টআপটির উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি ওপেনএআইয়ের ভবিষ্যৎ এআই হার্ডওয়্যারে সরাসরি ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে।

‘গ্লাস ইমেজিং’ প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মী জিভ আত্তার ও টম বিশপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের উদ্ভাবিত ‘নিউরাল ইমেজ সিগনাল প্রসেসিং’ এআই সফটওয়্যার ক্যামেরার সাধারণ কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি লেন্স ও সেন্সরের প্রথাগত হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা দূর করে ছবির নয়েজ ও ব্লার বা ঝাপসা ভাব কার্যকরভাবে কমিয়ে আনে এবং প্রতিকূল বা স্বল্প আলোতেও ছবির জুমের মান ও সামগ্রিক আউটপুট বহুগুণ নিখুঁত করে তোলে। ওপেনএআইয়ের এই অধিগ্রহণ তাদের রহস্যময় হার্ডওয়্যার ডিভাইস নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

অ্যাপলের কিংবদন্তি সাবেক প্রধান ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ওপেনএআইয়ের নতুন এআই ডিভাইস তৈরির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী বছর সম্ভাব্য বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গ্যাজেটটিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ‘বিশ্বের এ পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে চমৎকার প্রযুক্তির নিদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। জনি আইভ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ডিভাইসটি স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করবে।

অভ্যন্তরীণ এক কর্মী সভার সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো স্মার্টওয়াচ বা পোশাকে লাগানোর ক্লিপের মতো পরিধানযোগ্য পণ্য নয়; বরং এটি ডেস্কের ওপর রাখা কিংবা পকেটে বহন করার মতো একটি কমপ্যাক্ট ডিভাইস হতে পারে, যা ব্যবহারকারীর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে সবসময় ‘সম্পূর্ণ সচেতন’ থাকবে। অল্টম্যানের আশা, যুগান্তকারী এই গ্যাজেট ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করতে বড় ভূমিকা রাখবে; তবে এর চূড়ান্ত রূপরেখা, নাম বা উন্মোচনের সঠিক সময় এখনও গোপনই রয়ে গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: