বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:০৩:১৪
 বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ‘এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না’।

কেপলারের তথ্যমতে, প্রতিদিন সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এরই মধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মূলত এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি এলএনজি ঘাটতি রয়েছে এবং সীমিত মজুতের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। ভারতও তাদের এলএনজি আমদানির ৫৩ শতাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কাতার সোমবার তাদের প্রধান দুটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ড্রোন হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হওয়ায় তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যদিও চীনের কাছে ৭.৬ মিলিয়ন টন এলএনজি মজুত রয়েছে, তবে সংকট দীর্ঘ হলে তাদের আটলান্টিক কার্গোর জন্য ইউরোপের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

অন্যদিকে, জাপানের মোট তেল আমদানির ৭৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই দুই দেশের কাছে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের এলএনজি মজুত থাকলেও জ্বালানির দাম বাড়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো উচ্চ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নোমুরা।

/আশিক


ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই ওঠে না: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৩:০৩:৩৭
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই ওঠে না: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে ইরান। নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করে দেশটি বলেছে, এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি তারা কখনোই দেয়নি।

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দেশের ইউরেনিয়াম মজুদ কোনোভাবেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। তার এই বক্তব্য সরাসরি খণ্ডন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সেই দাবি, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান নাকি তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। বাঘাইয়ের ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক সম্পদ জাতীয় নিরাপত্তার অংশ এবং এটি নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী আরও এক ধাপ এগিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা কিংবা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার যেকোনো প্রস্তাব তেহরান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তার মতে, এই ইস্যুটি ইরানের জন্য একটি “কৌশলগত রেড লাইন”, যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অনুসরণ করে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতায় পারমাণবিক কর্মসূচি ইরানের জন্য কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর নির্ধারিত মানদণ্ডে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। এই পরিসংখ্যানই বৈশ্বিক শক্তিগুলোর উদ্বেগের অন্যতম কারণ, যদিও ইরান বারবার দাবি করে আসছে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

-রফিক


আমেরিকায় রহস্যের পাহাড়! একের পর এক পরমাণু বিজ্ঞানী নিখোঁজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:৪৮:২৮
আমেরিকায় রহস্যের পাহাড়! একের পর এক পরমাণু বিজ্ঞানী নিখোঁজ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং মৃত্যুর একের পর এক ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে হোয়াইট হাউস। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে পেন্টাগনের গোপন প্রজেক্টে যুক্ত থাকা অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর এমন অস্বাভাবিক পরিণতি এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই প্যাটার্নটি অত্যন্ত গুরুত্বর এবং প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এর তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক মনিকা জাসিন্তো রেজার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি গত বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে হদিসহীন হয়ে যান।

এছাড়াও লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির অ্যান্থনি চাভেজ এবং এয়ারফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ডের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারাও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু নিখোঁজ হওয়াই নয়, নাসার বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকসের মতো গবেষকদের মৃত্যুর কারণ গোপন রাখায় ডালপালা মেলছে গভীর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বিজ্ঞানীরা এমন সব প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন যেখানে পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি বা 'নিউক্লিয়ার স্পেস রিঅ্যাক্টর' তৈরির গোপন কাজ চলছিল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এফবিআই-কে এই তদন্তে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের এভাবে হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হতে পারে না।

খবর- বিবিসি।


সম্পর্ক এখন খুবই ভালো: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের গলায় নতুন সুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:২০:০৭
সম্পর্ক এখন খুবই ভালো: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের গলায় নতুন সুর
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মাঝে নতুন এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বর্তমান সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’ অবস্থায় রয়েছে এবং দুই দেশ একটি বড় চুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হতে পারে এবং পারমাণবিক স্থাপনার অবশিষ্টাংশ বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ধাপে ধাপে সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই।

মূলত গত বছরের ভয়াবহ বোমা হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোকে ঘিরেই ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাব। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য; যদিও ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে বজায় থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত আলোচনার জন্য তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।

তবে ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ইরানকে বিপুল অর্থ প্রদানের খবরটি সরাসরি অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কোনো অর্থ লেনদেন হচ্ছে না।” অর্থাৎ, অর্থ নয় বরং ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই জটিল সংকটের সমাধান খুঁজছে হোয়াইট হাউস।

/আশিক


আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১১:৩৩:৫৩
আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি চলাকালে লেবাননে আর কোনো প্রকার বোমাবর্ষণ করা যাবে না।

গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, “আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে!” নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ‘ড্রাইভিং সিট’-এ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানের সাথে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্যমতে, ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হস্তান্তর করে, তবে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দকৃত ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি নগদ অর্থের লেনদেন হবে না।

লেবানন ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প আরও লিখেছেন যে, এই শান্তি চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সাথে কাজ করবে যাতে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যায়।

একাধারে ইসরায়েলকে সংযত হওয়ার নির্দেশ এবং ইরানকে বিশাল অঙ্কের সম্পদের টোপ দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১১:২৬:০৬
বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই চরম আল্টিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে যদি তেহরানের সঙ্গে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। পরিবর্তে ইরানের ওপর আবারও ভয়াবহ বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমি সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে জারি থাকবে।

যদি বুধবারের মধ্যে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসে, তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, ওয়াশিংটন এখন ‘চুক্তি অথবা ধ্বংস’—এই নীতিতে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কার্যকর থাকা ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে দুই দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক হলেও তা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। তবে বুধবারের মধ্যে সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।


হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা

আলিফ ইফতেখার হোসেন
আলিফ ইফতেখার হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৯:৪৫:৫০
হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি শুধু লেবানন সীমান্তেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, লেবাননে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

এই ঘোষণা শুধু একটি কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যেখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, লেবানন-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর আজ শুক্রবার ভোর থেকে তা কার্যকর হয়। এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তাতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করে আসছিল তেহরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব শুরুতে তা অস্বীকার করেছিল এবং ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের পর হঠাৎ করেই লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কূটনৈতিক চাপের ফল হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান সংঘাত নয়, বরং মর্যাদা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে শান্তি চায়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথে নেই এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই তাদের লক্ষ্য।

তবে একই সময়ে ইরানের অবস্থানে একটি স্পষ্ট কৌশলগত দৃঢ়তাও দেখা যাচ্ছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, ইরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “সংঘাতের অবসান হতে হবে স্থায়ীভাবে, লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করেই।” এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে ইরান একটি বৃহত্তর কৌশলগত সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে, সাময়িক বিরতি হিসেবে নয়।

সব মিলিয়ে, লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে ইরানের এই ধারাবাহিক অবস্থান একদিকে কূটনৈতিক নমনীয়তা, অন্যদিকে কৌশলগত কঠোরতার এক সমন্বিত চিত্র তুলে ধরছে। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


যে ৬ শর্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৭:১৩:২২
যে ৬ শর্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, এটি কেবল সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লেবানন ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি বৈঠক আয়োজনের প্রচেষ্টা চলছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষ তা মেনে চলতে সম্মত হয়েছে।

পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামোবদ্ধ রূপরেখা প্রকাশ করে, যেখানে ছয়টি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়। এই শর্তগুলো মূলত সামরিক সংঘাত থামানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

চুক্তির প্রথম শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় থেকে উভয় দেশ সব ধরনের সামরিক শত্রুতা বন্ধ রাখবে এবং এই বিরতি প্রাথমিকভাবে ১০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।

তৃতীয় শর্তে ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও, লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান না চালানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

চতুর্থ শর্তে লেবানন সরকারের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ না চালায়।

এছাড়া পঞ্চম শর্তে লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে একমাত্র বৈধ প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবশেষে, অমীমাংসিত সীমান্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

সূত্র:আল-এরাবিয়া


যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৬:১৭:৩৩
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।

এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।

এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।


লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:৫৬:৩৯
লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননকে কেন্দ্র করে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের ভেতরে নতুন এক রাজনৈতিক ও জনমত সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদেহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাতার হামলার মুখে থাকা সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ এই যুদ্ধবিরতিকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক হিসেবে দেখছে না।

তার মতে, সংঘাত চলাকালে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে যা ইসরায়েলি জনগণের কাছে এক ধরনের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ফলে সরকার যে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবে অর্জিত হয়নি বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননকে একটি কার্যকর নিরাপত্তা বাফার জোনে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি ইসরায়েল। অথচ এই প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি বরং তা আংশিকভাবে চাপা দেওয়া হয়েছে।

আবেদ আবু শেহাদেহ আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকৃত শর্ত ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জনগণের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরা হয়নি এমন একটি ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা আরও গভীর হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ইরান ও পাকিস্তান আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইসরায়েলি জনগণের সামনে এই বাস্তবতা তুলে ধরেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: