ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার (৪ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। কার্নি উল্লেখ করেন যে, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই চালানো হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বা কোনো মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আগাম আলোচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানান মার্ক কার্নি।
অন্যদিকে, ইরানে এই হামলার স্বপক্ষে বাইডেন প্রশাসনের কোনো জোরালো যুক্তি নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আয়োজিত এক ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি তৈরি করছিল—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আইনপ্রণেতাদের দেওয়া হয়নি। ফলে এই হামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে, এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
/আশিক
হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশের মধ্যেই গতকাল সোমবার (১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি বৈশ্বিক রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো ফোনালাপ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও ইসরাইলের ভূখণ্ডে আক্রমণ বন্ধ রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও একটি ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈরুতে বা লেবানন সীমান্তে কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব মার্কিন সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাঁদের ইতোমধ্যে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বাইরে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তার পর লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবানন জুড়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সমর্থন করে, যা পরবর্তীতে লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করবে।
তবে বৈরুতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ বন্ধ করার মতো কোনো ‘আংশিক বা শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির’ প্রস্তাব তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্সিও (রাষ্ট্রপতির কার্যালয়) নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবাননে ‘পারস্পরিক হামলা বন্ধের’ একটি মার্কিন খসড়া প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও লেবানন সরকারের এই ইতিবাচক সুরের বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধংদেহী ও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী বৈরুতের ‘সন্ত্রাসী আস্তানায়’ হামলা চালিয়েই যাবে।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ইসরাইলের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের পূর্বপরিকল্পিত স্থল অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলের নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চলতে থাকলে বৈরুতে কোনো শান্তি থাকবে না। এই হুমকির মুখে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা নতুন করে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন।
এদিকে, ইরান চলমান মার্কিন আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের পর্দার আড়ালের আলোচনা স্থগিত করেছে। ইরান মূলত গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের স্থায়ী অবসান চায় এবং দাবি আদায় না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ ও ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
তবে এই হুমকি ও প্রতিবেদনকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মার্কিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো সময় সমঝোতা সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। এছাড়াও বিদায়ী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে সরাসরি বৈঠকে বসেছেন, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা।
হিজবুল্লাহকে ওয়াশিংটন অফিশিয়ালি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করলেও লেবাননের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের বাদ দিয়ে যে কোনো স্থায়ী সমাধান অসম্ভব, তা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ফোনালাপের দাবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
বন্ধুত্বে ফাটল! নেতানিয়াহুকে বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ বলে ট্রাম্পের তোপ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দীর্ঘদিনের মিত্র ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই নজিরবিহীন ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তেল আবিবের এই শীর্ষ নেতাকে ‘বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ’ বলেও চরম তিরস্কার করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দুই নেতার সম্পর্কের এই চরম ফাটলের তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (১ জুন) ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। এর ঠিক আগেই ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মূলত এই জটিল আঞ্চলিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটেই দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে ফোনালাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাক্সিওসের দাবি, ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যে তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, "তুমি আসলে কী করছ?" মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল বৈরুতসহ বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় যে ধরনের নির্বিচার ও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে উত্তপ্ত ও তিক্ত ফোনালাপ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিযুক্ত করে মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে তিনি সর্বদা নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঢাল হয়ে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। আমেরিকার এই অন্ধ সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহুকে অনেক আগেই বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে আরও বড় ধরনের কোনো বোমাবর্ষণ বা সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তবে এই উত্তপ্ত ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থানের পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর কঠোর অনুরোধ ও চাপের পরই ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে বড় ধরনের মেগা সামরিক অভিযান চালানো থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পর বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে—তবে কি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই দুই কট্টর ডানপন্থী নেতার বন্ধুত্বে এবার স্থায়ী চির ধরল? এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের পর্দার আড়ালের আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী। তিনি দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউসের কার্যকর মধ্যস্থতায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক পারমাণবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
/আশিক
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ফল ভোগ করবে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী: ইরান
লেবাননের ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও বর্বরোচিত হামলা অবিলম্বে পুরোপুরি বন্ধ না হলে তেল আবিব এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে এর জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই কড়া বার্তা দেন।
ইব্রাহিম আজিজি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ওয়াশিংটন এই আগ্রাসনে সরাসরি মদদ দিচ্ছে দাবি করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে এর চরম ফল ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটির সৈন্যদেরও ভোগ করতে হবে। প্রতিটি অন্যায় ও আগ্রাসী পদক্ষেপের একটি চড়া মূল্য দিতে হবে যা একসময় পরিশোধ করতেই হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও রকেট হামলা আবারও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই সরাসরি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর) আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাফ সতর্কবার্তা দিয়েছেন—বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে জরুরি তেলভান্ডার যেভাবে খালি করা হচ্ছে, তার ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র সরবরাহ সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন চাপ তৈরি হবে।
গত ২৮ মে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, জো বাইডেন প্রশাসন কেবল সস্তা রাজনৈতিক সুবিধা ও ভোট ব্যাংক টানতে জাতীয় জরুরি তেলভান্ডার খালি করছে। কিন্তু ক্ষমতার চাকা ঘোরার পর, বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সেই একই মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার এই কৌশলগত তেল মজুত (SPR) গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে যে চরম সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বাধ্য হয়ে তাদের এই লাইফলাইন বা জরুরি ব্যাকআপ ব্যবহার করছে।
বিশ্বখ্যাত জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ (Kpler)-এর প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন
"এই জরুরি মজুত চিরকাল খালি রাখা যাবে না, একসময় এটি অবশ্যই পুনরায় চড়া মূল্যে কিনে পূরণ করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের কৃত্রিম অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে, যা অপরিশোধিত তেলের দামকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দেবে।"
টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় সংরক্ষিত ‘এসপিআর’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। সাধারণত বৈশ্বিক যুদ্ধ, বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশ্ব সরবরাহ চেইনে ধস নামলে এই তেল ছড়া হয়। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুত ৬৩ কোটি ব্যারেল থেকে কমে একলাফে ৩৫ কোটির নিচে নেমে এসেছিল। আর এবার ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসপিআরের মজুত আরও প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল কমে বর্তমানে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে এসে ঠেকেছে।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে মার্কিন মজুত থেকে ছাড়া তেলের প্রায় অর্ধেকই বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্পূর্ণ মার্কিন তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সংকট কেবল সরকারি জরুরি মজুতেই সীমাবদ্ধ নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক তেলভান্ডারও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ওকলাহোমার কুশিং কেন্দ্র—যেখানকার তেলের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ‘ডব্লিউটিআই’ (WTI) তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সেখানে গত সাত সপ্তাহে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। বর্তমানে কুশিংয়ের মজুত নেমে এসেছে মাত্র ২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে, যা একটি রিফাইনারি হাব সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস’-এর বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেখানে সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর তেলের স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতা হলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে হোয়াইট হাউস মার্কিন তেল রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমালেও সমগ্র বিশ্ববাজারকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাবে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি স্পিকার সরাসরি মার্কিন নীতি ও একপেশে পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
স্পিকার গালিবাফ তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে উল্লেখ করেন—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অন্যায়ভাবে আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক বর্বরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়াটাই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি লিখেছেন:
"নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ। প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট চড়া মূল্য থাকে এবং তা একসময় পরিশোধ করতেই হয়।"
এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত আসল সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো মুখের কথার বদলে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
এদিকে, আমেরিকার সাথে চলমান পারমাণবিক চুক্তি (Nuclear Deal) ও সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বা খুঁটিনাটি কোনো বিষয় নিয়ে ইরানের সরাসরি আলোচনা চলছে না। পারমাণবিক ইস্যুতে ঠিক কখন ও কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তা ইরানের খুব ভালো করেই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান ও একমাত্র অগ্রাধিকার হচ্ছে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।" বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একই অভিযোগ এনে দাবি করেন, এমনকি সোমবার সকালেও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
/আশিক
হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর ছড়ানো চাঞ্চল্যকর খবরকে সম্পূর্ণ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করে নিজের পদত্যাগের গুঞ্জনকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কট্টরপন্থী আইআরজিসি (IRGC)-র সাথে ক্ষমতা ও নীতিগত দ্বন্দ্বে তিনি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে যে আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল, তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন—যতদিন তাঁর শ্বাস চলবে, ততদিন তিনি জনগণের দেওয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
আজ সোমবার (১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ (Press TV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় অত্যন্ত আবেগঘন ও দৃঢ় কণ্ঠে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,
"যতদিন আমার নিঃশ্বাস চলবে, আমি আমার পথচলা অব্যাহত রাখব। আমরা হয় পূর্ণ শক্তি ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাব, নয়তো দেশের জন্য শহীদ হব—উভয় ক্ষেত্রেই এটি আমাদের জন্য অবধারিত বিজয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির (ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, যাঁর মৃত্যুর পর বর্তমানে মোজতবা খামেনি দায়িত্বে রয়েছেন) পবিত্র জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকট সমাধান করতে হলে এসি রুমে বসে না থেকে সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন।
এদিকে, এই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের নোংরা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরান সরকারের মূল মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি বলেন, "শত্রুভাবাপন্ন ও ইহুদিবাদী এই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি মূলত ইরানের ভেতরে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার একটি কুৎসিত অপচেষ্টা মাত্র। যখনই আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও মজবুত হয় এবং মার্কিন আগ্রাসনের মুখে দেশের জনগণ সংকটের সময় একত্রিত হয়, তখনই পশ্চিমা মদদপুষ্টরা এমন আজগুবি গুজব ছড়ানোর নোংরা খেলায় মেতে ওঠে।"
মুখপাত্র মোহাজেরানি ক্ষ্লেষ প্রকাশ করে বলেন, "বহু আন্তর্জাতিক হলুদ মিডিয়া এখন বাস্তবতার বদলে নিজেদের কাল্পনিক ইচ্ছাকে ব্রেকিং নিউজ বানিয়ে প্রচার করছে।" তবে তাদের এই দাবির যে কোনো ভিত্তি নেই, তার প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, রোববারের পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ মন্ত্রিসভা বৈঠকেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেছেন এবং সেখানে তিনি জনসেবা, জাতীয় ঐক্য ও দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে নিরলসভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
/আশিক
আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ, সত্য নাকি গুজব?
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে চরম নীতিগত বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেছেন—এমন একটি চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক খবর উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসির অতিরিক্ত ও কট্টরপন্থী প্রভাবের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর পদত্যাগপত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে জমা দিয়েছেন। তবে তেহরানের সরকারি সূত্র ও খোদ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ শীর্ষস্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেননি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে পাঠানো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রে পেজেশকিয়ান লিখেছেন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসির আধিপত্য এতটাই বেড়েছে যে, নির্বাচিত সরকারকে কার্যত সব প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
এর ফলে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে আইআরজিসির কট্টরপন্থী কমান্ডাররা দেশের সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার কারণে তিনি নিজের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না এবং কার্যকরভাবে সরকার চালাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
তবে এই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপপ্রধান সৈয়দ মেহেদী তাবাতাবাই এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, "বিদেশভিত্তিক এই বিতর্কিত সংবাদমাধ্যমের গুজব ছড়ানো আগের মতোই তাদের ভিত্তিহীন প্রচারণার অংশ। তারা বাস্তবতার পরিবর্তে নিজেদের কুৎসিত কল্পনাকে খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে।" তাবাতাবাই আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের সেবা করা থেকে এক চুলও সরে দাঁড়াবেন না এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার এই পশ্চিমা অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদত্যাগের গুঞ্জনটি মূলত ইরানের নির্বাচিত সরকার এবং দেশটির সামরিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মূলত বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ আইআরজিসি কমান্ডারদের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাদের অনেকেরই সামরিক অভিজ্ঞতা এসেছে ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে। তবে তেহরান প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে সরকারের ভেতর ফাটল দেখানোর উদ্দেশ্যেই আন্তর্জাতিক মহল এই কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
/আশিক
ড্রোনের বদলে ড্রোন আস্তানায় বোমাবর্ষণ: ইরানে আবারও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরানের কৌশলগত গোড়ুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত মূল্যবান ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই জরুরি পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করে, সেন্টকমের হামলায় ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ওয়ান-ওয়ে বা একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Suicide Drones) সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ধ্বংস হওয়া এই সামরিক সরঞ্জামগুলো আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য ‘স্পষ্ট এবং আসন্ন হুমকি’ তৈরি করছিল।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রুটে ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ উপযুক্ত জবাবে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়। তবে ওয়াশিংটনের এই মেগা বিমান হামলার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো হয়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে চলমান মুহুর্মুহু পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা এখন সরাসরি যুদ্ধাবস্থায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে এক ঘণ্টার মধ্যে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ সোমবার (১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী (Aerospace Force) এই হামলার দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের কৌশলগত সিরিক দ্বীপে অবস্থিত ইরানি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনীর বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সক্রিয় হয়। হামলার নিখুঁত উৎসস্থল বা ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহৃত মার্কিন বিমানঘাঁটিকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানঘাঁটির পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর এই আক্রমণকে সরাসরি ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তবে প্রথমিক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কিংবা আক্রান্ত মার্কিন বিমানঘাঁটিটি ঠিক কোন দেশে বা কোথায় অবস্থিত, সে বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সাথে তারা সতর্ক করেছে যে, মার্কিন পক্ষ থেকে পুনরায় এ ধরনের দুঃসাহস দেখানো হলে পরবর্তী জবাবের মাত্রা ও ধরন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এদিকে, ইরানের এই মেগা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পরপরই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতে আকস্মিকভাবে সর্বোচ্চ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাতে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা একাধিক শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এই সামরিক অভিযানের সময় কুয়েতের রাজধানীসহ দেশজুড়ে আকস্মিক সতর্কতামূলক যুদ্ধ সাইরেন (Air Raid Sirens) বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই সরাসরি ও মুখোমুখি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম ও বিপজ্জনক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রক্সি বা ছদ্মযুদ্ধের খোলস ছেড়ে দুই দেশের এই সরাসরি পালটাপালটি সামরিক পদক্ষেপ এশিয়াসহ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ
- ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- আত্মসমর্পণই হজ: জীবনের বড় শিক্ষা পেলেন দুরেফিশান
- বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন: ব্যবসায়ীদের ৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই
- ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
- কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীবকে বিদায় সংবর্ধনা
- ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
- ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
- বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
- মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
- জুলাই থেকেই ভাগ্যবদল: নবম পে স্কেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব সুযোগ-সুবিধা
- এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল সরকার
- ২ জুন: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
- আজ মঙ্গলবার ডলার ও ইউরোর দাম কত? জেনে নিন আজকের টাকার রেট
- মূল একাদশের চেয়ে কি ব্রাজিলের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি শক্তিশালী?
- বন্ধুত্বে ফাটল! নেতানিয়াহুকে বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ বলে ট্রাম্পের তোপ
- ৫৪ বছরে প্রথম: মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা
- চট্টগ্রাম হালিশহরের বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে লড়ছে ফায়ার সার্ভিস
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রুপার বাজারও আজ আকাশচুম্বী: চার মানের রুপার সর্বশেষ রেট এক নজরে
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার শপিংমল ও কাঁচাবাজার বন্ধ থাকবে
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি
- ২ জুন ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ফল ভোগ করবে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী: ইরান
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
- মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু
- মধ্যরাতের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান
- কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
- সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ, যে ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
- বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির
- হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
- রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
- জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- এক নজরে সোমবারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের শীর্ষ লেনদেনের তালিকা
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট








