জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৬:১৩:০৪
জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাস্ট্রব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

তিনি বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সবার সহযোগিতার মাধ্যমে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে যেন জনগণের কাছে যেতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয় এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বোপরি, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

/আশিক


১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:১৪:১৭
১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানান, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আগামী ১৬ জুলাই তারিখটিকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের ওই দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহকে সামগ্রিক গণঅভ্যুত্থানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবার দেশজুড়ে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলনের প্রথম সারির শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গণঅভ্যুত্থানের আরেক বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনের মাধ্যমে এই উৎসব ও শোকের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত মূল কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই দিন সকাল ঠিক ৬টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

ঘোষিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় জুলাই মাসজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্মরণ ও প্রতিবাদী আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর স্বৈরাচারের বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ঐতিহাসিক প্রতিরোধ স্মরণে সেখানে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরেও রাজধানীসহ সারাদেশে পুরো আগস্ট মাসজুড়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্মরণসভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগামী ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ছুটি থাকবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দিনটিকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এদিন কোনো সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে না। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী এই সুদীর্ঘ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগকে অন্তরে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের তরুণদের কাছে ইতিহাসের এই গৌরবময় অধ্যায়কে সঠিকভাবে তুলে ধরা।

/আশিক


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৪৫:৩৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। এই সম্মান ও আন্তরিকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠক চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই চরম সংকটের মুহূর্তে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার এবং বাংলাদেশের জনগণের অবিচল সংহতি প্রকাশের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য উন্মুক্ত সংলাপ এবং কার্যকর কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং এর বাইরেও সামগ্রিক বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়, বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

/আশিক


জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৩৬:৫৪
জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর
ছবি : সংগৃহীত

২০০০ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত সেই কালো অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া জোরকদমে চলমান রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সংঘটিত জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি চরম বর্বরোচিত ও অমানবিক ঘটনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলার অকাট্য অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমস্ত কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশে অবস্থানরত কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির উসকানিতে দেশের ভেতরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে নুর বলেন, যারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা চাইলে সেখানকার প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন অথবা সেখানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। কিন্তু দূর দেশে বসে নিজ মাতৃভূমিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মোসা. মারিয়া আক্তার, স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি জনসেবার মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

/আশিক


‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১১:০৮:৫৭
‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ নীতি’কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত সামরিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার সর্বাগ্রে ‘বাংলাদেশ নীতি’ অনুসরণ করছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। তাঁর মতে, এই নীতির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠবে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্থল, নৌ ও বিমান সক্ষমতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। এই অর্জন শুধু সেনাবাহিনীর নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকেও তিনি এই গৌরবময় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার আক্রমণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ডিজিটাল হামলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

-রফিক


ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২১:৩৭:২১
ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য ফ্যাসিবাদ এবং মৌলবাদ—উভয়ই সমান হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই দুই অপশক্তির অশুভ তৎপরতার বিষয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের একদিকে ফ্যাসিবাদ আমাদের কষ্টার্জিত সার্বভৌমত্ব হরণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই দুই চরমপন্থী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে।’’

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথই মূলত জুলাইয়ের স্বপ্ন ও চেতনা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ। সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে এই সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।’’

আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, সরকার এই ঐতিহাসিক সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর মাঝেই একটি বিশেষ মহল তথাকথিত গণভোটের আড়ালে এমন কিছু বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করছে, যা মূল জুলাই সনদের চেতনার সাথে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাইয়ের মূল চেতনা ও সনদকে সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো ধরণের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিতে হবে। কোনো একক ভাবাবেগে না ভেসে দলীয় নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও শৃঙ্খলা অনুসরণ করেই জুলাইয়ের প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

/আশিক


ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২০:০৯:২৮
ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং আপনার মহান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আশাবাদী যে, আপনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকগুলোতে আরও মহানতার পথে এগিয়ে যাবে।’’

আমেরিকার ঐতিহাসিক এই মাইলফলককে বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গৌরবময় উপলক্ষটি সারা দেশে উদযাপন করছে, তখন ‘আমেরিকা ২৫০’ আমেরিকান স্বপ্ন, ত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, নৈতিকতা এবং বাকি বিশ্বে আমেরিকার অবদান থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষের সেবা করছে।’’

স্বাধীনতার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন যাত্রায় একটি মূল্যবান বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘‘গত পাঁচ দশক ধরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং মানুষে মানুষে বিস্তৃত যোগাযোগকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ২০২৬ বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি।’’ চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ও উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যতে অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার ও গভীর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিঠির শেষাংশে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন।

/আশিক


ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৮:৪১:৫৫
ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ খুব দ্রুত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে এই লক্ষ্য অর্জন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ও একটি আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘চট্টগ্রামে সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি চট্টগ্রামে একযোগে কয়েকটি নতুন বন্দর নির্মাণ করা হবে।’’ একই সাথে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে রূপান্তর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় আরও দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার রোডম্যাপ এবারের বাজেটে রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চাইনিজ ইকোনমিক জোন স্থাপন এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে বড় ধরনের মেগা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা নিশ্চিতভাবেই একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি সম্পূর্ণ ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যার সাথে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে দেশে প্রকৃত সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি পুরোদমে ঘুরে দাঁড়াবে।’’

শাহ আমানত বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

/আশিক


দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৩:৩০:৪৯
দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং বিমান চলাচলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন করে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই আমদানির আওতায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই জ্বালানি সংগ্রহ করছে। দরপত্র মূল্যায়নের পর সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডকে সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। পুরো আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সমান। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রশাসনিক ছাড়পত্র বিপিসির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) ইস্যু করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর খুব দ্রুতই জ্বালানি তেল দেশে আসা শুরু হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতেই এই দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। নতুন চালান দেশে পৌঁছালে সেই সক্ষমতা আরও বাড়বে। প্রতিবছর সাধারণত ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদা বিবেচনায় ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়। এবারও জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য চাহিদা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় আগাম এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এবং যুদ্ধঝুঁকির বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যও ব্যাপক ওঠানামা করছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডিজেলের আন্তর্জাতিক মূল্য তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগাম মজুত বাড়ানোকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বিপিসির কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিতিশীলতা থাকলেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিমান পরিবহন যাতে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যেও জ্বালানি আমদানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই আমদানি সম্পন্ন হলে শুধু স্বল্পমেয়াদি চাহিদাই পূরণ হবে না, বরং সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।

-রফিক


১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৩:০৭:১৪
১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এ উপলক্ষে পুরো জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।

সমাজসেবা অধিদফতরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক প্রশাসনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি দেশের আটটি বিভাগ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে আবেদন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় শর্ত সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করা হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম dss.bhata.gov.bd/online-application-এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

সমাজসেবা অধিদফতর জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নামে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত মোবাইল আর্থিক সেবার (MFS) হিসাব অথবা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর মোবাইল নম্বরও যুক্ত করতে হবে।

অধিদফতর আরও স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে যারা অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য নির্বাচনের সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে যারা পূর্ববর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন হবে না; আগের আবেদনই বিবেচনায় থাকবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভাতা বিতরণ—সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা জালিয়াতি, দ্বৈত আবেদন ও অনিয়ম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: