ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১০:৪২:৪২
ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভিন্নমতকে দমন না করে বরং স্বাগত জানানোর নতুন সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই অন্ধকার সময়ে বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) এবং জামায়াত—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ে জাতি আর ফিরে যেতে চায় না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের প্রধান শর্তই হলো গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে তাকে সাদরে গ্রহণ করা। ভিন্নমতকে স্বাগত জানানোই যেন হয় আগামী দিনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জনমনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছেন। রমজানের শুরুতে দেওয়া এই বার্তা মূলত জাতীয় ঐক্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:৫৭:১৯
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী ও ডিজিটাল পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ‘alamgirfortomorrow.com’ নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অন্যায়-অপরাধের শিকার হলে অথবা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি তাঁর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁকে জানাতে পারবেন। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইট উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম সেই মেসেজগুলো কম্পাইল বা বিন্যস্ত করছে। শীঘ্রই আমরা এগুলোর ওপর ভিত্তি করে রেস্পন্ড বা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গত মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি নিজ আসনের জনগণের সরাসরি সেবায় এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

/আশিক


অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১০:৫১:৪০
অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু আপসহীন থাকার এক সাহসী ও জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবো। আমরা মুখ বন্ধ করবো না।"

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদিও তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন, কিন্তু নির্বাচনী মাঠে তাঁর লড়াই ও মন্তব্য ছিল আলোচনার তুঙ্গে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনের সময় আমার কাছে অনেক ক্রিমিনাল (অপরাধী) এসেছে, বলেছে—আমাদের সঙ্গে ডিল করো। অনেক ব্যবসায়ী এসেছে, বলেছে—তাদের সঙ্গে ডিল করতে। এমনকি প্রশাসনের লোকজন এসে বলেছে—তুমি মুখ বন্ধ করো, আমরা তোমাকে জিতিয়ে দেবো। কিন্তু আমি কারও সঙ্গেই কোনো আপস করিনি।"

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে এক অভিনব উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, "যেসব লোক সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করে আমরা রমজানে তাদের কাছে হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো।" একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের প্রহরী হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "আপনারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হয়ে যাবেন।"

ভবিষ্যতে ভোট চুরির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, "ভবিষ্যতে যদি কেউ ঢাকা-৮ আসনে ভোট চুরি করতে আসে, সে যদি কারও ওয়াইফ (স্ত্রী) কিংবা ভাতিজাও হয়, আমরা তার হাত-পা ভেঙে দেবো। এটা শহীদ ওসমান হাদির আসন, আমরা তার স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিছক ক্ষমতা বা নির্বাচন তাঁদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পাটওয়ারী বলেন, "নির্বাচন আমাদের মূল টার্গেট না। আমাদের টার্গেট সিস্টেম পরিবর্তন। আমরা সেই সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো।"

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৬:৫৪:৪০
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করতে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়।

‘PMO Bangladesh – প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ নামের এই পেজের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি, নীতিগত ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পেজটির প্রোফাইল ছবিতে রাখা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গুজব বা বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল যুগের চাহিদা বিবেচনায় নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এই পেজকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এখন অপরিহার্য উপাদান। সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক আপডেট জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার হবে।

সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভিডিও বার্তা, লাইভ ব্রিফিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করা হতে পারে। নাগরিকদের পেজটি অনুসরণ করে সর্বশেষ সরকারি আপডেট জানার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রাফসান


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৬:৪৪:২৫
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠক দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের নীতিগত কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে সরকারের চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম, ঘোষিত অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়।http://sottonews.com/article_photo/mon-trii.jpg

বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি সময়মতো প্রকল্প সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক সমন্বয় নিশ্চিত করে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

-রফিক


আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, কী বার্তা দেবেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১২:৫২:০৯
আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, কী বার্তা দেবেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক টেলিভিশন ভাষণ, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে একযোগে ভাষণটি সম্প্রচার করা হবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ভাষণটি সরাসরি দেখানো হবে বলে জানা গেছে।

নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রফিক


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:৩৩:৫৮
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং এর অর্জিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা আপস সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি প্রতীকী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা হলে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই আন্দোলন থেকে উঠে আসা আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর দল বদ্ধপরিকর।

রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেমনভাবে পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে মানুষের মন প্রফুল্ল থাকে, তেমনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব স্তরে জমে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির আবর্জনা দূর করতে হবে। বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, গতকাল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভা হিসেবে তাঁরা দুটো বড় শপথ নিয়েছেন এবং সেই শপথের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের সেবা করা। পরিচ্ছন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করাই তাঁদের মূল রাজনৈতিক অভিপ্ৰায়।

জামায়াত আমির জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে বর্তমানের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব সফল না হলে আজ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারতেন না এবং তিনিও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বসার সুযোগ পেতেন না। এই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় সংসদে জুলাইয়ের সেই অদম্য চেতনা এবং ছাত্র-জনতার দাবিগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ম্যান্ডেট ও বিপ্লবের অঙ্গীকার রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

/আশিক


লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ২১:০৭:২৮
লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হওয়ার পর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির এই পর্যায়ে তাঁর এই উত্তরণকে তাঁর দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচিতে এলে সেই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্কুলজীবনেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য থেকে শুরু করে ১৯৮৯ সালে জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

জাতীয় রাজনীতিতেও এ্যানির পদচারণা বেশ দীর্ঘ ও সফল। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিক্ষা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দ্বিতীয়বারের মতো একই আসন থেকে বিজয়ী হন। সংসদে নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি ২০১৩ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের (ভারপ্রাপ্ত) মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে দলের প্রচার সম্পাদকের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (APPG) এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০১০ সালে এই গ্রুপের হয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সভায় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে তাঁর আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট। দীর্ঘ ১৮ বছর পর নির্বাচিত সরকারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে বিএনপি সমর্থকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

/আশিক


তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৯:০৯:১৪
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই নতুন সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আরও ৪৯ জন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ বিদেশি মেহমান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।

তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভায় এক বড় ধরনের চমক লক্ষ্য করা গেছে। এবারের মন্ত্রিসভায় অনেক তরুণ ও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে (এমপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে দলের এক বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে নতুন এই প্রশাসনে চমক যেমন ছিল, তেমনি ছিল বড় ধরনের অনুপস্থিতিও। দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এই তালিকায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির হেভিওয়েট সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। এছাড়া আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন এই সরকারের অংশ হননি।

মন্ত্রিপরিষদে স্থান না পাওয়া এই জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে অনেকেই অতীতে বিএনপি সরকারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছিলেন। তবে নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু এবং রুহুল কবির রিজভী কখনোই সরকারের কোনো মন্ত্রী পদে আসীন হননি। অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া এসব নেতাকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষ ও অভিজ্ঞদের একটি অংশকে হয়তো দল পরিচালনা বা সংসদীয় অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা এই বিশাল রাজনৈতিক শক্তির মধ্য থেকে কাকে কোন দায়িত্বে রাখা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।

নবনির্বাচিত এই সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সরব উপস্থিতি এবং বিদেশি নেতাদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ বিকেলে দক্ষিণ প্লাজার সেই আলো ঝলমলে পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের যুগে পদার্পণ করলো। এখন দেখার বিষয়, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনের শক্তিকে সমন্বয় করে তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা আগামীর বাংলাদেশকে কোন পথে নিয়ে যায়।

/আশিক


সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৮:৫৩:৪০
সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে রাজপথে বটল-গ্রিন রঙের সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সেই স্মৃতিস্মারক গায়ে জড়িয়েই আজ পা রাখলেন জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ২০ মিনিটের পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর সঙ্গে দলটির নির্বাচিত আরও পাঁচজন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সংসদীয় শপথ গ্রহণের পরপরই হাসনাত ও তাঁর দলের সদস্যরা নবগঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে সবার দৃষ্টি ছিল হাসনাত আব্দুল্লাহর সেই আলোচিত জার্সিটির দিকে। বটল-গ্রিন রঙের এই জার্সিটির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো এবং তাঁর নিজ বিভাগ ‘ইংলিশ’-এর নাম খোদাই করা রয়েছে। জার্সিটির পেছনে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লেখা আছে তাঁর নাম ‘HASNAT’ এবং নিচে শোভা পাচ্ছে ১০ নম্বর। জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে এই জার্সি পরিহিত অবস্থায় তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও নাগরিক সংলাপেও তাঁকে প্রায়শই এই পোশাকে দেখা গেছে। আজ সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থায় সেই সাধারণ জার্সি পরে শপথ নিয়ে তিনি এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণ-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হন হাসনাত আব্দুল্লাহ। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন, যিনি ট্রাক প্রতীকে লড়ে সংগ্রহ করেন ৪৯ হাজার ৮৮৫টি ভোট। নির্বাচনের পর থেকেই হাসনাত আব্দুল্লাহর সংসদে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। আজ রাজপথের সেই চিরচেনা জার্সিতে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে অভিষেক হওয়ায় কুমিল্লাসহ দেশজুড়ে তাঁর অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। জুলাইয়ের রাজপথ থেকে সংসদের গ্যালারিতে পৌঁছানো হাসনাত এখন দেশের সংবিধান সংস্কার ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় কেমন ভূমিকা রাখেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: