২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগত দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়ক ব্যবহার করতে হবে এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মানতে হবে।
শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং ও শহীদ মিনার রোড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। অন্য কোনো পথ দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়েল চত্বর বা চাঁনখানপুল হয়ে বের হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে জনসমাগম সুশৃঙ্খল থাকে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিদেশি কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, দিবসটি ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারিতে থাকবেন। বিশেষায়িত ইউনিট যেমন সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল নজরদারি টিমের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগত মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
প্রশাসন সকলকে নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
-রফিক
আদালতে দেখা হবে! গণভোটের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিশির মনিরের হুঙ্কার
অ্যাডভোকেট শিশির মনির 'জুলাই জাতীয় সনদ' ও গণভোট সংক্রান্ত সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলো আদালতে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই জাতীয় সনদ কিংবা গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যদি কোনো পক্ষ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তিনি তাঁর আইনজীবী বন্ধুদের সাথে নিয়ে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে তা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিহত করবেন।
ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট শিশির মনির সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে লিখেছেন, এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা যেকোনো আইনি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এই 'জুলাই জাতীয় সনদ' নিয়ে যখন নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, তখন এই আইনজীবীর এমন প্রকাশ্য ঘোষণা বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। তাঁর এই বার্তা মূলত গণভোট ও সনদের পক্ষশক্তিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
টয়লেটের পেস্ট ও টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল শিশুটি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীর ওপর চালানো নির্যাতনের রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে আদালতের শুনানিতে। পিঠে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা থেকে শুরু করে চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া—এমন সব অমানবিক আচরণের তথ্য শুনে খোদ বিচারকও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আসামিদের রিমান্ড শুনানির সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে বিচারক ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দির অংশবিশেষ পড়ে শোনান। সেখানে উঠে আসে যে, শিশুটিকে খাবার না দিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হতো। খিদের জ্বালায় সে টয়লেটের পেস্ট ও টিস্যু খেয়ে দিন পার করেছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও তাকে কোনো গরম কাপড় দেওয়া হয়নি এবং দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকতে বাধ্য করায় তার পায়ে পচন ধরেছে। শিশুটির শরীরে মুখ থেকে গলা পর্যন্ত লম্বা পোড়া দাগ, কপালে লাঠির আঘাত এবং উরুতে গরম খুন্তির ছ্যাঁকার অসংখ্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। এমনকি তার মাথার চুল ধরে টানার কারণে শিশুটি প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত বিমান বাংলাদেশের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকে ৫ দিনের রিমান্ড এবং সাফিকুরের স্ত্রী বীথিকে ৭ দিন ও অপর গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা বলেন, সরকারি উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার বাসায় এমন পাশবিক নির্যাতন দেশ ও জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন যে, সাফিকুর রহমান অফিসে ব্যস্ত থাকতেন এবং এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে শিশুটির বাবা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী, গত ১ ফেব্রুয়ারি চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
ভোটের দুই দিন আগে সুসংবাদ: বিএনপির ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা শেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন বিএনপির তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ এবং বগুড়া-১ আসনের এই তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে করা লিভ টু আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট করেছিলেন এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কাইয়ুম ভানুয়াতো নামক দেশের নাগরিক। হাইকোর্ট গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই রিট সরাসরি খারিজ করে দিলে নাহিদ ইসলাম লিভ টু আপিল করেন। তবে আপিল বিভাগ আজ আদেশ দিয়েছেন যে, এই আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে লড়তে কাইয়ুমের কোনো বাধা নেই।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল উচ্চ আদালতে রিট ও পরবর্তীতে লিভ টু আপিল করেছিলেন। আদালত আজ ইউসুফ সোহেলের সেই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছিলেন জামায়াত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন। আদালত আজ এই মামলার শুনানিও নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন। ফলে রফিকুল ইসলামের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোর বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা
আদালতের নির্দেশে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা বিপুল অর্থের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে ঢাকার একটি আদালত তাঁর নামে থাকা মোট ৮টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা জমা রয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশের মূল বিষয়সমূহ
আমির হোসেন আমুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ৮টি ব্যক্তিগত হিসাব।
হিসাবগুলোতে বর্তমানে জমা আছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুলফিকার আলী।
আমির হোসেন আমু ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব হিসাবে দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার কিংবা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার জোরালো সন্দেহ রয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যেই এই লেনদেনগুলো করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে টাকাগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আমির হোসেন আমু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৪৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গৃহকর্মী শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা! বিমানের এমডি শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার
শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন—শফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও রোমহর্ষক বর্ণনা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু মোহনাকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দিয়েছিলেন তার বাবা গোলাম মোস্তফা। কাজে নেওয়ার সময় মোহনার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আসামিরা। গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনার বাবা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসলেও এরপর থেকে আর তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি শফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী ফোন করে মোহনার বাবাকে জানান যে মোহনা অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। মোহনার বাবা তাকে আনতে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটির দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মোহনা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। পরবর্তীকালে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্মম নির্যাতনের চিত্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ অন্যরা অকারণে তাকে মারধর করত। এমনকি জ্বলন্ত খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের কার্যক্রম আজ আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষের উপপুলিশ পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এর তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চারজনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিমান বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ২৬ জনকে গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় এক ঐতিহাসিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক ও বর্তমান ১১ জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই বিচারের মাধ্যমে বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে পরিচালিত গোপন বন্দিশালা বা জেআইসির কার্যক্রম এবং সেখানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র জনসমক্ষে উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা ডিজিএফআই-এর পাঁচজন সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি), পাঁচজন পরিচালক এবং একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। মামলার মোট আসামির মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে বা গ্রেপ্তার রয়েছেন, যেখানে বাকি ১০ জন আসামিই এখনো পলাতক। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের মধ্যে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযুক্ত এই সাবেক মহাপরিচালকদের তালিকায় রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের নির্দেশ প্রদান ও তা তদারকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় গুম ও নির্যাতনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। আজ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের জবানবন্দীর মাধ্যমে গুমের শিকার হওয়া ২৬ জন ব্যক্তির ওপর পরিচালিত নির্মমতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে। মামলাটি আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিগত দেড় দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
লুণ্ঠিত অস্ত্রের মুখে কি থমকে যাবে ত্রয়োদশ নির্বাচন? হাইকোর্টে নাটকীয় রিট
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়েছে। এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় এবং তা বর্তমানে বিভিন্ন পক্ষের হাতে থাকায় জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি বড় আয়োজনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।
রিটকারীর দাবি অনুযায়ী, এসব অস্ত্র উদ্ধার করে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রিটে জানানো হয়েছে।
এই রিট আবেদনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৬ জন কর্মকর্তা ও সংস্থাকে বিবাদী করা হয়েছে।
তারা হলেন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব
স্বরাষ্ট্র সচিব
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রত্যাশা
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই তিনি এই জনস্বার্থমূলক রিটটি করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সেই অস্থিতিশীল সময়ে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে জনগণের মনে স্বস্তি ফেরানোই এখন বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
রিট আবেদনটি এখন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের গতি প্রকৃতি।
বহুবিবাহ আইনে রিট খারিজ, আইনি বিধান কার্যকর
কোনো ব্যক্তির একটি বিয়ে কার্যকর থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না—এমন বিধানকে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর, যখন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিটে দাবি করা হয়, প্রচলিত আইন নারীর সাংবিধানিক অধিকার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, পারিবারিক জীবনের বৃহত্তর স্বার্থে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনে কেন সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে না এবং স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত না করে বহু বিবাহের অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে নারীর সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না। তিনি যুক্তি দেন, ইসলামি আইনে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সব স্ত্রীর প্রতি সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কেবল বিয়ের অনুমতির অংশ গ্রহণ করে ন্যায়বিচারের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ নীতির শামিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তার বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো বিবাহ করতে পারবেন না। অনুমতির জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং সেখানে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতির বিষয় উল্লেখ করতে হয়।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিল আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হবে এবং প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে হলে তবেই অনুমতি দেওয়া যাবে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেনমোহরের সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে এবং একই সঙ্গে পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে আদালতের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
-রাফসান
দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
হাইকোর্টের ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে যে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পুরুষকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তবে এই কর্তৃপক্ষ প্রথম স্ত্রী নন, বরং সেটি হলো স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ আরবিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশি পরিষদ। আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, স্ত্রী অনুমতি না দিলেই দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কাউন্সিল মূলত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবে এবং স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিয়ের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে মুসলিম আইনে পুরুষদের জন্য জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তবে আইনি ক্ষেত্রে আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কঠোরতা এবং ১৯৬১-এর অধ্যাদেশের মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এর আগে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যা হাইকোর্ট বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিথিল করেছেন।
এই রায়ের ফলে দেশে বহুবিবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং নারীদের সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটকারীরা। তাঁরা মনে করেন, স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়ার শর্তটি বাতিল হওয়ায় পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। রিটকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালের আইনের প্রকৃত আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, যা বিবাহ সংক্রান্ত অনেক অমীমাংসিত মামলার জট খুলতে সাহায্য করবে।
পাঠকের মতামত:
- ২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন
- হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
- "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার: ২০ ফেব্রুয়ারি
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ যেসব মার্কেট বন্ধ
- এইচএসসি ২০২৬: ফরম পূরণের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নীতিমালা প্রকাশ
- শুক্রবারের পূর্ণ নামাজ সূচি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- বাংলাদেশের ম্যাচসহ আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন
- এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান
- ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা
- সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
- স্বর্ণের বাজারে টানা উত্থান: বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর
- ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
- মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
- ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
- পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
- ১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- রোজার প্রথম দিনেই মুরগি ও সবজির দামে লাগামহীন রাজধানীর বাজার
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে
- প্রথম রোজার ইফতারে চমক! ঘরেই তৈরি করুন মুচমুচে ও সুস্বাদু চিকেন পাকোড়া
- দুপুরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎ কেঁপে উঠল সিলেট: বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
- ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর
- জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
- স্বাধীনতার পর প্রথম মন্ত্রী: কুমিল্লা বরুড়াবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে চান জাকারিয়া তাহের
- ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার
- রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, কতদিন বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ?
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
- শুল্ক ছাড়ের সুফল নেই: জাহাজ ডুবি ও সিন্ডিকেটে উত্তপ্ত খেজুরের বাজার
- ইফতারে প্রাণ জুড়াতে খেজুরের স্মুদি: ঝটপট তৈরির সহজ উপায়
- শনিবার কি ইরানে হামলা হচ্ছে? পেন্টাগনের সেনা সরানোর খবরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- রোজার ক্লান্তি দূর করবে এক বাটি ফল; ইফতারে কোন কোন ফল রাখবেন?
- কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- নবম পে-স্কেল কি পিছিয়ে যাচ্ছে? যা বললেন নতুন অর্থমন্ত্রী
- অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির
- রমজানের প্রথম দিনেই তালা: যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু
- ১০১টি অজুহাতে পকেট কাটছে সিন্ডিকেট! রমজানের শুরুতেই অস্থির কাঁচাবাজার
- টাকার বিপরীতে ডলারের নতুন দর; আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি মুদ্রা বিনিময় হার কত?
- স্বর্ণের বাজারে টানা দরপতন: দুই দফায় কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা
- আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? বের হওয়ার আগে দেখে নিন তালিকা
- রমজানে নতুন সূচিতে মেট্রোরেল; জেনে নিন কখন ছাড়বে শেষ ট্রেন
- রাজধানীতে আজকের কর্মসূচি: সুলভ মূল্যে মাংস বিক্রি থেকে গণ ইফতার
- আজ পবিত্র ১ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








