ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার (৪ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। কার্নি উল্লেখ করেন যে, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই চালানো হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বা কোনো মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আগাম আলোচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানান মার্ক কার্নি।
অন্যদিকে, ইরানে এই হামলার স্বপক্ষে বাইডেন প্রশাসনের কোনো জোরালো যুক্তি নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আয়োজিত এক ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি তৈরি করছিল—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আইনপ্রণেতাদের দেওয়া হয়নি। ফলে এই হামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে, এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
/আশিক
আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি চলাকালে লেবাননে আর কোনো প্রকার বোমাবর্ষণ করা যাবে না।
গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, “আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে!” নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ‘ড্রাইভিং সিট’-এ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানের সাথে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্যমতে, ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হস্তান্তর করে, তবে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দকৃত ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি নগদ অর্থের লেনদেন হবে না।
লেবানন ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প আরও লিখেছেন যে, এই শান্তি চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সাথে কাজ করবে যাতে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যায়।
একাধারে ইসরায়েলকে সংযত হওয়ার নির্দেশ এবং ইরানকে বিশাল অঙ্কের সম্পদের টোপ দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই চরম আল্টিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে যদি তেহরানের সঙ্গে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। পরিবর্তে ইরানের ওপর আবারও ভয়াবহ বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমি সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে জারি থাকবে।
যদি বুধবারের মধ্যে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসে, তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, ওয়াশিংটন এখন ‘চুক্তি অথবা ধ্বংস’—এই নীতিতে এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কার্যকর থাকা ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে দুই দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক হলেও তা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। তবে বুধবারের মধ্যে সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।
হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা

আলিফ ইফতেখার হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি শুধু লেবানন সীমান্তেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, লেবাননে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
এই ঘোষণা শুধু একটি কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যেখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, লেবানন-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর আজ শুক্রবার ভোর থেকে তা কার্যকর হয়। এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তাতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করে আসছিল তেহরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব শুরুতে তা অস্বীকার করেছিল এবং ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে।
এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের পর হঠাৎ করেই লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কূটনৈতিক চাপের ফল হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান সংঘাত নয়, বরং মর্যাদা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে শান্তি চায়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথে নেই এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই তাদের লক্ষ্য।
তবে একই সময়ে ইরানের অবস্থানে একটি স্পষ্ট কৌশলগত দৃঢ়তাও দেখা যাচ্ছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, ইরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “সংঘাতের অবসান হতে হবে স্থায়ীভাবে, লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করেই।” এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে ইরান একটি বৃহত্তর কৌশলগত সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে, সাময়িক বিরতি হিসেবে নয়।
সব মিলিয়ে, লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে ইরানের এই ধারাবাহিক অবস্থান একদিকে কূটনৈতিক নমনীয়তা, অন্যদিকে কৌশলগত কঠোরতার এক সমন্বিত চিত্র তুলে ধরছে। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যে ৬ শর্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, এটি কেবল সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লেবানন ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি বৈঠক আয়োজনের প্রচেষ্টা চলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষ তা মেনে চলতে সম্মত হয়েছে।
পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামোবদ্ধ রূপরেখা প্রকাশ করে, যেখানে ছয়টি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়। এই শর্তগুলো মূলত সামরিক সংঘাত থামানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
চুক্তির প্রথম শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় থেকে উভয় দেশ সব ধরনের সামরিক শত্রুতা বন্ধ রাখবে এবং এই বিরতি প্রাথমিকভাবে ১০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।
তৃতীয় শর্তে ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও, লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান না চালানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
চতুর্থ শর্তে লেবানন সরকারের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ না চালায়।
এছাড়া পঞ্চম শর্তে লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে একমাত্র বৈধ প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে, অমীমাংসিত সীমান্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
সূত্র:আল-এরাবিয়া
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।
অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।
মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।
সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।
অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।
মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।
সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।
লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল
লেবাননকে কেন্দ্র করে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের ভেতরে নতুন এক রাজনৈতিক ও জনমত সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদেহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাতার হামলার মুখে থাকা সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ এই যুদ্ধবিরতিকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক হিসেবে দেখছে না।
তার মতে, সংঘাত চলাকালে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে যা ইসরায়েলি জনগণের কাছে এক ধরনের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ফলে সরকার যে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবে অর্জিত হয়নি বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননকে একটি কার্যকর নিরাপত্তা বাফার জোনে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি ইসরায়েল। অথচ এই প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি বরং তা আংশিকভাবে চাপা দেওয়া হয়েছে।
আবেদ আবু শেহাদেহ আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকৃত শর্ত ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জনগণের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরা হয়নি এমন একটি ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা আরও গভীর হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ইরান ও পাকিস্তান আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইসরায়েলি জনগণের সামনে এই বাস্তবতা তুলে ধরেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের প্রতিটি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। শুধু তাই নয়, তেহরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পেন্টাগন প্রধান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তবে কেবল বন্দর অবরোধই নয় বরং দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি ভাণ্ডার এবং জাতীয় অবকাঠামোর ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে শুরু হওয়া এই অবরোধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি জাহাজকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আরও দাবি করেন, গত এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার উদ্ধারের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা পেন্টাগনের নজরদারিতে রয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পুরোপুরি অচল এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা তেহরানের আর অবশিষ্ট নেই।
তবে পেন্টাগনের এই আত্মবিশ্বাসী দাবির বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এর আগে পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এর ঠিক কয়েকদিন পরেই একটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানায় তেহরান।
ওই বিমানের পাইলট ও ক্রুদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক ঘণ্টা দীর্ঘ একটি জটিল বিশেষ অভিযান চালাতে হয়েছিল। এমনকি ইরান দাবি করেছে যে সেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও অন্তত তিনটি বিমান তারা বিধ্বস্ত করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের অবরোধের হুমকির মুখে ইরান যে নীরব থাকবে না, তা বেশ স্পষ্ট।
/আশিক
বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
শান্তি আলোচনার গুঞ্জন চললেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি তাণ্ডব থামছেই না। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ লেবাননের সংযোগ রক্ষাকারী সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ‘কাসমিয়েহ সেতু’টি বিমান হামলায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে পর পর দুটি শক্তিশালী হামলা চালিয়ে টাইর ও সিডন শহরকে সংযুক্ত করা এই বিশাল সেতুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ওই একই এলাকায় একটি ড্রোন হামলাও চালিয়েছিল ইসরায়েল।
কাসমিয়েহ সেতুটি দক্ষিণ লেবাননের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ছিল, যা দেশটির পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র বড় পথ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সেতু ধ্বংস করার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননকে দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, এই সেতুটি এর আগেও কয়েক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার তা আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। মূলত হিজবুল্লাহর গত ২ মার্চের সীমান্ত হামলার পর থেকেই ২০২৪ সালের নভেম্বরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের গভীরে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের এই অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া কাসমিয়েহ সেতুটি সেই মানবিক বিপর্যয়কে আরও প্রকট করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এর ফলে ত্রাণ ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ এখন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান শিগগিরই দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু ইস্যুসহ প্রধান সংকটগুলো নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষ বেশ কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মৌলিক দাবিগুলোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এখনো বিশাল দূরত্ব বিদ্যমান।
এই সংকট নিরসনে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর সাম্প্রতিক তেহরান সফর দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমাতে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে বলে ওই ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। মূলত আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাতেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে দ্বিতীয় দফার এই শান্তি আলোচনার দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
পাঠকের মতামত:
- প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ভাই এখন বিসিবিতে! লজিস্টিক বিভাগে মাশরুর
- জামায়াত একটি ভদ্র দল! সংসদে তাদের শৃঙ্খলায় মুগ্ধ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
- বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!
- আবারও বন্ধ হবে হরমুজ প্রণালি! আমেরিকাকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল ইরান
- দুপুরের মধ্যেই আসছে ঝড়-বৃষ্টি! চার অঞ্চলের জন্য আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- রেকর্ড গড়ল স্বর্ণ: স্বর্ণের বাজারে চরম অস্থিরতা
- তীব্র গরমে স্বস্তি উধাও! লোডশেডিং ও তাপপ্রবাহে হাহাকার শহর থেকে গ্রামে
- আগামী হজে আরও বড় চমক? হজযাত্রীদের স্বপ্ন পূরণে সরকারের নতুন বার্তা
- দেখে নিন ১৮ এপ্রিলের নামাজের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি
- আজ কেনাকাটার আগে জেনে নিন ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ
- হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা
- বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ
- যে ৬ শর্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল
- যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা
- তেলের দামে বড় পতন
- বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই
- লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল
- শনিবার যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
- ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই
- সোনা-রুপার দামে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশে
- আজকের লাইভ খেলা: কোথায় কিভাবে দেখবেন সব ম্যাচ
- আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে? জেনে নিন
- আজ ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না, জানুন এলাকা
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ১৭ এপ্রিল মুদ্রা বাজারে টাকার বিপরীতে মুদ্রা রেট দেখুন
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ, বের হওয়ার আগে জানুন
- শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীরা: মরিচা ছায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল
- চরভদ্রাসন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিক্ষাকার্যক্রম
- অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করায়, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
- খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে কুমিল্লার আলোচনা
- সতর্কবার্তা: শুক্রবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়!
- বিরতির সময় গান? ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর বিশাল চমক
- জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- হরমুজে পা রাখলেই ধ্বংস হবে মার্কিন জাহাজ: মোহসেন রেজায়ির হুঁশিয়ারি
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘বিশৃঙ্খলার দেবতা’! মহাকাশে টানটান উত্তেজনা
- বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
- আমেরিকার চোখে ধুলা! রণতরী এড়িয়ে পারস্য উপসাগরে ইরানের সুপার ট্যাংকার
- যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
- ইতিহাসের সাক্ষী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন: জাইমার হাতে দাদির স্বর্ণপদক
- ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা
- বৈশাখের তাণ্ডব শুরু? শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
- হাসিন আমলের হয়রানিমূলক মামলার দিন শেষ! শুরু হচ্ছে গণপ্রত্যহার
- টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের লেটেস্ট কারেন্সি রেট
- নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা
- জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’ হত্যা মামলা: আজ কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জন
- শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি
- আদালতের আদেশ অমান্য! কালিগঞ্জে মসজিদের জমি দখলে নিতেই তুলকালাম
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- ১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসই আপডেট, লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইসরাইলে ১৩ লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর হামলা
- "ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"
- বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ
- ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ! কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ছাড়ছে আমেরিকা
- তেলের দামে বড় পতন
- পাঁচ জেলায় শুরু হবে ই-হেলথ সেবা কার্যক্রম, মিলবে যেসব সুবিধা
- যেসব কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র! নেপথ্যে বড় ৫ কারণ
- আজ ১৩ এপ্রিলের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
- কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, যেসব সুবিধা থাকছে
- মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর
- ব্যর্থ শান্তি বৈঠক, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষ ইরানের








