২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১২:৪০:২৩
২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে শর্তসাপেক্ষে ১০০ জন হজ গাইড নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ গত ৮ জানুয়ারি জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার নির্ধারিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ সাপেক্ষে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ হজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থানরত সরকারি হজযাত্রীদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন এসব হজ গাইড।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক হজ গাইডকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ঢাকার হজ অফিসে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত হজ গাইডদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ অপরিহার্য করা হয়েছে। প্রত্যেক গাইডকে গড়ে ৪৬ জন (কম বা বেশি) হজযাত্রীর সম্পূর্ণ হজ কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে সৌদি আরব অবস্থান ও দেশে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

হজযাত্রীদের নামের তালিকা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হজ গাইডকে সব হাজিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠন করতে হবে। এই গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং হজ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

এছাড়া হজ ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা, টিকা গ্রহণ, পাসপোর্ট সংগ্রহ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ অফিসে ভিসার আবেদন দাখিল এবং বিমানের টিকিট সংগ্রহে হাজিদের সহায়তা করার দায়িত্বও হজ গাইডদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

হজের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে হাজিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে হজ প্রশাসনিক দল, কাউন্সেলর (হজ) এবং মৌসুমি হজ অফিসারদের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।

অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হজ গাইডরা কোনো হজযাত্রীর ব্যক্তিগত কাজে যুক্ত হতে পারবেন না এবং খাবার কেনা বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন না। হাজিদের সঙ্গে সর্বদা ভদ্র ও নম্র আচরণ করতে হবে এবং এমন কোনো কাজে জড়ানো যাবে না, যাতে সরকার বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।

হাজি হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো, অসুস্থ হাজিদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা এবং জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও গাইডদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান ও সফরের সময় দৃশ্যমানভাবে জাতীয় পতাকা বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের নিজস্ব ব্যয়ে মক্কা ও মদিনায় জিয়ারত কার্যক্রমে সহায়তা করবেন হজ গাইডরা।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রত্যেক হজ গাইডকে হজ কার্যক্রমের সার্বিক বিবরণ তুলে ধরে একটি লিখিত প্রতিবেদন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

অফিস আদেশে আরও জানানো হয়, চাকরিরত হজ গাইডদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজ দপ্তরের ছাড়পত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি হজ গাইড নিজ নিজ গ্রুপের হাজিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং সৌদি আরবে মোবাইল ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ নির্ধারিত ভাতাও প্রদান করা হবে।

-শরিফুল


নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:২১:৪৩
নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে ইমান বা বিশ্বাসের পরপরই নামাজের অবস্থান যা পরকালে হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় এই স্তম্ভটি কেবল একটি ইবাদত নয় বরং এটি পরকালীন মুক্তির অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী হাশরের ময়দানে মানুষের কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব গ্রহণ করা হবে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ আদায়ের বিধান থাকলেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। পার্থিব ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন নির্দিষ্ট সময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নামাজ আদায় করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি মোতাবেক ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং ২৯ রজব ১৪৪৭ হিজরি।

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ভাগে আসরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে।

সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের আজান হবে ৫টা ৩৮ মিনিটে এবং রাতের প্রধান ইবাদত এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার শেষরাত ৫টা ২৪ মিনিটে ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে রাজধানী ঢাকার সময়ের সাথে কিছুটা যোগ-বিয়োগ করতে হবে যা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা জরুরি।

ঢাকার সময়ের সাথে তুলনা করলে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে সময় কিছুটা এগিয়ে থাকে। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দাদের ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে সময়ের কিছুটা বৃদ্ধি ঘটে যেখানে খুলনা বিভাগে ঢাকার সময়ের সাথে ৩ মিনিট অতিরিক্ত যোগ করতে হবে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যেখানে ঢাকার সময়ের সাথে যথাক্রমে ৭ ও ৮ মিনিট যোগ করে নামাজ আদায় করতে হবে।

এছাড়া বরিশাল বিভাগের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে মাত্র ১ মিনিট যোগ করলেই সঠিক সময় পাওয়া যাবে। ওয়াক্ত অনুযায়ী সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা ইমানের পূর্ণতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে।


শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:৫৭:০৮
শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের ক্ষণগণনা শুরু ও মহিমান্বিত রজনী শবেবরাতের তারিখ নির্ধারণে আজ রবিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন চাঁদের সন্ধান করা হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পবিত্র রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। ইসলামের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল সোমবার থেকে শাবান মাস শুরু হবে। অন্যথায় রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে নতুন মাস। তবে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

সংবাদমাধ্যম গালফ টুডের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের বরাতে জানানো হয়েছে, বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আজ রবিবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জ্যোতির্বিদদের মতে, আজ নতুন চাঁদের জন্ম হলেও তা সূর্যাস্তের আগেই দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। ফলে চাঁদ দেখার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি আজ পূরণ হচ্ছে না। এই গাণিতিক হিসাব যদি সঠিক হয়, তবে চলতি রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মেদ শওকত ওদেহ এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, রবিবার চাঁদ দেখা না গেলেও আগামীকাল সোমবার অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খালি চোখেই শাবানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আলবেনিয়ায় সোমবার সন্ধ্যার আকাশে টেলিস্কোপের মাধ্যমে নতুন চাঁদ স্পষ্ট হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে পবিত্র শবেবরাতের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া গেছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে মুসলমানদের এই বিশেষ ধর্মীয় রজনী পালিত হয়। যদি মধ্যপ্রাচ্যে মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হয়, তবে সেখানে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শবেবরাত পালিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যদি সোমবার চাঁদ দেখা যায়, তবে এ দেশেও একই রাতে শবেবরাত হতে পারে। তবে সোমবার যদি দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না যায়, তবে বাংলাদেশে শবেবরাত পালিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে।

ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর। আজ সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার ফলাফল ঘোষণা করবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই অগ্রিম বার্তা ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি নিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ০৯:৪৭:৩৭
নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আজ রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা দিনপঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৪ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ২৮ রজব ১৪৪৭। মাঘের এই হাড়কাঁপানো শীতের সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা আজ ও আগামীকালের নামাজের নির্ভুল সময়সূচি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আজকের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঠিক সময়ের তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, আজ ১৮ জানুয়ারি রবিবার ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে।

দিন শেষে যখন সূর্য রক্তিম আভা নিয়ে অস্ত যাবে, তখন অর্থাৎ সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিটে শুরু হবে মাগরিবের সময়। রাতের শেষ নামাজ এশার ওয়াক্ত আজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) ফজরের ওয়াক্তের সূচনা হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।

আজকের প্রাকৃতিক আলো-আঁধারির হিসাবে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে। শীতকালীন এই ছোট দিনগুলোতে সূর্যাস্তের সময়ের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে, মাঘের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আগামীকাল সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে।

বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার থেকে সরবরাহকৃত এই সময়সূচি মূলত ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় এই সময়ের সঙ্গে কয়েক মিনিটের ব্যবধান হতে পারে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে প্রতিদিন এই সময়সূচি হালনাগাদ করা হয়ে থাকে, যা ধর্মীয় ইবাদতের সঠিক সময় পালনে বিশেষ সহায়ক। বিশেষ করে পবিত্র রজব মাসের শেষ ভাগে এই দিনপঞ্জি ও সময়সূচি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।


নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ০৯:২৩:৪১
নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি জীবনদর্শনে ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয় নামাজকে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজের অবস্থান দ্বিতীয় এবং এটি ধর্মের অন্যতম প্রধান রুকন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের আমলনামার মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধান রয়েছে, যা একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তির উৎস। জাগতিক জীবনের শত ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত।

আজ শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি; বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ২৭ রজব ১৪৪৭। আজকের এই বিশেষ দিনে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের যে সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, তা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আজকের জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে।

দিনের শেষে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিটে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬টা ৫১ মিনিটে।

এ ছাড়া আগামী কাল রোববার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে ৫টা ২৪ মিনিট।

ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্য বিভাগগুলোর নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ করতে হবে অন্যান্য বিভাগগুলোতে। সে অনুযায়ী খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার সময়ের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো খেয়াল রেখে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।


ইসরা ও মেরাজ: নবীজির অলৌকিক সফরের পূর্ণ ব্যাখ্যা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৪:৩৭:১৭
ইসরা ও মেরাজ: নবীজির অলৌকিক সফরের পূর্ণ ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে ইসরা ও মেরাজ বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য অলৌকিক নিদর্শন। এই ঘটনাটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; বরং আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা, নবুয়তের মর্যাদা এবং আখিরাতের বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রমাণ। পবিত্র কোরআনে ইসরা ও মেরাজের ঘটনা আলাদা দুটি সূরায় ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

ইসরা ও মেরাজ কী

ইসরা বলা হয় এক রাতের সেই বিস্ময়কর সফরকে, যেখানে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–কে আল্লাহ তাআলা মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নিয়ে যান। আর মেরাজ হলো মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হওয়া নবীজির উর্ধ্বজগত বা আসমানসমূহে আরোহণ, যেখানে তিনি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেন।

কোরআনে ইসরা: অলৌকিক সফরের ঘোষণা

ইসরা সম্পর্কে কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে সূরা ইসরা–র প্রথম আয়াতে। সেখানে আল্লাহ তাআলা নিজের মহিমা ঘোষণা করে বলেন তিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, যার চারপাশ তিনি বরকতময় করেছেন, যেন তাঁর কিছু নিদর্শন দেখাতে পারেন।

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসরা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ সম্মান ও অলৌকিক ঘটনা। একই সঙ্গে এটি মসজিদুল আকসা ও তার আশপাশের ভূমির পবিত্রতা ও বরকতের কথাও ঘোষণা করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই অঞ্চল কেবল ঐতিহাসিক নয়, বরং ধর্মীয়ভাবেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

মেরাজ: উর্ধ্বজগতের বিস্ময়কর সাক্ষাৎ

নবীজির (সা.) মেরাজ বা আকাশসমূহে ভ্রমণের বিবরণ এসেছে সূরা নাজম–এ। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি সিদরাতুল মুনতাহার কাছে পৌঁছেছিলেন যা সৃষ্টি জগতের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। এই স্থানেই তিনি হজরত জিবরাইল (আ.)–কে তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে প্রত্যক্ষ করেন।

কোরআন জানায়, সিদরাতুল মুনতাহার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। সে সময় এমন এক আচ্ছাদনে সিদরাতুল মুনতাহা আবৃত ছিল, যার প্রকৃতি মানুষের বোধগম্য নয়। নবীজির দৃষ্টি সেখানে স্থির ছিল; তিনি কোনো সীমা লঙ্ঘন করেননি, কোনো দিকে দৃষ্টি বিচ্যুতও হয়নি। আল্লাহ যা দেখাতে চেয়েছেন, কেবল সেগুলোই তিনি দেখেছেন।

মেরাজের তাৎপর্য

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মেরাজ কোনো কল্পনাপ্রসূত অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সংঘটিত এক বাস্তব অলৌকিক ঘটনা। এতে নবীজির (সা.) আনুগত্য, বিনয় ও সীমারেখা রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে এটি আখিরাত, জান্নাত, ফেরেশতা ও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে মানবজাতির বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে।

ইসরা ও মেরাজ মুসলমানদের জন্য কেবল স্মরণীয় একটি রাত নয়; বরং এটি ঈমানকে দৃঢ় করার, নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করার এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক অনন্য উপলক্ষ। এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহ চাইলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।


হিজাব নিয়ে কোরআনের আয়াত ও ব্যাখ্যা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৩:৫২:০৩
হিজাব নিয়ে কোরআনের আয়াত ও ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনে নারীর শালীন পোশাক বা হিজাব বিষয়ে যে আয়াতগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেগুলো মূলত মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক সংযমের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোরআনের এই নির্দেশনাগুলোকে অনেক সময় কেবল পোশাকবিধি হিসেবে দেখা হলেও গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এগুলোর লক্ষ্য ব্যক্তিগত শালীনতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কোরআনে শালীনতার মূল নির্দেশনা

কোরআনের সূরা নূর (২৪)–এর ৩১ নম্বর আয়াতে মুমিন নারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, শুধু যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। আয়াতটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারীদের তাদের খিমার বক্ষদেশের ওপর টেনে দিতে বলা হয়েছে।

এই আয়াতে কোথাও স্পষ্টভাবে চুল বা মুখ ঢাকার কথা উল্লেখ নেই। বরং এটি বক্ষ ও গলার অংশ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়, যা সে সময়ের সামাজিক বাস্তবতায় শালীনতার একটি মানদণ্ড ছিল। একই সূরার ৩০ নম্বর আয়াতে পুরুষদের প্রতিও একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও আত্মসংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে শালীনতা কেবল নারীদের জন্য নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি নৈতিক বিধান।

সূরা আহযাব ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন

নারীর পোশাক প্রসঙ্গে কোরআনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত এসেছে সূরা আহযাব (৩৩)–এর ৫৯ নম্বর আয়াতে। এখানে নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলেন তারা বাইরে বের হলে নিজেদের ওপর জিলবাব টেনে নেয়।

এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হিসেবে আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যাতে তারা পরিচিত হয় এবং হয়রানির শিকার না হয়। অর্থাৎ, এই আয়াতের মূল লক্ষ্য নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের চলাফেরায় বাধা দেওয়া বা গৃহবন্দি করা নয়।

গবেষকদের মতে, সে সময় সমাজে বিশ্বাসী নারী ও পুরুষ উভয়েই নিপীড়নের শিকার হতেন। তাই জিলবাব ছিল একটি সামাজিক পরিচয় ও নিরাপত্তার চিহ্ন। ফলে যেসব সমাজে এই উদ্দেশ্য অন্য উপায়ে পূরণ হয়, সেখানে আয়াতের মূল দর্শনটি ভিন্ন বাস্তবতায় প্রয়োগযোগ্য হতে পারে।

খিমার ও জিলবাব: পরিভাষার ব্যাখ্যা

কোরআনে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো খিমার ও জিলবাব। খিমার বলতে মূলত সে সময় আরব নারীদের ব্যবহৃত মাথার আবরণকে বোঝানো হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে অলংকার হিসেবেও ব্যবহৃত ছিল। আয়াতে এই খিমার দিয়ে বক্ষদেশ ঢাকার কথা বলা হয়েছে, মাথা ঢাকার বাধ্যবাধকতার কথা নয়।

অন্যদিকে, জিলবাব ছিল একটি ঢিলেঢালা বাইরের পোশাক, যা শরীরের ওপর পরা হতো বাইরে চলাচলের সময়যা দিয়ে মাথা ঢাকা থাকত। এটি আধুনিক অর্থে নির্দিষ্ট কোনো ডিজাইন বা ফ্যাশনের পোশাক নয়; বরং একটি সাধারণ বাহ্যিক আবরণ।

এই আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোরআন মূলত একটি শালীনতার কাঠামো (framework of modesty) তৈরি করেছে। এর কেন্দ্রবিন্দু হলো-

দৃষ্টি সংযত রাখা

আত্মসংযম ও পবিত্রতা রক্ষা

সামাজিক শালীনতা বজায় রাখা

নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

পোশাক এখানে একটি মাধ্যম, লক্ষ্য নয়। তাই বিভিন্ন সমাজে পোশাকের ধরন ভিন্ন হলেও কোরআনের মূল উদ্দেশ্য নৈতিকতা ও নিরাপত্তা।


প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৩:০৩:১৭
প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে জুমার খুতবার সূচনালগ্নে মুহাম্মদ (সা.) যে বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও মানবজীবনের নৈতিক দিশা হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রথম জুমার খুতবায় তিনি মানুষের মুক্তি, দায়িত্ব ও আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়ে গভীর ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন।

প্রথম খুতবার মূল শিক্ষা

ইসলামের প্রাচীনতম জীবনীকারদের একজন ইবনে ইসহাক আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমানের বর্ণনায় জানা যায়, জুমার প্রথম খুতবা শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণগান করেন। এরপর তিনি উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক মানুষকে নিজের মুক্তির জন্য নিজ দায়িত্বে আমল করতে হবে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, একদিন হঠাৎ মৃত্যু এসে মানুষকে গ্রাস করবে। তখন সে তার সম্পদ, দায়িত্ব কিংবা পার্থিব ব্যস্ততা সবকিছুই ফেলে চলে যাবে। এরপর মানুষ তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। সেদিন তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, কোনো পর্দাও থাকবে না।

সেদিন আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, তাঁর রাসুল কি মানুষের কাছে হেদায়াতের বাণী পৌঁছে দেননি? দুনিয়ায় যে নেয়ামত ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বিনিময়ে মানুষ আখিরাতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছে?

এই জবাবদিহির দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ তখন ডানে-বামে তাকাবে কিন্তু কোনো সহায়তা পাবে না। সামনে তাকালে সে কেবল জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতিই দেখতে পাবে।

এই বাস্তবতার আলোকে তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, কেউ যদি মাত্র একটি খেজুর দান করেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তবে সে যেন সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে। আর যদি কারও পক্ষে দান করাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত উত্তম কথা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। কারণ একটি সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ এক থেকে বহু গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয় খুতবার বার্তা

দ্বিতীয় খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আবারও আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেন, তিনি একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান। মানুষ যেন নিজের নফসের কুপ্রবৃত্তি ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করে।

তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট হতে দেন, তাকে কেউ সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে না। তিনি সাক্ষ্য দেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়।

রাসুল (সা.) বলেন, মানুষের জন্য সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সেই ব্যক্তি প্রকৃত সফল, যার অন্তর আল্লাহ তাআলা কোরআনের আলো দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং কুফরির অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোয় ফিরিয়ে এনেছেন।

তিনি মানুষকে উপদেশ দেন, আল্লাহ যা ভালোবাসেন, মানুষ যেন তাই ভালোবাসে। আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে অন্তর ভরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণে যেন কেউ ক্লান্তিবোধ না করে এবং অন্তর যেন কোরআন থেকে বিমুখ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

রাসুল (সা.) আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে উত্তম বিষয়গুলো নির্বাচন করেন। বান্দার আমলসমূহের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াতকে তিনি সর্বোত্তম আমল হিসেবে পছন্দ করেছেন। কোরআনের মধ্যেই মানুষের জন্য হালাল ও হারামের পূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে।

খুতবার শেষাংশে তিনি তাগিদ দেন, মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক না করে এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে চলে। মুখে উচ্চারিত কথাবার্তার মধ্যেও যেন সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আল্লাহর রহমতের ভিত্তিতে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের পছন্দ করেন না।

শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত সবাইকে শান্তি, রহমত ও বরকতের দোয়া জানান।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪


নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১১:৪৩:৪৪
নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২ মাঘ ১৪৩২, আর হিজরি হিসাবে দিনটি ২৬ রজব ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে। মুসল্লিদের সময়মতো মসজিদে উপস্থিত থাকার জন্য এ সময়ের প্রতি খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজ আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে। এরপর সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিট থেকে।

রাতের নামাজ হিসেবে এশার সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে। মুসল্লিরা এই সময়ের পর এশার নামাজ আদায় করতে পারবেন।

পরবর্তী দিনের সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে। ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য আগেভাগে সময় জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

আজ রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় ঘটবে সকাল ৬টা ৪৩ মিনিটে। দিন ও রাতের এই সময়সূচি রোজকার ইবাদত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১০:০১:৪৫
কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে

শুক্রবার কি শুধু সপ্তাহের আরেকটি দিন, নাকি মুসলমানদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত এক বিশেষ রহমতের সময়? হাদিস ও কোরআনের আলোকে দেখা যায়, জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি এই উম্মতের জন্য এক অনন্য পরিচয়, সম্মান ও আখিরাতমুখী সৌভাগ্যের প্রতীক। দুনিয়ার সময়ক্রমে যেমন শুক্রবারের অবস্থান আলাদা, তেমনি কেয়ামতের দিনও এই উম্মতের অবস্থান হবে অগ্রগণ্য।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতদের জুমার দিনের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখেছিলেন। ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত ছিল শনিবার, খ্রিষ্টানদের জন্য রবিবার। এরপর আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে শুক্রবারকে ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে দান করেন। পৃথিবীর সময়ধারায় যেমন শনিবার ও রবিবার শুক্রবারের পরে এসেছে, তেমনি কেয়ামতের দিনেও ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পরে থাকবে, যদিও দুনিয়াতে মুসলমানরা এসেছে সর্বশেষ (সহিহ মুসলিম: ১৪৭৩)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, পৃথিবীতে সূর্য উদিত হওয়া সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং আবার জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়েছে। এমনকি কেয়ামতও সংঘটিত হবে এই শুক্রবারেই (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)। এ কারণেই ইসলামি দৃষ্টিতে শুক্রবার কেবল ইবাদতের দিন নয়, বরং মানব ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দিন।

হাদিসে শুক্রবারকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জুমার দিনকে এই উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন (সহিহ ইবনে মাজাহ: ৯০৮)। ঈদের মতোই এ দিন পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সম্মিলিত ইবাদতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জুমার দিনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুনাহ মাফের সুযোগ। যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, আগে আগে মসজিদে আসে, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দিয়ে মনোযোগসহকারে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকে, তার আগের জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় (আবু দাউদ: ৩৪৩)।

এই দিনের প্রতিটি আমলের সওয়াবও অসাধারণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও এক বছরের নামাজের সওয়াব দান করেন (তিরমিজি: ৪৫৬)।

হাদিসে আরও এসেছে, কোনো মুসলমান যদি শুক্রবার দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন (তিরমিজি: ১০৭৪)। এ কারণেও শুক্রবারকে রহমত ও নিরাপত্তার দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামাতে ফজরের নামাজ আদায়, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জুমার দিনে আজান দেওয়া হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হবে (সুরা জুমা: ৯)।

এ দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত করা হবে (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল: ৯৫২)। পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পেশ করা হয় (আবু দাউদ: ১০৪৭)।

জুমার খুতবা ও নামাজের শৃঙ্খলা ইসলামি সমাজব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। খুতবার সময় কথা বলা তো দূরের কথা, কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (বুখারি: ৯০৬)। তাফসিরবিদরা বলেন, সুরা জুমার আগের সুরা ‘সফ’ এবং পরের সুরা ‘মুনাফিকুন’। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, জুমার নামাজে কাতারবদ্ধ হওয়া ঈমানি ঐক্যের প্রতীক এবং জুমা পরিত্যাগ করা কপটতার লক্ষণ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, বিনা কারণে যারা ধারাবাহিকভাবে জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম)। এমনকি তিন জুমা অবহেলা করলে অন্তর সিলমোহর হয়ে যাওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে (তিরমিজি)।

সব মিলিয়ে শুক্রবার মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সামষ্টিক ইবাদত, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় এবং ঈমান নবায়নের এক অনন্য সুযোগ। নারী-পুরুষ সবার জন্যই শুক্রবারের আমল সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই এই দিনের ফজিলত উপলব্ধি করে সচেতনভাবে আমল করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।

পাঠকের মতামত: