কালিগঞ্জে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৯:২৬:২৫
কালিগঞ্জে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১১নং রতনপুর ইউনিয়নের রাম গোবিন্দপুর (ধাপুয়াচক) গ্রামে রেকর্ডীয় ৩৭ শতাংশ জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত শেখ আবু ইসার স্ত্রী মোছাঃ জেবুন নেছা।মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন পরিদর্শন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ থানাধীন রাম গোবিন্দপুর মৌজার জে.এল নং-১৬০, খতিয়ান নং-১৪১ এবং দাগ নং-৪৫১ ও ৪৫৯-এর অন্তর্ভুক্ত ৩৭ শতাংশ জমি অভিযোগকারীর স্বামীর নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি।ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তারা জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত নরিম শেখের পুত্র শেখ মুজিবর রহমান ও মোঃ আবু মুছা, শেখ মুজিবর রহমানের পুত্র তরুন রাসেল বাবু, মৃত হাছিমউদ্দীন গাজীর পুত্র লতিফ গাজী, আরশাদ শেখের পুত্র শেখ আমিনুর, মৃত ছাকাত আলী শেখের পুত্র শেখ নূর আলী, গফুর শেখের পুত্র শেখ মুকুল হোসেন, আফছার শেখের পুত্র শেখ রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এবং শেখ আতিয়ার রহমানের পুত্র শেখ তুহিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করছেন।অভিযোগকারী জানান, গত ৩ মার্চ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে নালিশী জমির ভেতর দিয়ে নিজেদের সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, “জমি আমরা জবরদখল করব, কেউ বাধা দিলে খুন-জখম করা হবে”এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এলাকাবাসীর পরামর্শে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।অন্যদিকে অভিযুক্ত শেখ রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শেখ আতিয়ার রহমান ও শেখ তুহিনুর রহমান দাবি করেন, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে। তাদের বক্তব্য, বাদী পক্ষ ভোগদখলের বিষয়ে হাজির না হওয়ায় বিষয়টি এখনো মীমাংসা হয়নি।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২১:৩২:৩৫
কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
সুফিয়া বেগম/ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকায় জমি জবর দখলকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারাত্মক যখম সুফিয়া বেগম কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার দঃ শ্রীপুরের আ'লীগের নেতা আবু জাফর সাপুঁইয়ের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান সাপুঁই এবং মুজিবর রহমান গাজীর ছেলে মুশফিকুর রহমান সজল মিলে অভিযোগকারীর স্বামীর নামে থাকা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার পালিত ছেলে মুশফিকুর রহমান সজল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তার স্বামীর নামে থাকা সম্পত্তির একটি অংশ বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করলে তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত (২৬ মে-২০ ২৬) সকাল আনুঃ ১০টার দিকে দক্ষিণ শ্রীপুর মৌজাস্থ তাদের সম্পত্তিতে মোস্তাফিজুর রহমান সাপুঁই ঘেরাবেড়া দিতে শুরু করেন। খবর পেয়ে সুফিয়া বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দিলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করা হয়েছে। মারধরের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু জাফর সাপুঁইয়ের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান সাপুঁইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জুয়েল হোসেনের সাথে কথা হলে বলেন,“ অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ 

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২১:২৯:১৮
কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ 
ছবি : শিমুল হোসেন

কালিগঞ্জ উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের জবরদখলের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু একটি পরিবার। অভিযোগকারী উৎপল বৈদ্য (৪৮), পিতা-মৃত সন্তোষ কুমার বৈদ্য, উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা (কুশুলিয়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, মৃত ইমান আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫০) ও আকবর আলী (৫৫), অজ্ঞাত পিতার ছেলে আব্দুল্লাহ (৫০), রেজাউলের ছেলে ইব্রাহিম (২৪), মৃত কালীপদ বৈদ্যের ছেলে ধ্রুব বৈদ্য (৫৫), ধ্রুব বৈদ্যের ছেলে সমিরন বৈদ্য (৩৫), শীতল মন্ডলের ছেলে শুকদেব মন্ডল (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন দীর্ঘদিন ধরে তার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং পরিবারটি গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে ধান ও মৎস্য চাষাবাদ করে আসছে। কিন্তু অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে জমি ও মৎস্য ঘের দখলের উদ্দেশ্যে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।অভিযোগকারী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-২৮/২৫ দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

পরবর্তীতে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, উক্ত মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অবস্থান সমর্থিত হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের ভেড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধারালো দা, কুড়াল ও শাবল নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসেন।

প্রাণনাশের আশঙ্কায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বর্তমানে অভিযুক্তরা মৎস্য ঘের ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হলে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

তফসিলভুক্ত সম্পত্তির বিবরণ :

থানা-কালিগঞ্জ, মৌজা-কুলিয়া দুর্গাপুর, এসএ খতিয়ান নং-২৬৮ ও ২৬৯, দাগ নং-১৬০ ও ১৬৮, মোট জমির পরিমাণ ১.২১ একর।


ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ: পুলিশের অ্যাকশনে রণক্ষেত্র মতিঝিল

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১১:৪৬:৫৯
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ: পুলিশের অ্যাকশনে রণক্ষেত্র মতিঝিল
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যরা। তারা ব্যাংকের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের দোসর। তাকে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ব্যাংকে আবার লুটপাট হবে। এ কারণে তারা তাদের দাবি তুলে ধরতে কর্মসূচি পালন করছিলেন।

পুলিশ তাদেরকে প্রথম দফা সরিয়ে দিলেও আবারও ইসলামী ব্যাংক এলাকায় অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ব্যাংকের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

/আশিক


কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত বসতভিটা দখলের চেষ্টা থানায় লিখিত অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২২:০৬:১৮
কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত বসতভিটা দখলের চেষ্টা থানায় লিখিত অভিযোগ
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় জমি বিক্রির নামে অর্থ গ্রহণ করে জমি হস্তান্তর না করা এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক নারী। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত একটি পরিবারের বসতভিটা সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের আবেদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (৩০ মে,২০২৬) বিকেলে অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর খাস জমিতে প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে আছাদুজ্জামান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরটি সংস্কার এবং নতুন ঘর নির্মাণের অনুমতি চেয়ে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে আবেদন করেছেন।আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলে তাদের বসতঘরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় ঘরের দেয়াল ধসে প্রাণহানি কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পরিবারটির দাবি, তারা সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার) গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করে আসছেন। মানবিক বিবেচনায় নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।অপরদিকে, একই জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার বেনাদনা গ্রামের শাহানারা পারভীন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় তিন বছর আগে মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে মো. তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

অর্থ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে একটি ব্যাংক চেকও প্রদান করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহানারা পারভীনের অভিযোগ,দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি এবং গ্রহণকৃত অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। একাধিকবার টাকা ফেরতের দাবি জানানো হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। সর্বশেষ পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি ও অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তৌফিক রহমানের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের দাউদ তরফদারের ছেলে আলমগীর তরফদার বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধামকি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বাড়িঘর ভাঙচুর করে জমি জবরদখলের হুমকিও দিয়েছেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর তরফদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কয়েক বছর আগে শহিদুল ইসলাম, আছাদুজ্জামান, শাহানারা পারভীন, আশারাফ গাইন ও তৌফিক রহমানের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায় এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৌফিক রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।আদালত ও আইন যে সিদ্ধান্ত দেবে,আমরা তা মেনে নেব। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি ও বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৭:৩৫:২৪
দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রকোপের মাঝে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের সদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩২৪ জন শিশুই সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের এই উচ্চ সংখ্যা শিশুদের মাঝে অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত আড়াই মাসেরও কম সময়ে দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জনে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সারা দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৯৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।

বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৫৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যার ফলে দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে এখন ৯ হাজার ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ই মার্চ থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন রোগী। একই সময়ে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন ৫২ হাজার ৮৪১ জন। মূলত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দিচ্ছে।

/আশিক


প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৭:২২:০২
প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে দুটি উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকার মেগা বরাদ্দ তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এই উন্নয়ন বরাদ্দকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "ওরা যে টাকাটা নিয়েছে, পারলে বলুক নেয় নাই!"

আজ রবিবার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে এই ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা উনারা নিয়ে গিয়েছেন। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ লাখ, ১৫ লাখ বা ১৮ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ কোথাও ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির (ADP) টাকা এভাবে মাত্র দুটি উপজেলায় কোটি কোটি টাকা বণ্টন করা আর বাকি উপজেলাগুলোকে চরমভাবে বঞ্চিত করা উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। উনারাই মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে নতুন করে এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছেন।

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বরাদ্দের এই একচেটিয়া প্রভাবকে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে একটি ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে মো. মোস্তাক মিয়া কিছুটা সুর নরম করে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, টাকাটা উনারা পকেটে ঢুকিয়েছেন বা ব্যক্তিগতভাবে খেয়ে ফেলেছেন—আমি কিন্তু সেটা বলিনি।

আমি বলেছি, প্রকল্পের আড়ালে উনারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুটি উপজেলার জন্য ২৫ কোটি টাকার মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নিয়েছেন, যেখানে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অন্য উপজেলাগুলো সামান্য বরাদ্দের জন্য হাহাকার করছে। আমি কেবল এই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে বলতে চেয়েছি। তারা যদি সততার দাবিদার হন, তবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলুক যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে উনারা এই বরাদ্দ নেননি।

/আশিক


মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:২০:১৫
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জলসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে (IRIB) প্রচারিত এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত করা ড্রোনটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত আধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) মডেলের একটি মানববিহীন আকাশযান। ড্রোনটি ইরানের কৌশলগত জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে একটি গোপন ‘শত্রুতামূলক ও গোয়েন্দা অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনটি ইরানের আকাশ ও জলসীমার প্রতিরক্ষা বলয়ের রাডারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর আইআরজিসির নিজস্ব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Missile Defense System) মাধ্যমে সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আকাশেই ধ্বংস ও ভূপাতিত করা হয়। ঘটনা পর আইআরজিসি বিশ্ববাসীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, “ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশের জবাব সবসময় এমন দৃঢ়, অনমনীয় ও সিদ্ধান্তমূলকভাবেই দেওয়া হবে।”

তবে স্পর্শকাতর এই ড্রোনটি ঠিক কোন সমুদ্রসীমায় বা ভৌগোলিক অবস্থানে ভূপাতিত করা হয়েছে, ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে কিংবা এর ধ্বংসাবশেষ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বড় ধরণের সামরিক দাবি করা হলেও, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও বেশি জটিল ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশ ও সমুদ্রপথে মার্কিন এবং ইরানি বাহিনীর নজরদারি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই এমন মুখোমুখি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছিল। এর আগেও একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার নজির রয়েছে তেহরানের, যারা বরাবরই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:১৫:৫৫
বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত
কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। ছবি সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া প্রকাশ্য এক জনসভায় এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

বক্তব্যের শুরুতেই জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের সন্তান আসিফ মাহমুদ একাই ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি কোনো সরকারি অনুদান ছিল না, এটি ছিল আমাদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের টাকা। এর বাইরে অপর সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ একই কায়দায় জেলা পরিষদ থেকে তুলে নিয়ে গেছেন আরও ১০ কোটি টাকা।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা মুখে বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও ভেতরে ভেতরে চরম বৈষম্য তৈরি করে নিজেদের পকেট ভারী করেছেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মোস্তাক মিয়া বলেন, "বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ পুনর্গঠিত হচ্ছে। দেশের আপামর জনসাধারণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।" তিনি দাবি করেন, বিগত শাসনামলে দেশের যে অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দিনরাত পরিশ্রম করে সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

/আশিক


একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ২৩:০৮:০৪
একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য
শিশু রামিসা আক্তার ও শিশু আছিয়ার কবরের পাশে তার স্বজন। ছবি : কালবেলা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় মাত্র চারদিনের ব্যবধানে দুটি অবুঝ শিশুর মর্মান্তিক ও নির্মম মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট দুটি পরিবারে এখন চলছে বুকফাটা শোকের মাতম। একদিকে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে, যার পৈতৃক নিবাস সিরাজদীখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ঠিক চারদিন আগে সিরাজদীখানের খাসকান্দি মদিনা পাড়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার আপন সৎ মামা।

দুটি হত্যাকাণ্ডই ছিল চরম নৃশংস এবং দুটি পরিবারই তাদের কলিজার টুকরো সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে। তবে এই দুই সমপর্যায়ের লোমহর্ষক ঘটনার পর দেশের সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ভিন্নমুখী ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া যেন তৈরি করেছে এক চরম সামাজিক বৈষম্যের গল্প। একই উপজেলার দুটি ঘটনার একটি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চললেও অন্যটি নিয়ে এক ধরনের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে ঢাকার পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা। নিহত রামিসা ছিল স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের জোয়ার বয়।

খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পর ঘটনাস্থল এবং সিরাজদীখানের গ্রামের বাড়িতে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়। সমবেদনা প্রকাশ ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সেখানে এক শ্রেণির মানুষের ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের হিড়িক পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অথচ এর ঠিক চারদিন আগে, অর্থাৎ গত ১৬ মে সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনা পাড়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার সৎ মামা রাজা মিয়া। আছিয়া ছিল চর খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত ঘাতক রাজা মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল।

কিন্তু রামিসার ঘটনাটি নিয়ে যেভাবে পুরো দেশ উত্তাল হলো, আছিয়ার পরিবারের পাশে সেভাবে তেমন কাউকেই দাঁড়াতে দেখা যায়নি। খাসকান্দির সেই জরাজীর্ণ ছোট্ট বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে যাননি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, এমপি কিংবা উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দুটি শিশুই তো সমভাবে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো এবং দুজনই একই উপজেলার সন্তান। তাহলে একটি ঘটনা নিয়ে দেশ কাঁপবে, আর অন্য ঘটনাটিতে প্রশাসন, সমাজ ও নেতারা এতটা নীরব ও উদাসীন থাকবে কেন?

এদিকে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আছিয়ার বাবা আনোয়ার হোসেন মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে কাতার প্রবাস থেকে সবকিছু ফেলে দেশে ছুটে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করে জানান, এত দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তাঁর মেয়ের ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই শাহ আলীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তিনি বিভিন্ন উছিলায় টাকা দাবি করেন। এমনকি ডিএনএ টেস্টের জন্য তাগিদ দিলে তিনি তদন্তের অজুহাতে তাদের কাছে গাড়ি ভাড়ার টাকা চান।

নিহত আছিয়ার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁর নিষ্পাপ মেয়েকে যে পশুটি হত্যা করেছে, তারা কেবল তার ফাঁসি চান। তারা অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। তাঁর স্বামী অনেক ঋণ করে কাতার গিয়েছিলেন, কিন্তু মেয়ের খবর শুনে সব ফেলে চলে এসেছেন। এখন মেয়ের হত্যার বিচার চাইতে গেলে উল্টো তাদের কাছেই টাকা চাওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের নিজেদেরই এখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা।

টাকা দাবির এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজদীখান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) शाह আলী জানান, আসন্ন ঈদের ছুটির পর ডিএনএ টেস্টের আনুষ্ঠানিকতা করানো হবে। এছাড়া মামলার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো মিলে গেলেই যত দ্রুত সম্ভব আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এই বিষয়ে সিরাজদীখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, আছিয়া হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসলেই আদালতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। ঈদের ছুটির কারণে সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরি বন্ধ থাকায় কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে ঈদের পরপরই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: