সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯:৪৫:৫৫
সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দলটির আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রতীক্ষায় ছিল। সাধারণ মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়েই জামায়াত তাদের সংসদীয় নীতিতে এই পরিবর্তন এনেছে।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার যদি কোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে জামায়াত তাতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল বিরোধিতার রাজনীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিও জানিয়েছেন যে, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত যদি জনস্বার্থের পরিপন্থী হয় বা দেশের মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে বিরোধী দল হিসেবে তারা রাজপথে ও সংসদে কঠোরভাবে তার প্রতিবাদ জানাবে। মূলত অন্ধ বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি আধুনিক ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক ধারা তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন দায়িত্বশীল আচরণ সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সঞ্চার করবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে এসেছি, তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে জনগণের কল্যাণে।” জামায়াতের এই নতুন কৌশল আগামী দিনে সরকারের ওপর গঠনমূলক চাপ সৃষ্টি এবং সংসদকে কার্যকর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯:১৮:৫৮
গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা
ছবিটি জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য সম্প্রীতির নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসে ইফতার করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন হৃদ্যতাপূর্ণ উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইফতারের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে আমন্ত্রণের জন্য জামায়াতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দান করেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষ আজ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গুম, খুন এবং অকথ্য নির্যাতনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের বিনিময়ে আজ দেশে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ফিরে এসেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে অর্থবহ করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক নেতাদের এক বিশাল মিলনমেলা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মামুনুল হক, মির্জা আব্বাস, মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং অলি আহমদসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই আয়োজনটি কেবল একটি ইফতার মাহফিল নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:৪০:১৪
অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বর্তমান সরকার কখনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর সংবাদগুলো নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট না করে দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে এসব নেতিবাচক বিষয়ে সময় ব্যয় করার চেয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করা যায়।” তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই সভায় মন্ত্রী জেলার সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এক হয়ে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে মির্জা ফখরুল ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।

/আশিক


সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ০৯:৫৯:০৪
সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর তোড়জোড় চললেও মাঠের বাইরের উত্তাপ থামছে না। গত বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে একদল সাকিব সমর্থক সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের বাইরে সাকিবের নামে স্লোগান দেন এবং এক পর্যায়ে ভেতরে প্রবেশ করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেন। যদিও বেনামে দায়ের করা এই অভিযোগটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকলে তা বাতিল করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরণের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকফ্রেনজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি এই বিচিত্র ঘটনার কথা জানতে পেরেছেন। সাকিব স্পষ্ট করে বলেন যে, কারা তাঁর নাম ব্যবহার করে এসব করছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, আজকাল যে যেভাবে পারছে তাঁর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। দেশের মাটিতে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা থাকলেও বাইরের এই অস্থিরতা তাঁর ফেরার পথকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, সমর্থকদের এই অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় এক ইফতার মাহফিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাকিব আল হাসানকে খেলতে না দেওয়াটা যদি অপরাধ বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি সমর্থকদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘মব’ সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন এবং কেন গণমাধ্যমে অভিযোগকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। দুদকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

/আশিক


আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২২:০৮:১৮
আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন যে, লাখ লাখ ছাত্রের নেতৃত্ব দেওয়া একজন শীর্ষ ছাত্রনেতা যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে দৌড়ান, তখন সেটি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ছাত্রনেতাকে এভাবে নেতার পেছনে দৌড়াতে দেখেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে অমর একুশে বইমেলার একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি বহরের পেছনে বর্তমান ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানোর বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে হয়েছে। তিনি ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, ছাত্ররাজনীতিতে নতুন একটি মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন যা দেখে আগামী দিনের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কেবল ক্ষমতার পেছনে না ছুটে ছাত্রদের নিজেদের মর্যাদা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম আরও বলেন যে, বর্তমানে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল পূর্ববর্তী সরকারের চেয়েও নিজেদের কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের বদলে সর্বত্র যেন এক ধরণের অভিনয় প্রতিযোগিতা চলছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্রশক্তিকে আরও সুসংগঠিত হওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই প্রভাবশালী সংগঠক।

/আশিক


গভর্নর সরিয়ে লুটপাটের পথ খুলল সরকার: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:৩৫:৫২
গভর্নর সরিয়ে লুটপাটের পথ খুলল সরকার: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়াকে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করার একটি অশুভ প্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাতে দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন যে গণঅভ্যুত্থানের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব দিয়েছিল এবং তিনি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও আমদান-রপ্তানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ফেরাতে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং সরকার শেষ পর্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

নাহিদ ইসলাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে গতকালের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে এক নির্লজ্জ ‘মব’ তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টাকে শারীরিক হেনস্তা করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে হামলাকারীদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থী নীল দল থেকে নির্বাচিত নেতা হলেও এখন বিএনপিপন্থী সেজে এই অরাজকতা চালাচ্ছেন। এসকল অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সফল গভর্নরকে অপমানজনকভাবে না জানিয়েই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যা থেকে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে বলেন যে সরকার একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দিয়েছে যিনি নিজে একজন সাবেক ঋণ খেলাপি। তাঁর দাবি অনুযায়ী নতুন গভর্নরের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল যা গত বছরের জুনে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতপশিল করা হয়েছে।

এমন একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় পুনরায় একজন সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

/আশিক


এমপিই নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের কী হবে? : জামায়াত নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:২২:৫৪
এমপিই নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের কী হবে? : জামায়াত নেতা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে হান্নান মাসউদের গাড়িবহরের ওপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এই ন্যক্কারজনক হামলায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদসহ প্রায় ১৫-২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন যা গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সহনশীলতার পরিপন্থি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন যে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে এমন সশস্ত্র হামলা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন যে যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ কোথায়? জামায়াতের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে রাজনৈতিক সহিংসতার এই পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে; অন্যথায় দেশব্যাপী আইনহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করতে পারে যা জাতির জন্য এক অশনিসংকেত। বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারী বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জনগণের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

/আশিক


বাংলাদেশ ব্যাংকের মব-কালচার অগ্রহণযোগ্য: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ০৯:৪০:২৭
বাংলাদেশ ব্যাংকের মব-কালচার অগ্রহণযোগ্য: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে আকস্মিক পরিবর্তন এবং ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।

শফিকুর রহমান বলেন যে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে যা ঘটেছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের এক আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তাঁর উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে জনসমক্ষে অপমান করার অধিকার কারো নেই এবং এ ধরণের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।

বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে দেশের অর্থনীতি এমনিতেই চরম দুরবস্থায় রয়েছে এবং সর্বস্তরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মহামারি চলছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন যে উৎপাত চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এ ধরণের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি দাবি করেন যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মূলত পোশাক ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, জামায়াত আমিরের এই পোস্ট সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছে।

/আশিক


জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার অপতৎপরতা চলছে: ভিপি আবু সাদিক কায়েম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:০৮:৪৮
জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার অপতৎপরতা চলছে: ভিপি আবু সাদিক কায়েম
ছবি : সংগৃহীত

একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিং ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লবকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা ও কনসেন্ট তৈরির খেলা চলছে যা দেশের জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা। তিনি অভিযোগ করেন যে কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে বর্তমানে এক ধরণের আওয়ামী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা চালানো হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে সরকারের গ্রিন সিগন্যাল থাকার দাবি করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আবু সাদিক কায়েম সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে যদি কোনোভাবে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপ্লবীদের হয়রানি করা হয়, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। তিনি মনে করেন এমনটি ঘটলে ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সকল আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এমনকি দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে তিনি তাঁর পোস্টে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন যে জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার জন্য পতিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের সুবিধাভোগীদের সকল অপপ্রয়াস অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সাথে আন্দোলনকারীদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানান তিনি।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ছাড়া জুলাইয়ের বিচার পূর্ণ হবে না: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৮:৫৮:২২
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ছাড়া জুলাইয়ের বিচার পূর্ণ হবে না: নাহিদ ইসলাম
ছবি : কালবেলা

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন এবং জুলাই গণহত্যার দায়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি উত্থাপন করেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত নজিরবিহীন গণহত্যা ঠেকাতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর চরম ব্যর্থতা। এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে তিনি গণহত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় এই নেতা।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান যে আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি দাবি করেন যে শুধুমাত্র পদ থেকে অপসারণই যথেষ্ট নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নারকীয় হত্যাকাণ্ডে নিরব ভূমিকা পালন করার অপরাধে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। পিলখানা ট্র্যাজেডির বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন যে অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: