কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১১:৩১:৫৮
কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : সংগৃহীত

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

ছোলার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও ঝুঁকি

ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা হতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন?

ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২০:০৭:৩২
শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মেদ ঝরার পর শরীরের অতিরিক্ত চর্বি আসলে কোথায় উধাও হয়ে যায়—ঘাম হয়ে ঝরে পড়ে, নাকি মলমূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। আপাতদৃষ্টে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও এর অন্তরালে রয়েছে বিজ্ঞানের এক নিখুঁত ও চমৎকার রসায়ন, যার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

মানবদেহে মেদ জমার প্রক্রিয়াটি মূলত শুরু হয় প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাস থেকে। দৈনন্দিন গৃহীত চর্বিযুক্ত খাবারগুলো মানব পাচনতন্ত্রে গিয়ে ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। শরীর এই ফ্যাটি অ্যাসিডের কিছুটা অংশ কোষ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভেতরের সংবেদনশীল অঙ্গগুলো সুরক্ষার কাজে কাজে লাগায়। আর অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশটুকু ট্রাইগ্লিসারাইড যৌগ হিসেবে জমা থাকে ফ্যাট সেলে, যা পরবর্তীতে আকস্মিক শক্তির সংকট দেখা দিলে ব্যবহারের জন্য রক্ষিত থাকে। সাধারণত এই চর্বি চামড়ার নিচের স্তরে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমতে থাকে।

তবে আসল পরিবর্তন শুরু হয় যখন কোনো ব্যক্তি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা শারীরিক কসরত শুরু করেন। শরীর যখন গৃহীত খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত শক্তি পান না এবং ক্যালরির ঘাটতি সৃষ্টি হয়, তখন হরমোন ও স্নায়বিক সংকেতের প্রভাবে ফ্যাট সেলগুলো সাড়া দিতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় চর্বি ক্ষয় বা চর্বি ভাঙার এই জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'লাইপোলাইসিস'।

লাইপোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে উৎপন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মূল শক্তির কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে। সেখানে 'বিটা-অক্সিডেশন' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো ভেঙে প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই সামগ্রিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত উপজাত বা বর্জ্য হিসেবে মূলত দুটি উপাদান তৈরি হয়—কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই ধারণা কাজ করে যে অতিরিক্ত মেদ ঝরা মানেই শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হওয়া। তবে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চর্বি ক্ষয় হওয়ার পর তার সিংহভাগ অংশই ফুসফুসের মাধ্যমে আমরা যখন শ্বাস ত্যাগ করি, তখন বাতাস থেকে বাতাসে মিলিয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়প্রাপ্ত মেদের প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে নিশ্বাসের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আর অবশিষ্টাংশ বা ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাব এবং অন্যান্য শারীরিক তরলের আকারে নিষ্কৃত হয়।

তবে এ থেকে দ্রুত নিশ্বাস ফেলে মেদ কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অনবরত দ্রুত শ্বাস ফেললেই শরীরে জমানো চর্বি গলে যায় না, কারণ শ্বাস ত্যাগ করা হলো কেবল পোড়া চর্বির বর্জ্য নিষ্কাশনের একটি মাধ্যম, চর্বি পোড়ানোর মূল চালিকাশক্তি নয়। শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বির মজুত কাটাতে হলে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, কায়িক ব্যায়াম এবং পরিমিত সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে ক্যালরির সঠিক ঘাটতি তৈরি করাই একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায়।

/আশিক


দিনভর শারীরিক অলসতা ও ক্লান্তি: চিকিৎসকদের নতুন স্বাস্থ্য পরামর্শ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ২০:২৯:২১
দিনভর শারীরিক অলসতা ও ক্লান্তি: চিকিৎসকদের নতুন স্বাস্থ্য পরামর্শ
ছবি : সংগৃহীত

অনেকেরই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর চাঙা লাগে না কিংবা কোনো কাজেই কাঙ্ক্ষিত উৎসাহ পাওয়া যায় না। সারাদিন ধরে শুয়ে-বসে থাকার এই তীব্র প্রবণতা বা অবসাদ সবসময় কেবল আলস্য বা ইচ্ছাশক্তির ঘাটতি নয়, বরং এটি মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভিটামিনের অভাবজনিত শারীরিক সংকেত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঝিমুনিভাব বজায় থাকলে মূলত ভিটামিন 'ডি' এবং ভিটামিন 'বি১২'-এর ঘাটতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। অবশ্য এর পাশাপাশি রক্তশূন্যতা (এনেমিয়া), থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের অনিয়মও এ ধরনের শারীরিক অলসতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

মানবদেহে ভিটামিন ডি মূলত হাড়, পেশি এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর অভাব দেখা দিলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, হাত-পা ও হাঁটুতে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয় এবং দিনের বেলাতেও শরীরে সারাক্ষণ ক্লান্তি ভর করে থাকে। অন্যদিকে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। বি১২-এর ঘাটতি ঘটলে শরীরে চরম দুর্বলতা ও ক্লান্তি তো আসেই, সেই সাথে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা, মাথা ঘোরা এবং কিছু ক্ষেত্রে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অলসতা বজায় থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শে সিবিসি, সিরাম ফেরিটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং থাইরয়েড (TSH) পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট ঘাটতি নির্ণয় করা সম্ভব। সার্বিক আলস্য কাটিয়ে শরীরকে সতেজ রাখতে নিয়মিত পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুম নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিন হালকা শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

/আশিক


২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:২৬:১৮
২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

একসময় চুল পড়া কিংবা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার একটি স্বাভাবিক সার্বিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে তরুণদের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ পিছিয়ে যাওয়া এবং মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অকাল চুল পড়ার নেপথ্যে একক কোনো কারণ না থেকে বরং বংশগত কারণ, মানসিক অস্থিরতা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের মতো বহুমুখী প্রভাবকের যৌথ ভূমিকা থাকতে পারে।

ভারতের বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাশি সোনির মতে, তরুণ বয়সে চুল পড়ার কারণগুলো বহুমুখী। তিনি উল্লেখ করেন, বংশগত বা জিনগত প্রবণতা, ক্রমাগত মানসিক চাপ, ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস এবং আধুনিক জীবনের ভুল অভ্যাসের কারণে অকালেই মাথার চুল ঝরে পড়তে পারে।

অকাল চুল পড়ার প্রথম ও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা বংশগত টাক পড়ার সমস্যাকে। ডাক্তার সোনি জানান, জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে মাথার ত্বক ও চুলের ফলিকলগুলো অ্যান্ড্রোজেন হরমোন, বিশেষত ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি)-এর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে ফলিকল সংকুচিত হয়ে চুল পাতলা ও দুর্বল হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল মায়ের দিকের পারিবারিক ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে না, বরং বাবা-মা উভয় পক্ষের পারিবারিক জিনগত ধারা বিবেচনা করা জরুরি।

দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ। বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উদ্বেগ, কর্মক্ষেত্রের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, বিষণ্নতা, অপর্যাপ্ত ঘুম, দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট কিংবা বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতার ধাক্কায় ‘টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম’ নামের ব্যাধি দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় মাথার স্বাভাবিক চয়ন পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ চুল একযোগে ঝরে পড়ার ধাপে চলে যায়। উল্লেখ্য, কোনো মানসিক বা শারীরিক ধাক্কা খাওয়ার কয়েক মাস পর এই চুল পড়া পরিলক্ষিত হয় বিধায় সাধারণ গ্রাহক মূল কারণ শনাক্ত করতে বিভ্রান্ত হন।

ফিটনেস সচেতন তরুণদের মাঝে জিম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত ক্রিয়েটিন নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক থাকলেও আধুনিক গবেষণায় ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ হিসেবে নিশ্চিত প্রমাণিত হয়নি। কিছু গবেষণায় ক্রিয়েটিন গ্রহণের পর ডিএইচটি হরমোনের মাত্রায় সাময়িক পরিবর্তনের কথা বলা হলেও কোনো হরমোনের সাধারণ ওঠানামাই সরাসরি টাক পড়ার প্রধান কারণ—এমন চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি।

চতুর্থত, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি উপাদানের অভাব চুল ঝরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রভাব ফেলে। প্রোটিনের অভাব, অতিরিক্ত অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটিং এবং আয়রনসহ অপরিহার্য ভিটামিনের ঘাটতি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে দেয়। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শে সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। তাই বয়স কম ভেবে অকাল চুল পড়াকে হেলাফেলা না করে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ ও বংশগত ইতিহাস পর্যালোচনা করে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২০:০২:০৩
কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার
ছবি : সংগৃহীত

চুল মূলত ত্বকেরই একটি বিশেষ অংশ, তবে বর্তমানে মাথার চুল ঝরে পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়ার সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অর্থাৎ একশর বেশি চুল ঝরতে শুরু করলেই মাথা ফাঁকা হতে দেখা যায়। অল্প বয়সে চুল ঝরে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেখানে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন রূপান্তরিত হয়ে ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরনে পরিণত হয় এবং চুলের ফলিকল সংকুচিত করে ফেলে। দ্বিতীয় কারণটি হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা, যা টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামক জটিলতা তৈরি করে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝরিয়ে দেয়। এছাড়া তৃতীয় কারণ হিসেবে প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের মতো পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি শহরের ধুলোবালি ও শক্ত পানির ক্ষতিকর প্রভাব চুলের গোড়াকে দুর্বল করে তোলে।

অল্প বয়সে টাক পড়ার এই সমস্যা রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। চুল ঘন ঘন ধোয়ার ক্ষেত্রে সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু বেছে নেওয়া উচিত এবং চুল ধোয়ার পর ঈষদুষ্ণ ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। চুলের মূল উপাদান কেরাটিনের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, সয়াবিন, পালং শাক ও বাদামের মতো বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা দরকার।

পাশাপাশি ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহার করলে তা ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে ভূমিকা রাখে। কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি এবং আমলকীর মতো প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া হলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ধূমপান চুলের ফলিকলে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় বলে তা বর্জন করা আবশ্যক এবং শরীর ও কোষ মেরামতের জন্য দৈনিক অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

চুল পড়ার স্থায়ী প্রতিকারের জন্য চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যা আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। সঠিক পুষ্টি পৌঁছানোর জন্য হেয়ার ফলিকলের নিচে ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি ভেদে চিকিৎসকরা খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন ও শ্যাম্পু প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এছাড়া অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের সমস্যা মোকাবেলায় মেসোথেরাপি ও পিআরপির মতো আধুনিক চিকিৎসা বেশ কার্যকর। তবে এ ধরনের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত সময় ও একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয়, যার সফলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য এবং জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা বাধ্যতামূলক।

/আশিক


খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:৪৩:১৬
খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?
ছবি : সংগৃহীত

খাবার খাওয়ার সময় শিশুর সামনে টেলিভিশন চালু রাখা, মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা ট্যাবলেটে গেম খেলা এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাওয়ার টেবিলে ডিভাইসের উপস্থিতির কারণে শিশুরা প্রায়ই তাদের আহারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। এর ফলে তারা ঠিক কতটুকু খাবার গ্রহণ করছে, সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা থাকে না। তবে স্ক্রিনে সময় কাটালেই শিশুরা সরাসরি অতিরিক্ত খেতে শুরু করে—সমস্যাটিকে এতটা সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে স্ক্রিন ব্যবহারের ধরণ, পরিবেশন করা খাবারের প্রকৃতি এবং শিশুর সার্বিক জীবনযাত্রার মেলবন্ধনেই এর ফলাফল নির্ধারিত হয়।

সাধারণ নিয়মে খাবার খাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি শারীরিক কিছু সংকেতের ওপর নির্ভর করে। খাওয়ার আগে তীব্র ক্ষুধা পাওয়া, চিবানোর সময় খাবারের স্বাদ ও গঠন উপভোগ করা এবং একপর্যায়ে পেট ভরে আসার অনুভূতি পাওয়ার মাধ্যমেই আহার শেষ হয়। কিন্তু খাবারের সময় শিশুর দৃষ্টি যদি পর্দায় আটকে থাকে, তবে সেই মনোযোগের বড় একটি অংশ অন্য দিকে চলে যায়। এর ফলে পেটে ক্ষুধা না থাকলেও অবচেতনভাবেই তাদের হাত চলতে থাকে। অনুষ্ঠান যত সময় ধরে চলতে থাকে, খাবারের তাগিদ না থাকা সত্ত্বেও কেবল সময় কাটানোর জন্যই তাদের খাওয়া অব্যাহত থাকে।

তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রক্রিয়াটি আরও কিছুটা ভিন্ন ও জটিল। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরীক্ষাগারে পরিচালিত কিছু নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় টেলিভিশন চলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়েনি। এই ফলাফলের অর্থ স্ক্রিনের সামনে খাওয়া স্বাস্থ্যকর বা নিরাপদ—তা কিন্তু নয়। বরং এর থেকে বোঝা যায়, এই ধরনের অভ্যাসের চূড়ান্ত প্রভাব একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে এবং তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত আচরণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ডিভাইসে শিশু আসলে কী দেখছে, সেই বিষয়টির ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত জোরালো। ভিডিও গেম বা সাধারণ টিভি অনুষ্ঠান দেখার সময় পরিবেশ পুরোপুরি খাদ্য-নিরপেক্ষ থাকে না। বিভিন্ন আকর্ষণীয় খাবারের বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থাপন কিংবা সুস্বাদু খাবারের দৃশ্য শিশুদের মনে অজান্তেই খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। খাবারের সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে করা একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ৩৫টি গবেষণার মধ্যে ২৭টিতেই দেখা গেছে, খাবাবের বিজ্ঞাপন বা খাদ্য-সংক্রান্ত ইঙ্গিতের ফলে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি বৃদ্ধি পায়। তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, টেলিভিশনের তুলনায় মোবাইল বা ট্যাবলেট নিয়ে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তি তুলনামূলক কিছুটা দুর্বল।

স্ক্রিনের সামনে শিশুকে কোন ধরণের খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাও বড় একটি বিবেচ্য বিষয়। যেমন, আধা ঘণ্টা ধরে কার্টুন দেখার সময় একটি শিশুর কাছে যদি এক বাটি বিস্কুট রেখে দেওয়া হয়, তবে খাবার টেবিলে বসে নির্দিষ্ট মাপে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতার সাথে তার বড় অমিল দেখা দেবে। প্রথম ক্ষেত্রে খাবারের কোনো নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ থাকে না। পাত্রটি হাতের কাছে থাকায় শিশুটি আনমনে বারবার অল্প অল্প করে মুখে তুলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে মোট কতখানি খেয়ে ফেলেছে, তা আর তার নিজের হিসেবেও থাকে না।

এই আচরণটি একসময় দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে রূপ নেয়। স্ক্রিনের সামনে বসা মানেই যদি প্রতিবার চিপস, বিস্কুট বা মিষ্টি পানীয়র জোগান পাওয়া নিশ্চিত হয়, তবে মস্তিষ্কে এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিকভাবে ক্ষুধা না পেলেও কেবল টেলিভিশনের সুইচ অন করাই শিশুর মনে ওই মুখরোচক খাবারগুলোর চাহিদা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদের মূল খাবার ও নাশতা খাবার টেবিলেই পরিবেশন করা সমীচীন। সম্পূর্ণ প্যাকেট বা বড় পাত্র শিশুর সামনে তুলে না দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপে মেপে দেওয়া জরুরি। পানীয়র ক্ষেত্রে পানির প্রাধান্য থাকা প্রয়োজন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকসের বদলে ফল, দই কিংবা পরিমিত বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।

/আশিক


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৫৬:৪৫
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

সকালে পেট পরিষ্কার না হওয়া, মলত্যাগের জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির মতো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক ফাইবার ‘ইসবগুলের ভুষি’ (সাইলিয়াম হাস্ক)। এটি মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ বীজের আবরণ থেকে প্রস্তুতকৃত একটি দ্রবণীয় আঁশ। এটি ওষুধের মতো কৃত্রিমভাবে অন্ত্রকে উত্তেজিত না করে প্রাকৃতিক ‘বাল্ক-ফর্মিং ল্যাক্সেটিভ’ হিসেবে কাজ করে; পানির সংস্পর্শে এলে জেলির মতো ফুলে ওঠে অন্ত্রে পানি ধরে রাখে এবং মল নরম ও ভারী করে সহজে নিঃসরণে সহায়তা করে। তবে এর যথাযথ কার্যকারিতা পেতে সঠিক মাত্রা ও গ্রহণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক প্রায় ৫ গ্রাম বা ১ থেকে ২ চা-চামচ ইসবগুল দিয়ে শুরু করতে পারেন। অতিরিক্ত মাত্রা একবারে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অন্ত্রে ব্লকেজ তৈরির ঝুঁকি থাকে। এটি খাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করা।

প্রায় ২৪০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পানিতে ইসবগুল মিশিয়ে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক পান করতে হবে এবং দিনভর প্রচুর পানি খেতে হবে; অন্যথায় এটি অন্ত্রের পানি শুষে নিয়ে মলকে উল্টো শক্ত করে ফেলতে পারে। দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময় বা সন্ধ্যায় এটি খাওয়া গেলেও যারা নিয়মিত অন্যান্য ওষুধ সেবন করেন, তাদের ওষুধের কার্যকারিতা ও পুষ্টি শোষণ ঠিক রাখতে ইসবগুল খাওয়ার মাঝে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বজায় রাখা আবশ্যক।

তবে খাবার গিলতে সমস্যা, অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, তীব্র পেটব্যথা, বমি ভাব কিংবা মলদ্বারে রক্তপাতের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ইসবগুল গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইসবগুল খাওয়ার পর যদি তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা সমস্যা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

/আশিক


টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৫৯:১৯
টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

সকালে এক কাপ গরম গ্রিন টি পান করার অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে, তবে সাধারণ এই পানীয়টি মানবদেহে কতটা গভীর ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে পারে তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি উল্লেখ করেছেন যে, টানা ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় গ্রিন টি পান করলে শরীরে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের অভিমত অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহ গ্রিন টি পানের ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মানুষের লিভারের ওপর। গ্রিন টিতে ‘ইজিসিজি’ (EGCG)-এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যাটেকিন এবং কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা লিভারের ভেতরের প্রদাহ প্রশমিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এর বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকি থেকে মানবদেহকে সুরক্ষিত রাখে।

লিভারের সুরক্ষার পাশাপাশি বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি ও শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণেও পানীয়টি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রিন টির উপাদানগুলো শরীরের স্বাভাবিক বিপাক হার বা মেটাবলিজম গতিশীল করে এবং অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া বা ফ্যাট মেটাবলিজমকে আরও ত্বরান্বিত করে। একই সাথে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, যা স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিটনেস বজায় রাখতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিপাকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

গ্রিন টি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের একাগ্রতা বাড়াতেও সহায়ক। সাধারণ কফি পানের পর অনেকের মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস দেখা দেয়, গ্রিন টির ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি থাকে না। এতে কফির চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম ক্যাফেইন থাকে এবং যুক্ত থাকে ‘এল-থিয়ানিন’ নামক এক বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড। এই দুই উপাদানের সম্মিলিত ক্রিয়া মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থির রাখে, যা অস্থিরতা তৈরি না করেই দীর্ঘক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন মানসিক সতর্কতা, স্থায়িত্বশীল শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যগত অসংখ্য গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও গ্রিন টি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন ডা. শেঠি। তিনি দৈনিক এক থেকে সর্বোচ্চ তিন কাপ গ্রিন টি পানের পরামর্শ দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত ঘন গ্রিন টি নির্যাসের (Green Tea Extract) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করার কড়া সতর্কতা দিয়েছেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘন নির্যাস সেবনের ফলে বিরল ক্ষেত্রে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার কারণে পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পান করাই এই অভ্যাসের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:৫৪:০৩
বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?
ছবি : সংগৃহীত

সিনেমার মতো নাটকীয়ভাবে হঠাৎ বুকে চেপে ধরে লুটিয়ে পড়ার বাইরেও অত্যন্ত ধীর ও বিভ্রান্তিকর উপসর্গে বাস্তব জীবনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় সাধারণ অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা সাধারণ পেশির ব্যথার আড়ালে প্রাণঘাতী এই সমস্যার প্রাথমিক সতর্কসংকেত লুকিয়ে থাকে। মানুষ প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস বা কাজের চাপকে দায়ী করে এসব লক্ষণ অবহেলা করেন, যার ফলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয় এবং হৃৎপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, বুকে তীব্র ব্যথা না হয়ে কেবল মাঝখানে চাপ লাগা, ভারী ভাব, আঁটসাঁট লাগা কিংবা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার ফিরে আসে। এই অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথার বদলে কেবল বমিভাব, পেটের সমস্যা কিংবা চরম ক্লান্তির মতো অপ্রচলিত উপসর্গ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কারণহীন যেকোনো বুকজ্বালা বা অস্বস্তিকে কেবল গ্যাস্ট্রিক ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে সময়ক্ষেপণ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সব শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। রোগী অচেতন হয়ে পড়লে এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে অবিলম্বে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করা এবং প্রয়োজনে ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করে রোগীকে বাঁচানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

/আশিক


ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫৭:০৯
ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা
ছবি : সংগৃহীত

অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও ব্যস্ত নাগরিক জীবনের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে চুলের স্বাস্থ্যে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দ্রুত সমাধান পেতে কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধন, নামীদামি সিরাম বা নানা ধরনের ওষুধের শরণাপন্ন হন, যা ক্ষেত্রবিশেষে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে চুলকে আরও বেশি ভঙ্গুর ও দুর্বল করে তোলে। অথচ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপর, যার প্রধান জোগান আসে দৈনন্দিন সুষম খাবার থেকে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতন পরিবর্তন এনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পারলে চুল পড়ার হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং মাথার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। বিশেষ করে আখরোট, আমন্ড ও কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চুলের ফলিকলকে গভীর থেকে শক্তিশালী করে এবং চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে চিয়া বীজে থাকা উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের সার্বিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সালাদ কিংবা টকদইয়ের সঙ্গে পরিমিত চিয়া বীজ গ্রহণের অভ্যাস চুলের শুষ্কতা দূর করে গোড়া মজবুত রাখতে সহায়ক।

চুলের মূল গাঠনিক উপাদান যেহেতু প্রোটিন, তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে শিমের বীজ একটি উৎকৃষ্ট উপাদান হতে পারে। পর্যাপ্ত শিমের বীজ খাওয়ার ফলে চুলের ভঙ্গুরতা রোধ হয় এবং নতুন চুল গজিয়ে ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালং শাক ভিটামিন এ-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা মাথার স্ক্যাল্প বা ত্বককে সুস্থ রাখার পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। এর বাইরে দেশীয় ভেষজ ফল আমলকী চুলের সুরক্ষায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা রাখে। আমলকীতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ বাড়িয়ে চুলকে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে তোলে। মূলত বাহ্যিক পরিচর্যার চেয়ে সুষম খাদ্যের সমন্বয়ে চুলের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি করাই দীর্ঘমেয়াদে চুল পড়া মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও স্থায়ী উপায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

পাঠকের মতামত: