ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

আহমেদ ইশতিয়াক
আহমেদ ইশতিয়াক
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৭:৫৯:১৭
ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির গভীর সংকটে এবারের ঈদুল ফিতর এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। যে উৎসব সাধারণত আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির প্রতীক, তা এবার বহু মানুষের কাছে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা, ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। বৈরুত থেকে গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকট দেখাচ্ছে, কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি অঞ্চলের সামাজিক ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আলা নামের এক শরণার্থী। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে আগত এই মানুষটি একসময় বসবাস করতেন দাহিয়েহ এলাকায়, যা সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় লেবাননে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিজের বাসস্থান হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত জীবনে নিপতিত, যেখানে প্রতিদিনের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া। এই বাস্তবতায় ঈদের মতো উৎসব তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও গভীর ও বেদনাদায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘাতে এই অঞ্চল কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অব্যাহত হামলা, অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করা মানুষের কাছে একপ্রকার অসম্ভব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

এই অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার আজ এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে উৎসবের আনন্দ নয়, বরং নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে। শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, নতুন পোশাক কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দময় মুহূর্তগুলো যুদ্ধের বাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছে। ঈদের প্রার্থনাও অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শান্তি, নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।

সার্বিকভাবে এবারের ঈদ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধের প্রভাব কেবল ভূরাজনৈতিক বা সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি এবং আবেগের গভীরে গিয়ে আঘাত হানে। এই বাস্তবতায় ঈদ হয়ে উঠেছে আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য মানুষের এক নীরব আবেদন।


ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১২:২৫:৩৪
ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৬৫তম দফায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাল্টি-ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘নাসরুল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রটি কদর সিরিজের আধুনিকায়িত ও গাইডেড সংস্করণ, যা লক্ষ্যবস্তুতে আরও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র আশদোদ ও হাইফা অঞ্চলের তেল শোধনাগার। এই অবকাঠামোগুলো দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, ফলে এগুলোতে আঘাতের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

তবে এই সামরিক অভিযানের পরিধি শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা ও আল-জাফরা ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘাঁটিগুলো মূলত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

-রাফসান


ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:৫৩:২৯
ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব থেকে নতুন করে শক্ত বার্তা এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের জন্য এখনো ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হুমকি সত্ত্বেও ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, তেহরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।

তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কৌশল ও সক্ষমতা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি কৌশলগত ‘ডিটারেন্স সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করতে চায়।

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় একটি উন্নত প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও এটি সংঘাতের প্রযুক্তিগত মাত্রা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

-রাফসান


ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:৩৭:০৭
ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানে নতুন ধরনের পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন।

পার্সির মতে, যুদ্ধের বর্তমান অগ্রগতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বরং পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংঘাতকে আরও তীব্র করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যয়বহুল হতে পারে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইরান ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক পদক্ষেপ এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রতিক্রিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়। পার্সি মনে করেন, যদিও মার্কিন জনসাধারণের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এতদিন পর্যন্ত এই অভিযানে দৃঢ় সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় এখন সেই সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে কীভাবে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তাও আবার রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে। পার্সির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি কার্যকর ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা এখন ট্রাম্পের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য করছে। যদি দ্রুত কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক অবস্থান একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, যেখানে কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।


‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:২১:১৪
‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এমন একটি হুমকি মোকাবিলা করছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা। তিনি যুক্তি দেন, এই হুমকি যদি সময়মতো মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে স্থানান্তর করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আকাশপথে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপের একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তার মতে, ইরানের জনগণের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে। এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের কাছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সেইসব অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হচ্ছে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই মনে করে যে বাইরের কোনো শক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিতে পারে এমন ধারণা তার কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

সূত্র: সিএনএন


ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৯:৫৩:১৩
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান নতুন করে দাবি করেছে যে তারা ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, এই হামলা ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া, যা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং ‘বীরদের রক্তের প্রতিদান’ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই অভিযানের প্রতীকী বার্তা বহন করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইসঙ্গে, হামলার ফলে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি কেবল সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতই নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি অংশ। বিশেষ করে যখন সংঘাত ক্রমেই সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলা বা হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা শুধু সীমান্ত বা সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শহুরে কেন্দ্র, কৌশলগত প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেও বিস্তার লাভ করছে। এতে করে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনি এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:২৮:৪৪
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
ছবি: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই জ্বালানি অবকাঠামোকেন্দ্রিক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা হলে আর কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করেছে এবং এই সংযম ছিল কেবল উত্তেজনা কমানোর আন্তর্জাতিক আহ্বানের প্রতি সম্মান জানানো।

তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তেহরান ‘শূন্য সংযম’ নীতি অনুসরণ করবে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র, যা দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। হামলার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও জানান, দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট এবং একটি গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আল-কাবি এই ঘটনাকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশেষ করে রমজান মাসে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এমন হামলা গোটা অঞ্চলের জন্য গভীর হতাশার কারণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সংঘাতের বাইরে রাখা উচিত।

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দেশটির কমান্ড কাঠামোকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে।

তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি ইসরাইল এককভাবে পরিচালনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আপাতত জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলা থেকে বিরত রয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার এই অবস্থান আসে যখন উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিবও মন্তব্য করেছেন, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি পূর্ণাঙ্গ “জ্বালানি যুদ্ধ” পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:১১:৩২
কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে জ্বালানি খাতে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই অভিযানে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি সীমিত অংশ ব্যবহার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের এই সংযত অবস্থান মূলত আন্তর্জাতিক মহলের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ফল। তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এই সংযম দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা হলে তেহরান আর কোনো ধরনের সংযম প্রদর্শন করবে না। তার ভাষায়, ইরানের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এই উত্তেজনার মধ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে হামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে কাতারের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠন ও উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের হামলা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

আল-কাবি আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন, তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে কাতার এমন হামলার মুখে পড়বে, বিশেষ করে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে রমজান মাসে এই ধরনের আক্রমণ ঘটবে যা তার মতে অত্যন্ত হতাশাজনক।

বর্তমান পরিস্থিতির পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন একটি বিস্তৃত জ্বালানি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:৫৪:৩৪
ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের হাইফা শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা দ্রুত জ্বালানি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তর ও মধ্য ইসরাইলসহ জেরুজালেম অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যা পুরো পরিস্থিতির তীব্রতা এবং সমন্বিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বা হতাহতের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি নতুন ধাপ, যেখানে সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর সংঘটিত ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের সময়ও হাইফার এই একই তেল শোধনাগার হামলার শিকার হয়েছিল, যা এটিকে একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে।

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক একটি বড় ধরনের হামলা। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র বিশ্বে সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের মালিকানাধীন হওয়ায় এই হামলার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এই পাল্টা হামলার ফলে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত, ফলে এর ওপর হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংঘাতের এই নতুন ধারা ‘এনার্জি ওয়ারফেয়ার’ বা জ্বালানি-কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করছে। এর ফলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ চেইন এবং অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

-রফিক


‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:৪৯:১৩
‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নানা গুজব ও তথ্যযুদ্ধের আবহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশেষে সরাসরি জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিরল সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি শুরুতেই বলেন, “আমি বেঁচে আছি, এবং আপনারা সবাই তা দেখছেন,” যা সাম্প্রতিক গুজবকে সরাসরি খণ্ডন করার একটি স্পষ্ট বার্তা।

গত ৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয় যখন তিনি পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত না থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন এবং নিজের অবস্থান প্রকাশ করেননি।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ভিডিওটির নিম্নমান এবং কিছু ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে অনেকে দাবি করেন এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি। বিশেষ করে তার হাতে অতিরিক্ত আঙুল দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে গুজব থামানোর উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি ক্যাফেতে উপস্থিত হয়ে কফি পান করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে সেটিও বিতর্কমুক্ত ছিল না; ভিডিওতে থাকা একজন বারিস্তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান যে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুজব নিরসনে ভূমিকা রাখলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

তবে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন কেবল গুজব খণ্ডনের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ঘরানার কিছু অংশ থেকে যে অভিযোগ উঠেছে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে তার জবাব দেওয়াও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন জনমতের একটি অংশ এই যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। এমনকি একজন সিনিয়র মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগও এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইসরাইলি পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

এই অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বাইরের কোনো শক্তি নির্দেশ দিতে পারে? তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সঠিক মনে করেন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: