অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১০:৫১:৪০
অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু আপসহীন থাকার এক সাহসী ও জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবো। আমরা মুখ বন্ধ করবো না।"

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদিও তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন, কিন্তু নির্বাচনী মাঠে তাঁর লড়াই ও মন্তব্য ছিল আলোচনার তুঙ্গে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনের সময় আমার কাছে অনেক ক্রিমিনাল (অপরাধী) এসেছে, বলেছে—আমাদের সঙ্গে ডিল করো। অনেক ব্যবসায়ী এসেছে, বলেছে—তাদের সঙ্গে ডিল করতে। এমনকি প্রশাসনের লোকজন এসে বলেছে—তুমি মুখ বন্ধ করো, আমরা তোমাকে জিতিয়ে দেবো। কিন্তু আমি কারও সঙ্গেই কোনো আপস করিনি।"

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে এক অভিনব উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, "যেসব লোক সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করে আমরা রমজানে তাদের কাছে হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো।" একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের প্রহরী হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "আপনারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হয়ে যাবেন।"

ভবিষ্যতে ভোট চুরির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, "ভবিষ্যতে যদি কেউ ঢাকা-৮ আসনে ভোট চুরি করতে আসে, সে যদি কারও ওয়াইফ (স্ত্রী) কিংবা ভাতিজাও হয়, আমরা তার হাত-পা ভেঙে দেবো। এটা শহীদ ওসমান হাদির আসন, আমরা তার স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিছক ক্ষমতা বা নির্বাচন তাঁদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পাটওয়ারী বলেন, "নির্বাচন আমাদের মূল টার্গেট না। আমাদের টার্গেট সিস্টেম পরিবর্তন। আমরা সেই সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো।"

/আশিক


দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:০৫:২০
দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর 'নেতা' হিসেবে মানতে রাজি নয় দলটি। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামান জামায়াতের কোনো নেতা নন, তিনি কেবল একজন সহযোগী সদস্য। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দলটির সহযোগী সদস্য পদ পাওয়ার জন্য প্রাথমিক ফরম পূরণ করেছিলেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উপস্থাপিত ১৩ দফা দাবি অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলে ধরেন যে, একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের আপত্তির মুখেই মূলত সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ওপর জুলুম-অত্যাচার চালানো হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও একসময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সারা দেশে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং বিএনপি ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথই বেছে নিয়েছে।

জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। দেশে অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণেই সামগ্রিক অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং সরকার সংবিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্যগণ ছাড়াও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৫২:০৬
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের কারণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, একজন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং দরকার হলে অদক্ষ ও ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার নৈতিক অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও সরকার বিমানবন্দরের ওই সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র বানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে এবং রিমান্ডে এনে মূলত নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ চরিতার্থ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সমাবেশে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা গোপন দল হিসেবে আখ্যায়িত করার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে নিয়ে কটু মন্তব্য করার আগে বিএনপির উচিত আয়নায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ভালোভাবে দেখে নেওয়া।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং বর্তমান সরকারের সঙ্গেই আওয়ামী লীগের গোপন সখ্য ও তলে-তলে যোগাযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগ নিয়েই রাজপথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার সাহস পাচ্ছে। তবে পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখতে এবং জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সরকার যদি সদয় পদক্ষেপ নেয়, তবে বিরোধী দলগুলো সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

/আশিক


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:০১:২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, মোট সম্পদের পরিমাণ এবং সেই সম্পদের প্রকৃত উৎস নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের অর্জিত সম্পদের স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচকদের ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি এমপি-মন্ত্রীসহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবও নিয়মিত রাষ্ট্রীয় তদারকির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ৮৫ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে চাকরি ত্যাগ করা সালাহউদ্দিন আহমেদের বেতন-ভাতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু বিসিএস ক্যাডার থেকে রাজনীতিতে এসে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কীভাবে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্স’-এ ফ্ল্যাট ও একাধিক সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—তা নিয়ে তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই দম্পতির ঘোষিত সম্পদ ৬.৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর পেছনের বৈধ উৎসেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের দায়ের করা ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সালাহউদ্দিন আহমেদের সাজা হওয়া এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খালাস পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনে বিএফইউআইসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার না করে, এমপি-মন্ত্রীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাঁর নিজের হিসাব তলবের মধ্য দিয়েই এই প্রক্রিয়ার সূচনা করার চ্যালেঞ্জ জানান।

/আশিক


বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:০৪:৫৫
বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পুরোনো ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের সঙ্গে অসদাচরণ, সরকারি কাজে বাধাদান এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের ব্যাগেজ বেল্টে চাপ ও ট্রলি সংকট তৈরি হলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে ধেয়ে যান, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। একই সময়ে তাঁর প্রটোকল সহকারীরা সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাধা দিলে তাঁকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন ও বিমান কর্মকর্তাদের প্রতি মারমুখী আচরণ করে বিমানবন্দরে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনায় আজ সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় সরকারি কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক এই রাজনীতিকের অতীত ক্যারিয়ারও নানা বিতর্কে ভরা। তিনি এর আগে তাঁর সাবেক দল বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের দায়ে মোট ৫ বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। উস্কানিমূলক আচরণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

/আশিক


উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২১:২০:৫৪
উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে সাম্প্রতিক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান পরবর্তী এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো একাধিক সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ফলে এত বড় একটি সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা হলে জনস্বার্থ ও সরকারি শৃঙ্খলা—উভয় রক্ষা করে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান বের করা সম্ভব হতো। ভবিষ্যতে যেকোনো জনকল্যাণমুখী উচ্ছেদ বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে।

মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত মূলত যানবাহন এবং পথচারীদের অবাধ চলাচলের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়। তবে জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাতে বসছেন এবং প্রতিনিয়ত নানা স্তরে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। তাই হুট করে সরিয়ে দেওয়ার বদলে তাঁদের জন্য স্বস্তিদায়ক বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি, যেন সিটি করপোরেশনও নিয়মমাফিক রাজস্ব পায় এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।

অভিযান চলাকালে সরকারি যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তির নয়, বরং জনগণের করের টাকায় তৈরি। এসব ধ্বংস করলে জাতীয় ক্ষতি হয়। উচ্ছেদ চলাকালে অসাবধানতাবশত তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে স্থানীয় মসজিদের গোডাউনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকারের সুনজরের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনকে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।

/আশিক


জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:০৭:১৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূল দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কাক্সিক্ষত গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা আনতে সারজিস আলমকে প্রধান করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট এক শক্তিশালী বিশেষ সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত সারজিস আলম বর্তমানে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বও পালন করছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ৫ ঘণ্টা ব্যাপ্তির এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই নতুন রূপরেখা ও উপ-কমিটি গঠন অনুমোদন লাভ করে। এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও মনিটরিংয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত দক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উপ-কমিটির নকশা তৈরি করা হয়েছে। কমিটির নতুন কাঠামোগত বিন্যাস অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজনকে উপ-প্রধানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে সার্বিক রাজনৈতিক সংযোগ ও তৃণমূল শক্ত ভিত গঠনে সুবিধার জন্য দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে এই বিশেষ উপ-কমিটির অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

/আশিক


জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ২১:৫১:৪০
জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন এবং স্টুডিও ভাঙচুরের পেছনের প্রকৃত ভূ-সম্পত্তি বিরোধের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান যে, সংশ্লিষ্ট জমির ভেতরে 'নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড'-এর সাথে একাধিক সাবেক সরকারি কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের মালিকানানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের ২৩ কাঠা জমির মধ্যে ৮ কাঠা জমি অতীতে নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে দখল করেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের বিতর্কিত মালিক ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নাজিম উদ্দীন, যিনি জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ইতিপূর্বে জেল খেটেছেন।

অতিসম্প্রতি এই বিতর্কিত ভবনের ৫ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা ভাড়া নিয়ে নিজের ক্রিয়েটিভ স্টুডিও চালু করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। তবে জমির ওপর অন্য মালিকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ভবনের মালিক নাজিম উদ্দীন ৩টি নতুন গেট নির্মাণ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা লোকজন ভাড়া করে সেই গেট ভাঙতে যান। সেই সশস্ত্র তাণ্ডবের মাঝেই ভুলবশত ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সালমান মুক্তাদিরের মূল্যবান স্টুডিও সরঞ্জাম ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী স্পষ্ট করেন যে, এই জবরদখল বা পাল্টা পেশিশক্তির মহড়ার সঙ্গে বিএনপি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট কোনো সম্পর্ক ছিল না। সম্পূর্ণ ঘটনা না জেনে সালমান মুক্তাদির কর্তৃক ‘চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি স্টুডিও ভেঙেছে’—মর্মে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেন যে, সালমান এখন সত্য ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের অন্যতম যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতিতে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসী বা নির্দেশদাতাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী অপরাধিরা উপযুক্ত বিচার পাবে।

/আশিক


বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২১:৪৫:২৭
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখালের ঐতিহাসিক সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ঢাকা-৬ আসন বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর ঘোষণা দেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যা, গুম এবং রক্তক্ষয়ী খুনের সাথে জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই রাজনৈতিক বা আইনি ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের গণহত্যাকারী ও তাদের সহযোগীদের যে কোনো মূল্যে বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতার পর দেশে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের নজির সৃষ্টিকারী এই শক্তিকে বাংলার মাটিতে আর রাজনৈতিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে জনগণের যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা রাজপথে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের সাথে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তির আওতায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে তাঁর প্রাপ্য সাজা ভোগ করবেন অথবা আইনি বিধান অনুযায়ী চাইলে আপিল করবেন। দূর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেবল রাজনৈতিক আওয়াজ বা হুঙ্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণমানুষের সাময়িক কষ্টের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাংলাদেশ থেকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপরি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ জ্বালানি পাচার বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে সরকার অত্যন্ত নাচার হয়ে তেলের দামে কিছুটা সমন্বয় করেছে। জনগণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জনগণের কষ্টের বিষয়ে গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং সংবেদনশীল।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাস অতিক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন স্থান অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা নেই, তবে দেশের সাধারণ জনগণ কখনোই স্বাধীনতাবিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাবে না। ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।

/আশিক


আট মাসের বিএনপি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:২৮:৫৯
আট মাসের বিএনপি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিকল্পিত সহিংসতার প্রতিবাদ ও দেশব্যাপী নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রধান শত্রু হলো সন্ত্রাসী, অগ্নিসংযোগকারী ও বোমাবাজরা। তিনি সবাইকে সার্বক্ষণিক সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাসে অগ্নিসংযোগসহ পরিকল্পিত সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে একটি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাওয়া বিদেশি ফোন নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে, যা থেকে ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।

রিজভী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন, ঠিক তখনই দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার কখনোই সাধারণ মানুষকে কষ্টে রাখতে চায় না। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে ধৈর্য্য ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে। জ্বালানি বহনে সক্ষম জাহাজ আসা শুরু হলে শিগগিরই মূল্য পুনরায় সমন্বয় করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিগত আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন, দুর্নীতি ও নৈরাজ্য দেশের মানুষ দেখেছে। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দলটি এখন দেশের বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করছে, আর ভেতরে থাকা আরেকটি অপশক্তি তাদের ইন্ধন দিচ্ছে। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করে বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যখন দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তখন আট মাস বয়সী নতুন এই সরকারকে বিপদে ফেলতে দেশের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিমভাবে বাসে আগুন ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত ১৭ বছর ধরে চড়াই-উতরাই ও গুম-খুনের শিকার হয়েও জাতীয়তাবাদী শক্তি জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং দেশ রক্ষায় কখনো পিছপা হয়নি।

সমাবেশের সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, রাজপথে রাজনৈতিক ফ্যাসিস্টদের পাশাপাশি যেসকল তথাকথিত 'সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট' নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তারা যেন ১৯৮৬ বা ১৯৯৬ সালের মতো নিষিদ্ধ আওয়ামী শক্তিকে সুবিধা দেওয়ার মতো ভূমিকায় অবতীর্ণ না হন; অন্যথায় দেশের ছাত্র-জনতা তাদের রাজপথেই জবাব দেবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: