জানেন কি? আজ স্ত্রী প্রশংসা দিবস, কেন এই দিনটি পালন করা হয়?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২১ ১১:২৭:৫১
জানেন কি? আজ স্ত্রী প্রশংসা দিবস, কেন এই দিনটি পালন করা হয়?
ছবি: সংগৃহীত

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে—এই প্রবাদটি বহু পুরোনো। তবে আধুনিক যুগে সংসার সুখের হয় স্বামী-স্ত্রী দুজনের প্রচেষ্টায়। যদিও পরিবারের গুরুদায়িত্বের অনেকটাই এখনো স্ত্রীর ওপর থাকে। তাই স্ত্রীকে সম্মান জানাতে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আজ একটি বিশেষ দিন। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ বা স্ত্রী প্রশংসা দিবস।

কীভাবে এলো এই দিবস?

২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এরপর থেকে এটি অনেক দেশেই পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের সম্মান জানানো, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। বিয়ের বয়স যত পুরোনোই হোক না কেন, সম্পর্ক সতেজ রাখতে স্ত্রীর প্রশংসা করা সব সময় জরুরি।

স্ত্রীর প্রশংসা করবেন যেভাবে

দিবসটি উদযাপনের জন্য এখানে কয়েকটি সহজ উপায় দেওয়া হলো:

উপহার দিন: স্ত্রীকে উপহার হিসেবে একটি ফুলের তোড়া দিতে পারেন। প্রতিদিন তিনি যে কাজের কথা মনে করিয়ে দেন, তা নিজে থেকে করে তাকে অবাক করে দিন।

একসঙ্গে ঘুরতে যান: সুযোগ পেলে স্ত্রীকে নিয়ে কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে পারেন বা ঘুরতে যেতে পারেন। এতে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আরও মধুর হবে।

কাজে সাহায্য করুন: ঘরের কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। এতে তিনি অনুভব করবেন যে তার কাজ সহজ নয়, যা তাকে খুশি করবে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনের দক্ষ হাতেই সংসার চলে। তবে আজকের দিনটি বিশেষ করে স্বামীদের জন্য। এ দিনে স্ত্রীর প্রশংসা করলে একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বাড়ে, এবং সম্পর্ক আরও ভালো থাকে।


কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১২:১১:০৯
কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
ছবি: সংগৃহীত

সবজি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য এক ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য, যা কম ক্যালরির হলেও উচ্চ পুষ্টিমান নিশ্চিত করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা একমত যে নিয়মিত ও বৈচিত্র্যময় সবজি গ্রহণ হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ বহু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবজিতে থাকা খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে।

সবজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো অত্যন্ত কম ক্যালরিযুক্ত হলেও ভিটামিন এ, সি ও কে-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনে সমৃদ্ধ। পাশাপাশি পটাশিয়াম, আয়রন ও ফলেটের মতো খনিজ উপাদান শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত সবজি খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।

পাতাজাতীয় সবজি যেমন পালং শাক, কেল ও লেটুস বিশেষভাবে পরিচিত তাদের উচ্চ পুষ্টিমান ও কম ক্যালরির জন্য। এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এ ছাড়া এতে থাকা আয়রন ও ফলেট রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ক্রুসিফেরাস বা ফুলকপি জাতীয় সবজি যেমন ব্রোকলি, বাঁধাকপি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটস ক্যানসার প্রতিরোধী গুণের জন্য পরিচিত। এসব সবজিতে সালফারজাতীয় যৌগ, বিশেষ করে সালফোরাফেন থাকে, যা শরীরের ক্ষতিকর কোষের বৃদ্ধি দমন করতে সহায়ক। একই সঙ্গে এগুলো ভিটামিন সি ও খাদ্যআঁশের চমৎকার উৎস, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

মূলজাতীয় সবজি যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, বিট ও মূলা শরীরের জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। গাজর ও মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে। অন্যদিকে বিটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে।

পেঁয়াজ, রসুন ও লিকের মতো অ্যালিয়াম শ্রেণির সবজি প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এসব সবজিতে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার যৌগ শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

আলু, ভুট্টা ও মটরশুঁটির মতো স্টার্চযুক্ত সবজি শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণে কার্যকর। আলুতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে কলার চেয়েও বেশি। মটরশুঁটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হওয়ায় নিরামিষভোজীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।

শসা, সেলারি ও টমেটোর মতো পানিসমৃদ্ধ সবজি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। এসব সবজির ক্যালরি অত্যন্ত কম হলেও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আবহাওয়ায় এগুলো বিশেষ উপকারী। টমেটোতে থাকা লাইকোপিন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। সবুজ, লাল, কমলা ও বেগুনি রঙের সবজি একসঙ্গে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রায় সব ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পেতে পারে। একরঙা খাদ্যাভ্যাসের চেয়ে বৈচিত্র্যময় সবজি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি কার্যকর।

সবজি কেবল পেট ভরানোর খাবার নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির উৎস। নিয়মিত সবজি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবজিকে প্রধান স্থান দেওয়ার বিকল্প নেই।

সূত্র: গুগল


ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৫৩:৫৬
ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রিজে রাখা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় বাজার থেকে আনা সবজি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কখনো সবজি নরম হয়ে যায়, কখনো আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে এটি একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ ফ্রিজ নয়, বরং সবজি সংরক্ষণের ভুল পদ্ধতি।

সবজি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক সমন্বয়। গবেষণা অনুযায়ী, অধিকাংশ সবজি সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা সবজির প্রাকৃতিক কোষগঠন ঠিক রাখে এবং পচন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তাপমাত্রা খুব কম হলে কিছু সবজিতে ‘চিলিং ইনজুরি’ দেখা দেয়, ফলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।

ফ্রিজের ক্রিসপার ড্রয়ার মূলত সবজি সংরক্ষণের জন্যই তৈরি। কিন্তু অনেকেই এর সঠিক ব্যবহার জানেন না। ক্রিসপার ড্রয়ারে সাধারণত দুটি সেটিং থাকে—উচ্চ আর্দ্রতা ও কম আর্দ্রতা। শাকপাতা, লেটুস, পালং, ধনেপাতা কিংবা পুদিনার মতো পাতাজাতীয় সবজি উচ্চ আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখা উচিত, কারণ এসব সবজির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে শসা, ক্যাপসিকাম, মরিচ কিংবা বিনসের মতো সবজি কম আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখলে তুলনামূলক বেশি দিন ভালো থাকে।

সবজি ফ্রিজে রাখার আগে ধোয়া উচিত কি না, এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ সবজি না ধুয়েই ফ্রিজে রাখা উত্তম। কারণ ধোয়ার পর যদি সবজি পুরোপুরি শুকানো না হয়, তাহলে ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটায়। তবে শাকপাতা জাতীয় সবজি চাইলে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া যায় এবং কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে রাখা যেতে পারে।

সবজি রাখার সময় ব্যাগ বাছাইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শক্ত প্লাস্টিক ব্যাগে সবজি ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, যা একটি বড় ভুল। শক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ বাতাস চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ভেতরে ঘাম জমে সবজি দ্রুত পচে যায়। তাই ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এতে একদিকে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় বাতাস চলাচলের সুযোগ পায়।

পাতাজাতীয় সবজি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। এগুলো ধুয়ে শুকিয়ে এয়ারটাইট কনটেইনারে রাখা যেতে পারে, তবে ভেতরে অবশ্যই কাগজের তোয়ালে দিতে হবে। এই তোয়ালে অতিরিক্ত পানি শুষে নেয় এবং সবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখে। সপ্তাহে একবার তোয়ালে পরিবর্তন করলে ফল আরও ভালো হয়।

মূলজাতীয় সবজি যেমন গাজর, মূলা কিংবা বিট রাখার আগে পাতা কেটে ফেলা জরুরি। পাতা রেখে দিলে তা মূল অংশের আর্দ্রতা শুষে নেয়। এসব সবজি প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায় অথবা পানিভর্তি কনটেইনারে ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে পানি ব্যবহার করলে প্রতিদিন তা পরিবর্তন করা আবশ্যক, নইলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

ব্রোকলি ও ফুলকপি তুলনামূলক সংবেদনশীল সবজি। এগুলো ফ্রিজে রাখার সময় হালকা মোড়ানো বা ছিদ্রযুক্ত ব্যাগে রাখা উচিত। সম্পূর্ণ খোলা রাখলে দ্রুত শুকিয়ে যায়, আবার পুরোপুরি মোড়া থাকলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেলারি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল সবচেয়ে কার্যকর। ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় সেলারি দীর্ঘদিন খাস্তা থাকে।

মাশরুম, ক্যাপসিকাম ও শসা এমন সবজি যেগুলো অতিরিক্ত আর্দ্রতায় খুব দ্রুত নষ্ট হয়। এগুলো ঢিলেঢালা কাগজের ব্যাগ বা এমন কনটেইনারে রাখা ভালো, যেখানে ভেতরে পানি জমবে না। ব্যাগ মুখে ক্লিপ লাগিয়ে হালকা খোলা রাখলে ঘনীভবন কম হয়।

পেঁয়াজ ও রসুন সাধারণত ফ্রিজের বাইরে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুকনো জায়গায় রাখা সবচেয়ে ভালো। তবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ফ্রিজেও রাখা যেতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা কনটেইনার ব্যবহার করতে হবে যাতে গন্ধ ছড়াতে না পারে।

ফল ও সবজি একসঙ্গে রাখাও সবজি নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। আপেল, কলা ও নাশপাতির মতো ফল থেকে ইথিলিন গ্যাস বের হয়, যা আশপাশের সবজিকে দ্রুত পাকিয়ে নষ্ট করে দেয়। তাই ফল ও সবজি আলাদা ড্রয়ার বা আলাদা শেলফে রাখা উচিত।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো ফ্রিজে অতিরিক্ত সবজি গাদাগাদি করে রাখা। এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে কিছু সবজি দ্রুত নষ্ট হয়। ফ্রিজে সবজি রাখার সময় সবসময় একটু ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে বাজারে বিশেষ ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য সবজি ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ব্যাগ পাতাজাতীয় সবজি সংরক্ষণে বিশেষভাবে কার্যকর। পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা এবং নষ্ট সবজি দ্রুত সরিয়ে ফেলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক নিয়ম মেনে সবজি সংরক্ষণ করলে শুধু খাবারের অপচয় কমে না, বরং পরিবারের খাদ্যব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একই সঙ্গে প্রতিদিন তাজা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে ফ্রিজের সবজিকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে।]


বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১২:১৬:৩৩
বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ
ছবি: সংগৃহীত

বিটরুট দেখতে সাধারণ একটি সবজি হলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে এটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আয়রন, ফলেট, নাইট্রেট, ফাইবার এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমন্বয়ে বিটরুটকে এখন অনেক পুষ্টিবিদ “ফাংশনাল ফুড” হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ এটি শুধু পেট ভরানোর খাবার নয়, বরং শরীরের নির্দিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বিটরুটের উজ্জ্বল লাল রঙের পেছনে রয়েছে বেটালেইন নামের এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

হিমোগ্লোবিন ও রক্তস্বল্পতায় বিটরুটের ভূমিকা

রক্তস্বল্পতা বাংলাদেশের মতো দেশে একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মধ্যে। বিটরুটে থাকা আয়রন ও ফলেট হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিয়ম মেনে খেলে এটি শরীরে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের পরিবেশ উন্নত করতে পারে।

যদিও বিটরুট কোনো ওষুধ নয়, তবু এটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত থাকলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হালকা মাত্রার আয়রন ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী একটি প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যে বিটরুট কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এই উপাদান রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত ও শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

এ কারণেই অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অল্প পরিমাণ বিটরুট খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক খাদ্য হিসেবে বিবেচ্য।

লিভার ডিটক্স ও শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা

লিভার মানবদেহের প্রধান ডিটক্স অঙ্গ। বিটরুটে থাকা বেটালেইন ও ফাইবার লিভারের এনজাইম কার্যক্রমকে সহায়তা করে, যার ফলে শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য ও টক্সিন বের হয়ে যেতে সহজ হয়।

নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিটরুট খেলে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে যারা ভাজাপোড়া বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খান, তাদের জন্য এটি সহায়ক একটি সবজি।

ত্বক, শক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় বিটরুট ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে ত্বক উজ্জ্বল থাকা, ক্লান্তিভাব কমে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে শরীরে প্রাণচাঞ্চল্য অনুভূত হওয়ার কথা অনেকেই বলেন।

এ ছাড়া বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়, ফলে হঠাৎ করে শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

পিরিয়ড হেলথ ও PCOS প্রসঙ্গে বিটরুট

নারীদের মাসিকজনিত দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতায় বিটরুট সহায়ক হতে পারে। পিরিয়ডের সময় শরীরে আয়রনের চাহিদা বাড়ে, সেখানে বিটরুট একটি প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।

PCOS-এর ক্ষেত্রে বিটরুট সরাসরি চিকিৎসা নয়, তবে ইনফ্লামেশন কমানো, লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং সামগ্রিক পুষ্টি জোগানোর মাধ্যমে এটি হরমোন ভারসাম্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

ডায়াবেটিসে বিটরুট: নিরাপদ না ঝুঁকিপূর্ণ

বিটরুটে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে, কিন্তু এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বাড়ায় না। তাই সীমিত পরিমাণে খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়।

তবে অতিরিক্ত খেলে বা জুস আকারে বেশি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কখন বিটরুটে সতর্কতা দরকার

যাদের কিডনিতে পাথরের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিটরুটে থাকা অক্সালেট সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে বেশি বিটরুট খেলে প্রস্রাব বা মলের রঙ লালচে হতে পারে, যা ভয়ের কিছু নয়।

রক্তে শর্করার ওঠানামা বেশি হলে বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

নিরাপদ পরিমাণ ও খাওয়ার সেরা উপায়

পুষ্টিবিদদের মতে, বিটরুট প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খাওয়া যথেষ্ট। একবারে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম, অর্থাৎ আধা ছোট বিটরুট নিরাপদ পরিমাণ হিসেবে ধরা হয়।

সবচেয়ে ভালো হলো স্যালাডে কাঁচা বা হালকা সেদ্ধ করে খাওয়া। জুস হিসেবে খেলে অল্প পরিমাণ নেওয়া উচিত এবং শসা বা গাজরের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। খালি পেটে বিটরুট জুস না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এতে রক্তে চিনি দ্রুত বাড়তে পারে।


গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমান: জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া সমাধান

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:১৬:৪৫
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমান: জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া সমাধান
ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন না, এমন মানুষ বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এসব ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ওষুধের বিকল্প হিসেবে ঘরোয়া উপায়ে এবং সঠিক খাদ্যতভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণত অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করার ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়।

দ্রুত প্রশান্তির উৎস পুদিনা পাতায় রয়েছে বিশেষ বায়ুনিরোধক ও পেট ঠান্ডা করার গুণ। এটি দ্রুত বুক ও পেট জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা এবং বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দিলেই কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া এক কাপ পানিতে ৪-৫টি পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে চা হিসেবে পান করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। স্বাদের জন্য এতে সামান্য মধুও মেশানো যেতে পারে।

প্রতিদিনের অভ্যাস অ্যাসিডিটির সমস্যা স্থায়ীভাবে কমাতে হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করলে পাকস্থলী পরিষ্কার হয় এবং গ্যাস জমার সুযোগ থাকে না।

প্রাকৃতিক অ্যাসিড নাশক আদার রস পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটি অনুভূত হলে এক টুকরো আদা সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খান। এছাড়া এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা ফুটিয়ে আদা-পানি তৈরি করে পান করতে পারেন। দ্রুত ফল পেতে দিনে ২-৩ বার এক চা চামচ আদার রস খাওয়া যেতে পারে।

হজমশক্তির সহায়ক পেটের ব্যথা ও হজমের জটিলতা কমাতে জিরা খুবই উপকারী। দেড় কাপ পানিতে এক চা চামচ করে জিরা, ধনে ও মৌরি গুঁড়ো এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিদিন প্রতিবেলা খাবারের পর এক গ্লাস পানিতে সামান্য জিরার গুঁড়ো মিশিয়ে অথবা জিরা ফোটানো পানি ছেঁকে নিয়ে খেলে দ্রুত গ্যাস দূর হয়।

তাৎক্ষণিক সমাধান লবঙ্গ পাকস্থলীর গ্যাস ও অ্যাসিডিটি দূর করার পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধও দূর করে। অ্যাসিডিটির কারণে অস্বস্তি হলে ২-৩টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এছাড়া সমপরিমাণ এলাচ ও লবঙ্গের গুঁড়ো হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে পেটের জ্বালাপোড়া দ্রুত কমে যায়।

খাদ্যাভ্যাসে এসব প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত করলে ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত হয়।


নারীর প্রতি সহমর্মিতা ও মর্যাদা: নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ০৯:৪০:১৯
নারীর প্রতি সহমর্মিতা ও মর্যাদা: নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা
ছবি : সংগৃহীত

সৃষ্টির শুরু থেকেই নারী-পুরুষের সামাজিক বিভাজন চলে আসছে, যার ফলে সমাজে নারীদের মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে বরাবরই বৈষম্যের শিকার হতে হয়। বর্তমানে আধুনিক ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় এই মান্ধাতা আমলের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও, তাদের অবদান ও অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চনা এখনো ঘোচেনি।

নারীদের সফলতাকে অনেক সময় কেবল প্রতীকী হিসেবে দেখা হয়, যা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। একজন মা হিসেবে সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের যে অসামান্য ত্যাগ নারী স্বীকার করেন, তার ঋণ শোধ করা অসম্ভব। ধর্মীয় অনুশাসনেও মায়ের চরণে বেহেশত রাখা হয়েছে। কিন্তু যাপিত জীবনে এই সম্মান কি সত্যিই তারা পাচ্ছেন? কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হওয়া গৃহশ্রমের কোনো অর্থনৈতিক বা সামাজিক মূল্যায়ন আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই গৃহশ্রমকে অস্বীকার করা নারীদের প্রতি এক ধরনের চিরস্থায়ী বঞ্চনা।

বর্তমানে শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়েও এগিয়ে আছে তারা। তাসত্ত্বেও সামাজিক কুসংস্কার ও বাল্যবিয়ের অভিশাপে অনেক মেধাবী প্রাণ অকালেই ঝরে যাচ্ছে। আইসিডিডিআরবি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাল্যবিয়েতে বাংলাদেশ এখনো এশিয়ায় শীর্ষে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, শ্রমবাজারেও নারীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের শ্রমশক্তিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।

কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ চাপ লক্ষ্য করা যায়; তারা দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি সংসার ও সন্তান সামলাচ্ছেন। অথচ তাদের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে-বাইরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে—নারীরা আসলে কোথায় নিরাপদ? বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যুক্ত হয়েছে অনলাইন হেনস্তার মতো নতুন আপদ।

আজকের আধুনিক বাংলাদেশে নারীরা শিক্ষকতা, চিকিৎসাসেবাসহ বৈচিত্র্যময় পেশায় এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছেন। নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সামাজিক অনুশাসন ও দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন জরুরি। শুধু নীতি নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং নারীদের জীবনযাপনে সেই নীতির প্রতিফলন ঘটছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তদারকি প্রয়োজন।


ওজন কমাতে লেবু পানির জাদু: জানুন স্বাস্থ্যসম্মত সঠিক সেবন বিধি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১০:০০:৪১
ওজন কমাতে লেবু পানির জাদু: জানুন স্বাস্থ্যসম্মত সঠিক সেবন বিধি
ছবি : সংগৃহীত

সুস্থ জীবনযাত্রার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে লেবু অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের মধ্যে সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করার প্রবণতা বেশ জনপ্রিয়। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখে।

সকালে নিয়মিত লেবু পানি পানের ফলে শরীরে ক্যালোরি ক্ষয় হয় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দূর হয় বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই অভ্যাসটি কেন প্রয়োজন, তার কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে আলোচনা করা হলো

প্রথমত, লেবুর রস পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

দ্বিতীয়ত, লেবুতে বিদ্যমান পেকটিন ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।

তৃতীয়ত, এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয় হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সাধারণ সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে। পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও ব্রণ দূর করতেও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং দ্রুত হাইড্রেট হতে লেবু পানি বেশ কার্যকর। এছাড়া এটি মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে শ্বাস-প্রশ্বাসে সতেজতা আনে।

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা থেকে এক চা চামচ পরিমাণ তাজা লেবুর রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে হবে। স্বাদে ভিন্নতা আনতে কেউ চাইলে এর সঙ্গে সামান্য মধু যোগ করতে পারেন।

লেবু পানি পানের নানাবিধ উপকারিতা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। যাদের আলসার বা তীব্র গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে অথবা দাঁতের এনামেল অতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে লেবু পানি পানের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


ডিম সেদ্ধ না কি ভাজা? সকালের নাস্তায় সেরা পুষ্টির আসল রহস্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ০৯:৫০:১১
ডিম সেদ্ধ না কি ভাজা? সকালের নাস্তায় সেরা পুষ্টির আসল রহস্য
ছবি : সংগৃহীত

সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার এবং সেই তালিকার শীর্ষে থাকে ডিম। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রায় ৭২ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, বি-১২ ও রিবোফ্লাবিন যা শরীরের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। তবে প্রশ্ন হলো, আপনি এটি কীভাবে খাচ্ছেন? পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম খাওয়ার ধরন অনুযায়ী এর উপকারিতায় কিছুটা পার্থক্য তৈরি হয়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান এবং কম ক্যালরিতে বেশি পুষ্টি খুঁজছেন, তাদের জন্য সেদ্ধ ডিম হচ্ছে আদর্শ বিকল্প। সেদ্ধ ডিম রান্না করতে কোনো বাড়তি তেল বা চর্বির প্রয়োজন হয় না বলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ পুরোপুরি অক্ষুণ্ন থাকে। বিশেষ করে সেদ্ধ ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

অন্যদিকে, ভাজা ডিম বা অমলেট অনেকের কাছেই স্বাদের দিক থেকে প্রথম পছন্দ। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম কেবল মুখরোচকই নয়, এটি শিশু ও কিশোরদের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ করে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, সেদ্ধ ডিমের তুলনায় ভাজা ডিমে ফসফরাসের পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। তবে ভাজা ডিমের মূল সমস্যাটি তৈরি হয় রান্নার তেলে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলে ডিম ভাজলে তাতে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ভাজা ডিমের স্বাদ নিতে চাইলে অল্প তেল বা মাখন ব্যবহার করার এবং সাথে প্রচুর শাকসবজি যোগ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিটামিন ও খনিজের দিক থেকে বিচার করলে সেদ্ধ ও ভাজা ডিম প্রায় সমান পুষ্টি দিলেও যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তাদের জন্য সেদ্ধ ডিমই নিরাপদ। আবার মাঝেমধ্যে স্বাদের পরিবর্তনের জন্য হালকা তেলে ভাজা ডিম খাওয়াতেও তেমন কোনো বাধা নেই। মূলত ডিম যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি ক্যালরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকেন, তবে ডিম ভাজা বা সেদ্ধ—যেকোনোটিই আপনার নাস্তার টেবিলে জায়গা পেতে পারে। তবে সুস্থ হার্ট আর ছিপছিপে শরীরের জন্য তেল ছাড়া সেদ্ধ ডিমই চিকিৎসকদের প্রথম পছন্দ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


ড্রাগন ফল খেলে শরীরে কী কী উপকার হয়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ০৯:২৯:০৬
ড্রাগন ফল খেলে শরীরে কী কী উপকার হয়
ছবি: সংগৃহীত

রঙিন খোসা, সাদা বা লাল শাঁস আর অসংখ্য ছোট কালো বীজে ভরা ড্রাগন ফল বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ড্রাগন ফল খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হজমের উন্নতি, হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাগন ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সমন্বয় শরীরের ভেতরে কোষগত সুরক্ষা জোরদার করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে উচ্চ জলীয় উপাদান শরীরকে রাখে হাইড্রেটেড, অথচ ক্যালরি কম হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি উপকারী।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য

শুধু দৃষ্টিনন্দন বলেই নয়, বরং ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিপুল পুষ্টিগুণের কারণেই এই ফলকে আধুনিক পুষ্টিবিদরা “প্রাকৃতিক সুপারফুড” হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

ড্রাগন ফলে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড ও বেটাসায়ানিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নিস্ক্রিয় করে কোষের ক্ষয় ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, হৃদ্‌রোগ এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ফাইবারের শক্তিশালী উৎস

এই ফলে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এটি গাট হেলথ উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে।

ভিটামিনের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার

ড্রাগন ফল ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। এতে থাকা বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ক্লান্তি ও অবসাদ কমাতে সাহায্য করে।

প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান

ড্রাগন ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, যা হাড় ও পেশীর শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া এতে থাকা আয়রন লোহিত রক্তকণিকা গঠনে সহায়ক, যা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে।

ড্রাগন ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ড্রাগন ফল এমন একটি প্রাকৃতিক খাদ্য, যা নিয়মিত ও পরিমিতভাবে গ্রহণ করলে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। যেমন-

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার

ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে মৌসুমি সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।

হজম ও অন্ত্রের সুস্থতা

ড্রাগন ফল অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সুরক্ষা

এই ফলের ফাইবার ও বীজে থাকা উপকারী ফ্যাট রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বক ও চুলের যত্ন

ড্রাগন ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল রাখে, বলিরেখা ও দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। নিয়মিত খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র ও প্রাণবন্ত থাকে।

হাড় ও দাঁতের শক্তি

ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়জনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ড্রাগন ফলের ফাইবার শর্করার শোষণ ধীর করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

কম ক্যালরি, বেশি হাইড্রেশন

উচ্চ জলীয় উপাদান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে ক্যালরি কম হওয়ায় এটি ডায়েট মেনে চলা মানুষের জন্য আদর্শ ফল।

চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা

ড্রাগন ফলে থাকা বিটা-ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে বিবেচিত।

কীভাবে ড্রাগন ফল খাদ্যতালিকায় যুক্ত করবেন

ড্রাগন ফল কাঁচা খাওয়া যায়। এছাড়া স্মুদি, ফলের সালাদ, দই বা ওটসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুটোই বাড়ে। গরমকালে ঠান্ডা ডেজার্ট হিসেবেও এটি জনপ্রিয়।

সতর্কতা

ডায়াবেটিস বা নির্দিষ্ট খাদ্যসংবেদনশীলতা থাকলে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত গ্রহণের আগে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করা উচিত।

ড্রাগন ফল রোগপ্রতিরোধ থেকে শুরু করে ত্বক, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও হজম সব দিকেই এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সুস্থ জীবনযাপনের পথে ড্রাগন ফল হতে পারে সহজ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর একটি সংযোজন।


প্রতিদিন সকালে হাঁটলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ০৯:১৭:০২
প্রতিদিন সকালে হাঁটলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে
ছবি: সংগৃহীত

সকালে নিয়মিত হাঁটা শুধু একটি সাধারণ ব্যায়াম নয়; এটি শরীর ও মনের জন্য একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যচর্চা। আধুনিক জীবনের চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার প্রবণতায় যখন নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা বাড়ছে, তখন সকালের হাঁটা হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে সঠিক নিয়মে হাঁটলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও মানসিক চাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিশেষ করে খালি পেটে সকালবেলার হাঁটা চর্বি কমাতে বেশি কার্যকর বলে ধরা হয়। কারণ, রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের গ্লাইকোজেন বা তাৎক্ষণিক শক্তির মজুত কম থাকে। ফলে হাঁটার সময় শক্তির উৎস হিসেবে শরীর জমে থাকা চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে ফ্যাট বার্নের হার বাড়ে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

সকালের হাঁটার শারীরিক উপকারিতা

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্ন

সকালে নিয়মিত হাঁটা ক্যালরি খরচ বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটলে ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমতে শুরু করে। ডায়েটের সঙ্গে হাঁটা যুক্ত হলে ওজন কমানোর ফল আরও টেকসই হয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষা

হাঁটা হলো হার্টের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যায়ামগুলোর একটি। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় বলে চিকিৎসকরা মত দেন।

ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ

সকালের হাঁটা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এর ফলে শরীর রক্তে থাকা শর্করা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটা রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য

হাঁটা অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়ায়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। সকালে হাঁটার পর অনেকেরই পেট পরিষ্কার হয়, যা সারাদিন শরীরকে হালকা রাখে।

পেশী ও হাড়ের দৃঢ়তা

নিয়মিত হাঁটা পায়ের পেশী, কোমর ও হাঁটুর জয়েন্টকে শক্তিশালী করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, হাঁটা তা ধীর করে দেয়। বিশেষ করে মধ্যবয়স ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম হিসেবে হাঁটা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও শরীর দ্রুত সেরে ওঠে।

সকালের হাঁটার মানসিক উপকারিতা

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমানো

সকালে হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রকৃতির আলো-বাতাসে হাঁটা মনকে শান্ত করে এবং উদ্বেগ দূর করে।

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো

হাঁটার ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। এতে মানসিক সতর্কতা বৃদ্ধি পায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত হয় এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে।

ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক

যারা নিয়মিত সকালে হাঁটেন, তাদের রাতে ঘুম সাধারণত গভীর ও স্বাভাবিক হয়। শরীরের জৈবঘড়ি সঠিকভাবে কাজ করায় ঘুমের সমস্যা কমে।

সারাদিনের শক্তি ও ইতিবাচকতা

সকালে হাঁটা দিনের শুরুতেই শরীরকে সক্রিয় করে তোলে। এর প্রভাব থাকে সারাদিন কাজের উদ্যম বাড়ে, ক্লান্তি কম লাগে এবং মনোভাব থাকে ইতিবাচক।

কখন ও কতক্ষণ হাঁটবেন

সূর্যোদয়ের পরপরই হাঁটা সবচেয়ে উপকারী। এ সময় বাতাস তুলনামূলক নির্মল থাকে এবং পরিবেশ শান্ত থাকে। নতুনদের জন্য শুরুতে ১৫–২০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৩০–৪৫ মিনিটে নেওয়া যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কীভাবে হাঁটা শুরু করবেন

শুরুতেই হঠাৎ দ্রুত হাঁটা ঠিক নয়। প্রথম ৫ মিনিট ধীরে হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে শরীর গরম করে নেওয়া উচিত। এতে পেশীতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং আঘাতের ঝুঁকি কমে। হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতা পরা জরুরি এবং দেহভঙ্গি সোজা রাখা উচিত। হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের হাঁটা এমন একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, যার জন্য আলাদা কোনো যন্ত্রপাতি, জিম বা বড় খরচের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শরীর সুস্থ থাকে, মন প্রফুল্ল হয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকতে চাইলে সকালের হাঁটাকে দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।

পাঠকের মতামত: