ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:১৭:২২
ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে যে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সারা দেশজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে আকাশে এই হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে এবং বেশ কিছু স্থানে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এর কিছু সময় আগেই ইরানজুড়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতা তৈরি হয় যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, হামলার খবর পেয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরান ত্যাগ করে একটি অত্যন্ত গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তেহরানসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই প্রথমবার কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের মাত্রা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইরানের সাথে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা নেই। যদিও সম্প্রতি আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে মিত্রবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন দমবন্ধ করা উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে—তেহরান কি আরও বড় কোনো প্রতিশোধ নেবে, নাকি এটি কেবল ধ্বংসের শুরু?

/আশিক


ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৪:২৯:২২
ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের কথিত ‘বিপজ্জনক সক্ষমতা’ ও আঞ্চলিক হুমকিকে নিষ্ক্রিয় করা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত সামরিক কৌশল বা অপারেশনের পরিধি প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ইসরাইল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। রাজধানী তেহরান, ইসফাহান ও আশপাশের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যদিও এসবের স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

ইরানি নাগরিকরা আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির খবর দিচ্ছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন কঠিন।

সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তারের আশঙ্কায় প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরাকসহ নিকটবর্তী দেশগুলো সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাও সামনে আসছে।

সূত্র:আল জাজিরা


ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১২:৪৩:০৯
ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইরান অভিমুখে একটি ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ (Pre-emptive Strike) শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরাইল আগেভাগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অতর্কিত হামলার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুরো দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির ফলে বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

এই হামলার ব্যাপ্তি কতটুকু বা ইরানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে; তেহরান কি পাল্টা আঘাত হানবে নাকি কূটনৈতিক পথে হাঁটবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

সূত্র: বিবিসি


রক্তক্ষয়ী বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১০:৩৬:০৪
রক্তক্ষয়ী বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান
গাড়িতে রকেট লঞ্চার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে তালেবান সেনারা। গতকাল আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্ত এলাকায় (বাঁয়ে), পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর এলাকার হাসপাতালে আহত এক তরুণী -এএফপি

প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতভর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ একে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দাবি করেছেন যে, এই হামলায় অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তারা কাবুল এবং তালেবানের মূল ঘাঁটি কান্দাহারে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, তালেবান সরকারও দমে থাকেনি। তাদের দাবি অনুযায়ী, পাল্টা আক্রমণে কয়েক ডজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা বেশ কিছু পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট দখল করে নিয়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্ত এলাকা এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই অভিযানের পেছনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মাতৃভূমি রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের হামলায় তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। এর বিপরীতে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করেছে এবং লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারিয়েছে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই সংখ্যাটি অনেক কম বলে দাবি করেছে। যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেও তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তারা এখনো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান। কিন্তু পাকিস্তানের অভিযোগ—আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) গোষ্ঠীকে মদত দিয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান এবং সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতিকে ‘গভীর পর্যবেক্ষণ’ করছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে চীন মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রমজান মাসের এই সহিংসতাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। আফগানিস্তানের ভেতরে তোরখাম সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে থাকা হাজারো পরিবার এখন যুদ্ধের ভয়ে ঘরবাড়ি ছাড়ছে। সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষই ভারী গোলাবারুদ নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে টিটিপি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে, যা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মাধ্যমে রুখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই হুংকার দিয়ে বলেছেন, আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে। যুদ্ধের এই ডামাডোল দীর্ঘস্থায়ী হলে তা কেবল এই দুই দেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে এক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দুই হাজার ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্তে এখন শান্তির বদলে বারুদের গন্ধ ভাসছে।

/আশিক


জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:১৩:২৮
জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কেও সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে সৌদি পক্ষ তাদের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর কথা তুলে ধরে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উল্লেখ করেন, ঢাকা ও রিয়াদ ওআইসি প্ল্যাটফর্ম এবং দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, দুই দেশ কেবল অর্থনৈতিক অংশীদার নয়; বরং শ্রমবাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের সমন্বিত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

-রাফসান


পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:০৭:২২
পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা অবশেষে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামাবাদ এ অভিযানকে নিরাপত্তা হুমকির জবাব হিসেবে বর্ণনা করলেও কাবুল এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের একাধিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী খোস্ত ও নাঙ্গারহার অঞ্চলে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে, যদিও হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস সহিংসতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ এক বিবৃতিতে দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তেহরান থেকেও সংযমের আহ্বান এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রমজান মাসের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ইরান গঠনমূলক মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

রাশিয়া সীমান্তপারের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রশমনে কাজ করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সীমান্তজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তার ভাষায়, ইসলামাবাদ বহুদিন ধরে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এখন সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়েছে এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই জটিল করেছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে। তিনি পাকিস্তানকে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তালেবান নেতৃত্বও জানিয়েছে, তারা আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।

পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ডুরান্ড লাইন, যা ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের সঙ্গে আফগান আমিরের চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আফগানিস্তানের একাংশ এই সীমারেখাকে কখনোই স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই ঐতিহাসিক বিরোধ সীমান্ত উত্তেজনাকে বারবার উসকে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাত সেই দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

-রফিক


পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:২৮:৫১
পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সীমান্তে হামলা চালিয়ে তাদের সেনা সদস্যদের হত্যা এবং কয়েকজনকে অপহরণের ঘটনার জবাবে তারা ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, অভিযানে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান সেনা হতাহত হয়েছেন এবং গোলাবারুদের একটি বড় ডিপো ধ্বংস হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ চলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পূর্ববর্তী পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। সীমান্ত চৌকিগুলোতে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নজরদারি ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। চলমান সামরিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান যদি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে ইসলামাবাদ ও কাবুল দুই রাজধানী থেকেই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।

-রফিক


ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিরল সম্মানে ভূষিত মোদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:৪৩:৫৪
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিরল সম্মানে ভূষিত মোদি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৯ বছর পর ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সফরে ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিরল সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়েছে।

নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা সংসদে ভাষণ দেওয়ার পর মোদির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম কোনো নেতা হিসেবে এই বিশেষ পদক জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর প্রথম সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হওয়ার পর এবারের এই সফর দ্বিপাক্ষিক বন্ধনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

নরেন্দ্র মোদি বর্তমান বিশ্বের এমন একজন বিরল নেতা, যিনি একই সঙ্গে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন—উভয় দেশ থেকেই তাঁদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’ লাভ করেছিলেন, যা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রেখে উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করাই মোদির এই অনন্য অর্জনের নেপথ্য কারণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, গত নয় বছরের মধ্যে এটিই মোদির প্রথম ইসরায়েল সফর এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত তার প্রভাবশালী অবস্থান আবারও জানান দিল।

সূত্র : দ্য হিন্দু।


নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ২২:০২:০৯
নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি ইসরায়েলে পৌঁছালে নেতানিয়াহু তাঁকে জেরুজালেমে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিনি এর আগে কখনো এতটা আবেগাপ্লুত হননি।

নেতানিয়াহু মোদিকে ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু এবং বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে দুই দেশের মধ্যকার এই জোটকে আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যখন বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন এবং যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ভারত এর বিরোধিতা করলেও এবং দীর্ঘদিন ফিলিস্তিনিদের কড়া সমর্থক থাকলেও ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে একটি অসাধারণ জোট বিদ্যমান এবং দুই নেতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

গত বছর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছিল যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে যা প্রমাণ করে যে ঐতিহাসিক বৈরিতা ভুলে ভারত ও ইসরায়েল এখন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৩:৫৮
১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বসন্ত’ উৎসবে ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে লাহোর হাই কোর্টকে (এলএইচসি) জানিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত এই হতাহতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছিল। উল্লেখ্য যে এ বছর ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে ধারালো সুতার কারণে প্রাণহানি ও আকাশমুখী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এই উৎসব নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের নতুন অধ্যাদেশের আওতায় পাঞ্জাব সরকার এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের বিশেষ জোর দেওয়া সত্ত্বেও উৎসব চলাকালে শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে উৎসবের তিন দিনে মোট ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে যার মধ্যে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, দুইজন গাছ থেকে পড়ে এবং বাকি ১২ জন ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। তবে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহার সিদ্দিক জানিয়েছেন যে ঘুড়ির ধারালো সুতার আঘাতে কতজন আহত হয়েছেন সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যদিও পাঞ্জাব সরকার মেটাল বা রাসায়নিক প্রলেপযুক্ত সুতা নিষিদ্ধ করে শুধু সুতি মাঞ্জা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করে নজরদারি করা হয়েছিল, তবুও দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মজার ব্যাপার হলো উৎসব শেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ঘুড়ির সুতার আঘাতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। আদালতের এই প্রতিবেদন সরকারের সেই দাবিকে এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: