সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদার পর্যায়ে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করেন।
রবিউল আলম আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে (টাকা তোলে)। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু, এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ, তারা সমঝোতা ভিত্তিতে এটা করছে। তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব জায়গা আছে সেখানে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা নেবে বা সুবিধা নেবে সে সুযোগ নেই। কিন্তু মালিকরা যদি সমঝোতার ভিত্তিতে সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখব যে, সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না।
এরপর সড়কে যানজটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের ওপরই অনেক জায়গায় বাজার বসে গেছে। সেখানে যানজট হচ্ছে। এগুলোকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার বিষয়ে রবিউল আলম বলেন, ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে একটা সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব। পাশাপাশি নতুন করে আর কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে ভোগান্তি কমবে, সেটা ঠিক করা হবে।
আশা করছি, আপনাদের নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে আমরা সক্ষম হব। তবে, ছুটির ব্যাপারটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রেও কোনো কিছু করা যায় কি না, আরও ৫-৭-১০ দিন গেলে আমরা বিস্তারিতভাবে বলতে পারব।
/আশিক
পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঈদুল ফিতরের পর এ কাজের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ আমরা দিকনির্দেশনা দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ চলবে এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এই সময়ে ‘বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ’, ‘উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস’, এবং ‘শিক্ষকদের ট্যাব প্রদান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন’ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। এই ধাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্মতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। এটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক এবং পরিমাপযোগ্য সূচকসহ প্রণীত হবে।
তৃতীয় ধাপটি হবে ১২ থেকে ৩৬ মাসের, অর্থাৎ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। এই ধাপে পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া কারিগরি, সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষায় সেতুবন্ধন (ব্রিজিং) করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী (ইনোভেশন) গ্র্যান্ট বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
/আশিক
জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাস্ট্রব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।
তিনি বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সবার সহযোগিতার মাধ্যমে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে যেন জনগণের কাছে যেতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয় এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সর্বোপরি, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানরা। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। তিন বাহিনীর প্রধানরা নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সচিবালয়ে গেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এদিন তিনি ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেবেন। সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার।
এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশ গঠনে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তারেক রহমান। উল্লেখ্য যে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল, যা এখন আবার সচিবালয়ে ফিরে এল।
তারও আগে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে ওই রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের দপ্তর বণ্টন করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন এই সরকারের যাত্রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।
/আশিক
তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে হবে। এই শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন। প্রশাসনিক স্তরক্রম বা প্রটোকল ভেঙে এমন আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, মন্ত্রী বাহিনীর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না এবং দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে। বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গত ১৭ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও জানান যে, তিনি পেছনে তাকাতে চান না; বরং কাজের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে চান।
জননিরাপত্তার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। অতি প্রয়োজনে রাস্তার অন্তত একটি লেন সচল রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ ছাড়াও ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বের শুরুতেই মন্ত্রীর এমন কঠোর ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে হবে। এই শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন। প্রশাসনিক স্তরক্রম বা প্রটোকল ভেঙে এমন আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, মন্ত্রী বাহিনীর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না এবং দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে। বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গত ১৭ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও জানান যে, তিনি পেছনে তাকাতে চান না; বরং কাজের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে চান।
জননিরাপত্তার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। অতি প্রয়োজনে রাস্তার অন্তত একটি লেন সচল রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ ছাড়াও ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বের শুরুতেই মন্ত্রীর এমন কঠোর ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
মাফিয়া সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বিরাশি বছর পর দেশের এক ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিলেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এই ভাষণে তিনি নতুন সরকারের রোডম্যাপ এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণের মূল সুর ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং জনদুর্ভোগ লাঘব। তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা জোর-জবরদস্তি নয়, বরং বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মেই চলবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি স্বনির্ভর ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে দেশে মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমি নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি সরকার অনাচার ও অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর এবং ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবার স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বদা সজাগ থাকবে।
পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাসটিকে যেন অধিক মুনাফা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি তিনি ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কৃচ্ছতা সাধনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা প্লট নেবেন না। এছাড়া যানজট নিরসনে ঢাকাকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমাতে সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর এক মহাপরিকল্পনার কথা তিনি দেশবাসীকে জানান।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আশার বাণী শুনিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। নিজের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা ও জনগণের রায়কে পাথেয় করে তিনি দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছেন। পরিশেষে, ভোট দেওয়া বা না দেওয়া নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। ‘দল যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
নিজের জ্বালানি ও নিজের চালক: রাষ্ট্রীয় সুবিধায় তারেক রহমানের না
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও বিলাসিতা পরিহার করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা এড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব সাদা টয়োটা গাড়ি, ব্যক্তিগত চালক এবং নিজের অর্থে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে দাপ্তরিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি বুধবার সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সচিবালয়ে প্রথম অফিস করতে যাওয়ার সময়ও তিনি এই ব্যক্তিগত গাড়িটিই ব্যবহার করেছেন।
সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িবহরের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে কমিয়ে এনেছেন। আগে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় সাধারণত ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ির বহর থাকত, যা এখন কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করছেন না। তবে বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কিংবা বিদেশি অতিথিদের সফরের মতো প্রটোকল মেনে চলার প্রয়োজনে পতাকা ব্যবহারের নিয়ম রাখা হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার যে দীর্ঘদিনের প্রথা বা বিধান ছিল, তাও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থান নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে বারবার যাতায়াত করতে হবে না, যা ভিআইপি মুভমেন্টের কারণে সৃষ্ট যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে। দায়িত্বের প্রথম দিনেই গুলশানের বাসা থেকে নিজস্ব গাড়িতে যাত্রা শুরু করে সাভার ও শেরেবাংলা নগরের কর্মসূচি শেষ করে সরাসরি সচিবালয়ে পৌঁছান তিনি। ব্যক্তিগত ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এমন নজির নতুন সরকারের জনমুখী রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
/আশিক
রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: বাংলাদেশে কাল থেকে রোজা শুরু
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের পবিত্র মাহে রমজান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এশার নামাজের পর থেকেই দেশের সব মসজিদে শুরু হবে পবিত্র তারাবির নামাজ এবং আজ দিবাগত শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে সিয়াম সাধনা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য দীর্ঘ এক মাসের এই সংযম ও ত্যাগের মাসটি বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এসেছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়ার পর কমিটির পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রজব মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের যে আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতা পেল আজকের এই চাঁদ দেখার সংবাদের মধ্য দিয়ে। রজব ও শা’বান মাস শেষ হওয়ার পরই আসে পবিত্র রমজান, যা মুমিনের জীবনে পরম কাঙ্ক্ষিত।
রমজান মাস শুরুর ঘোষণার পরপরই সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য লক্ষ করা গেছে। আগামীকাল প্রথম রোজা হওয়ায় মুসল্লিরা আজ রাত থেকেই তারাবির নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সংযমের সাথে সিয়াম পালনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাঁদ দেখার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক মাসব্যাপী তাকওয়া অর্জনের সাধনায় লিপ্ত হবেন বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমান।
/আশিক
বেসরকারি বিনিয়োগে ধস ও সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ: ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে বিদায়
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, বিদায়লগ্নে অর্থনীতির ক্ষত আর নানা বিতর্কের বোঝা রেখে গেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকেই তাঁর শাসনকাল ছিল চরম বিপর্যয়ের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশে নতুন করে আরও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারভুক্ত হয়েছে, যা তাঁর ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর’ বিখ্যাত দর্শনকে খোদ তাঁর নিজ দেশেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ড. ইউনূসের আমলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই চিত্র সরকারি বিনিয়োগেও; বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে, যা বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ। এছাড়া বিদায়ী সরকার উত্তরাধিকার হিসেবে নির্বাচিত সরকারের ওপর রেখে গেছে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা। মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষক ড. লুবনা তুরীনের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে ও আমদানি সংকুচিত করে রিজার্ভ বাড়িয়ে রাষ্ট্রকে কৃত্রিমভাবে ‘শক্তিশালী’ দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, যার মূল্য দিতে হয়েছে দেশের শিল্প খাত ও সাধারণ মানুষকে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও ড. ইউনূসের ভূমিকা সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো তাঁর শাসনকালজুড়ে মব কালচার বা বিশৃঙ্খল জনরোষের কারণে গণমাধ্যমে আগুন দেওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মন্দির-মাজার ভাঙচুর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও দলিল বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল প্রায় নিষ্ক্রিয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও তাঁর আমলে ভিন্নমতের সাংবাদিকদের কারাগারে যেতে হয়েছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে গ্রামীণ ব্যাংক ও তাঁর নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর মওকুফসহ নানা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁর সরকারের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সবশেষে, ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে হাজার হাজার পৃষ্ঠার সুপারিশ সংবলিত গ্রন্থ প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যকর সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি। ড. ইউনূস বিশ্বজুড়ে যে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্বের প্রচারণা চালিয়ে আসছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করতে পারেননি; বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দুটোই বেড়েছে। ১৮ মাস দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি যখন পুনরায় বিশ্বমঞ্চে নিজের পুরনো কর্মে ফিরে যাবেন, তখন এই ব্যর্থতার দায় তাঁর দর্শনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে কতটুকু টিকিয়ে রাখবে, তা নিয়েই এখন সচেতন মহলে বড় জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
পাঠকের মতামত:
- সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
- স্বর্ণের বাজারে টানা উত্থান: বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর
- ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
- মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
- ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
- পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
- ১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- রোজার প্রথম দিনেই মুরগি ও সবজির দামে লাগামহীন রাজধানীর বাজার
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে
- প্রথম রোজার ইফতারে চমক! ঘরেই তৈরি করুন মুচমুচে ও সুস্বাদু চিকেন পাকোড়া
- দুপুরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎ কেঁপে উঠল সিলেট: বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
- ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর
- জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
- স্বাধীনতার পর প্রথম মন্ত্রী: কুমিল্লা বরুড়াবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে চান জাকারিয়া তাহের
- ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার
- রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, কতদিন বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ?
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
- শুল্ক ছাড়ের সুফল নেই: জাহাজ ডুবি ও সিন্ডিকেটে উত্তপ্ত খেজুরের বাজার
- ইফতারে প্রাণ জুড়াতে খেজুরের স্মুদি: ঝটপট তৈরির সহজ উপায়
- শনিবার কি ইরানে হামলা হচ্ছে? পেন্টাগনের সেনা সরানোর খবরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- রোজার ক্লান্তি দূর করবে এক বাটি ফল; ইফতারে কোন কোন ফল রাখবেন?
- কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- নবম পে-স্কেল কি পিছিয়ে যাচ্ছে? যা বললেন নতুন অর্থমন্ত্রী
- অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির
- রমজানের প্রথম দিনেই তালা: যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু
- ১০১টি অজুহাতে পকেট কাটছে সিন্ডিকেট! রমজানের শুরুতেই অস্থির কাঁচাবাজার
- টাকার বিপরীতে ডলারের নতুন দর; আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি মুদ্রা বিনিময় হার কত?
- স্বর্ণের বাজারে টানা দরপতন: দুই দফায় কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা
- আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? বের হওয়ার আগে দেখে নিন তালিকা
- রমজানে নতুন সূচিতে মেট্রোরেল; জেনে নিন কখন ছাড়বে শেষ ট্রেন
- রাজধানীতে আজকের কর্মসূচি: সুলভ মূল্যে মাংস বিক্রি থেকে গণ ইফতার
- আজ পবিত্র ১ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি
- তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- মাফিয়া সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৮৫০ কোটি বছর আগের দৃশ্য! জেলিফিশ গ্যালাক্সির রহস্যময় আবিষ্কার
- নিজের জ্বালানি ও নিজের চালক: রাষ্ট্রীয় সুবিধায় তারেক রহমানের না
- রমজানজুড়ে আদা-রসুন বাটা তাজা রাখার জাদুকরী কৌশল
- ইফতারে বাহারি খাবার বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা: কোনটি বেছে নেবেন?
- সদরপুরে ভেজাল গো-খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- পবিত্র আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার: রমজানের শুরুতেই জেরুজালেমে চরম উত্তেজনা
- আদালতে দেখা হবে! গণভোটের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিশির মনিরের হুঙ্কার
- রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: বাংলাদেশে কাল থেকে রোজা শুরু
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিমখানায় কোরআন শরীফ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ
- কালিগঞ্জে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের উদ্বোধন, রমজানজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- ঢাকা-১৫ আসনে দাপুটে লিড ডা. শফিকুর রহমানের
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন








