ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে: সোনার বাজার এখন নিম্নমুখী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৮:৫৩:৫৫
ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে: সোনার বাজার এখন নিম্নমুখী
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৮৩.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য গোল্ড ফিউচারস ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৮৭.৩০ ডলারে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফরাসি বিনিয়োগ ব্যাংক ন্যাটিক্সিসের বিশ্লেষক বার্নার্ড দাহদাহ জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে ফেড সুদের হার কমানো বন্ধ করতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া এই সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অব জাপান বৈঠকে বসবে। সেখানে যুদ্ধকালীন মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যার দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।

/আশিক


দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১২:০৮:৫৫
দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুন বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আরও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি যোগ হলো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছর স্বর্ণের দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণবাজার ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছর মোট ৯৩ বার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি করা হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

-রাফসান


এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন দর?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:৩০:৫৬
এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন দর?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা চার দফা মূল্যহ্রাসের পর আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক লাফে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

মাত্র দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ১১ জুন বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেই নিম্নমুখী ধারা স্থায়ী হয়নি।

জুন মাসজুড়ে স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২ জুন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এরপর ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ১০ জুন ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানো হয়। সর্বশেষ ১১ জুনও দাম কমানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ পরিস্থিতি সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দামের বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বাজুস ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনাও দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

তবে গহনার নকশা, কারুকাজ, ওজন এবং মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে বাস্তবে ক্রেতাদের গহনা কিনতে ঘোষিত মূল্যের চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

-রফিক


ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৪৪:৫৪
ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বড় অঙ্কের বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এই বৈদেশিক ঋণের অর্থ যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে এবং তা সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রোস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব করলে বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগে গত ১০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গিয়েছিল, দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী তা ছিল ৩০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। এডিবির বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড়ের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভের এই সূচক ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত সময়ে তীব্র ডলার সংকটের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল এবং একপর্যায়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ কমে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি ঘটেছে এবং দেশে এখন প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে আমদানি ব্যয় বা দায় পরিশোধ ধরা হলে, এই মজুতকৃত রিজার্ভ দিয়ে দেশের সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় অনায়াসে মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত থাকাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের সার্বিক রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তৎকালীন সময়ে আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক অর্থায়ন ও ঋণ সহায়তার ফলে দেশের অর্থনীতির এই অন্যতম প্রধান সূচকটি আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে।

/আশিক


চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১০:৫৬:৪১
চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা চার দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এক বৈঠক শেষে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায়।

এর আগে চলতি মাসের ২ জুন, ৬ জুন, ১০ জুন এবং ১১ জুন—এই চার দফায় ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা হ্রাস পেয়েছিল। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই ধারা ভেঙে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বাজার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়লে স্থানীয় বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্য সংশোধন হলেও বর্তমানে কাঁচা স্বর্ণের সংগ্রহমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প ছিল না। তবে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করবে স্বর্ণের মূল্য কোন দিকে যাবে।

-রাফসান


বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৮:৩২:৩৭
বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‌‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে নতুন অর্থবছরকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের বাজেটকে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য কল্যাণমুখী ও সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত এক একটি প্রত্যক্ষ নীতি এবং আমরা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, দেশের সব নাগরিকের জন্য আমরা কীভাবে সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করব, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রী নিজের একটি ব্যক্তিগত ও রসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমার এক বন্ধু আমাকে কিছুটা বামপন্থি-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলে আখ্যা দিয়েছিল, কারণ আমরা এবার বাজেটে প্রচুর সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। তবে তাঁর মতে, এটি কোনো তত্ত্বের বিষয় নয়, বাস্তব সত্য হলো দেশের যে মানুষগুলো দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক নীতির বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূল স্রোতে আনা সরকারের প্রধান কর্তব্য।

দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সবসময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল, তা হলো কীভাবে এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। আর ঠিক এখানেই 'সৃজনশীল অর্থনীতি'র ধারণাটি চলে আসে, যার মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অর্থনীতির আওতার মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

এই সৃজনশীল অর্থনীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার বা চিত্রশিল্পীদের উদাহরণ টেনে বলেন, সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গ্রামীণ কারিগরদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আছে, কিন্তু তাদের কখনোই অর্থনীতির মূল স্রোতে আনা হয়নি এবং তাদের পণ্যগুলো থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো টেকসই ব্যবস্থাও ছিল না।

অথচ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা যায়, তবে দেখা যাবে যে বিশ্বের এমন অনেক উন্নত দেশ আছে যারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতি থেকেই প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করছে। উদাহরণস্বরূপ আশির দশকে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতিতে সফলভাবে প্রবেশ করেই নিজেদের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে ফেলেছিল। বাংলাদেশও সেই একই মডেলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার স্বপ্ন দেখছে।

তবে অর্থমন্ত্রী বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কল্যাণমুখী বলে যতই আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করুন না কেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নীতিগত রূপরেখাকে বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির বাজারে এই বিশাল কল্যাণমূলক তহবিলের জোগান দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে না। শুধু নীতি গ্রহণ বা কাগজের সুন্দর প্রকল্পই যথেষ্ট নয়, বরং থাইল্যান্ডের মতো বৈশ্বিক বাজার সংযোগ নিশ্চিত না করতে পারলে গ্রামীণ কারিগরদের মূল স্রোতে আনার এই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি কেবল একটি তাত্ত্বিক বিলাসিতা হিসেবেই থেকে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

/আশিক


চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৩:৫৪:১৮
চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা মূল্যহ্রাসের ধারা ভেঙে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম। চার দফা ধারাবাহিক কমার পর এক লাফে প্রতি ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন মূল্যহার অনুমোদন করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর প্রকাশ করা হয়। সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় কাঁচামালের ব্যয়ের পরিবর্তনের প্রভাবও এই সমন্বয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। মাত্র দুই দিন আগেও একই মানের সোনা বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। ফলে এক ধাক্কায় ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

একইভাবে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকায়। এ শ্রেণির সোনার দাম বেড়েছে ৬ হাজার ২৯৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা, যা আগের তুলনায় ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা বেশি।

অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি সনাতন স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায়। এ ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

স্বর্ণবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন মাসের শুরু থেকেই বাজারে বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় হয়েছে। গত ২ জুন ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এরপর ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮১ টাকা, ১০ জুন ৬ হাজার ৫৯১ টাকা এবং ১১ জুন ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়।

ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চার দফা সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনার দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমে গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় সেই পতনের একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকায়। এ ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ২৯১ টাকা।

২১ ক্যারেট রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, যা আগের তুলনায় ২৯২ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণমূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।

-রাফসান


ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১১:৪৭:২০
ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একসময় তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন—এমন দাবি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও এতদিন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি তিনি। তবে ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো অভিযোগের জবাব দেন গভর্নর।

শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে মোস্তাকুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তাকে ঘিরে ঋণখেলাপির অভিযোগ বারবার সামনে আনা হয়েছে। তবে তার দাবি, বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্রিন ফ্যাক্টরি ছিল এবং সেখানে বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা অনেকের জানা নেই।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় কম সুদে অর্থায়ন পেয়েছিল। শুরুতে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়নের অনুমোদন থাকলেও প্রকল্পে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সেই তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত কম সুদের পরিবর্তে ৯ থেকে ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব ঘটে। তবে বিলম্বিত পরিশোধ আর ঋণখেলাপি হওয়া এক বিষয় নয় বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হওয়া মানেই খেলাপি হয়ে যাওয়া নয়। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা কখনো উৎপাদন বন্ধ করেনি, রপ্তানি কার্যক্রমও থেমে যায়নি। এমনকি কর্মীদের বেতনও কোনো মাসে বিলম্বিত হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

গভর্নর আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঋণ মওকুফ বা বিশেষ সুবিধা দাবি করেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়েছে। তার মতে, বাস্তব তথ্য উপেক্ষা করে একটি অভিযোগকে দীর্ঘদিন ধরে পুনরাবৃত্তি করার কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, অনেক সময় একটি তথ্য বা অভিযোগ বারবার প্রচারিত হলে সেটিকে সত্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় ভিন্ন হতে পারে। তাই আর্থিক খাতের বিষয়ে আলোচনা করতে হলে প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া।

গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া অর্থের গড়ে মাত্র ২ শতাংশ ফেরত আনা সম্ভব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের আর্থিক বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, তবুও বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে হাল ছাড়ছে না। পাচার হওয়া অর্থ শনাক্তকরণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

-রফিক


সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:২৯:০৮
সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই দেশের স্বর্ণবাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের মূল্যপতন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এক ধাক্কায় ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। মাত্র দুই দিন আগেও একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও একটি বড় মূল্যহ্রাসের সাক্ষী হলো দেশের স্বর্ণবাজার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামাও এই দরপতনের অন্যতম কারণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস।

চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এরপর আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ধাপে ধাপে দাম কমতে শুরু করে।

সর্বশেষ মূল্যহ্রাসের ফলে জানুয়ারির সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ৬৭ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মূল্যপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকায়।

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও এসেছে মূল্যহ্রাস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩৬ দফা কমেছে। অন্যদিকে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৪৪ বার, যেখানে ২২ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২২ বার হ্রাস পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, মূল্যবান ধাতুর বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

-রাফসান


স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১০:৪০:৪৩
স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং রুপার দাম ৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই মূল্য শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের পরিবর্তন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও বিশুদ্ধ রুপার মূল্য কমে যাওয়ার কারণে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝোঁক বৃদ্ধির কারণে মূল্যবান ধাতুর দামে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

মাত্র দুই দিন আগেও ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় সেই দাম আরও ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমে বর্তমান পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে জুন মাসজুড়েই স্বর্ণবাজারে ধারাবাহিক মূল্যপতনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও এসেছে নতুন মূল্যসংশোধন। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি করা হলেও ৩৬ বার কমানো হয়েছে। অর্থাৎ বছরজুড়ে স্বর্ণবাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে রুপার বাজারেও মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৪৪ বার রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং সমান সংখ্যক অর্থাৎ ২২ বার দাম কমেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: