ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এর ফলে এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা, কাতার এয়ারওয়েজ এবং টার্কিশ এয়ারলাইনসসহ বিশ্বের অন্তত ১২টি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইনস তাদের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং জাপান এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থাগুলোও রয়েছে। যুদ্ধের এই আকস্মিক বিস্তারে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী এখন দিশেহারা হয়ে আটকা পড়ে আছেন।
এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিটের টাকা রিফান্ড বা বিকল্প ফ্লাইটের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আকাশপথ বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। ইন্ডিগো ও লট এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী বা ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় দোহার মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য যে, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানীসহ প্রধান পাঁচটি শহরে ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালায়। জবাবে ইরানও দমে না থেকে ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। দুই পক্ষের এই রণাঙ্গনের মাঝখানে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন সাধারণ উড়োজাহাজের জন্য এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। লট এয়ারলাইনস ও ভার্জিন আটলান্টিকের মতো সংস্থাগুলো তাদের যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগেই ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরে তার ওপর।
/আশিক
ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল-ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও আরব আমিরাতের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার জবাবে ইরান প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো আরব অঞ্চলের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। তেহরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উত্তর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে বাহরাইনে। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া দুবাই, আবুধাবি ও কুয়েতেও দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর আসছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা এই অপারেশন শুরু করেছে। অন্যদিকে, কাতার তাদের আকাশসীমায় অন্তত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
এর আগে শনিবার সকালে তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকাসহ কেরমানশাহ, তাবরিজ ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা তেহরানে বোমা বর্ষণ শুরু করেছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা মরণকামড়ে এখন সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো দেশগুলোও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে, যা এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
ইরানের মাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় এক অভাবনীয় ও বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য। ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “যখন আমরা আমাদের হামলা শেষ করব, আপনারা নিজেদের দেশের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বহু প্রজন্মে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র এবং শেষ সুযোগ।” তেহরানের রাজপথে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউস থেকে আসা এই বার্তাটি ইরানিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল সাধারণ মানুষকে ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি অবিলম্বে অস্ত্র ফেলে না দেয়, তবে তাদের ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র মুখোমুখি হতে হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র সমর্পণ করবে, তাদের মুক্তি ও ক্ষমা করে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হওয়ার খবর আসার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তখন তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, ‘সহায়তা পথে রয়েছে’—যার প্রতিফলন আজকের এই সরাসরি যুদ্ধ।
এদিকে, ট্রাম্পের এই বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরানও চুপ করে বসে নেই; দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হেনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমারু বিমান আর অন্যদিকে ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইলে ছেয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই ‘সরকার দখল’ করার ডাক এখন ইরানকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
/আশিক
নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (US 5th Fleet) সদর দপ্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত এই মার্কিন ঘাঁটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটার পাশাপাশি আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের জবাবে তারা প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর দেশটির ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সেটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাই এখন তাঁদের লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নেই।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘বাশারাত আল-ফাতহ’ (বিজয়ের সুসংবাদ) নামক অভিযানের মাধ্যমে তাঁরা ইসরায়েলের অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে বড় ধরণের আক্রমণ শুরু করেছে। তেহরানের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা। এদিকে, আবুধাবি ও দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধবিমান আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে প্রকম্পিত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে এই সরাসরি আক্রমণ পরিস্থিতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে যে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সারা দেশজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে আকাশে এই হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে এবং বেশ কিছু স্থানে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
এর কিছু সময় আগেই ইরানজুড়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতা তৈরি হয় যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, হামলার খবর পেয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরান ত্যাগ করে একটি অত্যন্ত গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তেহরানসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই প্রথমবার কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের মাত্রা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইরানের সাথে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা নেই। যদিও সম্প্রতি আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে মিত্রবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন দমবন্ধ করা উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে—তেহরান কি আরও বড় কোনো প্রতিশোধ নেবে, নাকি এটি কেবল ধ্বংসের শুরু?
/আশিক
ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের কথিত ‘বিপজ্জনক সক্ষমতা’ ও আঞ্চলিক হুমকিকে নিষ্ক্রিয় করা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত সামরিক কৌশল বা অপারেশনের পরিধি প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ইসরাইল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। রাজধানী তেহরান, ইসফাহান ও আশপাশের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যদিও এসবের স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
ইরানি নাগরিকরা আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির খবর দিচ্ছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন কঠিন।
সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তারের আশঙ্কায় প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরাকসহ নিকটবর্তী দেশগুলো সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাও সামনে আসছে।
সূত্র:আল জাজিরা
ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইরান অভিমুখে একটি ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ (Pre-emptive Strike) শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরাইল আগেভাগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অতর্কিত হামলার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুরো দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির ফলে বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।
এই হামলার ব্যাপ্তি কতটুকু বা ইরানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে; তেহরান কি পাল্টা আঘাত হানবে নাকি কূটনৈতিক পথে হাঁটবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
সূত্র: বিবিসি
রক্তক্ষয়ী বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতভর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ একে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দাবি করেছেন যে, এই হামলায় অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তারা কাবুল এবং তালেবানের মূল ঘাঁটি কান্দাহারে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, তালেবান সরকারও দমে থাকেনি। তাদের দাবি অনুযায়ী, পাল্টা আক্রমণে কয়েক ডজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা বেশ কিছু পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট দখল করে নিয়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্ত এলাকা এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই অভিযানের পেছনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মাতৃভূমি রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের হামলায় তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। এর বিপরীতে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করেছে এবং লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারিয়েছে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই সংখ্যাটি অনেক কম বলে দাবি করেছে। যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেও তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তারা এখনো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান। কিন্তু পাকিস্তানের অভিযোগ—আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) গোষ্ঠীকে মদত দিয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান এবং সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতিকে ‘গভীর পর্যবেক্ষণ’ করছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে চীন মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রমজান মাসের এই সহিংসতাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। আফগানিস্তানের ভেতরে তোরখাম সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে থাকা হাজারো পরিবার এখন যুদ্ধের ভয়ে ঘরবাড়ি ছাড়ছে। সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষই ভারী গোলাবারুদ নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে টিটিপি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে, যা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মাধ্যমে রুখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই হুংকার দিয়ে বলেছেন, আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে। যুদ্ধের এই ডামাডোল দীর্ঘস্থায়ী হলে তা কেবল এই দুই দেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে এক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দুই হাজার ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্তে এখন শান্তির বদলে বারুদের গন্ধ ভাসছে।
/আশিক
জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কেও সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সৌদি পক্ষ তাদের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর কথা তুলে ধরে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উল্লেখ করেন, ঢাকা ও রিয়াদ ওআইসি প্ল্যাটফর্ম এবং দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, দুই দেশ কেবল অর্থনৈতিক অংশীদার নয়; বরং শ্রমবাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের সমন্বিত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
-রাফসান
পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা অবশেষে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামাবাদ এ অভিযানকে নিরাপত্তা হুমকির জবাব হিসেবে বর্ণনা করলেও কাবুল এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের একাধিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী খোস্ত ও নাঙ্গারহার অঞ্চলে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে, যদিও হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস সহিংসতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ এক বিবৃতিতে দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তেহরান থেকেও সংযমের আহ্বান এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রমজান মাসের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ইরান গঠনমূলক মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
রাশিয়া সীমান্তপারের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রশমনে কাজ করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সীমান্তজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তার ভাষায়, ইসলামাবাদ বহুদিন ধরে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এখন সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়েছে এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই জটিল করেছে।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে। তিনি পাকিস্তানকে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তালেবান নেতৃত্বও জানিয়েছে, তারা আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ডুরান্ড লাইন, যা ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের সঙ্গে আফগান আমিরের চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আফগানিস্তানের একাংশ এই সীমারেখাকে কখনোই স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই ঐতিহাসিক বিরোধ সীমান্ত উত্তেজনাকে বারবার উসকে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত সেই দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল
- ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
- ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
- অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
- নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
- ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
- ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক ও নৌমন্ত্রী
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- ইফতারের আড্ডায় ভিন্ন মাত্রা: জিভে জল আনা ডিমের চপের সহজ রেসিপি
- দাদিকে কুপিয়ে ও নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঈশ্বরদীতে ঘাতকদের পৈশাচিকতা
- যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইফতারে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
- আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত লাভ? জেনে নিন ২৮ ফেব্রুয়ারির আপডেট দর
- রক্তক্ষয়ী বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান
- আজ জামায়াতের ইফতারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: জেনে নিন আজ ভরিপ্রতি লেটেস্ট রেট
- উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকেই আসত সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাখাওয়াত হোসেন
- সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি? একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা
- সবুজ পোশাকে সেজেছে ব্রাহ্মণপাড়ার বোরো মাঠ: কৃষকের চোখে এখন সোনালি দিনের স্বপ্ন
- আজ ১০ রমজান: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- বিপজ্জনক অবস্থানে বাংলাদেশ! ঘন ঘন ঝাঁকুনিতে বড় প্রলয়ের অশনিসংকেত
- শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি
- স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
- জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
- ভূমিকম্পে যে দোয়া পড়তে বলেছিলেন রাসূল (সা.)
- শনিবার একাধিক এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ
- মাধবদীতে কিশোরী হত্যা: ইউনিয়ন নেতাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
- ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান
- ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার
- এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর
- ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি
- রাজধানীতে তাপমাত্রার হালনাগাদ তথ্য
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি
- কোথায় দেখবেন আজকের সব ম্যাচ?
- আজ নামাজের সময়সূচি জানুন
- আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস
- ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড
- গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা
- খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
- মহাজাগতিক বিস্ময়: আকাশে দেখা গেল মানুষের মস্তিষ্কের মতো তারা
- গোসল ফরজ রেখেই কি সেহরি খাওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের বিধান
- কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!
- দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মিশন: প্রধানমন্ত্রী
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড! ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
- আবারও বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম: নতুন দরে নাকাল সাধারণ ক্রেতারা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- ৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট! বঙ্গভবনের ভেতর যা ঘটেছিল জানালেন রাষ্ট্রপতি
- সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণ! আজ থেকে নতুন রেট কার্যকর
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রস্তুত ১৩ জেলা: উদ্বোধনের তারিখ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- তিন স্তরের যাচাই শেষে ফ্যামিলি কার্ড: জেনে নিন আবেদনের সব নিয়ম
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- ইফতারের পরই মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির ৫টি সহজ উপায়
- মঈন খানের হাত ধরে নতুন রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্থায়ী কমিটির সদস্য
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা








