ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন নিয়ে যা জানাল ফার্স নিউজ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:৪৫:২৪
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন নিয়ে যা জানাল ফার্স নিউজ
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তাঁর জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি খামেনির দাফনের স্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত শনিবার ৮৬ বছর বয়সে এই প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ওই শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে তাঁর বাবার সমাধি রয়েছে। তবে মাশহাদের ঠিক কোন স্থানে তাঁকে দাফন করা হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে জল্পনা চলছে।

ফার্স নিউজ আরও জানিয়েছে, প্রয়াত এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল গণ-স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার। তবে নিরাপত্তা এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় খামেনির জানাজা, দাফন কিংবা স্মরণানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ বা সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বড় ধরনের জনসমাগমের আয়োজন করা হবে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সাময়িকভাবে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে অর্পণ করা হয়েছে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) চূড়ান্ত বৈঠকটি খামেনির দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হতে পারে।

/আশিক


বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:১৮:৫৯
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫টি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো যুদ্ধবিমানের দীর্ঘপাল্লার অপারেশনের জন্য অপরিহার্য, তাই এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আজ শনিবার সকালেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এএফপি এবং আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, হামলার পরপরই দূতাবাস চত্বরের হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডের কাছ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এই হামলায় দূতাবাসের সি-র‍্যাম (C-RAM) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে হামলার পর পুরো বাগদাদজুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান আগেই হুশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের স্থাপনায় আঘাত করা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানে আক্রমণ চালাবে।

সোর্স: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


মোজতবা খামেনির ওপর হামাসের আস্থা; ফিলিস্তিন প্রশ্নে বদলাবে না ইরানের নীতি!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১০:১১:০৪
মোজতবা খামেনির ওপর হামাসের আস্থা; ফিলিস্তিন প্রশ্নে বদলাবে না ইরানের নীতি!
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরান তাদের ফিলিস্তিনপন্থী ও প্রতিরোধকামী নীতিতে অটল থাকবে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক কুদস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবেইদা।

আবু ওবেইদা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। হামাসের বিশ্বাস, নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের ফলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের পূর্ববর্তী নীতি ও সমর্থনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং মোজতবা খামেনির অধীনেও দেশটি আগের মতোই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, চলমান যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও ইরানে কুদস দিবস উপলক্ষে রাজপথে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে ইরান এক চুলও সরে আসবে না। আবু ওবেইদা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলাগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, কুদস দিবস মুসলিম বিশ্বের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরার এক অনন্য সুযোগ।

/আশিক


ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে বড় জবাব দিল ইরান; সৌদি আরবের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ০৯:২০:২৭
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে বড় জবাব দিল ইরান; সৌদি আরবের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দুজন পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় এই বিমানগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি, তবে সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বিমানগুলো সচল করতে জরুরি মেরামতের কাজ চলছে। এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত কৌশলগত কারণে মার্কিন বিমানবাহিনী এই জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে, যা দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে জ্বালানি সহায়তা দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ঘাঁটিতে এই বিমান ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স


‘নেতানিয়াহুর ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প’: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ০৪:৩১:৩১
‘নেতানিয়াহুর ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প’: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কৌশলের শিকার হয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং এখন তিনি কার্যত তার প্রভাবের অধীনে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “নেতানিয়াহুর ফাঁদে পড়েই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং এখন তিনি তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করছেন।”

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে তা তেহরানের দৃষ্টিতে একটি বড় অপরাধ। এ ঘটনার পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য করছে না।

তার ভাষায়, “তারা যে বড় অপরাধ করেছে, তার পর ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নিস্ট শাসনের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই।”

গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের পদক্ষেপের জন্য অনুতপ্ত হয়। তাঁর এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন।

আশিক/২৩৪৩


সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ২১:৫৩:২২
সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাঁর একটি রেকর্ডকৃত ভাষণ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। গত রবিবার সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, যেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতি ও চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ভাষণে মোজতবা খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন যে, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের এই হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, ঘাঁটিগুলো এখনই বন্ধ না করা হলে সেগুলোতে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হবে।

বর্তমান যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে নবনিযুক্ত এই সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন যে, শত্রুপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি সম্প্রতি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নেওয়া সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে ইরানের সাহসী যোদ্ধারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি জানান যে, ওই অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।

সামরিক আলোচনার পাশাপাশি মোজতবা খামেনি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জনকল্যাণমূলক ঘোষণাও দিয়েছেন। তিনি জানান, চলমান যুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মূলত কঠোর সামরিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিজের প্রথম ভাষণে ভবিষ্যৎ ইরানের রূপরেখা তুলে ধরলেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

/আশিক


ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:৫৮:৩৩
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল অভিমুখে বৃষ্টির মতো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ও লেবানন থেকে পরিচালিত এই যৌথ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণের ফলে উত্তর ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হয়েছে।

আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করে। যদিও সব রকেট সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম।

বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে সেখানে অন্তত চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা এলাকায় বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লেবানন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি হিজবুল্লাহর সাথে তাদের একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’। আইডিএফ দাবি করেছে যে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর অবস্থিত। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যভাগে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

/আশিক


যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:১৯:৪৬
যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে তেহরান আঞ্চলিক শান্তিতে বিশ্বাসী হলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পেজেশকিয়ানের মতে, জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধ সমাপ্ত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ অধিকারকে নিঃশর্ত স্বীকৃতি দেওয়া। এর পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো আগ্রাসন হবে না মর্মে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রদান করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের এই তালিকায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া এই কয়েক দিনের হামলায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও থেমে নেই; তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১২:২১:২৬
ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে ইরান তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, এবারের অভিযানে সরাসরি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র দেওয়া তথ্যমতে, এই ব্যাপক অভিযানে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনসহ বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান এবং অত্যাধুনিক ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব, পবিত্র শহর জেরুজালেম এবং বন্দরনগরী হাইফার কৌশলগত অবস্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরান।

তবে ইরান এই দাবি করলেও উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন আকাশে থাকতেই সফলভাবে ধ্বংস করেছে; যার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন মরু এলাকায় আছড়ে পড়ে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে—তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং তারা শত্রুপক্ষের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

/আশিক


মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ০৯:৫৮:২০
মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাত হেনেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ১২তম দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ওমানের নৌবাহিনী ওই জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করেছে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা এবং এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারির মাঝেই এসব হামলার ঘটনা ঘটল। এর ফলে এই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং রাতারাতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

গতকাল বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ূরী নারি’ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারটি হামলার শিকার হয়। ভিডিও ফুটেজে জাহাজটি থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। এর আগে আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ওয়ান মেজেস্টি’ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও এর কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটিকে নিরাপদ নোঙরের দিকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ের ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ‘স্টার গুইনেথ’ নামের তৃতীয় একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হামলার শিকার হয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এফবিআই সতর্ক করেছে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ক্যালিফোর্নিয়াতেও হামলা চালাতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক দাম প্রায় ৫.৭ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন স্থাপন শুরু করেছে—এমন অসমর্থিত খবরের পর বাজারগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী জলপথের কাছে মাইন স্থাপনকারী ইরানের ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশই এই করিডোর দিয়ে পরিবহন করা হয়। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপে বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হবে।

যুদ্ধের ১২তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আইআরজিসি তাদের ৩৭তম আক্রমণ চালিয়েছে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের তেলক্ষেত্রের দিকে ধাবমান পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনের সিত্রায় ইরানি হামলায় শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। পেন্টাগন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, এই ১০ দিনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং ৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও আগে এই সংখ্যা অনেক কম বলা হয়েছিল।

ইরানের ছোঁড়া নতুন প্রজন্মের ‘সুপার-হেভি খোররামশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের কাছে আঘাত হেনেছে, যার ফলে শহরে বিশাল আগুনের গোলক সৃষ্টি হয়। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রসহ হাইফা ও পশ্চিম জেরুজালেমের সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, তাঁর সরকার ইরানের সঙ্গে ‘অবিরাম যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করবে।

মানবিক দিক থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক ভবন, হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭০ জন শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে পুড়িয়ে ফেলার আগেই এটি বন্ধ করা উচিত। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে স্বদেশে ফিরে গেছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: