২৪ ঘণ্টায় ১০৪টি হামলা: ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইরানের শহরগুলো

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:২০:৩৬
২৪ ঘণ্টায় ১০৪টি হামলা: ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইরানের শহরগুলো
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চতুর্থ দিনে এসে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে ১৮১ জনই ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। সামরিক স্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে হামলা এখন আবাসিক এলাকা, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।

এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে যে, হামলায় আহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০২ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে অন্তত ১০০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানজুড়ে অন্তত ১০৪টি পৃথক হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন যে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েকশ বেশি হতে পারে। তবে দেশের প্রায় সব স্থানে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি বিরাজ করায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি মুহূর্তেই সেখানে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির সরাসরি কোনো প্রমাণ এখনও না মিললেও অস্ত্র তৈরির উপযোগী বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রাখা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আইএইএ পরিদর্শকদের স্থাপনাগুলোতে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে বাধা দিচ্ছে তেহরান। গ্রোসি এই পরিস্থিতিকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন।

/আশিক


ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৭:২১:০৩
ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার পরপরই বেশ কিছু স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ড এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, যা পুরো এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলে।

তেল আবিবকে লক্ষ্য করে চালানো এই নতুন দফার হামলায় ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভগ্নাংশের আঘাতে অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্টার নিদা ইব্রাহিম অধিকৃত পশ্চিম তীরের হুয়ারা থেকে জানান, হামলার আগে সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল এবং পরে আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এরপরই স্থানীয় বেশ কিছু স্থাপনা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা প্রায় প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৫১:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ডালপালা এবার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে উভয় দেশই দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে ইরানের ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আল-খার্জ এলাকার আকাশে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো অবস্থিত, সেখানেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে সৌদি বাহিনী।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দুবাইয়ের মারিনা এবং আল-সুফৌহ এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরান প্রথমবারের মতো আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আল্টিমেটাম দিয়েছে, যা কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের ওপর সরাসরি বড় হুমকি। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে, যাতে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ


তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৪:২৬
তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আহ্বান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সাহায্য ও সমন্বয় করবে।” তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে, চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ট্রাম্পের অনুরোধে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে নীরবতা পালন করছে। ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফ্রান্স চাইছে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে একটি নিরাপত্তা জোট গঠন করতে, আর যুক্তরাজ্য মিত্রদের সাথে বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিকে রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি আরব জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ইরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

/আশিক


ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২০:০৫
ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ১৬তম দিনে এসে দেশের প্রধান নির্বাহীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়াকে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে রোববার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলে বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এসব স্পর্শকাতর বৈঠক নেতানিয়াহু নিজেই পরিচালনা করে থাকেন। তবে রোববারের বৈঠকে তার আসনটি খালি ছিল। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়া নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। তার পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর থেকেই এই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোব অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত ‘নিখোঁজ’। প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে, যখন প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেব করে নিতে হয়, তখন নেতার অনুপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ভিডিও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো সরাসরি উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো কোনো গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন অথবা কোনো ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকদিন আগে তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত নিহত অথবা অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পর্দার অন্তরাল থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন।

নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়েছে গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। তবে নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি করেছেন, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, যা ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি এক পর্যায়ে তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। যদিও ফ্যাক্ট-চেকাররা একে ‘ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল’ বা লেন্সের কারসাজি বলে দাবি করেছেন, তবুও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘকালীন নীরবতা এই জল্পনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে নেতানিয়াহুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নিশিছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় গুঞ্জনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এদিকে, রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ওয়েবসাইটে এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তারা তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান থামাবে না। আইআরজিসি জানায়, “আমরা এই শিশুহত্যাকারী অপরাধীকে পূর্ণ শক্তিতে ধাওয়া অব্যাহত রাখব।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

/আশিক


মিসাইল সংকটে ইসরায়েল! ইরানের হামলার মুখে ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধী শক্তি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:১৪:৩৩
মিসাইল সংকটে ইসরায়েল! ইরানের হামলার মুখে ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধী শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী মিসাইলের (Intercepting Missiles) তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফর (Semafor) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। মূলত ২০২৫ সালের সেই ১২ দিনের যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ মিসাইল ব্যবহার করায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত আগে থেকেই আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা কয়েক মাস ধরেই এই ঘাটতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে সংকট না থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন অস্ত্র ভাণ্ডারেও টান পড়তে পারে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Arrow and David's Sling) খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার শুরু করায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেই অনেক বেশি প্রতিরোধী মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে। ফলে ইসরায়েলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৫০টির বেশি দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ড্রোন প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা নিয়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের জনপ্রিয় ‘আয়রন ডোম’ মূলত স্বল্পপাল্লার রকেট প্রতিহত করলেও ইরানের ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে দূরপাল্লার প্রতিরোধী মিসাইলই একমাত্র ভরসা, যার ঘাটতি এখন তেল আবিবকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

/আশিক


মোজতবা খামেনি কি আহত? মার্কিন দাবির মুখে বড় তথ্য দিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৩:০২:৪৬
মোজতবা খামেনি কি আহত? মার্কিন দাবির মুখে বড় তথ্য দিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে সরাসরি মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাঁর শারীরিকভাবে ‘কোনো সমস্যা নেই’।

আগের দিন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে, মোজতবা খামেনি সম্ভবত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর অঙ্গহানি ঘটেছে। এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে আরাগচি বলেন, “নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই (শুক্রবার) তাঁর কঠোর বার্তা দিয়েছেন এবং তিনি পূর্ণ শক্তিতে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।”

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম বার্তায় মোজতবা খামেনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত শত্রুদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। এমনকি তিনি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখারও জোরালো আভাস দিয়েছেন। খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তবে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে আরও নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে।

সূত্র: আলজাজিরা


মোজতবা খামেনি কি বেঁচে আছেন? ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৯:০৫:৩২
মোজতবা খামেনি কি বেঁচে আছেন? ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ
ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান চুক্তির জন্য মুখিয়ে থাকলেও তিনি নিজে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নন। তাঁর মতে, ইরান যে ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছে তা যথেষ্ট ‘জোরালো’ নয় এবং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠিন শর্ত প্রয়োজন। তবে চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর ঠিক কী কী দাবি রয়েছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। কেউ তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারছে না। তিনি যদি বেঁচে থাকেন, তবে তাঁর উচিত হবে দ্রুত আত্মসমর্পণ করা।” যদিও খামেনির মৃত্যুর খবরটি আপাতত ‘গুজব’ হিসেবেই দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বের বিষয়ে ট্রাম্প কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও জানিয়েছেন, তাঁর নজরে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাঁরা ইরানের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি চাই বিশ্বের জন্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক। আমি তেল চাই।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সংকট মেটামাত্রই পুনরায় বহাল করা হবে। অন্যদিকে, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সহায়তার প্রস্তাবকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, “জেলেনস্কি হলেন শেষ ব্যক্তি, যাঁর কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।”

তথ্যসূত্র: সিএনএন


ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:১০:০০
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দ্রুত পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আশিক/২০২৬/২৩৪৩


বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:১৮:৫৯
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫টি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো যুদ্ধবিমানের দীর্ঘপাল্লার অপারেশনের জন্য অপরিহার্য, তাই এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আজ শনিবার সকালেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এএফপি এবং আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, হামলার পরপরই দূতাবাস চত্বরের হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডের কাছ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এই হামলায় দূতাবাসের সি-র‍্যাম (C-RAM) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে হামলার পর পুরো বাগদাদজুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান আগেই হুশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের স্থাপনায় আঘাত করা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানে আক্রমণ চালাবে।

সোর্স: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

পাঠকের মতামত: