অর্থ সাশ্রয়ে বিশেষ পদক্ষেপ: জুলাই সনদ ও নির্বাচন একই দিনে করার প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৩ ১১:১৮:০২
অর্থ সাশ্রয়ে বিশেষ পদক্ষেপ: জুলাই সনদ ও নির্বাচন একই দিনে করার প্রস্তুতি
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও ভোটের সময় নিয়ে তাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী গণভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এমন প্রেক্ষাপটে আর্থিক সাশ্রয় এবং প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আগামী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করা হবে। সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এমন আভাস দিয়েছে।

ঐকমত্য হলেও দ্বন্দ্বের সমাধান হয়নি

জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজন অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচনের আগেই এই ভোট আয়োজনের ব্যাপারে অনড়। গত বুধবার দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বশেষ সম্মিলিত বৈঠকেও এ বিষয়ে সুরাহা হয়নি।

কমিশনের সিদ্ধান্ত: ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলোর বিভক্তির মধ্যেই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদের সমর্থন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের দিনই আলাদা ব্যালটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।

জামায়াতের অনড় অবস্থান: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, তারা মনে করেন জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হলে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না।

সরকার ও ইসির অবস্থান

সরকারি সূত্র জানায়, একই দিনে গণভোট করার ব্যাপারে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত পেয়েছে সরকার।

ব্যয় সাশ্রয়: নির্বাচন কমিশনও বাড়তি ঝামেলা ও অর্থের অপচয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে একই দিনে গণভোটের ব্যাপারে আগ্রহী। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজন করলে আগের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সামান্য যোগ করলেই হবে, যা আলাদা নির্বাচনের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

ইসি’র মত: নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “দুই নির্বাচন একত্রে করলে অনেক টাকা বেঁচে যায়। ফেব্রুয়ারিতে দুই নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব। সেটাই ভালো হবে।”

বিশেষজ্ঞের মত: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ২২:০৪:৫৩
স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে প্রবাসে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা শুরু করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশে বসেই দেশের ভাগ্যনির্ধারণী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে যারা সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন, তাঁরা আজ বিকেল পাঁচটা থেকে অ্যাপ বা ইসির ওয়েবসাইটের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ আসনের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দিতে পারছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল অ্যাপে শুরু হলেও এর একটি শারীরিক বা ফিজিক্যাল ধাপ রয়েছে। ভোটারদের ভোট প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট পোস্টাল ব্যালটটি একটি হলুদ খামে ভরে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিতে হবে। এই ব্যালটগুলো ডাকযোগে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো বাধ্যতামূলক।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা অনিয়মের যে কোনো আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটিতে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে একজন ভোটারের ভোট অন্য কারও দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা যাতে শতভাগ বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের কারিগরি টিমের মতে, এই অ্যাপটি প্রবাসীদের আস্থার সাথে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিশ্বের ১২১টি দেশে অবস্থানরত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসীদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।


নির্ধারিত সময়ের ৩ সপ্তাহ আগেই জমা পড়ল নবম পে স্কেল রিপোর্ট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৯:১৯:১৬
নির্ধারিত সময়ের ৩ সপ্তাহ আগেই জমা পড়ল নবম পে স্কেল রিপোর্ট
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে জমা পড়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই কমিশন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে এক নজিরবিহীন পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকার যখন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন গঠন করে, তখন তাদের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছিল শেষ তারিখ। তবে কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের এই দল নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে কমিশন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করেছে, যা সরকারি খরচ হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।"

কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমান ২০টি স্কেল বহাল রেখে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় মূল বেতনে বিশাল উল্লম্ফন আনা হয়েছে

বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমান কাঠামোতে জীবন নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও ভাতাদির জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, সরকারি সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা চালুর প্রস্তাব।

বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার।

সরকারি দপ্তরের জন্য একটি পৃথক সার্ভিস কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডকে আরও কার্যকর করতে পুনর্গঠনের সুপারিশ।

এই দুই খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা।

প্রতিবেদন দাখিলের সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। এই কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা। কমিশনের এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এখন সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


৩০০ আসনেই ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; আজ মধ্যরাত থেকেই ঘুরবে ব্যালট ছাপার চাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৭:১২:০৪
৩০০ আসনেই ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; আজ মধ্যরাত থেকেই ঘুরবে ব্যালট ছাপার চাকা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে কোনো আসন বাদ যাচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম আজ বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাত দিয়ে প্রেসসচিব জানান, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আইনি ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি নিরসন হয়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকল আসনেই ভোটগ্রহণের বাধা দূর হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আজ বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

এবারের নির্বাচনটি ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা ভিন্ন হতে যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশব্যাপী একটি বিশেষ ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ভোট প্রদানের পর ব্যালট গণনা প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গণনা করতে হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ফল প্রকাশেও কিছুটা বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোটের দিন স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রেসসচিব জানান, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০টি ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে। এই ক্যামেরাগুলোর লাইভ ফুটেজ সরাসরি ‘সুরক্ষা’ (Surakkha) অ্যাপের সাথে যুক্ত করা হবে। প্রধান কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক এই ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স’ টিম প্রস্তুত থাকবে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, বিগত সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লুণ্ঠিত হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।


প্রতীক পেলেই প্রচারের অনুমতি, কী বলছে ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৩:১৬:০৬
প্রতীক পেলেই প্রচারের অনুমতি, কী বলছে ইসি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ধাপ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে একযোগে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করতে পারবেন।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে ছয় শতাধিক মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে চার শতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় কিছু প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্তভাবে দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে প্রতিটি আসনে গড়ে ছয় থেকে সাতজন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকছেন।

নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নির্ধারিত প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তবে সব প্রার্থীকে নিজ নিজ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আলাদাভাবে প্রতীক বরাদ্দপত্র সংগ্রহ করতে হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নমুনা প্রতীকই প্রচারণা সামগ্রী ও ব্যালট পেপারে ব্যবহৃত হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতীক বরাদ্দে তুলনামূলকভাবে জটিলতা বেশি। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বাদ দিয়ে যে প্রতীকগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ৫৬টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে নমুনা প্রতীক বরাদ্দ দেন, প্রার্থীরা ঠিক সেই নকশা ও রূপেই প্রচারণা চালাতে বাধ্য। ব্যালট পেপারেও একই প্রতীক ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোটারদের বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক জোট ও প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। অতীতে জোটবদ্ধ নির্বাচনে শরিক দলগুলো বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের ফলে এবার সব দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ফলে বিএনপি ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টি লাঙল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকেই নির্বাচন করছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী বর্তমানে ৬৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত থাকলেও আওয়ামী লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এর বাইরে ১০টি নিবন্ধিত দল এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদেও ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতীক শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া এনসিপি শুরুতে শাপলা প্রতীক দাবি করলেও কমিশনের তালিকায় সেটি না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়। পরে শাপলা কলি প্রতীক যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং দলটিকে সেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের আগে প্রতীক তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। উটপাখি, কলা, খাট, চার্জার লাইট, টিফিন ক্যারিয়ার, তরমুজ, ফ্রিজ কিংবা স্যুটকেসের মতো প্রতীকগুলো এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে উট, চিরুনি, টর্চলাইট, ট্রাক্টর, ড্রেসিং টেবিল, দোতলা বাস, পানির ট্যাপ, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মোটরসাইকেল, রেল ইঞ্জিন, সূর্যমুখী ও হ্যান্ডশেকসহ মোট ২০টি নতুন প্রতীক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দে একাধিক প্রার্থী একই প্রতীক চাইলে প্রথমে পারস্পরিক সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা সম্ভব না হলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হয়। তবে আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এমন কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে, তিনি তার পছন্দের প্রতীক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগ পান, যদি সেটি আগে অন্য কাউকে দেওয়া না হয়ে থাকে।

চাঁদপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা জানান, প্রতীক বরাদ্দের সময় কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে লটারি ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সরবরাহ করা পোস্টার থেকে নির্দিষ্ট নমুনা প্রতীক কেটে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ণমাত্রায় প্রচারপর্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এখন ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার, প্রতীক ও রাজনৈতিক বার্তাই নির্ধারণ করবে নির্বাচনী উত্তাপের মাত্রা।

-রফিক


নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১২:১৭:৩৪
নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আজ বুধবার চূড়ান্ত বৈঠকে বসছে জাতীয় বেতন কমিশন। দীর্ঘ ছয় মাসের কাজ শেষে কমিশনের পূর্ণ সভা আজ দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে এতদিন ধরে প্রণীত খসড়া সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সভা শেষে আজই বিকালে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ উপলক্ষে বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদনটি জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

অর্থ উপদেষ্টা মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নবম পে স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের পর্যায়ে বিবেচনায় আসবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে, তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তাবিত কাঠামোতে মোটের ওপর সন্তুষ্ট হবেন বলে সরকার আশাবাদী।

বেতন কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নবম পে স্কেলের প্রায় সব দিকই ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে মূলত সুপারিশগুলো আরেক দফা রিভিউ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সামান্য সংশোধনের পর তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশের কোনো কপি সদস্যদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে না; এটি শুধুমাত্র প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে। পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের প্রয়োজনে সীমিতসংখ্যক কপি মুদ্রণ করা হতে পারে।

বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, বেতন কমিশন নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। পূর্ণমাত্রায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ ধীরে সামাল দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা যে বেতন নির্ধারিত রয়েছে, তা বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হচ্ছে ১:৮।

বাজেটীয় দিক থেকে বিষয়টি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন ব্যয় হিসেবে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি মূলত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ। তবে কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো মাত্রায় নবম পে স্কেল কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় নিচের ধাপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই শ্রেণির কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, আজকের চূড়ান্ত বৈঠক নবম জাতীয় পে স্কেলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।

-রফিক


প্রতীক বরাদ্দে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আমেজ; কাল থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:০৪:৩৫
প্রতীক বরাদ্দে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আমেজ; কাল থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের প্রচারণায় নামতে পারবেন। নির্বাচনের বল এখন চূড়ান্তভাবে মাঠে গড়াল, যা ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। শীতের তীব্রতার মাঝে নির্বাচনী প্রচারণার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সারা দেশে এক নতুন রাজনৈতিক উষ্ণতার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৮৫ জন। এর আগে ৩ হাজার ৪২২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেওয়ার হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিল শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বর্তমানে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকলেন। তবে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা বা কারিগরি কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আগের বৈধ প্রার্থীরা বাদ গিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বর্তমানে ১১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল সেখানে ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার অন্যতম। তবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে সেখানে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছেন। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে, যেখানে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও একই ধরণের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজশাহীর ৬টি আসনে বর্তমানে ৩২ জন এবং নওগাঁর ৬টি আসনেও সমসংখ্যক প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। নোয়াখালীতে জামায়াতের ২ জনসহ ৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় সেখানে বর্তমানে ৪৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন। দিনাজপুরের ৬টি আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে ১৯ জন, শরীয়তপুরে ২১ জন এবং ঝালকাঠিতে প্রার্থী প্রত্যাহার পরবর্তী তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বহাল রয়েছেন। বিশেষ করে ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তৃণমূলের রাজনীতিতে রোমহর্ষক ঘটনার জন্ম হয়েছে নরসিংদীতে। নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। দলীয় কর্মীরা তাঁদের এই নেতাকে নিজ বাসভবনে আটকে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধা দেন, যার ফলে তিনি চূড়ান্ত তালিকায় বহাল রয়ে গেছেন। এই ধরণের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রতীক বরাদ্দের দিনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক আর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চিরচেনা রূপে ফিরবে সারা বাংলাদেশ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কেবল ভোট। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ের লড়াইয়ে নামার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।


পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:২১:৩৩
পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশমালা আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশমালা চূড়ান্ত হওয়ার ফলে সরকারি প্রশাসনের সর্বস্তরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে অর্থ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশনের এই প্রতিবেদন জমার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান কমিশনের অন্য সকল সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং তাঁর কাছে বিস্তারিত সুপারিশমালা তুলে ধরবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমার দেওয়ার পর সরকার এর বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যদিও প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অর্থ উপদেষ্টা, তবে তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীরা পে-স্কেল পেয়ে খুশি হবেন। এমন সুপারিশই প্রতিবেদনে থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে বেতন কমিশনের সুপারিশে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার সামনে প্রতিবেদনের নানা দিক ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করবেন। সরকারি প্রশাসনের কর্মচারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই প্রতিবেদনের অনুমোদনের ওপর, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সচ্ছলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৪:৫০:২০
পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশন আগামী বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র হস্তান্তর করবে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পে কমিশন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবারই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সুপারিশের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পে কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর তা পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে। বুধবারের এই রিপোর্ট জমা দেওয়াকে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-শরিফুল


চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ০৯:২৫:৫২
চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে আরও আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তোলার লক্ষ্যে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। নবম পে স্কেলের আওতায় বর্তমানের এই ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৫০ শতাংশ করার জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় দাপ্তরিক ও কারিগরি কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন। মূলত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় উৎসবের আমেজকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও প্রাণবন্ত করাই এই নতুন সুপারিশের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসবের খরচের তুলনায় এই হার অপ্রতুল বলে দাবি আসছিল বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের নতুন সুপারিশে এটিকে মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছে। কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে এই বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বোনাসের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, ঈদ বোনাসের কাঠামোতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরে প্রতিবেদনটি পেশ করার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

পে কমিশনের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, নবম পে স্কেলের সামগ্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবে এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশে উন্নীত হলে তা সরকারি কর্মচারীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতি চাঙা হওয়া এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবারের বৈঠকের পর এই ভাতার চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং এর পরেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। সরকারি প্রশাসনের সকল স্তরে এখন পে কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রয়েছে, যা দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর আর্থিক সচ্ছলতার সাথে সরাসরি যুক্ত।

পাঠকের মতামত: