সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আটকে আছে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব: বিটিআরসি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা এখনো বহাল থাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আন্তর্জাতিক এসএমএস খাত থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পতনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে বিটিআরসি জয়ের সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) চালু হলেও আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা এর আওতার বাইরে রেখে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের (এমএনও) হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ লাইসেন্সিং গাইডলাইনস এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা নীতিমালা (আইএলডিটিএস) অনুযায়ী ইন্টারনেট ছাড়া সব আন্তর্জাতিক সেবা আইজিডব্লিউর মাধ্যমে পরিচালনা করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর চাপের কারণে বিটিআরসি তার নিজের প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
২০১৭ সালে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা আইএলডিটিএস নীতিমালার অধীনে আনার জন্য উদ্যোগ নেয় এবং একটি খসড়া পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের অক্টোবরে বিটিআরসি যখন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনুমোদন চায়, তখন তিনি এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি নতুন নীতিমালা আসবে—এই অজুহাত দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা মোবাইল অপারেটরদের হাতেই রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার সেই মতামতই এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক আদেশ হিসেবে বহাল আছে।
বর্তমানে প্রতি মাসে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে গড়ে ৩ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক ইনকামিং এটুপি এসএমএস (অ্যাপ্লিকেশন টু পারসন) বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, মাসে এর আয় ২৪ লাখ ডলার। তবে মোবাইল অপারেটরদের থেকে বিটিআরসি সর্বোচ্চ মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার আয় করতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী যদি আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা আইজিডব্লিউর মাধ্যমে পরিচালিত হতো, তবে বিটিআরসি শুধু আইজিডব্লিউ থেকেই ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় করতে পারত। মোবাইল অপারেটর এবং আইসিএক্স থেকেও আসত আরও ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে বিটিআরসির মাসিক আয় দাঁড়াত কমপক্ষে ১২ লাখ ৫ হাজার ডলার, যা বর্তমান আয়ের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। এই হিসাবে সরকার বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিটি বিদেশি মোবাইল অপারেটর তাদের বিদেশে অবস্থিত সহপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তর্জাতিক এটুপি এসএমএস পরিচালনা করছে। এটি একদিকে যেমন আইএলডিটিএস নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন, অন্যদিকে তা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে পাচারের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়াও, এ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
আইজিডব্লিউ অপারেটরদের সংগঠনের (আইওএফ) প্রেসিডেন্ট আসিফ সিরাজ রব্বানী বলেন, “নীতিমালা অনুযায়ী আমরা আন্তর্জাতিক ভয়েস কলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসায় প্রবেশাধিকার পাব ধরে নিয়েই ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় আমরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।” তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই খাতে সুযোগ না দিয়ে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ বলেন, “আমরা পুরো সেক্টরটাই সংস্কার করার চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক এসএমএস নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটা নির্দেশনা ছিল। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। এ মাসের শুরুর দিকেও আমি স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সবার প্রস্তাব পাওয়ার পর, যেটা ভালো হয় ও সরকারের রাজস্ব বাড়ে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে তিনি বছরে ২০০ কোটি টাকা রাজস্ববঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন।
যাকাত দিয়েই দারিদ্র্য দূর করার পরিকল্পনা: নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুপরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি রমজানেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। সাধারণত রমজানের শুরুতেই আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে এই আয়োজন করা হয়। তবে দেশের চলমান বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এবার একটু দেরিতে এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রয়োজনীয়তার কারণে এবারের রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। চলতি রমজানে মাত্র দুটি রাষ্ট্রীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের শেষ ইফতার আয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ইফতার মাহফিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হলো এতিম শিশুরা। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিম ও অসহায় মানুষের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন, তাহলে পিতৃহারা শিশুরাও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাবে।
রমজান মাসের শিক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই মাস ত্যাগ, সংযম ও সহমর্মিতার মাস। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র এই মাসে মানুষের কষ্টের কারণ না হয়ে বরং মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
যাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ যাকাত আদায় হয়। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত দেওয়া হয়। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি বলেন, যাকাতের এই বিপুল অর্থ সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে বণ্টন না হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ইসলামী বিধান অনুযায়ী যাকাত এমনভাবে বণ্টন করা উচিত, যাতে একজন যাকাতগ্রহীতা প্রথম বছর সহায়তা পাওয়ার পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণের প্রয়োজন না পড়ে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে তাদের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজে বিত্তবানদের সচেতন করতে আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা হলে যাকাত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
তারেক রহমান বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্বের কাছে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
ইফতার মাহফিলে দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শায়খ আহমেদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব মুফতি আব্দুল মালেক এবং বিশিষ্ট ইসলামি আলেম শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। এছাড়াও বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক, ইসলামিক স্কলার, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং এতিম শিশুরা এই ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নেওয়া প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আল্লাহর কাছে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করে তার বক্তব্য শেষ করেন।
শামিম/২০২৬/৩-৭৭৭৩
নারীর সমান অধিকারই হবে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আসন্ন ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং সম্মান নিশ্চিত করে একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে মূলধারার বাইরে রেখে রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে তিনি উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশের ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৯৪ সালে পূর্ণাঙ্গ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ছিল মাইলফলক। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর বিষয়টিকে তিনি একটি 'বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত' হিসেবে আখ্যা দেন।
বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম এবং ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। নারীর অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ইতোমধ্যে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সবশেষে সমতা ও মর্যাদাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
/আশিক
তেল সংকটের গুজব নিয়ে সতর্কবার্তা: আতঙ্কে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সোহানুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ আসছে। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল পাম্পে ভিড় না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আগামীকাল থেকে তেল মজুত বা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্বেগের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, “যে সংশয়টি জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না। কারণ বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আবহ রয়েছে। কিন্তু আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অযথা লাইনে দাঁড়ানোরও প্রয়োজন নেই।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত কয়েকদিনে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। অনেক ক্রেতাই স্বীকার করেছেন যে তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই প্রবণতা পরিস্থিতিকে অকারণে জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত তেল মজুতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্যই আগামীকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের জন্য একটি চাপ তৈরি করছে। স্বাভাবিকভাবেই এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব যেন দেশের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং তেলের দাম বাড়াতে না হয়।”
শেষে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ও সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল না করে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
রমজান ও ঈদে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে: ইশরাক হোসেন
আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
বাজার পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র এই মাসে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পণ্য কেনাবেচায় ন্যায্যমূল্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈদকে পুঁজি করে কোনো অসাধু চক্র যাতে অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু থাকবে। জনস্বার্থে এই অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
পণ্যমূল্যের পাশাপাশি জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ করে বর্তমান গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার এই সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন ঈদের আগেই যাতে সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সুবিধা পায়, সে জন্য কার্যকর ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
ভোট কারচুপি না হলে প্রতিপক্ষ এত ভোট পেত না: মির্জা আব্বাস
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, মুরুব্বিদের শিক্ষা অনুযায়ী মিথ্যা বলা যেমন মহাপাপ, তেমনি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে বদনাম করাও বড় অপরাধ। তিনি সবাইকে এই ধরনের নেতিবাচক কাজ থেকে দূরে থাকার এবং অন্যদেরও দূরে রাখার আহ্বান জানান।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল মাঠে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রমনা থানা বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায়।
বক্তব্য চলাকালে মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচন ও ভোট কারচুপি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে যদি ডিজিটাল জালিয়াতি বা ইঞ্জিনিয়ারিং না হতো, তবে তাঁর এলাকায় প্রতিপক্ষের এত ভোট পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ওই আসনের নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ডে তাঁর প্রতিপক্ষের কোনো আত্মীয় আছে কি না তা তারা বলতে পারবে না, অথচ তিনি নিজে নাম ধরে বলে দিতে পারবেন কারা তাঁকে ভোট দিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা রাত জেগে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোট রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তা না হলে সব কেন্দ্রে ব্যালট সিল মেরে নিয়ে যাওয়া হতো। একটি বিশেষ কৌশলে নির্বাচন পরিচালনা করে এখন দোষ বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর এলাকায় পরাজিত হওয়ার কোনো ইতিহাস নেই এবং আওয়ামী লীগের আমলে যে কোনো প্রকৃত নির্বাচন হয়নি তা সবারই জানা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজন থাকায় তাঁর ভোটের কোনো অভাব নেই। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত ভোট না পেয়েও কীভাবে প্রতিপক্ষ এত বিপুল ভোট পেল? তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে তা তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম।
রমনা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেনের সঞ্চালনায় এই ইফতার মাহফিলে ঢাকা মহানগর ও স্থানীয় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
আপসহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি: অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত প্রয়াত খালেদা জিয়া
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কার্যক্রম ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর আওতায় তাঁকে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অকুতোভয় নেতৃত্ব প্রদান এবং গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই বিশেষ পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মোট পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজন অদম্য নারীকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এবারের তালিকায় রয়েছেন অর্থনৈতিক সাফল্যে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোছা. ববিতা খাতুন এবং সফল জননী হিসেবে নুরবানু কবীর। এছাড়া নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুনভাবে জীবন গড়া মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা নারী মোছা. আফরোজা ইয়াসমিনকেও ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
/আশিক
ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট: আজ মিলছে ১৬ মার্চের আসন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শুক্রবার (৬ মার্চ) অগ্রিম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিন।
আজ বিক্রি হচ্ছে আগামী ১৬ মার্চের ট্রেনের টিকিট। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার শতভাগ অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন সময়ে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ১৬ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর একই দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
কোন তারিখে কোন টিকিট
ঈদুল ফিতরের আগে ট্রেনের ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ মার্চ। এছাড়া ৬, ৭, ৮ ও ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে যথাক্রমে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট। এ ছাড়া ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে। সেদিন পাওয়া যাবে ২৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট। এরপর ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চের ট্রেনের টিকিট।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনার পদ্ধতি
যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই অগ্রিম ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কিনতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।
লগইন করার পর ভ্রমণের তারিখ, যাত্রার প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন এবং ভ্রমণের শ্রেণি নির্বাচন করে ‘Find Ticket’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর পরবর্তী পেজে ট্রেনের নাম, ট্রেন ছাড়ার সময় এবং আসন খালি আছে কি না—এসব তথ্য দেখা যাবে। সেখান থেকে পছন্দের ট্রেনের ‘View Seats’ অপশনে গিয়ে খালি আসন থাকলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিট নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘Continue Purchase’ বাটনে ক্লিক করে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
টিকিটের মূল্য পরিশোধ করা যাবে ভিসা কার্ড, মাস্টারকার্ড বা বিকাশের মাধ্যমে। পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হলে একটি ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে এবং একই সঙ্গে যাত্রীর ই-মেইলেও টিকিটের কপি পাঠানো হবে।
পরবর্তীতে ই-মেইল থেকে টিকিটটি প্রিন্ট করে এবং সঙ্গে একটি ফটো আইডি নিয়ে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
/আশিক
সংহতির বার্তা নাকি কৌশলী কূটনীতি? প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ আলাপ
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর সামরিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে দুই নেতার মধ্যে এই একান্ত ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সালেহ শিবলী জানান, আলাপকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার জন্য এবং তার আন্তরিক উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রেস সচিব আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সালেহ শিবলী আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি এবং ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান।
প্রেস সচিব বলেন, ফোনালাপ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এই ফোনালাপের জন্য এবং তার দেশের পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর এর মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিবলী আরও জানান, বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থার গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
/আশিক
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা এই নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের জন্য ১২টি বিশেষ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো
১. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।
৮. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন: লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
১০. সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
১১. জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে।
১২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- যাকাত দিয়েই দারিদ্র্য দূর করার পরিকল্পনা: নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- আমরা বিশ্বের উপকার করছি! ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি
- কুমিল্লায় কাঁচাবাজার পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি বিপর্যয় রুখতে ডা. শফিকের ৩ দফা পরামর্শ
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত; মার্কিন সেনাদের বড় বিপর্যয়
- নারীর সমান অধিকারই হবে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খামেনি পরবর্তী ইরানের হাল ধরবেন কে? দ্রুত ঘোষণার দাবি শীর্ষ দুই আয়াতুল্লাহর
- হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি
- আত্মসমর্পণ নাকি রণকৌশল? ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের পাল্টা হামলার রহস্য কী?
- সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয়
- প্রতিবেশীদের ওপর আর হামলা নয়, হঠাৎ নমনীয় সুর ইরানি প্রেসিডেন্টের!
- ইফতারে পুষ্টিকর ও মুখরোচক ভেজিটেবল কাটলেট: সহজ রেসিপি
- তেল সংকটের গুজব নিয়ে সতর্কবার্তা: আতঙ্কে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
- রমজান ও ঈদে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে: ইশরাক হোসেন
- ইফতারে চিনির শরবত নাকি গুড়ের? কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি নিরাপদ?
- ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন
- মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
- প্রতিবেশী দেশে হামলা করা নিয়ে ইরানের নতুন সিদ্ধান্ত
- ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা
- আত্মগোপন থেকে ফিরেই আলভীর বোমা: ইকরার মৃত্যু ও ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
- ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
- ভোট কারচুপি না হলে প্রতিপক্ষ এত ভোট পেত না: মির্জা আব্বাস
- আপসহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি: অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত প্রয়াত খালেদা জিয়া
- ভাড়া বাসায় চলত জাল নোটের কারবার, গোয়েন্দা জালে ধরা কারিগর
- সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
- আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রার কত দাম
- তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
- আপস না করাই আজ নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়
- শনিবারে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ত সূচি: টিভিতে আজকের খেলা
- মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন
- আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- “প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
- বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা
- ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট: আজ মিলছে ১৬ মার্চের আসন
- মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
- সংহতির বার্তা নাকি কৌশলী কূটনীতি? প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ আলাপ
- অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলার নতুন মীরজাফর: মো. তাহের
- বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস








