৫০০ মিটার গভীরে খনন: অ্যান্টার্কটিকার কাদামাটি থেকে মিলবে অজানা তথ্য

ভয়ংকর ঠাণ্ডা, শক্তিশালী বাতাস এবং জমাট বাঁধা সমুদ্রের মধ্যে একদল দুঃসাহসী বিজ্ঞানী অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্রের তলদেশ থেকে মূল্যবান কাদামাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই নমুনা বিশ্লেষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন, তিমি শিকার এবং সামুদ্রিক জীবনের এক অজানা ইতিহাস উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকরা একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করেছেন। এই খননের মাধ্যমে তাঁরা যে নলাকৃতির কাদামাটি (কোর) সংগ্রহ করেছেন, তা এখন বিশ্লেষণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।
এই কাদামাটির স্তরগুলো অনেকটা বরফ বা মাটির স্তরের মতোই বছরের পর বছর ধরে নানা ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করে। গবেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ১৯৫০ সালের আগের জলবায়ু, দূষণ এবং সামুদ্রিক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।
তিমির শরীরে প্রচুর পরিমাণে কার্বন থাকে। বিজ্ঞানীরা জানতে চান, তিমি শিকার শুরুর আগে সমুদ্রের তলদেশে কতটা কার্বন জমা হতো এবং শিকার শুরু হওয়ার পর তার পরিমাণ কতটা কমে গেছে। এজন্য কাদামাটির নমুনায় তিমির ডিএনএ এবং কার্বনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করা হবে।
তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীবনের মাধ্যমে কার্বন আটকে রাখা গেলে তা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এই কাদামাটির নমুনা আমাদের দেখাবে কীভাবে তিমি’র মতো বড় প্রাণীরা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
সূত্র : বিবিসি
সমুদ্রের ৩১ হাজার ফুট নিচে প্রাণের সন্ধান
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের এই গভীর অঞ্চলে তারা এমন এক বাস্তুতন্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে কেমোসিন্থেসিস নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণীরা শক্তি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। গবেষকদের দাবি, এটিই এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে গভীর কেমোসিন্থেটিক জীবনের আবাসস্থল।
এই অঞ্চল সূর্যালোক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সেখানকার তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি এবং পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ বেশি। এত প্রতিকূল পরিবেশেও জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া, গবেষকদের কাছে অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানের মতোই রোমাঞ্চকর বিষয় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের তৈরি ফেন্ডৌজে সাবমার্সিবল নামের ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণী ও জীবাণু সূর্যের আলো ছাড়াই মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে।
নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব জীবের আবিষ্কার পৃথিবীতে প্রাণের টিকে থাকার জৈবিক সীমা এবং অভিযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। সমুদ্রের এত গভীরে টিকে থাকা প্রাণীজগত ভবিষ্যতে চরম পরিবেশে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে আরও গবেষণার পথ খুলে দেবে বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল: রহস্য, ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (যাকে ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গলও বলা হয়) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি কাল্পনিক ত্রিভুজাকার অঞ্চল, যেখানে লোকমুখে বলা হয়ে থাকে যে ৫০টির বেশি জাহাজ এবং ২০টিরও বেশি বিমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে এই এলাকাকে ঘিরে নানা ঘটনার কিংবদন্তি গড়ে উঠেছে এবং অদ্ভুতভাবে জাহাজ-উড়োজাহাজ উধাও হয়ে যাওয়ার গল্প জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
অবস্থান ও ভৌগোলিক সীমা
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মূলত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি অঞ্চলের ধারণাগত নাম। এর সুনির্দিষ্ট সীমানা সর্বজনস্বীকৃত নয়, তবে সাধারণভাবে এই ত্রিভুজের কোণ তিনটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি উপকূল, আটলান্টিকের বারমুডা দ্বীপ, এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান। এই বিন্দুগুলোকে যোগ করলে সমুদ্রে একটি প্রশস্ত ত্রিভুজাকৃতি এলাকা গঠিত হয়, যার মোট আয়তন বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ১৩,০০,০০০ থেকে ৩৯,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার হতে পারে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি স্বীকৃত অঞ্চল নয়; যুক্তরাষ্ট্রের ভূগোল নামকরণ বোর্ড এই নামে কোনো স্থানকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং আনুষ্ঠানিক মানচিত্রেও এটির সীমারেখা চিহ্নিত নেই।
ছবি: মানচিত্রেবারমুডা ট্রায়াঙ্গল
ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ নিখোঁজ ঘটনা
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যের ইতিহাস উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। তখন থেকেই মাঝে মাঝে এমন প্রতিবেদনের কথা শোনা গেছে যে কিছু জাহাজ সমুদ্রে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে কিংবা কোনো বিপদ সংকেত পাঠানো ছাড়াই হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিংশ শতকের মধ্যভাগ থেকে এই অঞ্চলে একের পর এক নিখোঁজির ঘটনার কাহিনি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং “বারমুডা ট্রায়াঙ্গল” একটি আলোচিত রহস্যে পরিণত হয়। নিম্নে এ পর্যন্ত আলোচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিখোঁজ ঘটনার তালিকা তুলে ধরা হলো:
এইচএমএস এটলান্টা (১৮৮০): রয়্যাল নেভির প্রশিক্ষণ帆 জাহাজ এটলান্টা (পূর্ব নাম এইচএমএস জুনো) ৩১ জানুয়ারি ১৮৮০ তারিখে বারমুডা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্যালমাউথের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর পূর্ণ ক্রুসহ অদৃশ্য হয়ে যায়। ধারণা করা হয় পথিমধ্যে এক প্রবল ঝড়ে জাহাজটি ডুবে যায়, যদিও পরবর্তীতে অনেকেই এটিকে ট্রায়াঙ্গলের রহস্যময় নিখোঁজের অংশ বলে প্রচার করেছিলেন।
ইউএসএস সাইক্লোপ্স (১৯১৮): মার্কিন নৌবাহিনীর কয়লা বহনকারী জাহাজ ইউএসএস সাইক্লোপ্স বার্বাডোস দ্বীপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে মার্চ ১৯১৮ সালে ৩০৬ জন ক্রুসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিল। যুদ্ধকালীন শত্রুদের আক্রমণ, ঝড় অথবা অতিরিক্ত ভারের কারণে জাহাজের কাঠামোগত ভাঙ্গনসহ নানা কারণ অনুমান করা হলেও কোনোটির পক্ষেই দৃঢ় প্রমাণ মেলেনি এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষও আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ক্যারল এ. ডিয়ারিং (১৯২১): পাঁচ-মাস্তওয়ালা বাণিজ্যিক পালতোলা জাহাজ ক্যারল এ. ডিয়ারিং ৩১ জানুয়ারি ১৯২১ তারিখে নর্থ ক্যারোলাইনার কাছাকাছি ডায়মন্ড শোলস অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষসহ আটকে থাকতে দেখা যায়, কিন্তু জাহাজটিতে একজনও ক্রু উপস্থিত ছিল না। তদন্তে জলদস্যুতা, নাবিকদের বিদ্রোহ, রাম চোরাচালানসহ নানা সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও কী কারণে জাহাজটি পরিত্যক্ত হয়েছিল তার নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা মেলেনি।
ফ্লাইট ১৯ (১৯৪৫): এটি ছিল পাঁচটি টিবিএম অ্যাভেঞ্জার টর্পেডো বোমারু বিমানের একটি নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ মিশন, যারা ৫ ডিসেম্বর ১৯৪৫ তারিখে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করার পর আটলান্টিকের উপর দিক নির্ধারণে বিভ্রান্তিতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। নৌবাহিনীর তদন্তে ধারণা করা হয় যে দিকভ্রান্ত হয়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে বিমানগুলো সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই বিমানের খোঁজে পাঠানো একটি উদ্ধারকারী PBM মেরিনার উড়োজাহাজও বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে নিখোঁজ হয় এবং ১৩ জন উদ্ধারকর্মীরও কেউ জীবিত ফেরত আসেননি।
স্টার টাইগার ও স্টার এরিয়েল (১৯৪৮–১৯৪৯): ব্রিটিশ সাউথ আমেরিকান এয়ারওয়েজের দুইটি যাত্রীবাহী বিমান স্টার টাইগার (৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮) এবং স্টার এরিয়েল (১৭ জানুয়ারি ১৯৪৯) আটলান্টিক উড়ানে চলাকালীন হঠাৎ রেডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রথমটি অ্যাজোরেস থেকে বারমুডাগামী ও দ্বিতীয়টি বারমুডা থেকে জ্যামাইকার পথে ছিল। দুটো বিমানই তাদের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত জ্বালানি নিয়ে উড়ছিল এবং সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি বা নাবিকদের ভুল দিকচ্যুতি ঘটালে ছোট দ্বীপ লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ত বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেন। কোনো বিমানটিরই ধ্বংসাবশেষ সন্ধান করা যায়নি।
ডগলাস ডিসি-৩ (১৯৪৮): ২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৮ তারিখে সান জুয়ান (পুয়ের্তো রিকো) থেকে মিয়ামিগামী একটি চার্টার্ড ডগলাস ডিসি-৩ বিমান (নম্বর NC16002) ৩২ জন আরোহীসহ আচমকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানটি কি কারণে হারিয়ে গেল তা নির্ণয়ের মতো পর্যাপ্ত তথ্য তদন্তকারীরা পাননি, এবং এটিও বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে।
ছবি: বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সমুদ্রগর্ভে বিলিন হওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ
উপরোক্ত ঘটনাসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অনেক নৌযান ও উড়োজাহাজের দুর্ঘটনা বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সাথে জুড়ে জনশ্রুতিতে স্থান পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে বহু ক্ষেত্রে এগুলো প্রকৃতপক্ষে খারাপ আবহাওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মানবিক ভুলের ফল হলেও জনমনে “রহস্য” হিসেবে বেশি স্মরণীয় হয়ে থাক।
জনপ্রিয় তত্ত্ব ও কল্পনাবারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ঘটনাগুলোর জন্য নানা জনপ্রিয় তত্ত্ব ও কল্পনাপ্রবণ ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। গণমাধ্যম ও লোককাহিনীতে বারবার উঠেছে এমন কিছু কাল্পনিক তত্ত্ব নিচে উল্লেখ করা হলো:
ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) কর্তৃক অপহরণ: অনেকের বিশ্বাস, এলিয়েনরা গবেষণার জন্য মানুষ বা যানবাহনকে অপহরণ করে থাকে এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকা এসব ভিনগ্রহবাসীদের ক্রিয়াকলাপের একটি হটস্পট হতে পারে। উড়ন্ত সাজ এবং অদ্ভুত আলো দেখার দাবিও মাঝে মাঝে এই এলাকার সাথে যুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আটলান্টিসের ডুবে যাওয়া মহাদেশের প্রভাব: কিংবদন্তি মহাদেশ আটলান্টিস আটলান্টিক মহাসাগরে তলিয়ে গেছে বলে যাদের বিশ্বাস, তারা মনে করেন আটলান্টিসের অবশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা শক্তির ক্ষেত্র বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাহামার বিমিনি দ্বীপের উপকূলের রহস্যময় প্রস্তর কাঠামো “বিমিনি রোড” কেউ কেউ আটলান্টিসের সড়ক বলে রটনা করেন, যদিও ভূতত্ত্ববিদদের মতে এটি প্রাকৃতিক গঠন।
টাইম ওয়ার্প বা অন্য মাত্রায় প্রবেশ: কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকায় সময় ও স্থান বাস্তবতার বিকৃতি ঘটে; অর্থাৎ এখানে এক ধরনের টাইম ওয়ার্প বা সমান্তরাল ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গমস্থল রয়েছে, যেখানে প্রবেশ করলে জাহাজ-উড়োজাহাজ অন্য কোন কাল-মাত্রায় হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি “ভূতুড়ে ত্রিভুজে” প্রবেশ করে ভিন্ন সময়ে পৌঁছে যাওয়ার কাহিনিও কল্পনায় শোনা যায়।
কল্পনা থেকে এনিমেটেড ছবি
অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক শক্তি: ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গল নামটিই ইঙ্গিত করে অনেকের ধারণায় এটি কোন শয়তানি বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আখড়া। কিছু লেখক দাবি করেছেন এই অঞ্চলে এমন অজানা শক্তি কাজ করে যা কম্পাস বিকল করে দেয়, যন্ত্রপাতি অচল করে দেয় কিংবা মানুষকে বুদ্ধিভ্রষ্ট করে ফেলে। ভূত-পেত্নীর অভিশাপ থেকে শুরু করে সমুদ্রের দানব—এ ধরনের নানা অলৌকিক ব্যাখ্যাও লোকমুখে প্রচলিত।
এই সব তত্ত্বের পক্ষে বাস্তব প্রমাণ না থাকলেও সত্তরের দশকে জনপ্রিয় বই, চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে এগুলো ব্যাপক প্রচার পায় এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যকে ঘিরে জনинтерес আরও বাড়িয়ে তোলে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণালব্ধ তথ্য
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অনুসন্ধানে যেসব বাস্তবসম্মত কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কম্পাসের চৌম্বক বিচ্যুতি: অনেক নিখোঁজ ঘটনার বর্ণনায় কম্পাস অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করেছে বলে দাবি করা হয়। আসলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে চৌম্বক উত্তর ও ভৌগোলিক উত্তরের মধ্যে প্রাকৃতিক ভ্রম থাকেই, এবং বারমুডা অঞ্চলেও কম্পাসের দিক কিছুটা পরিবর্তিত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। কিছু পুরনো নাবিক হয়তো এ বিষয়ে কম জ্ঞাত ছিলেন এবং ভুল করে কম্পাসের নির্দেশনা মেনে পথভ্রষ্ট হন। তবে আধুনিক জরিপে ঐ অঞ্চলে কোনো অস্বাভাবিক চৌম্বকীয় অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
সাগরের স্রোত (গাল্ফ স্ট্রিম): এই ত্রিভুজাক্ষেত্রের ভেতরে গাল্ফ স্ট্রিম নামের একটি প্রবল সাগরধারা মেক্সিকো উপসাগর থেকে উত্তরমুখী হয়ে প্রবাহিত হয়। একটি নৌযান ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকলে বা ছোট বিমানের সমুদ্রে اضطرকালী অবতরণ ঘটলে এই স্রোত সেটিকে মূল অবস্থান থেকে বহুদূরে টেনে নিয়ে যেতে পারে। ফলে দুর্ঘটনাস্থলের ভুল হিসেবের কারণে পরবর্তীতে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
মানবিক ভুল: সমুদ্র ও আকাশপথে ঘটে যাওয়া বহু দুর্ঘটনার মূল কারণই মানবীয় ভুল বা অবহেলা বলে তদন্তে দেখা গেছে। অভিজ্ঞতার অভাব, ভুল সিদ্ধান্ত, দুর্বল নকশার জাহাজ কিংবা পাইলটের দূর্নিবার জেদ - এসব কারণে খারাপ আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার উদাহরণ আছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবসায়ী হার্ভি কোনোভার ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ তারিখে ঝড়ের মধ্যে জোর করে নিজের ইয়ট নিয়ে রওনা হলে সেটিও ফ্লোরিডা উপকূলে ডুবে যায়।
প্রচণ্ড আবহাওয়া ও ঝড়: আটলান্টিক মহাসাগরের এই অংশে ট্রপিক্যাল ঘূর্ণিঝড় ও হারিকেন প্রায়শই আঘাত হানে, যা অতীতে হাজারো প্রাণহানি ও জাহাজডুবির কারণ হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক আবহাওয়া সতর্কতার যুগের আগে, হঠাৎ করে উদয় হওয়া হারিকেনে সতর্কবার্তা ছাড়াই বহু জাহাজ নিমেষে ডুবে যেত। এছাড়া বজ্রঝড় থেকে সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক ডাউনড্রাফট বা মাইক্রোবার্স্টও সমুদ্রপৃষ্ঠে বোমার মতো আঘাত হেনে জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। ১৯৮৬ সালে Pride of Baltimore নামক জাহাজ এমন এক ভয়ানক প্রবল বায়ুর ধাক্কায় ডুবে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
দৈত্যাকার ঢেউ: সমুদ্রের বুকে খুব কমই হলেও হঠাৎ অত্যন্ত বিশাল আকারের ঢেউ জন্ম নিতে পারে, যাকে রোগ ঢেউ বলা হয়। এই ঢেউ সাধারণ সমুদ্রের তরঙ্গ থেকে বহু গুণ বড় (১০০ ফুট বা তারও বেশি উচ্চতা) হতে পারে এবং শিকারকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না রাখার ক্ষমতা রাখে। বারমুডা অঞ্চলে বহুমুখী ঝড়-ঝঞ্ঝার মিলনক্ষেত্র হওয়ায় এমন ঢেউ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে কিছু জাহাজ বা বিমানের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এমন বিরল প্রকৃতির বিশাল ঢেউ দায়ী থাকতে পারে।
মিথেন গ্যাসের উদ্গিরণ: সমুদ্রতলের নিচে প্রচুর পরিমাণে জমাট বাঁধা মিথেন হাইড্রেট গ্যাস রয়েছে, যা কোনো কোনো সময় হঠাৎ বড় বুদবুদ আকারে পানির মধ্যে মুক্ত হতে পারে। গবেষণাগারে দেখা গেছে, মিথেন গ্যাসের বিস্তর বুদবুদ পানির ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে এবং এর মধ্যে কোনো জাহাজ পড়লে তা হঠাৎ নিমজ্জিত হয়ে যেতে পার। এধরনের গ্যাস উদ্গিরণের ফলে জাহাজডুবি ঘটলে ধ্বংসাবশেষ দ্রুত তলিয়ে যায় বা স্রোতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) জানিয়েছে যে গত ১৫,০০০ বছরে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকায় এ ধরনের বিশাল মিথেন উদ্গিরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উপরের কারণগুলো ছাড়াও আরও নানা বাস্তব কারণ (যেমন যান্ত্রিক ত্রুটি, আগুন, আটকে পড়া ইত্যাদি সাধারণ দুর্ঘটনা) অনেক তথাকথিত রহস্যময় ঘটনার নেপথ্যে ছিল। কিন্তু মানুষের মন সাধারণ কারণের বদলে অজানা এবং রোমাঞ্চকর কারণকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখে বলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে জল্পনা কল্পনা দীর্ঘদিন ধরে টিকে ছিল।
রহস্যেরপ্রভাব
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্যের গল্প বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও populaire সংস্কৃতিতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল এবং জনমনে ভীতি ও কৌতূহল দুটোই তৈরি করেছিল।
গণমাধ্যম ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে: ১৯৭০-এর দশকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে একপ্রকার ক্রেজ সৃষ্টি হয়েছিল। এই সময়ে বিখ্যাত লেখক চার্লস বার্লিৎস ১৯৭৪ সালে The Bermuda Triangle নামে একটি বেস্টসেলার বই প্রকাশ করেন, যা বিশ্বব্যাপী ২০ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয় এবং জনসাধারণের কল্পনাশক্তিকে উসকে দেয। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Scooby-Doo কিংবা Wonder Woman-এর এপিসোডে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের প্রসঙ্গ এসেছে, ভিনসেন্ট প্রাইস বর্ণিত ১৯৭৪ সালের তথ্যচিত্র The Devil’s Triangle-এ নানা তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে, এমনকি বারি ম্যানিলো (১৯৮১) ও ফ্লিটউড ম্যাক (১৯৭৪) ব্যান্ডের গানে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের উল্লেখ রয়েছে। এসবের ফলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্যটি বিশ্বজনীন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়। পত্র-পত্রিকায়, সিনেমায় এবং সাহিত্যেও এ রহস্যের উল্লেখ বহুবার এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উদ্দীপনা ও শিহরণ জাগিয়ে তোলে।
জনমনে ভীতি ও কৌতূহল: বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের গল্পগুলি একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তেমনি অনেকের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও জাগিয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী জাহাজ বা বিমানে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করবেন যাঁরা, কখনও কখনও তারা অমূলক ভীতিতে ভোগেন। বাস্তবে যদিও এই ত্রিভুজ এলাকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত অসংখ্য জাহাজ ও উড়োজাহাজ নির্ঘাতপূর্বক যাতায়াত করছে এবং কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে না, তবু লোককাহিনি এবং মিডিয়ার প্রভাবে মানুষের মনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে ঘিরে এক রহস্যময় বিপদের ধারণা থেকে গেছে। এমনকি আধুনিক যুগে শিশুরাও কখনও কখনও বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়, ফলে অভিভাবকদের তাদের ভুল ধারণা ভাঙতে হয় বলে শোনা যায়। এসবই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মিথের গণমনের উপর প্রভাবের উদাহরণ।
পর্যটন ও বাস্তবতা: ভয়ের পাশাপাশি বারমুডা ট্রায়াঙ্গল পর্যটন সংশ্লিষ্ট কৌতূহলের বিষয়ও হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক বরং এই রহস্যময় এলাকাকে কাছ থেকে দেখতে আগ্রহী। বাস্তবে আজকের দিনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে ঘিরে কোনো বাস্তব বিপদ না থাকায় ক্রুজ জাহাজ কোম্পানিগুলি নিশ্চিন্তে এই পথ দিয়ে চলাচল করে এবং কিছু পর্যটন প্যাকেজে “বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ট্যুর” বলে আকর্ষণও তৈরি করা হয়। আধুনিক নৌপরিবহন ও বিমান চলাচলের জন্য এই অঞ্চল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত, তাই ইচ্ছুক পর্যটকরা ভয়ের বদলে রোমাঞ্চের স্বাদ নিতেই এখানে আসেন।
সমসাময়িক দৃষ্টিকোণ
আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আর ততটা রহস্যময় নয়, যতটা আগে ভাবা হত। বহু বছরের তদন্ত ও পরিসংখ্যান থেকে বিশেষজ্ঞদের সার্বিক মত হলো:
বিশ্বমানের অন্যান্য সমুদ্রপথের তুলনায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে দুর্ঘটনা বা নিখোঁজের ঘটনা সংখ্যাগতভাবে বেশি নয়। মার্কিন নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে বলেছে যে এখানে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ঘটনাগুলো প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক পরিস্থিতি ও মানবীয় ভুলের সাধারণ ফলাফল – এর পিছনে অলৌকিক কিছু নেই । কোনো সরকারি সংস্থার রেকর্ডে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আলাদা করে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নয় এবং আনুষ্ঠানিক মানচিত্রে এর সীমানা চিত্রিত করা হয় না। আধুনিক জিপিএস ন্যাভিগেশন, উন্নত আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে জাহাজ ও বিমান এখন সমুদ্রে অনেক নিরাপদ এবং নজরদারির মধ্যে চলাচল করে। তাই আগে যেসব ঘটনা রহস্যে ঢেকে ছিল সেগুলোরও অধিকাংশ ব্যাখ্যা উদঘাটিত হয়েছে বা সহজ ব্যাখ্যা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এক সময় যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে ‘মৃত্যুত্রিভুজ’ বলে ভয় করা হত, আজ তা বাস্তবে নির্ঝঞ্ঝাট ও পর্যটনবান্ধব এলাকা – রহস্যের চেয়ে যার গুরুত্ব এখন রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক কিংবদন্তি হিসেবেই বেশি। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হল মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়া একটি নগরকথা (আর্বান লেজেন্ড), যার পেছনে বাস্তবিক বিশেষত্বের চেয়ে মানুষের ভুল ধারণা এবং গল্প বলার প্রবণতাই বেশি দায়ী।
সেন্ট মার্টিন ও বঙ্গোপসাগর: ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ভূকেন্দ্র
বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। মিয়ানমার, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক রাষ্ট্রের আগ্রহে এ দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলটি এখন পরিণত হয়েছে একটি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার হটস্পটে।
মিয়ানমারের আগ্রাসী দাবি ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
২০১৮ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় এবং মিয়ানমার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (MIMU) -এর ওয়েবসাইটে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে মিয়ানমারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি দ্বীপের বাসিন্দাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে দেখানো হয়। বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এই দাবি প্রত্যাহার করা হলেও এটি মিয়ানমারের সুদূরপ্রসারী কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ২০০৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দাউই কোম্পানিকে মিয়ানমার যে এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য পাঠিয়েছিল, তা বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি হওয়ায় দুটি দেশের নৌবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।
সামরিক প্রেক্ষাপট ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রহ
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি স্থাপন পরিকল্পনার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি অস্বীকার করেছে এবং সামরিক বিশ্লেষকরাও দ্বীপটির ছোট আকার ও ভৌগলিক কাঠামোর কারণে এর সামরিক ব্যবহার উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তথাপি এসব আলোচনা প্রমাণ করে যে বঙ্গোপসাগরের প্রতি পরাশক্তিদের নজর বাড়ছে।
বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও চীনের প্রবেশ
চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে তারা দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। তবে মালাক্কা প্রণালীর উপর মার্কিন ও ভারতীয় নজরদারি এবং সেনা ঘাঁটি থাকার কারণে চীনের বিকল্প রুট খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে একটি বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি পথ গড়ে তোলাই চীনের অন্যতম কৌশল।
চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) এবং মেরিটাইম সিল্ক রোড (MSR)-এর অংশ হিসেবে চীন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও সোনাদিয়া বন্দর উন্নয়নে চীনের আগ্রহ থাকলেও, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সোনাদিয়ায় চীনের সঙ্গে চুক্তিতে না গেলেও, চীন মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সফল হয়েছে।
ভারতের পাল্টা কৌশল ও বাংলাদেশের ভূমিকা
ভারতও তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে চেয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। ২০১৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি লাভ করে। পাশাপাশি মিয়ানমারের কালাদান নদীর মোহনায় ভারতের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ চলছে, যা তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধির জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের জবাবে ভারত ২০১৪ সালে "Act East" নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির আওতায় মিয়ানমার ভারতের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি, যার ফলে চীন-ভারত প্রতিযোগিতা সেখানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
সামরিক প্রতিযোগিতা ও সাবমেরিন রাজনীতি
বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করে, যার ফলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ভারত মিয়ানমারকে সাবমেরিন বিধ্বংসী টরপেডো এবং একটি রাশিয়ান সাবমেরিন সরবরাহ করে। এ থেকেই বোঝা যায় বঙ্গোপসাগর ঘিরে সামরিক প্রতিযোগিতা কীভাবে গভীরতর হচ্ছে এবং কৌশলগত সামরিক ভারসাম্য কীভাবে গঠিত হচ্ছে।
জাপানের ভূরাজনৈতিক অনুপ্রবেশ
এই অঞ্চলে চীন-ভারত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি জাপানও সক্রিয় হয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপানের বিনিয়োগ এবং এটি থেকে যুক্ত হওয়া বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (BIG-B) প্রকল্প বাংলাদেশের লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ এবং শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: প্রতীকী গুরুত্ব ও বাস্তবতা
যদিও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে সেন্ট মার্টিনের কৌশলগত গুরুত্ব সীমিত, তথাপি এটি প্রতীকী দিক থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের একতরফা দাবি, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত আগ্রহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশের উচিত হবে কূটনৈতিক এবং সামরিক প্রস্তুতি যুগপৎভাবে জোরদার করা।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং তার আশপাশের জলসীমা বর্তমানে একটি জটিল ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে পরিণত হয়েছে, যেখানে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির অনেক কৌশল নির্ধারিত হবে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশকে কৌশলগত দূরদর্শিতা, নিরপেক্ষতা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকায় অভ্যস্ত হতে হবে যেন সেন্ট মার্টিন এবং বঙ্গোপসাগর—এই দুই ভূভাগ ও জলসীমা তার সার্বভৌম স্বার্থের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সমুদ্রের অতল গহ্বরে নাসার গুপ্ত অভিযান: মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন চাবিকাঠি?
এটি কোনো বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনি নয়। এটি কোনো হলিউডি থ্রিলারও নয়। এটি বাস্তব— ঠান্ডা, অন্ধকার, চাপময় ও রহস্যে মোড়ানো বাস্তবতা। পৃথিবীর সমুদ্রের গহ্বরে নামছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, সেই মহাসাগরের ভেতরকার প্রাণজগত, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং হাইড্রোথার্মাল চিমনির মতো গঠনগুলোকে অন্বেষণ করতে, যার সম্ভাব্য প্রতিচ্ছবি পাওয়া যেতে পারে শত্রু শক্তির নজরে থাকা মহাকাশের ইউরোপা বা এনসেলাডাসের বরফঘেরা চাঁদে।
এই অভিযান শুধুই বৈজ্ঞানিক নয়, এটি এক স্ট্র্যাটেজিক প্রচেষ্টা। নাসা কেবল পৃথিবী নিয়ে ভাবছে না, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে মহাকাশে জীবনের উপস্থিতির প্রমাণ পেলে তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই গোয়েন্দা কৌশল তৈরিরও। এমন এক সময়ে, যখন ইরান প্রতিনিয়ত নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াচ্ছে, এমনকি মহাকাশেও নিজস্ব অবস্থান তৈরির পথে এগিয়ে চলেছে, তখন নাসার এই সমুদ্রাভিযান এক অন্যরকম বার্তা বহন করে।
মহাসাগর ও মহাকাশ: ছায়ায় ভরা দুই জগত
সমুদ্রের অতল এবং মহাকাশ- এই দুই স্থানই মানুষের কাছে অপরিচিত, রহস্যময় ও শ্বাসরুদ্ধকারী। উভয় জায়গাতেই আলো প্রবেশ করে না, অক্সিজেন নেই, এবং উভয় ক্ষেত্রেই প্রবল চাপ বা শূন্যতার কারণে মানুষ নিজে উপস্থিত থাকতে পারে না। সেখানে কাজ করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র এবং অত্যাধুনিক গবেষণা। একদিকে যেমন মহাকাশে রয়েছে বৃহস্পতির ইউরোপা কিংবা শনির এনসেলাডাস, অন্যদিকে ঠিক তেমনি পৃথিবীর হ্যাডাল জোনে (৬০০০ থেকে ১১০০০ মিটার গভীর) রয়েছে অসংখ্য জীবপ্রজাতি, জীবরস ও গোপন প্রক্রিয়া, যেগুলো আমাদের ধারণা পাল্টে দিতে পারে।
SUBSEA প্রকল্প ও নাসার সমুদ্রঘেঁষা পরিকল্পনা
নাসার SUBSEA (Systematic Underwater Biogeochemical Science and Exploration Analog) প্রকল্প সেই সূত্রেই গঠিত হয়েছে, যেখানে সমুদ্রের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টগুলোকে মহাকাশে সম্ভাব্য প্রাণের বাসস্থান হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে ভেন্ট থেকে নির্গত রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যেই গড়ে উঠেছে এক নতুন বাস্তুতন্ত্র। এই ধারণাই মহাবিশ্বে 'চন্দ্র-সমুদ্র'তে প্রাণের অস্তিত্বের বাস্তবতা তৈরি করছে।
SeaSat থেকে ওরফিয়াস পর্যন্ত
১৯৭৮ সালে SeaSat ছিল নাসার প্রথম সমুদ্র পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ঢেউ, তাপমাত্রা, এবং স্রোতের তথ্য দিয়েছিল। এরপর আসে NEEMO (NASA Extreme Environment Mission Operations) প্রকল্প, যেখানে নাসার নভোচারীরা ফ্লোরিডার উপকূলে পানির নিচে অবস্থিত Aquarius গবেষণাগারে মহাকাশের অনুরূপ পরিস্থিতিতে জীবনধারণ ও কাজ করার প্রশিক্ষণ নেন। এখানেই মহাকাশচলাচল, যানবাহির কর্ম এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা অর্জন হয়।
NEEMO-র সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে Orpheus, একটি ক্ষুদ্র ও অটোনোমাস সাবমেরিন, যা ক্যামেরা ও কম-শক্তির সেন্সর ব্যবহার করে সমুদ্রের অন্ধকার জগতে অন্বেষণ চালাতে সক্ষম। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি একদিন ইউরোপার বরফ-ঢাকা সমুদ্রেও নামতে পারে।
হ্যাডাল জোন: এক নরকের নামান্তর
সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর অঞ্চল — হ্যাডাল জোন, যা গ্রীক পুরাণের মৃতের দেবতা হেডিস-এর নামে নামকরণ। সেখানে চাপ এমন যে মানুষের দেহের কোষ পর্যন্ত গুঁড়িয়ে যেতে পারে। এখানেই প্রথম ১৯৭৭ সালে আবিষ্কৃত হয় হাইড্রোথার্মাল চিমনি, যার চারপাশে ছিল জীবনে পূর্ণ এক জগৎ। সূর্যের আলো ছাড়াই এখানে জীবজগৎ বেড়ে উঠেছে 'কেমোসিন্থেসিস' নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই অঞ্চলেই দেখা গেছে বিশাল "বিগফিন স্কুইড", টিউবওয়ার্ম, অতিকায় অ্যামফিপড প্রজাতির জীব — যাদের আচরণ ও গঠন এমন, যেন ভিনগ্রহের প্রাণী।
যেখানে ভয় সেখানে সাহস: নাসার নতুন মিশন
২০১৪ সালে নিরেউস নামের ROV একবার গিয়ে ফিরতে পারেনি। চাপের কাছে হার মেনেছিল। কিন্তু নাসা থেমে থাকেনি। তৈরি করেছে Orpheus, যা আরও হালকা, বেশি চটপটে এবং বহুগুণ বেশি স্থিতিশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ — নেটওয়ার্ক গঠন করে এই ধরণের সাবমেরিন দিয়ে হ্যাডাল অঞ্চল ম্যাপিং ও জীবনের খোঁজ। এ যেন এক গুপ্তচরবৃত্তির পরিকল্পনা — মহাসাগরের অন্ধকারে চলে এক নিঃশব্দ গোয়েন্দা যুদ্ধ।
মহাকাশের চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা
বৃহস্পতির ইউরোপা ও শনির এনসেলাডাস — এই দুই চাঁদে রয়েছে বরফের নিচে বিশাল সমুদ্র। গ্যালিলিও ও ক্যাসিনি যানে প্রাপ্ত চৌম্বক ও প্লাম-তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপার পৃষ্ঠের নিচে রয়েছে লবণাক্ত পানিতে ভরা গভীর মহাসাগর। এমনকি এনসেলাডাস থেকে দেখা গেছে গিয়েসার-সদৃশ বরফগলিত জল মহাকাশে ছিটিয়ে পড়ছে। ক্যাসিনি যখন এই জলরাশি সংগ্রহ করেছিল, সেখানে জৈব উপাদান মিলেছে, যা প্রাণের পূর্বশর্ত।
ক্রায়োবট: বরফগলা ভবিষ্যৎ
এই চাঁদগুলোতে পৌঁছাতে হলে দরকার এমন যন্ত্র, যা বরফ গলিয়ে সমুদ্রের গভীরে যেতে পারে। এই লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে ক্রায়োবট — একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত রোবট, যা বরফ ভেদ করে নিচে নামবে, আর সাথে নিয়ে যাবে ক্যামেরা ও সেন্সর। উপরের পৃথিবীর সাথে সংযোগ রক্ষা করতে একটি দীর্ঘ কেবলও থাকবে। মূল লক্ষ্য: জীবনের অস্তিত্ব প্রমাণ করা।
গভীর সমুদ্র থেকে মহাশূন্যে
এখন প্রশ্ন — নাসা কেন এসব করছে? উত্তর নিহিত আছে এক রহস্যে: মহাশূন্যে প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কার হলে, তা প্রথম কারা দেখবে, বিশ্লেষণ করবে, নিয়ন্ত্রণ করবে? এসব অভিযান শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, এক কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক লড়াই। ঠিক যেমন ইরান তার বিজ্ঞানচর্চা ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে। মহাকাশ ও সমুদ্র — উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পৃথিবীর গভীর মহাসাগরের রহস্য আমাদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। নাসার এই অভিযান শুধু বিজ্ঞান নয়, বরং এক প্রতীক — যেখানে জীবন কেবল সূর্যের আলোর মধ্যেই নয়, বরং অন্ধকার, ঠান্ডা, চাপময় পরিবেশেও বিকশিত হতে পারে। এই ধারণা যদি সত্যি হয়, তবে ইউরোপা বা এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা নয় — সম্ভাব্য বাস্তবতা। এবং সেই বাস্তবতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটাই পরবর্তী লড়াইয়ের মঞ্চ নির্ধারণ করবে।
নাসার সমুদ্র অভিযান তাই আর নিছক সমুদ্রবিজ্ঞান নয় — এটি এক নিঃশব্দ যুদ্ধ, এক কৌশলগত অভিযান এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।
সমুদ্রের অতল গভীরে চীনের অভিযাত্রা: এক বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অদৃশ্য রূপ ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা
পৃথিবীর বুকে এমন এক জায়গা রয়েছে, যেখানে এখনও মানুষের পা পড়েনি, সূর্যের আলো পৌঁছায় না, আর প্রতিটি বর্গ ইঞ্চিতে চাপ সৃষ্টি করে হাতির ওজনের সমতুল্য একটি বল। সেই স্থানটি হলো ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ — বিশ্বের সবচেয়ে গভীর সমুদ্রগহ্বর, যা প্রায় ১১,০০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। একে বলা হয় পৃথিবীর শেষ অববিষ্ট সীমান্ত, যেখানে চীনের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে এক নিঃশব্দ কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতা।
যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব সমুদ্র গবেষণায় বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে, তখন চীন বিপরীত পথে হাঁটছে। তারা সমুদ্রের অতলে পাঠাচ্ছে রোবট, তৈরি করছে পানির নিচে গবেষণা ঘাঁটি, আর অনুসন্ধান করছে সেইসব সম্পদের, যেগুলোর উপর আধিপত্য ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে।
অজানা জগতের দ্বারপ্রান্তে
ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ফিলিপাইনের পূর্বে অবস্থিত একটি বিশালাকার সামুদ্রিক খাদ। এর গভীরতম স্থান চ্যালেঞ্জার ডিপ, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার নিচে। এই গভীরতায় নামতে হলে সমুদ্রের বিভিন্ন স্তর পেরোতে হয়— সূর্যালোকপূর্ণ ফোটিক জোন, গোধূলি মেসোপেলাজিক জোন, তারপরে পুরোপুরি অন্ধকার মিডনাইট জোন, এবং শেষমেশ হেডাল জোন।
এই অঞ্চলগুলোতে প্রচণ্ড ঠান্ডা, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা, এবং ৪০০-৬০০ গুণ বেশি জলচাপ বিরাজ করে। অথচ এখানেই দেখা মেলে অদ্ভুত ও রহস্যময় প্রাণীর, যারা আত্মপ্রকাশ করে আলোর সাহায্য ছাড়াই, বেঁচে থাকে রাসায়নিক শক্তিতে, কিংবা মৃত তিমির দেহ থেকে জন্ম নেয় সম্পূর্ণ একটি ক্ষুদ্রজীবজগত।
এখানে রয়েছে জেনোফোর নামের এককোষী প্রাণী, হালকা, নমনীয় দেহের শুঁয়োপোকার মতো কিছু রোবটসদৃশ চিংড়ি, এমনকি কিছু এমন জীব, যারা কোটি বছর ধরে বদলাতে বদলাতে এই নিঃসীম অন্ধকারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
বিজ্ঞান নয়, এবার লক্ষ্য শক্তি ও সম্পদ
চীন প্রথমবার ২০২০ সালে নিজস্ব সাবমেরিন ফেন্দৌঝে-কে চ্যালেঞ্জার ডিপে পাঠিয়ে ইতিহাস তৈরি করে। কিন্তু এটি ছিল শুরু মাত্র। এরপর তারা যেটা করল তা ছিল একেবারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি— বারবার ফিরে আসার মতো অভিযানে মনোযোগ। তারা ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় রোবট বানাল, যেগুলো মানুষ ছাড়াই চলতে পারে, সমুদ্রের তলদেশে ঘুরে বেড়াতে পারে, তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসতে পারে।
২০২৪ সালের মধ্যেই তারা রোবট বহর তৈরিতে মনোযোগ দেয়। এখন এই রোবটগুলো সমুদ্রের তলায় একসঙ্গে কাজ করছে— কেউ স্যাম্পল নিচ্ছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ তথ্য পাঠাচ্ছে। ব্যয় কম, গতি বেশি, আর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজস্ব।
এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র প্রাণিজগৎ বোঝা নয়। সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে অপরিসীম সম্পদ— যেমন, পলিমেটালিক নডিউল (তামা, কপার, নিকেল, কোলবাল্টে সমৃদ্ধ), মিথেন হাইড্রেট বা ফায়ার আইস, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া রয়েছে কোল্ড সিপস, যেখান থেকে রাসায়নিক গ্যাস বেরিয়ে আসে এবং তার চারপাশে গড়ে ওঠে সৌরশক্তি ছাড়া জীবন্ত জীবজগৎ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমন পরিবেশ হয়তো বৃহস্পতি বা শনির উপগ্রহেও রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলগুলো শুধুই জীববিজ্ঞান নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি ও মহাকাশ গবেষণার পরীক্ষাগার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযান নয়, এটি এক বৈশ্বিক পুনর্বিন্যাসের শুরু
এই সাগরতলীয় প্রতিযোগিতা কেবল বৈজ্ঞানিক নয়। এটি একধরনের কৌশলগত শক্তি-প্রতিষ্ঠা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মহাসাগর সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা NOAA-র বাজেট কমিয়ে ফেলছে, সেখানে চীন তার বিপরীতে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করছে।
চীন গড়ে তুলছে জলতলের গবেষণা ঘাঁটি, যেখানে একসঙ্গে ছয়জন বিজ্ঞানী এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। এটি মূলত সমুদ্রতলীয় স্পেস স্টেশন, যা দীর্ঘমেয়াদে ডেটা সংগ্রহ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, ও খনিজ উত্তোলনের প্রস্তুতির জন্য নির্মিত।
আর এর মাধ্যমে চীন সময় পাচ্ছে— অগ্রগামী হওয়ার সময়, অভিজ্ঞতা অর্জনের সময়, এবং অন্য কেউ সেখানে পৌঁছানোর আগেই প্রস্তুত থাকার সময়।
যেসব হুমকি নিচে অপেক্ষা করছে
তবে এর পাশাপাশি রয়েছে গভীর উদ্বেগ। এই গভীর সাগরীয় পরিবেশটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। যেখানে একবার ক্ষত সৃষ্টি হলে, তা সহস্রাব্দেও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। মিথেন উত্তোলনের সময় ছোট একটি ভুল বিশাল আকারের জলপৃষ্ঠ ধস বা মিথেন নির্গমণ ঘটাতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
আর রয়েছে ডিপ সি ইন্টারনেট কেবল— সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচ দিয়ে ছড়িয়ে থাকা এই কেবলগুলো আমাদের ইন্টারনেট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এমনকি সামরিক যোগাযোগের স্নায়ুতন্ত্র। সামান্য একটি নোঙর কিংবা একটি কৌশলগত আঘাত এই কেবলগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে।
২০২৫ সালে চীন এক ধরনের রোবট প্রকাশ করে, যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল মেরামতের জন্য নির্মিত। কিন্তু নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রযুক্তি নীরবে কেবল বিচ্ছিন্ন করতেও সক্ষম — যা হতে পারে আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর হুমকির একটি।
বিশ্ব যখন পিছাচ্ছে, চীন তখন নেতৃত্বে
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যেখানে বিজ্ঞানীদের জন্য তহবিল বন্ধ করছে, চীন সেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি, এবং তরুণ বিজ্ঞানী তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তারা শুধু নিজেদের প্রতিভাই নয়, বিশ্বের শীর্ষ মেধাকেও আকর্ষণ করছে।
এই মুহূর্তে চীন শুধু অনুসন্ধান করছে না, তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। তারা তৈরি করছে এমন প্রযুক্তি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, যা পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে নিরবিচারে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম।
একটি যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন
এই মহাসাগরীয় প্রতিযোগিতা কেবল একটি দেশের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব। আমরা চাইলে চাঁদের মতো এই গভীরতাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে। কারণ, একবার যদি এই গভীরতা ধ্বংস হয়, তার ফলাফল শুধু পরিবেশগত নয়, মানব সভ্যতার উপরও পড়বে।
আজ যখন চীন সাগরের গভীরতা অনুসন্ধান করছে, তারা শুধু জীবন নয়, প্রবেশের পথ ও থাকার কারণ খুঁজে পেয়েছে। তারা অনিয়মিত অভিযানকে পুনরাবৃত্ত কৌশলে রূপ দিচ্ছে, আর সেটাই ভবিষ্যতের শক্তির নিয়ামক হয়ে উঠতে চলেছে।
সমুদ্রের গভীরতলেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী শতাব্দীর জ্বালানি, যোগাযোগ ও ক্ষমতার চাবিকাঠি। এটি এখন আর কল্পনা নয়। যে দেশ আজ প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই দেশ কাল নিয়ন্ত্রণ করবে।
এখন প্রশ্ন একটাই— আমরা কি প্রস্তুত হচ্ছি, নাকি সাগরের নিচে এক নতুন বিশ্বশক্তির উত্থান ঘটছে আমাদের অজান্তেই?
বাংলাদেশের সম্ভাবনাও অনন্য নয়
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, শুধু চীন নয়, বাংলাদেশও ইতোমধ্যে সমুদ্রসম্পদ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছে। সামুদ্রিক বিষয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে (EEZ) প্রায় ১০৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF) পরিমাণ মিথেন হাইড্রেট বা বরফাকৃতির প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে। এই বিশাল মজুত, যা সাগরের তলদেশে উচ্চচাপ ও নিম্নতাপমাত্রায় তৈরি হয়, ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, এখানেও রয়েছে প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। এই সম্পদ উত্তোলনের জন্য যেমন উন্নত সাবমেরিন প্রযুক্তি দরকার, তেমনি প্রয়োজন সতর্কতা, কারণ সামান্য ভুলে ঘটতে পারে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়— যেমন সমুদ্রতল ধস বা বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন।
এই আবিষ্কারটি ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চলও হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যদি পরিকল্পিত ও টেকসই উপায়ে তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
পাঠকের মতামত:
- ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড
- কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
- দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
- কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
- কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
- আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
- নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
- নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
- নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
- গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
- রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি
- জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ
- টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রানের লক্ষ্য, অভ্যাস গড়তে চায় বাংলাদ: লিটন দাস
- ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
- এআই দিয়ে তৈরি করা ছবির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: ডিএমপি
- ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে মিছিল শেষে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
- গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন
- ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ
- ডিএসই ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের লেনদেনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ
- ২৮ আগস্ট দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ২৮ আগস্ট শীর্ষ ১০ গেইনার তালিকা
- ডিএসইতে শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকায় আধিপত্য যে দুই কোম্পানির
- ডিআরইউতে লতিফ সিদ্দিকীসহ আ.লীগ নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখল ‘জুলাই যোদ্ধারা’
- সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আটকে আছে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব: বিটিআরসি
- দিল্লির গোপন বৈঠক ফাঁস: হাসিনা ও এস আলমের ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ৪৫০০ কোটি টাকা
- পুলিশের পোশাকে বিড়াল, হৃদয় জয় করে থানায় রাজত্ব করছে ‘নারুতো’
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪ প্রতিনিধির ছাত্রদলে যোগদান
- গাজার অবরোধের জবাবে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান: আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে হামলা
- পাকিস্তান-বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায় দিল্লির উদ্বেগ
- বুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ফাঁকা ক্যাম্পাসে বন্ধ ক্লাস–পরীক্ষা
- বিকেলে ব্যাংকে ঢুকে লুকিয়ে ছিল যুবক, রাতে ডাকাতির চেষ্টার সময় আটক
- বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে কিম ও পুতিন, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা
- ছেলের আত্মহত্যার জন্য দায়ী ChatGPT’: কাঠগড়ায় OpenAI
- প্রতারণার অভিযোগে শাহরুখ ও দীপিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
- লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে পালিয়েছেন শামীম ওসমান: যুবদল নেতা রনি
- এই এক ফলই যথেষ্ট: মাত্র এক সপ্তাহে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য
- প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও নীরবতা
- যুক্তরাষ্ট্রে এনআইডি কার্যক্রম শুরু: ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ ৪ শহরে মিলবে সেবা
- ডিএসই টিমের তদন্তে অপ্রত্যাশিত তথ্য ফাঁস
- ডার্ক চকলেটের জাদু: মস্তিষ্ক সচল রাখার এক গোপন রহস্য
- বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ডিএসই’র নতুন উদ্যোগ
- শেয়ারবাজারে বিভ্রান্তি রুখতে ডিএসই বার্তা
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- অমীমাংসিত ইস্যু সরকারের বিষয়, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জামায়াতের
- পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে চায় এনসিপি, ৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’: মেহের আফরোজ শাওন
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- সার্কিট ব্রেকারে তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ কোম্পানি