অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:৫৬:০৪
অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী বা ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে শনিবার এক আবেগঘন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নাসা তাদের বিশালাকার নতুন চন্দ্র রকেটকে উৎক্ষেপণ প্যাডের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি কয়েক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। এই বিশাল রকেটের মাধ্যমে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, যা হবে গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো মানববাহী চন্দ্রাভিযান। শনিবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে ৩২২ ফুট বা ৯৮ মিটার লম্বা এই রকেটটির ধীরগতির যাত্রা শুরু হয়। প্রতি ঘণ্টায় মাত্র এক মাইল গতিতে অগ্রসর হওয়া এই দানবীয় যানটির চার মাইল দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মূল প্যাডে পৌঁছাতে প্রায় পুরো দিন লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রকেটটির এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যাত্রা সশরীরে প্রত্যক্ষ করতে ভোরের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার নাসা কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। জনাকীর্ণ সেই পরিবেশে এক বিশেষ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার সূচনা হয়, যেখানে সমবেত জনতাকে নেতৃত্ব দেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এবং এই ঐতিহাসিক মিশনের জন্য মনোনীত চার মহাকাশচারী।

সমগ্র যানটির ওজন প্রায় ৫০ লাখ কিলোগ্রাম, যা মূলত স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট এবং এর মাথায় থাকা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলের সমন্বয়ে গঠিত। রকেটটিকে একটি বিশাল ট্রান্সপোর্টারের ওপর চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ঐতিহাসিকভাবে অ্যাপোলো এবং শাটল যুগেও ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে এসএলএস রকেটের এই অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা তৈরি করতে ট্রান্সপোর্টারটিকে বিশেষভাবে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথমবার এসএলএস রকেটটি পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল, তবে সেবার কোনো মানুষ ছিল না। এবার ওরিয়ন ক্যাপসুলে রক্ত-মাংসের মানুষ থাকবে বলেই এই মিশন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে। নাসার কর্মকর্তা জন হানিকাট এই বিষয়ে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন যে, এবার রকেটে মানুষকে বসিয়ে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যদিও এই যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না; এর আগে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা বর্মে কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সেসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে, যার কারণে এই মিশনটি নির্ধারিত সময় থেকে কয়েক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল।

এবারের ১০ দিনের এই বিশেষ মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না এবং এর কক্ষপথেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন না; বরং তারা চাঁদকে একবার চক্কর দিয়ে সরাসরি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ বা বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এর পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে, যা আরও কয়েক বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই যুগান্তকারী অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কচ, যাদের প্রত্যেকেরই আগে মহাকাশে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের সাথে যোগ দিচ্ছেন কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন, যিনি একজন সাবেক ফাইটার পাইলট হিসেবে এবারই প্রথম রকেট যাত্রার রোমাঞ্চ নিতে যাচ্ছেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে পাড়ি জমাতে চলেছেন, যা বিশ্ববাসীর জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। নাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণ প্যাডে রকেটটির চূড়ান্ত জ্বালানি পরীক্ষা করা হবে এবং সেই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই মহাকাশচারীরা যাত্রা শুরু করতে পারেন, তবে আবহাওয়া বা কারিগরি কারণে দেরি হলে মিশনটি মার্চ মাসে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নাসার কর্মীদের মতে, এই রকেটটি কেবল একটি যান্ত্রিক কাঠামো নয় বরং এটি পৃথিবীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সাধনার প্রতীক, যা আবারও মানুষকে রহস্যময় চাঁদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: এপি


আকাশে দেখা যাবে রক্তাভ চাঁদ: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৯:২২:১২
আকাশে দেখা যাবে রক্তাভ চাঁদ: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বিশেষ দিন, কারণ আজ বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ এক অপূর্ব লালচে রঙ ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদ নামে পরিচিত। এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যটি দেখার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, কারণ পরবর্তীবার এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত।

এর আগে গত ১ মার্চ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে, যার সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে গিয়ে পড়ে। বিজ্ঞানের ভাষায়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দিলেও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে কোনো বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে, তবে দূরবীন ব্যবহার করলে তা আরও স্পষ্ট হবে।

এই গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ হবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়া কিমম্যান রিফ, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিলিপাইন সাগরে অবস্থিত মাইক্রোনেশিয়ার বিভিন্ন অংশে এটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সিলেটে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে, চট্টগ্রামে বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে এবং ময়মনসিংহে সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হবে। এছাড়া বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও রাজশাহীতেও সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পর্যায়ক্রমে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।

/আশিক


মহাজাগতিক বিস্ময়: আকাশে দেখা গেল মানুষের মস্তিষ্কের মতো তারা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:২৭:৩৮
মহাজাগতিক বিস্ময়: আকাশে দেখা গেল মানুষের মস্তিষ্কের মতো তারা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে একটি নক্ষত্রের জীবনাবসানের এক মহাজাগতিক ও কিছুটা ভুতুড়ে দৃশ্যের ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়া এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি মরতে থাকা তারার চারপাশে গ্যাস ও ধুলোর এক উজ্জ্বল মেঘ তৈরি হয়েছে, যার আকৃতি হুবহু মানুষের মস্তিষ্কের মতো। অদ্ভুত এই গঠনের কারণে বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘এক্সপোজড ক্রেনিয়াম’ বা খোলা খুলি, যার দাপ্তরিক নাম পিএমআর–১।

নাসা জানিয়েছে, কোনো তারা যখন তার আয়ুর শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সে তার বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছুড়ে ফেলে দেয়। সেই গ্যাস ও ধুলোর সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই আলোকিত নীহারিকা, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিচিত্র রঙ ও আকৃতি ধারণ করে। নাসার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছবির বাইরের স্তরে থাকা খোলসটি মূলত হাইড্রোজেন গ্যাস, যা সবার আগে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং এর ভেতরের অংশে রয়েছে আরও জটিল গ্যাসের মেঘ।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই নীহারিকাটির ঠিক মাঝখানে যে কালো রেখাটি দেখা যাচ্ছে, তা সম্ভবত কেন্দ্রে থাকা মৃতপ্রায় তারার শক্তিশালী কোনো বিস্ফোরণের ফল। যদিও ১০ বছরেরও বেশি আগে স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ইনফ্রারেড আলোতে প্রথম এই নীহারিকাটি শনাক্ত করেছিল, তবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এবার এর অভাবনীয় স্পষ্ট ও পরিষ্কার ছবি তুলে এনেছে যেখানে এর মস্তিষ্কের মতো গঠনটি নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

জেমস ওয়েব মূলত ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে মহাকাশের অতি প্রাচীন বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই নির্দিষ্ট তারাটি অনেক বড় আকৃতির হয়, তবে ভবিষ্যতে এটি একটি বিশাল সুপারনোভা বিস্ফোরণ হিসেবে ফেটে গিয়ে মহাকাশে নতুন কোনো নক্ষত্র সৃষ্টির উপদান ছড়িয়ে দিতে পারে। এই আবিষ্কারটি নক্ষত্রের বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্য বুঝতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন এক দিশা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:২৬:২০
মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
ছবি : সংগৃহীত

মহাজাগতিক এক বিরল ও নান্দনিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সূর্যাস্তের পর সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ—বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে আকাশের এক সারিতে সারিবদ্ধভাবে দেখা যাবে। জ্যোতির্বিদরা এই বিরল ঘটনাকে ‘প্ল্যানেট প্যারেড’ বা গ্রহসমাবেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন যা বাংলাদেশ থেকেও খালি চোখে আংশিকভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যাস্তের প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে পশ্চিম আকাশের এক সংকীর্ণ অংশে এই দৃষ্টিনন্দন গ্রহশোভাযাত্রা দৃশ্যমান হবে। এই সমাবেশে শুক্র, বৃহস্পতি ও শনিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল অবস্থায় খালি চোখেই দেখা যাবে, তবে বুধ গ্রহটি পশ্চিম দিগন্তের খুব নিচুতে অবস্থান করায় এটি দেখার জন্য পরিষ্কার দিগন্তরেখা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তুলনামূলক ঝাপসা ইউরেনাস ও নেপচুনকে দেখার জন্য দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপের সহায়তা নিতে হবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

মহাকাশ গবেষকরা বলছেন যে গ্রহগুলোর এই সারিবদ্ধ বিন্যাস মূলত একটি দৃশ্যমান প্রভাব বা অপটিক্যাল ইল্যুশন। বাস্তবে গ্রহগুলো মহাকাশে একে অপরের থেকে লক্ষ-কোটি কিলোমিটার দূরে নিজ নিজ কক্ষপথে অবস্থান করলেও পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণের সময় এদের একই সরলরেখায় অবস্থান করছে বলে মনে হয়। আকাশে বৃহস্পতিকে সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপে দেখা যাবে এবং শনি গ্রহটি শুক্র ও বৃহস্পতির মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করবে।

উল্লেখ্য যে এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সাতটি গ্রহকে একই লাইনে দেখা গিয়েছিল এবং জ্যোতির্বিদদের মতে এমন পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ ২০৪০ সালের আগে আর দেখার সম্ভাবনা নেই। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে যা দেখার জন্য সূর্যাস্তের ঠিক পরেই আকাশপানে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


মরুভূমির বালু হবে উর্বর জমি: চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারে সবুজের বিপ্লব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৯:২২
মরুভূমির বালু হবে উর্বর জমি: চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারে সবুজের বিপ্লব
ছবি : সংগৃহীত

মরুভূমি মানেই শুধু ধূ ধূ বালু আর অনুর্বর জমি—পরম্পরাগত এই ধারণাটি বদলে দিতে চলেছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা এমন এক বৈপ্লবিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যেই মরুভূমির আলগা বালুকে অত্যন্ত উর্বর মাটিতে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাকলামাকান মরুভূমির কাছে চালানো এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সয়েল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকেরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে গবেষণাগারে তৈরি বিশেষ

এক ধরনের অণুজীব ব্যবহার করেছেন যার নাম সায়ানোব্যাকটেরিয়া। প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে আসা এই অণুজীব অত্যন্ত প্রতিকূল ও কঠিন পরিবেশেও অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে যা মরুভূমির রূপান্তরে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এই সায়ানোব্যাকটেরিয়া বালুর ওপর একটি কালো রঙের জৈব আস্তরণ তৈরি করে যা বালুর আলগা কণাগুলোকে আঠার মতো শক্তভাবে একসঙ্গে ধরে রাখে। এর ফলে বালু দ্রুত মাটির মতো আচরণ শুরু করে এবং সেখানে চারাগাছের শিকড় খুব সহজে গজাতে পারে। এই পদ্ধতির আরও একটি বড় সুবিধা হলো কালো রঙের এই আস্তরণটি বালুর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং বাষ্পীভবন কমিয়ে মাটিতে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় রাখে যা চারাগাছ বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এছাড়া এই বিশেষ অণুজীব বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে মাটিতে জমা করতে পারে যার ফলে প্রথম বছরেই বালুর উপরের এক ইঞ্চি অংশে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জমা হতে দেখা গেছে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে এই জৈব স্তর ব্যবহারের ফলে বাতাসে বালু উড়ে যাওয়ার হার ৯০ শতাংশের বেশি কমে যায় যা মরু এলাকায় ধূলিঝড় নিয়ন্ত্রণেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই অভাবনীয় আবিষ্কার ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য মরুভূমিকে ধীরে ধীরে সবুজে ভরিয়ে তোলার এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

/আশিক


ল্যাপটপ কি সবসময় চালু রাখেন? অজান্তেই নিজের প্রিয় যন্ত্রটির যে বড় ক্ষতি করছেন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:৫৫:২৭
ল্যাপটপ কি সবসময় চালু রাখেন? অজান্তেই নিজের প্রিয় যন্ত্রটির যে বড় ক্ষতি করছেন
ছবি : সংগৃহীত

কাজের সুবিধার্থে বা অলসতার কারণে আমরা অনেকেই দিনের পর দিন ল্যাপটপ শাটডাউন না করে রেখে দিই। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং হার্ডওয়্যারের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত শাটডাউন বা রিস্টার্ট না করলে আপনার দামী যন্ত্রটি যে কেবল ধীরগতি হবে তাই নয়, বরং এর ভেতরের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশগুলোও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ল্যাপটপ দীর্ঘসময় চালু থাকলে নেপথ্যে (Background) অনেক অ্যাপ সক্রিয় থাকে, যা র‍্যামকে (RAM) রিফ্রেশ হতে দেয় না। ফলে সাধারণ কোনো সফটওয়্যার খুলতেও অনেক বেশি সময় লাগে। এছাড়া ল্যাপটপ বন্ধ না করলে অপারেটিং সিস্টেম ও সিকিউরিটি আপডেটগুলো সঠিকভাবে ইনস্টল হতে পারে না, যা আপনার ডিজিটাল তথ্যকে সাইবার ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ব্যাটারির ওপর—একটানা চার্জে থাকা ও অতিরিক্ত তাপ তৈরির ফলে ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।

টানা কয়েকদিন ল্যাপটপ চালু না রেখে নিয়মিত বিরতিতে এটি শাটডাউন অথবা অন্তত রিস্টার্ট করা উচিত। এতে ল্যাপটপের মেমোরি পুরোপুরি ক্লিন হয়, সফটওয়্যারের ছোটখাটো ত্রুটি বা বাগগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যায় এবং হার্ডওয়্যারকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘ মেয়াদে আপনার ল্যাপটপের স্থায়িত্ব ও গতি বজায় রাখতে এই সামান্য সচেতনতাই হতে পারে সেরা সমাধান।

/আশিক


৫২ বছরের অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৯:৫৫:০৭
৫২ বছরের অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

অর্ধশতাব্দীর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আবারও চাঁদের বুকে ফিরছে মানুষ। অনেক জল্পনা-কল্পনা আর যান্ত্রিক লুকোচুরির পর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ তাদের ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের চার মহাকাশচারী চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানববাহী কোনো যান পৃথিবীর উপগ্রহটির সীমানায় যাচ্ছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এখন সাজ সাজ রব, যেখানে ৩২২ ফুট লম্বা এক দানবীয় রকেট লঞ্চ প্যাডে গর্জে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে একটি চূড়ান্ত ‘ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ’ বা মহড়া অনুষ্ঠিত হবে; সেখানে সবুজ সংকেত পেলেই ৬ মার্চ সকালে ইতিহাস গড়বে নাসা।

এই ঐতিহাসিক যাত্রার পথ অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। এর আগে বেশ কয়েকবার হাইড্রোজেন লিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা নাছোড়বান্দা হয়ে দিনরাত এক করে সেই সব যান্ত্রিক গোলযোগ সারিয়ে তুলেছেন। এবার হাইড্রোজেনের সিলবদল থেকে শুরু করে সফটওয়্যারের সূক্ষ্ম কোড—সবকিছুতেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানান, মহাকাশযানের জ্বালানি সমস্যা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এবং ব্যাকআপ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে শক্তিশালী।

আর্টেমিস ২ মিশনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানে থাকছেন চার মহাকাশচারী— রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। বর্তমানে তারা কঠোর কোয়ারেন্টাইন বা নিভৃতবাসে রয়েছেন, যাতে কোনো প্রকার অসুস্থতা মহাকাশযাত্রায় বাধা হতে না পারে। প্রায় ৬ লক্ষ মাইলের দীর্ঘ এই পথে তারা চাঁদের মাটিকে স্পর্শ না করলেও এর চারপাশ ঘুরে আসবেন। মানুষের চোখ দিয়ে খুব কাছ থেকে চাঁদকে দেখে আসার এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতা পরবর্তী মিশনের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আবহাওয়া আর ভাগ্য সহায় থাকলে ৬ মার্চ সকালে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এক নতুন মহাকাশ যুগের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

সূত্র: এনপিআর


আজ বিরিয়ানি কোন মসজিদে? সব খবর মিলবে এক ক্লিকেই বিরিয়ানি দিবে অ্যাপে

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:৫৪:০৬
আজ বিরিয়ানি কোন মসজিদে? সব খবর মিলবে এক ক্লিকেই বিরিয়ানি দিবে অ্যাপে
ছবি : সংগৃহীত

বাঙালির কাছে বিরিয়ানি শুধু একটি খাবার নয়, বরং এটি একটি গভীর আবেগ। যেকোনো উৎসব বা বিশেষ দিনে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা গরম বিরিয়ানি যেন সব ক্লান্তি দূর করে মন ভরিয়ে দেয়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে এই প্রিয় পদটি অনেকেরই প্রথম পছন্দ। সারা বছর রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি বা তেহারি খাওয়া হলেও রোজার মাসে ইফতারে বিভিন্ন মসজিদে দেওয়া বিরিয়ানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম আগ্রহ কাজ করে।

প্রতি বছরই এই মসজিদের বিরিয়ানি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মজার পোস্ট ও মিম দেখা যায়। তবে চলতি বছরের রোজার শুরুতেই এই জনপ্রিয়তা ও কৌতুহলকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) এক মেধাবী শিক্ষার্থী।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও কার্যকরী অ্যাপ ডেভেলপ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এখানে ‘লাইভ লোকেশন’ অ্যাড করার সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে যে কেউ খুব সহজেই জানতে পারবেন আজ রাজধানীর কোন মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবহারকারীরা নিজেরাই এখানে তথ্য যুক্ত করতে পারেন, ফলে অন্য ব্যবহারকারীরাও লাইভ লোকেশন দেখে সেই মসজিদে বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। জুবায়েরের এই অভিনব আইডিয়াটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে বেশ জোর আলোচনা ও প্রশংসা চলছে।

নিজের এই উদ্ভাবন সম্পর্কে জুবায়ের বলেন, এটি আসলে একটি ‘ফান প্রজেক্ট’ হিসেবে শুরু করা হয়েছিল। মূলত ইফতারের সময় বিরিয়ানি খুঁজে পাওয়ার মানুষের সহজাত আগ্রহকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে এই প্ল্যাটফর্মে ভিজিট করে তার আশেপাশের মসজিদের বিরিয়ানি বিতরণের তথ্য পেতে পারেন এবং অন্যকেও তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। প্রযুক্তির এমন হিউমারাস এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিরই পরিচয় দিচ্ছে। রমজানের ইফতারে একটু ভিন্ন স্বাদের খোঁজ করা শিক্ষার্থীদের কাছে এই অ্যাপটি ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

/আশিক


আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:২৫:৩২
আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার হঠাৎ করেই প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে প্রথমবারের মতো উন্নত মানের স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করল, যা বাজারে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, যা একই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয়ের চাপও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিয়ের মৌসুম চলমান থাকায় গহনার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে সামনে আরও সমন্বয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রফিক


১০ থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমবে; কেবল নিয়মিত এই একটি কাজ করলেই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:৩৯:৪৪
১০ থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমবে; কেবল নিয়মিত এই একটি কাজ করলেই
ছবি : সংগৃহীত

মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেকেই অবাক হন—কখন এত বিদ্যুৎ ব্যবহার হলো তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন না আনলেও ঘরের কিছু সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ভুল ব্যবহার এবং অবহেলা অজান্তেই বিদ্যুৎ খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে কিছু যন্ত্র ব্যবহার না করলেও বা সুইচ বন্ধ থাকলেও কেবল প্লাগে লাগানো থাকার কারণেই নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে, যা মাসের শেষে বিলে বড় ধরণের প্রভাব ফেলে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেমন—রুম হিটার বা এসি ঘরের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী যন্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই যন্ত্রগুলো যদি দরজা-জানালার ফাঁক বা যেখানে সরাসরি রোদ বা গরম বাতাস লাগে এমন স্থানে থাকে, তবে সেগুলো সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে পারে না। ফলে ঘর ঠান্ডা বা গরম করতে যন্ত্রগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় চালু থাকতে হয়, যা সরাসরি বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। আবার দীর্ঘদিনের পুরোনো ফ্রিজও বিদ্যুৎ খরচের একটি বড় কারণ। ১৫ বছরের বেশি পুরোনো ফ্রিজে নিরোধক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় এবং কম্প্রেসারও কম কার্যকর থাকে, যার ফলে বছরে প্রায় এক হাজার ইউনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই শক্তি সাশ্রয়ী নতুন ফ্রিজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও কেবল প্লাগে লাগানো থাকলে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে, যাকে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বলা হয়। টেলিভিশন, গেমিং ডিভাইস, কম্পিউটার, মোবাইল চার্জার, কেবল বক্স, মাইক্রোওয়েভ কিংবা কফি মেকারের মতো যন্ত্রগুলো এভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ টানে। তাই ব্যবহার শেষে কেবল সুইচ বন্ধ না করে প্লাগ খুলে রাখা সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়। এছাড়া এসি বা বায়ু পরিশোধন যন্ত্রের ফিল্টারে ধুলো জমলে বাতাস চলাচলে বাধা পায় এবং যন্ত্রকে বাতাস টানতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে পানি গরম করার যন্ত্র বা গিজারের তাপমাত্রা বেশি সেট করা থাকলে তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে সারাক্ষণ কাজ করে, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। তাই সচেতনভাবে যন্ত্র ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে সহজেই বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: