Banner

কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? এই একটি ফলেই মিলবে সহজ সমাধান

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৮ ২০:০৬:৪৯
কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? এই একটি ফলেই মিলবে সহজ সমাধান
ছবিঃ সংগৃহীত

যারা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা একটি ঘরোয়া ও অত্যন্ত কার্যকরী সমাধানের খোঁজ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, মূলত হজমপ্রক্রিয়ায় গোলযোগ দেখা দিলেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধে। তবে শুধু হজমই নয়, জিনগত কারণেও অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এর পাশাপাশি অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। তবে আশার কথা হলো, একটি বিশেষ ফল নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে এই কঠিন সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ব্রিটিশ ডায়েটেটিক অ্যাসোসিয়েশন বা বিডিএ সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ৭৫টিরও বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিউই ফল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই ফলে প্রাকৃতিকভাবে এমন কিছু খনিজ উপাদান রয়েছে যা পেটের সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে। কিউই ফলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়—উভয় ধরনের ফাইবারই প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা হজমশক্তির উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কিউই ফলে 'অ্যাক্টিনিডিন' নামের এক ধরনের কার্যকরী পাচক এনজাইম থাকে। এই এনজাইমটি খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে, যার ফলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিকর অনুভূতি কমে যায়। ফলের মধ্যে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং দ্রবণীয় ফাইবার মলকে নরম করতে সাহায্য করে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নিরাময় হয়। এছাড়া অ্যাক্টিনিডিন এনজাইমটি প্রোটিন হজমেও সহায়তা করে, যা অন্ত্রের ওপর চাপ কমায় এবং অন্ত্রকে দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিকভাবেই কিউই একটি জলীয় বা রসালো ফল। এই জলীয় বৈশিষ্ট্য মলকে নরম রাখতে এবং সহজে শরীর থেকে নির্গমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ার পরেও এই ফলে শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাই যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তারাও নিশ্চিন্তে এই ফল খেতে পারেন। এটি খেলে রক্তে হঠাৎ করে সুগার বেড়ে যাওয়ার বা সুগার স্পাইক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন, তারা টানা সাত দিন নিয়মিত ২ থেকে ৩টি করে কিউই ফল খেয়ে দেখতে পারেন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই শরীরের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো চোখে পড়বে।


পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৫:৩০:৫৫
পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ছবি: সংগৃহীত

পেটের আলসার এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে সৃষ্ট একটি বেদনাদায়ক ক্ষত, যা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে গভীরতর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরে রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

পাকস্থলীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিপাক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন সরাসরি টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। এর ফলেই পাকস্থলীতে তৈরি হয় খোলা ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার বলা হয়।

পেটের আলসার কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক

পেটের আলসার পেপটিক আলসারের একটি ধরন। এই শ্রেণির আলসারের মধ্যে খাদ্যনালীর আলসার ও ডুওডেনাল আলসারও অন্তর্ভুক্ত। পাকস্থলীর আস্তরণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষত বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলসার গভীর হলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা রক্তাল্পতা বা হঠাৎ গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

পেটের আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের মাঝখানে বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কুঁচকানো অনুভূতির মতো হয় এবং খাবার খেলে সাময়িকভাবে কমে আসে। আবার খালি পেটে বা গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়াও আলসারের একটি পরিচিত লক্ষণ।

এর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও সার্বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে মাথা ঘোরা, অবসাদ ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।

পেটের আলসারের প্রধান কারণ কী

একসময় ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ, ঝাল খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনই পেটের আলসারের প্রধান কারণ। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পেছনে দুটি প্রধান জৈবিক কারণ দায়ী।

প্রথমত, এইচ পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু পাচনতন্ত্রে বাস করে এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহই আলসারের রূপ নেয়।

দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেনের মতো NSAID দীর্ঘদিন সেবনে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনজনিত রোগ, গুরুতর শারীরিক চাপ, বড় অস্ত্রোপচার বা সংক্রমণের পরও পেটের আলসার দেখা দিতে পারে।

কীভাবে পেটের আলসার নির্ণয় করা হয়

পেটের আলসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, ব্যথার ধরন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এরপর রক্ত পরীক্ষা করে রক্তাল্পতা বা সংক্রমণের লক্ষণ খোঁজা হয়।

এইচ পাইলোরি শনাক্তের জন্য শ্বাস, রক্ত বা মলের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলীর ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে ক্ষত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক হলে বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিও যাচাই করা হয়।

পেটের আলসারের চিকিৎসা কীভাবে হয়

পেটের আলসারের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো অ্যাসিডের ক্ষয় কমানো এবং পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করা। এজন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড উৎপাদন কমায়।

যদি এইচ পাইলোরি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের ক্যাফিন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মশলাদার ও অ্যাসিডিক খাবার এড়াতে বলা হয়।

ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ নিকোটিন আলসার নিরাময়কে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যথানাশক হিসেবে NSAID এড়িয়ে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়।

গুরুতর অবস্থায় কী হতে পারে

যদি আলসার থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা পাকস্থলীতে ছিদ্র তৈরি হয়, তাহলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে রক্তপাত বন্ধ করা বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি হলে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সহজপাচ্য ও কম অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক।

ধ্যান, শ্বাস ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সাময়িকভাবে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

পেটের ব্যথা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র থাকে, বমিতে বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, হঠাৎ অসহ্য ব্যথা শুরু হয় কিংবা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

প্রতিরোধই সবচেয়ে নিরাপদ পথ

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার, ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন না খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পেটের আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পেটের আলসার একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলাযোগ্য নয় এমন রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ২১:৪৪:৫১
স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক এখন একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নিউরোলজিস্টদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই মানুষের শরীর কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্ক সংকেত দেয়। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ করে শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিনি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যেতে পারে এবং হাসতে গেলে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এছাড়া কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বা শব্দ খুঁজে না পাওয়া এবং অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ইঙ্গিত। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা, যার কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, সেটিও হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ। এর পাশাপাশি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারেন, যা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধূমপান বর্জন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের দেওয়া এই ছোট ছোট সিগন্যালগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান’; তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।


মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৯:১৫:২৯
মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আগে মনে করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, তবে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চললে মাত্র এক মাসেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, সুষম আহার নিশ্চিত করতে হবে। দৈনন্দিন তালিকায় ওটস বা লাল চালের মতো গোটা শস্য, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল যেমন—আপেল, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপে রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

তৃতীয়ত, নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো একটানা ৩০ দিন মেনে চললে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৮ ১১:৫৪:৩৩
কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?
ছবি : সংগৃহীত

শীতের মৌসুমে সাধারণ সর্দি-কাশির আড়ালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিডনির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে রক্তসঞ্চালন ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ভারতের বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ডা. আদিত্য নায়ক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শীতে মানুষের কম পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার প্রবণতা মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হতে পারে।

২০২৩ সালে ‘বিএমসি নেফ্রোলজি’ সাময়িকায় প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে কিডনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা কম, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এছাড়া শীতকালে নিউমোনিয়ার মতো বক্ষসংক্রমণও বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষকদের মতে, পানিশূন্যতা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শীতকালে ‘আকস্মিক কিডনি বিকল’ বা ‘একিউট কিডনি ইনজুরি’র প্রধান কারণ।

কিডনি সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। শরীর গরম রাখতে স্তরে স্তরে পোশাক পরার পাশাপাশি তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সুষম খাদ্য হিসেবে ফল ও সবজি গ্রহণ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যারা আগে থেকেই কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে আগাম টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আদিত্য নায়ক। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা কিডনি সুরক্ষায় অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। শীতকালে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে হাড়কাঁপানো শীতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটিকে নিরাপদ রাখতে।


স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ২১:৫৪:১৫
স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক যুগের ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী। তবে এই চাপ যখন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন তা কেবল মনের ওপর নয়, সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর মরণ কামড় বসায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই হরমোনের আধিক্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ধমনীতে চর্বি জমায় এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক অনটন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মানসিক অস্থিরতা সরাসরি হৃদস্পন্দনকে অনিয়মিত করে তোলে এবং হৃদপিণ্ডের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো আগাম উপসর্গ ছাড়াই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এক ধরনের 'সাইলেন্ট কিলার' বা নীরব ঘাতক বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড গ্রহণ এবং কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে হবে। যদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই পারে আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘকাল সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে।


অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ১২:১৭:০৫
অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি শুরুতে কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না, কিন্তু যখন পাথর পিত্তনালিতে আটকে যায়, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা, বমি এবং বদহজম। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাসই লিভারে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমিয়ে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ম্যানিপাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. অনিকেত পায়াগুডে সতর্ক করেছেন যে ৫টি অভ্যাস পিত্তথলির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

প্রথমত, নিয়মিত সময় মেনে খাবার না খাওয়া পিত্তথলির বড় শত্রু। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পিত্ত জমে ঘন হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই কোলেস্টেরল জমে পাথর তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার পিত্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা স্থূলতা ও গলস্টোনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া দ্রুত ওজন কমানোর জন্য 'ক্র্যাশ ডায়েট' করলে লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসরণ করে, যা পিত্তথলির ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। সবশেষে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের অভাব হজম প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে সব ধরনের গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে যদি পিত্তথলিতে সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে 'ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি' বা আধুনিক ফুটো করে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। জটিল ক্ষেত্রে অনেক সময় ওপেন সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের পেটব্যথা বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়।

পিত্তথলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল এবং হোলগ্রেন খাবার পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনিও এড়িয়ে যেতে পারেন পিত্তথলিতে পাথরের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৫ ১১:১৮:২৯
শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়
ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের প্রখর রোদে আমরা চোখের সুরক্ষায় সচেতন থাকলেও শীতকালে বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে বছরের এই সময়ে চোখের স্বাস্থ্যঝুঁকি গ্রীষ্মের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো শীতের শুষ্ক বাতাস এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বায়ুদূষণ। বাতাসে ভেসে থাকা বিষাক্ত ধূলিকণা আর ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরাসরি চোখের সংস্পর্শে এসে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শহর ও শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়াশা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে যার ফলে চোখের কর্নিয়ায় সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এই ক্ষতস্থানে ধূলিকণা বা জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কর্নিয়ার আলসার’ বলা হয়।

কর্নিয়া হলো আমাদের চোখের আলোক প্রবেশের স্বচ্ছ লেন্স বা প্রবেশদ্বার। কর্নিয়ার আলসারকে একটি ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ এটি চোখের স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সংক্রমণের ফলে কর্নিয়ায় যে সাদাটে দাগ তৈরি হয় তা আলোক রশ্মি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ঝাপসা করে দেয়। সংক্রমণের মাত্রা গভীর হলে কর্নিয়া ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা চোখের অভ্যন্তরীণ অংশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে ছত্রাক বা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এতটাই দ্রুত ছড়ায় যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে চোখ বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কর্নিয়ার আলসারের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ প্রচণ্ড লাল হয়ে যাওয়া এবং অনবরত পানি পড়া। এর পাশাপাশি চোখে তীব্র ব্যথা বা খচখচানি ভাব অনুভব করা এবং আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হওয়া অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় চোখের মণির ওপর স্পষ্ট সাদা দাগ লক্ষ্য করা যায় যা সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করেন কিংবা ধুলোবালির মধ্যে বেশি যাতায়াত করেন তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা প্রোটেক্টিভ চশমা ব্যবহার করা উচিত যা সরাসরি বাতাস ও ধূলিকণা থেকে চোখকে রক্ষা করবে। চোখে বারবার হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি প্রতিদিন পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যদি চোখে কোনো ধরণের অস্বস্তি বা লাল ভাব দেখা দেয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। সামান্য সচেতনতাই পারে শীতের এই বৈরি পরিবেশে আপনার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখতে।


পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৪ ২১:৩৯:৩৪
পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতিকর মনে করি না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অভ্যাসগুলোই নীরবে আমাদের পাকস্থলীর অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় পাকস্থলীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তিনটি ‘গাট টক্সিন’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে ধূমপান, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার এবং নিয়মিত মদ্যপান—এই তিনটি অভ্যাসই গ্যাস্ট্রাইটিস ও রক্তক্ষরণজনিত আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ডা. সালহাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ধূমপান বা ভেপিং কেবল ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না বরং এটি সরাসরি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে আঘাত হানে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক উপাদান পাকস্থলীর নরম আস্তরণে ক্ষত সৃষ্টি করে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ ও তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণ হয়। এছাড়া নিকোটিনের প্রভাবে পাকস্থলীতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ কমে যায় যার ফলে কোনো ক্ষত তৈরি হলে তা সহজে সারতে চায় না। এটি ক্রমান্বয়ে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।

অনেকেই সামান্য শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসএআইডিএস (NSAIDs) গ্রহণ করেন। ডা. সালহাব জানান যে এই ধরণের ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীর আস্তরণে তীব্র জ্বালা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে পেপটিক আলসারের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা প্রাণঘাতী হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতির পাশাপাশি পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যালকোহল গ্যাস্ট্রাইটিস’ বলা হয়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বমি ও বুকজ্বালার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

পাকস্থলী ও হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ডা. সালহাব কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ বর্জন করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরণের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। পেটের কোনো সমস্যা বা আলসারের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। ছোট কিছু সচেতন সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে আপনার পাকস্থলীকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে পারে।


ঠোঁট ফাটা কেবল শীতের দোষ নয় বরং আসল অপরাধী অন্য কেউ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ২০:৫৪:১৪
ঠোঁট ফাটা কেবল শীতের দোষ নয় বরং আসল অপরাধী অন্য কেউ
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমনে প্রকৃতির রুক্ষতার প্রথম প্রভাব পড়ে মানুষের ঠোঁটের ওপর। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে গায়ের চামড়ার পাশাপাশি অনেকের ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ একে কেবল ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ঠোঁট ফাটার নেপথ্যে কেবল আবহাওয়া নয় বরং শরীরে বিশেষ একটি পুষ্টি উপাদানের অভাব বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিনের ঘাটতি থাকলে শীতের প্রকোপ ছাড়াও সারা বছর ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে থাকতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অন্য যেকোনো ঋতুর তুলনায় অনেক কম থাকে যার ফলে আমাদের শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ কমে যায়। এর ফলে ত্বকের গভীরে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে যে তৈলাক্ত পদার্থ বা সিবাম নির্গত হয় তা পুরো ত্বকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। লুব্রিকেন্টের এই অভাবের কারণেই ত্বক কুঁচকে যায় এবং ঠোঁটের সূক্ষ্ম চামড়া ফাটতে শুরু করে। তবে যাদের শরীরে ভিটামিন বি২ পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ভিটামিনের অভাবে কেবল ঠোঁট ফাটা নয় বরং মুখে আলসার বা ঘায়ের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন বি২ মূলত ত্বকের কোষ পুনর্গঠন এবং এর নমনীয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই চিকিৎসকদের মতে কেবল বাহ্যিক প্রসাধনী ব্যবহার করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঠোঁটের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সবার আগে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি২ যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, সবুজ শাকসবজি এবং কলিজার মতো খাবারগুলো এই ভিটামিনের চমৎকার উৎস। এছাড়া শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি কারণ অভ্যন্তরীণ পানিশূন্যতা ঠোঁট ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ।

ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক স্ক্রাব ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারবার হলুদ এবং মধুর মিশ্রণ দিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করলে মৃত কোষ দূর হয়ে ঠোঁট সজীব হয়ে ওঠে। বাজারে থাকা রাসায়নিকযুক্ত লিপবামের বদলে খাঁটি নারিকেল তেল বা অর্গানিক লিপবাম ব্যবহার করা অধিকতর নিরাপদ। চিকিৎসকদের মতে শীতের শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পরিচর্যার দিকে নজর দিলে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হওয়া বা ব্যথার মতো কষ্টদায়ক পরিস্থিতি অনায়াসেই এড়ানো সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত

হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম

হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম

দেশীয় স্বর্ণবাজারে আবারও দরপতনের খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের ধারাবাহিক প্রভাবে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত