টানা ৩০ দিন রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে

শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে রাতের শেষ পানীয় হিসেবে অনেকেই ভেষজ চা বা গোল্ডেন মিল্ক বেছে নেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে আরেক সহজ উপাদান গুড় ভেজানো পানি। দেশে বিদেশে বহু মানুষই এটিকে রাতের রুটিনে যুক্ত করছেন কারণ বিশেষজ্ঞদের দাবি এটি যেমন প্রস্তুত করা সহজ তেমনি শরীরেও আনে দৃশ্যমান পরিবর্তন। নিয়মিত ৩০ দিন রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে শরীরে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে তা নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো।
শান্তির ঘুম ও স্বস্তি
২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে গুড়ে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা পেশি শিথিলকরণ এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। তাই টানা ৩০ দিন প্রতি রাতে এই পানীয় পান করলে তা শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব হয় এবং ঘুম থেকে উঠেও সতেজ বোধ হয়।
লিভারের প্রাকৃতিক ডিটক্স
গুড় একটি প্রাকৃতিক শরীর পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের কাজের চাপ আরও কমিয়ে দেয়। রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে তা ঘুমানোর সময় শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শক্তি বৃদ্ধিতে এবং পরদিন সকালে আরও সতেজতা নিয়ে ঘুম থেকে উঠতে সহায়তা করে। তাই লিভার ভালো রাখতে নিয়মিত এই পানীয় পানের অভ্যাস গড়া যেতে পারে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
গুড় ভেজানো পানি পাচনতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ গুড় শরীরের পাচক এনজাইমকে সক্রিয় করে যা শরীরকে রাতের খাবার ভালোভাবে প্রক্রিয়া করতে সাহায্য করে এবং ঘুমানোর আগে পেটের ভারী ভাব রোধ করে। এ ছাড়া গুড় ভেজানো পানি মূত্রবর্ধক হিসেবেও কাজ করে যা অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপিত করে। সেই সঙ্গে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
খনিজের ঘাটতি পূরণ
২০২৪ সালে জার্নাল অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিয়মিত গুড় ভেজানো পানি পান করলে তা পুষ্টির ছোট ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে। কারণ গুড়ে আয়রন পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপাদান থাকে। এই খনিজগুলো ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা শক্তি উৎপাদন এবং স্বাভাবিক পেশি কার্যকারিতায় সহায়তা করে।
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি
শরীরে আয়রন গ্রহণকে সমর্থন করার জন্য গুড়কে একটি মৃদু ও খাদ্য ভিত্তিক উপায় হিসেবে সুপারিশ করা হয়। নিয়মিত খেলে বিশেষ করে রাতে যখন হজম প্রক্রিয়া শান্ত থাকে তখন এটি স্বাস্থ্যকর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। যারা সীমিত আয়রন বা রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর হতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি
ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ সকালের অভ্যাস
কেবল খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানলেই কোলেস্টেরলের সমস্যা পুরোপুরি মেটে না বরং দৈনন্দিন অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। বর্তমান সময়ে বয়সের সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হচ্ছে কারণ অল্প বয়সের মানুষের শরীরেও এখন কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। রাত জাগা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘুম থেকে উঠে ৫টি নিয়ম মেনে চললে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে লেবুর পানি পানের পরামর্শ দেন। লেবুতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রক্তে বাইলের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
সকালের নাস্তায় বা জলখাবারে বেশি করে আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফল শাকসবজি এবং গোটা শস্যের পাশাপাশি ওটস বা কাঠবাদাম কোলেস্টেরল কমাতে বেশ কার্যকর। এ সময় ট্রান্সফ্যাট এবং অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা উচিত এবং দুধ চায়ের বদলে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। জিম করার সুযোগ না থাকলে সাধারণ হাঁটা জগিং সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো কাজগুলোও বেশ উপকারী। রোজ সকালে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চার জন্য সময় বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকালে ধূমপানের অভ্যাস কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করে না বরং এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে এই বদভ্যাস ত্যাগ করে একটি স্বাস্থ্যকর সকাল শুরু করা জরুরি। এছাড়া মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ। তাই দিনের শুরুতে কিছুটা সময় যোগাসন বা ধ্যানের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। নিয়মিত এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমিয়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কেবল ডায়েটের দিকে মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো বদলালে কোলেস্টেরলের মাত্রা যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে তেমনি হৃদরোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।
গ্যাস ও পেট ফাঁপা এড়াতে খালি পেটে বর্জন করুন এই ৪ খাবার
খালি পেটে কিছু খাবার খেলে গ্যাস অ্যাসিডিটি ও পেটে ফাঁপা আরও বাড়তে পারে বিশেষ করে যদি আপনার অন্ত্র সংবেদনশীল হয়। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে কিছু খাবারের পর পাকস্থলী অস্বস্তিকর বা ফুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয় যা হতে পারে শাকসবজি ফল বা অন্যান্য খাবার থেকেই। ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ শ্বেতা শাহ এই চারটি সাধারণ খাবারকে সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন এবং দিনের শুরুটা কীভাবে হওয়া উচিত তা নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালবেলায় পাকস্থলীর অ্যাসিড স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে এবং রাত্রিকালীন অন্ত্র বিশ্রামে থাকার কারণে অতিশীতল অত্যন্ত অ্যাসিডিক বা বেশি আঁশযুক্ত খাবার পাকস্থলীর পরতকে উত্তেজিত করতে পারে বা হজমের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এতে অতিরিক্ত গ্যাস ঢেঁকুর ওঠার সমস্যা পেট ফোলা বা বুক ও ওপরের পেটে জ্বালা অনুভূত হতে পারে।
কাঁচা শাকসবজিতে প্রচুর অদ্রবণীয় আঁশ থাকে যা সাধারণত অন্ত্রে দ্রুত চলে কিন্তু খালি পেটে এটি কষ্টদায়ক হতে পারে এবং পেটের ব্যথা গ্যাস ও ফাঁপা বাড়াতে পারে। বড় বড় ঠান্ডা সালাদ পাকস্থলীতে বেশি স্থান নেয় এবং অন্ত্রের পরতকে উত্তেজিত করতে পারে। বিকল্প হিসেবে সালাদ দুপুরের খাবারে খাওয়া এবং সাথে কিছু গরম খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন অলিভ অয়েল যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শাকসবজি হালকা সেঁকা বা বাষ্প দিয়ে রান্না করলে গ্যাসের সমস্যা অনেকটা কমে যায় এবং আদা বা জিরা জাতীয় গরম মসলা যোগ করলেও হজমে সহায়তা হয়।
টমেটো হালকা অ্যাসিডিক যা খালি পাকস্থলীতে জ্বালা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে বিশেষ করে যারা গ্যাস্ট্রাইটিস বা রিফ্লাক্সে ভুগছেন। বড় পরিমাণে টমেটো বা টমেটো ভিত্তিক সস খেলে বুক ও ওপরের পেটে অস্বস্তি জ্বালা বা তিক্ত ঢেঁকুর ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে টমেটো পুরোপুরি এড়ানো প্রয়োজন নয় বরং অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যেমন শস্য ডাল বা রান্না করা শাকসবজি দিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি অনেকটা কমানো যায়। যারা গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের ইতিহাস রয়েছে তাদের সকালবেলা টমেটো ভিনেগার বা চিলি এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমলা মিষ্টি লেবু গ্রেপফ্রুট ও লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হলেও খালি পেটে এগুলি পাকস্থলীর পরতকে চরমভাবে উত্তেজিত করতে পারে। এতে হার্টবার্ন ওপরের পেটে ফোলাভাব বা তিক্ত ঢেঁকুর ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত সিট্রাস ফল সকালে বা প্রাতঃরাশের আগে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত মিলিত খাবারের সঙ্গে খেলে হজম ভালো হয়। খালি পেটে অ্যাসিড বা রিফ্লাক্স থাকলে কলা ভেজানো কিশমিশ বা ছোট পরিমাণ ওটস খাওয়া ভালো বিকল্প হতে পারে।
কফি পাকস্থলীর অ্যাসিড বৃদ্ধি করে এবং অন্ত্রের গতিবেগ বাড়ায়। খালি পেটে কফি পান করলে জ্বালা পেট ব্যথা গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও অস্থিরতাও বাড়ে। কফি খাওয়ার আগে ছোট নাস্তা বা কিছু ভেজানো বাদাম খেলে অ্যাসিড সরাসরি পাকস্থলীর সঙ্গে সংস্পর্শে আসে না। কম অ্যাসিডযুক্ত কফি বা ঠান্ডা ব্রু ধীরে ধীরে পান করলে গ্যাস ও অস্বস্তি কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন সকালে গরম পানি বা হার্বাল চা দিয়ে দিন শুরু করতে। তারপর ছোট ও সহজ প্রাতঃরাশ খাওয়া উচিত যেখানে জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন থাকবে। এর পর ধীরে ধীরে সালাদ সিট্রাস বা কফি যুক্ত করা যেতে পারে। যদি কোনো খাবারের পর পেটের ফোলা বা গ্যাস সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন লক্ষণ লিখে রাখা এবং চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে শেয়ার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে অন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হয়।
অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারে মুরগির মাংস হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক
দেশের ব্রয়লার শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ও পরিকল্পনাহীন ব্যবহারের কারণে মুরগির দেহে দিন দিন বাড়ছে মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া বা সুপারবাগ। এতে মানুষের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বা বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এশিয়ান অস্ট্রালাশিয়ান জার্নাল অব ফুড সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয় দেশের মোট ব্রয়লার উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের কাছ থেকে। তাদের বড় একটি অংশ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফিড ডিলার বা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির নির্দেশে সুরক্ষা হিসেবে রোগ না থাকলেও মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ান।
গবেষণায় উঠে এসেছে সিপ্রোফ্লক্সাসিন এনরোফ্লক্সাসিন ও টেট্রাসাইক্লিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মুরগির মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ নিয়মিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বাজারের নমুনা বিশ্লেষণে ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে ফ্লোরোকুইনোলোন এবং ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে টেট্রাসাইক্লিনের অবশিষ্টাংশ শনাক্ত হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো পোলট্রি খামারগুলো থেকে সংগৃহীত ই. কোলাই নমুনার ৭৫ শতাংশেরও বেশি মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট অর্থাৎ একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী।
আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে মুরগির অন্ত্রে এমসিআর ১ জিনের সন্ধান। এ জিন কোলিস্টিন নামের শেষ পর্যায়ের অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে দেয় যা মানুষের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যের মাধ্যমে অল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘদিন মানবদেহে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি অঙ্গ প্রতঙ্গের বিষক্রিয়া এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বিঘ্নিত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয় একটি ব্রয়লার মুরগি তার জীবনচক্রে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত বর্জ্য উৎপাদন করে। বছরে ২০০ মিলিয়নেরও বেশি মুরগি উৎপাদনের ফলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমি ও জলাশয়ে অপরিশোধিত অবস্থায় ফেলা হচ্ছে। এতে নাইট্রেট ও ফসফরাসযুক্ত বর্জ্য পানি দূষণ করছে এবং অ্যামোনিয়া নিঃসরণে আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
গবেষকদলের প্রধান ডক্টর মো. শফিকুল ইসলাম বলেন ব্রয়লারশিল্প আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করছে ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে ঠিকই কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক সংকট পুরো অর্জনকে বিপন্ন করতে পারে। তিনি অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বায়োসিকিউরিটি জোরদার টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কড়াকড়ি নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানান। গবেষকদের মতে মানুষ প্রাণী ও পরিবেশ এই তিনের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত তাই ওয়ান হেলথ নীতির আওতায় সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
এক ডোজেই কার্যকর নতুন ডেঙ্গু টিকা অনুমোদন
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে যখন মশাবাহিত রোগের বিস্তার রেকর্ড গতিতে বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ব্রাজিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনভিসা গত বুধবার ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক ডোজে কার্যকর নতুন টিকা ‘বুটানটান-ডিভি’ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাও পাওলোর বিখ্যাত বুটানটান ইনস্টিটিউট এই টিকাটি তৈরি করেছে এবং ১২ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর জন্য এর ব্যবহার অনুমোদিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে থাকা একমাত্র ডেঙ্গু টিকা TAK-003 দুই ডোজে প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু নতুন ‘বুটানটান-ডিভি’ টিকা মাত্র একবার নিলেই কার্যকর সুরক্ষা দেবে। ফলে ডেঙ্গু টিকাদান কর্মসূচির ব্যয়, সময় এবং লজিস্টিক জটিলতা তিনটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বুটানটান ইনস্টিটিউটের পরিচালক এসপার কাল্লাস সাও পাওলোতে সাংবাদিকদের বলেন,“ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডেঙ্গুর মতো দীর্ঘস্থায়ী মহামারিকে মোকাবিলায় এখন আমাদের হাতে অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে।”
টিকাটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ব্রাজিলজুড়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে ১৬ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিকাটি গুরুতর ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অনেক ভ্যাকসিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।
ডেঙ্গুর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ১ কোটি ৪৬ লাখের ওপর, মৃত্যু হয় প্রায় ১২ হাজার মানুষের। এর অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে ব্রাজিলে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক ডেঙ্গু সংক্রমণের ১৯ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তন। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এডিস মশার জন্মহার, বিস্তার এলাকা এবং সংক্রমণ ক্ষমতা সবকিছুই বেড়েছে বহুগুণে।
টিকার ব্যাপক উৎপাদন নিশ্চিত করতে ব্রাজিল চীনের বিখ্যাত জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি উশি বায়োলজিক্স-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কমপক্ষে ৩ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে।
ব্রাজিল সরকার আশা করছে, নতুন টিকা দেশটির প্রাণঘাতী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে।
-শরিফুল
ত্বকের বয়স কমাতে তরুণদের রক্তরস নিয়ে বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর গবেষণা
বয়স বাড়লে ত্বকে তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ে যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কুঁচকে যায় এবং আগের মতো উজ্জ্বল থাকে না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন এমন এক আশার কথা শোনাচ্ছেন যা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তাঁরা বলছেন তরুণদের রক্তে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে যা বয়স্কদের ত্বককে আবার টানটান ও তরুণ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে তরুণদের রক্ত বা রক্তের রস যা সিরাম নামে পরিচিত তা বয়স্ক শরীরে ব্যবহার করলে ত্বকের বয়স কমতে পারে এবং ত্বক আরও মসৃণ ও দৃঢ় দেখাতে পারে।
জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেইয়ার্সডর্ফ এজি মানুষের ত্বকের মতো বিশেষ মডেল তৈরি করে তাতে তরুণদের রক্তরস ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালিয়েছে। শুরুতে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা না গেলেও যখন সেই মডেলে হাড়ের অস্থিমজ্জার কোষ যোগ করা হয় তখন ত্বকের কোষে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। গবেষকদের মতে তখন ত্বক আবার তরুণ হতে শুরু করেছে বলে মনে হয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন তরুণ রক্তরস ও অস্থিমজ্জার কোষ একসঙ্গে কাজ করে ত্বকের কোষে তারুণ্য আনার মতো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।
গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে যে এই দুই উপাদান মিলে ৫৫ ধরনের প্রোটিন তৈরি করে। এর মধ্যে অন্তত ৭টি প্রোটিন ত্বককে তরুণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এগুলো ঠিক কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ এবং বয়সের ছাপও সবচেয়ে আগে ত্বকেই ফুটে ওঠে। তাই বিজ্ঞানীরা ত্বককে কেন্দ্র করেই বয়স কমানোর বা ধরে রাখার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের মতে ত্বকের স্বাস্থ্যই শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলন। এই গবেষণা সত্যি প্রমাণিত হলে হয়তো ভবিষ্যতে বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তখন বার্ধক্য আর দুর্বলতা হিসেবে নয় বরং সতেজ সুস্থ ও সক্রিয় থাকার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণে হরমোনাল পিল নিয়ে নতুন গবেষণায় যা উঠে আসল
সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা যেন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সুইডিশ গবেষণায় হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্তন ক্যানসারের সামান্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও চিকিৎসকরা স্পষ্ট করেছেন হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ এখনো নিরাপদ, এবং এ গবেষণা তাদের পরামর্শ পরিবর্তন করবে না।
জেএএমএ অঙ্কোলজিতে গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এই গবেষণায় সুইডেনের ২০ লাখেরও বেশি কিশোরী ও ৫০ বছরের কম বয়সী নারীর ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ সাধারণভাবে নিরাপদ হলেও ব্যবহৃত হরমোনের ধরন অনুযায়ী স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে অল্প কিছু ভিন্নতা দেখা গেছে।
গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ বেশি। তবে বাস্তব সংখ্যায় এটি খুবই সামান্য বৃদ্ধি: ১০০,০০০ নারীর মধ্যে ৫৪ জন থেকে ৬৭ জন, অর্থাৎ প্রতি ৭,৮০০ নারীর মধ্যে গড়ে একজন অতিরিক্ত রোগী।
ঝুঁকি সামান্য ও স্বল্পমেয়াদী
গবেষক উসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজিস্ট আসা ইয়োহানসন ও ফাতিমেহ হাদিজাদে জানাচ্ছেন ঝুঁকির এই বৃদ্ধি অস্থায়ী। ব্যবহার চলাকালীন ও ব্যবহার বন্ধের কিছুদিন পরে ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে, তবে ৫–১০ বছরের মধ্যে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
২০১৭ সালের ড্যানিশ বিশাল রেজিস্ট্রি স্টাডি এবং ২০২৩ সালের মেটা–অ্যানালাইসিসেও একই ধরনের ফল মিলেছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভুল ব্যাখ্যা
টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এই গবেষণাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণ "ক্যানসারের কারণ" বা "ধূমপানের মতো বিপজ্জনক"। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা এর সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গত।
পাওয়ার টু ডিসাইড–এর অন্তর্বর্তী সহ–প্রধান নির্বাহী র্যাচেল ফে বলেন, “এই ধরনের ফ্যাক্ট–বিহীন ভয় দেখানো পোস্ট নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ নারীদের জীবনে অসংখ্য উপকার আনে। ভয় না ছড়িয়ে প্রেক্ষাপটসহ তথ্য দেওয়া জরুরি।”
কোন হরমোনে ঝুঁকি বেশি, কোনটিতে কম
গবেষণায় দেখা গেছে—
- ডেসোগেস্ট্রেল–যুক্ত যৌথ পিল যেমন Cyred EQ, Reclipsen ইত্যাদিতে ঝুঁকি সামান্য বেশি
- কিন্তু মেড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন অ্যাসিটেট ইনজেকশন (Depo-Provera)–এ ঝুঁকি বাড়েনি
- ড্রস্পিরেনোন ও লেভোনরজেস্ট্রেল–যুক্ত পদ্ধতিতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম
তবে গবেষকদের মতে, এগুলিকে বিস্তৃত নিয়ম বা সতর্কতার ভিত্তি হিসেবে এখনই দেখা উচিত নয়।
গবেষণা ব্যাখ্যায় সতর্কতা প্রয়োজন
ড্যানিশ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষক লিনা মর্ক মনে করিয়ে দিয়েছেন গবেষণায় ইন সিচু (প্রাথমিক পর্যায়ের, অ-আক্রমণাত্মক) টিউমারকেও ক্যানসারের তালিকায় ধরা হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই জীবনহানিকর হয় না। ফলে সামগ্রিক ঝুঁকি প্রকৃত চেয়ে বেশি মনে হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অপরিবর্তিত
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্টরা বলছেন এ গবেষণা তাঁদের পরামর্শ বদলাতে বাধ্য করবে না। বোস্টন মেডিকেল সেন্টারের চিফ গাইনি ক্যাথারিন হোয়াইট বলেন, “জন্মনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিতে গিয়ে আমরা রোগীর অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা–ইতিহাস, পরিবার পরিকল্পনা সব বিবেচনা করি। ঝুঁকি ও উপকার দুটিই আমরা ব্যাখ্যা করি। এই গবেষণা সেই পদ্ধতি পাল্টানোর মতো নয়।”
হরমোন ছাড়া বিকল্পও আছে
যারা হরমোন-মুক্ত পদ্ধতি চান, তাঁদের জন্য কপার আইইউডি এখনো অন্যতম নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জন্মনিয়ন্ত্রণের অনেক উপকারিতা রয়েছে। ডাক্তারদের মতে, হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ–
- অনিয়মিত বা ভারী মাসিক কমায়
- এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা কমায়
- জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বহু বছর পর্যন্ত কম রাখে
স্মরণ করিয়ে দেন হোয়াইট, “গর্ভধারণ–বিহীন যৌনসম্পর্কে যারা কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন না, তাঁদের অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ। ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণের সামান্য ঝুঁকিকে সেই বাস্তবতার সাথে তুলনা করেই দেখতে হবে।”
মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যে পরিবর্তন আনা জরুরি
প্রতিদিনের জীবনে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা আলো সহ্য না হওয়া এবং কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া মাইগ্রেন হাজারো মানুষের জীবন একেবারে থামিয়ে দেয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এই যন্ত্রণার পেছনে শুধু স্ট্রেস বা ঘুমের অভাব নয় বরং শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভিটামিনের ঘাটতিই হতে পারে প্রধান অপরাধী। নতুন গবেষণা জানাচ্ছে ভিটামিন ডি রাইবফ্লাভিন ম্যাগনেশিয়াম ও কোএনজাইম কিউ১০ এর মাত্রা কমে গেলেই মাইগ্রেনের ঘনত্ব তীব্রতা ও সময়কাল নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে ভিটামিন ডি মস্তিষ্কে ব্যথা সংক্রান্ত সংকেত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় যা সরাসরি মাইগ্রেন ট্রিগার করে। বিশেষত যাদের ভিটামিন ডি এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাদের মধ্যে মাইগ্রেন পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনেক বেশি। জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বৈদ্যুতিক সংকেত ও স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এর ঘাটতি হলে স্নায়ু অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয় এবং ফলে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যথেষ্ট ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে ব্যথার ঘনত্ব ও তীব্রতা কমে আসতে পারে। নারীদের জন্য দৈনিক ৩১০ থেকে ৩২০ মিলিগ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম সুপারিশ করা হয়।
রাইবফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তি যোগায়। গবেষণা দেখায় মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমে গেলে মাইগ্রেনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। রাইবফ্লাভিন সাপ্লিমেন্টেশন অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পুনরাবৃত্তি কমাতে সাহায্য করে। নারীদের জন্য প্রতিদিন ১ দশমিক ১ মিলিগ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম রাইবফ্লাভিন প্রয়োজন। তবে চিকিৎসা গবেষণায় ব্যবহৃত ডোজ আরও বেশি তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোএনজাইম কিউ১০ এর ঘাটতি কোষের শক্তি উৎপাদন কমিয়ে দেয় যা মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে এই সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে তবে এ নিয়ে আরও বড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক হেডেক সোসাইটি মাইগ্রেনকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। অরা ছাড়া মাইগ্রেনে ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা মাথাব্যথা আলো শব্দ সংবেদনশীলতা ও বমিভাব হয়। অন্যদিকে অরাযুক্ত মাইগ্রেনে অস্থায়ী স্নায়ুবিক সমস্যা দৃষ্টি ভাষা বা সংবেদনশীলতায় ব্যাঘাত ঘটে। ট্রিগার হতে পারে বিশেষ খাবার কম পানি চাপ তীব্র গন্ধ আবহাওয়া পরিবর্তন হরমোন অনিয়মিত ঘুম বা পুষ্টির ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমস্যা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম সময়মতো খাবার পর্যাপ্ত পানি হালকা ব্যায়াম এবং চাপ কমানোর অভ্যাস মাইগ্রেন কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। যোগা বা ধ্যান এবং আকুপাংচার বা সাইকোথেরাপিও কিছু ক্ষেত্রে উপকার দিতে পারে। মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ওষুধের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানসার থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় আনুন ৫টি সহজ পরিবর্তন
ক্যানসার শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে রোগটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তাতে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক। তবে সুখবর হলো ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। গবেষণা বলছে আমাদের জীবনযাপন খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন অভ্যাসই এই রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বিখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর এরিক বার্গের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রকাশ করেছে যা নিয়মিত মেনে চললে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ডক্টর এরিক প্রথমেই ব্যাখ্যা করেন ক্যানসার আসলে কীভাবে হয়। তিনি বলেন ক্যানসার বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে কীভাবে এটি তৈরি হয়। আমাদের শরীরের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন কোষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই নিয়ন্ত্রণহীন কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে আর এটাই ক্যানসার। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুস্থ রাখা সবচেয়ে জরুরি।
ক্যানসার দূরে রাখতে ডক্টর এরিক পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত তিনি পরিশোধিত খাবার বাদ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। ডক্টর এরিকের মতে ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো খাদ্যতালিকা থেকে পরিশোধিত খাবার বাদ দেওয়া। যেমন পরিশোধিত চিনি পরিশোধিত তেল ও স্টার্চযুক্ত খাবার ইত্যাদি। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
দ্বিতীয়ত তিনি নিয়মিত রোদ পোহানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ডাক্তাররা বলেন যত বেশি সম্ভব রোদ পোহানো উচিত। কারণ শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং ফলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। শীতকালে যদি রোদ না পাওয়া যায় তবে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এটি একটি অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন।
তৃতীয়ত উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রুটিনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যেখানে শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাসের অবস্থায় রাখা হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী উপবাসও করা যেতে পারে। উপবাস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সিয়াম পালন একটি শ্রেষ্ঠ উপায় হতে পারে।
চতুর্থত নিয়মিত ব্যায়াম করার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মাইটোকন্ড্রিয়া সুস্থ থাকে। শুধু তাই নয় ব্যায়াম ক্ষতিগ্রস্ত মাইটোকন্ড্রিয়াকেও শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
পঞ্চমত মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডক্টর এরিক। তিনি বলেন যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। এর জন্য দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমানো জরুরি। এছাড়া আশেপাশে যারা বিষাক্ত মানুষ আছেন তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাও মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
রমজান ছাড়াও সারা বছর খেজুর খাওয়ার যে সাতটি বড় স্বাস্থ্যগুণের কথা বলছেন পুষ্টিবিদরা
সৌদি আরবের খেজুর আমাদের দেশে সারা বছর পাওয়া যায় তবে সাধারণত রমজান মাস ছাড়া এর জনপ্রিয়তা বা কদর কিছুটা কম দেখা যায়। রমজানে এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ কারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেহরি ও ইফতারে খেজুরকে অপরিহার্য মনে করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন শুধু রোজার মধ্যেই নয় বরং এই ছোট্ট ফলের মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন সাতটি জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণ যা দৈনন্দিন জীবনেও মানুষকে অনেক জটিল রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।
প্রথমত খেজুর দ্রুত শক্তি ফেরত দিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। খেজুরে থাকে প্রাকৃতিক চিনির উৎস গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ। ক্লান্তি কাটাতে শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এটি অত্যন্ত কার্যকর। মাত্র এক দুটি খেজুরই একজনকে তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা ও সতেজতা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। যারা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তারা নিয়মিত খেজুর খেলে উপকার পাবেন। খেজুর রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে যা দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও অক্সিজেন সরবরাহের জন্য অপরিহার্য।
তৃতীয়ত খেজুর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। খেজুরে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা অতিরিক্ত চর্বি নেই। ফলে এটি নিয়মিত খেলে শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে এবং অন্যান্য চর্বি সংকুল খাবারের চাহিদাও কমিয়ে আনে।
চতুর্থত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেজুর বেশ কার্যকরী। কয়েকটি খেজুর খেলে ক্ষুধা কমে যায়। এতে অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা কমে অথচ শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রাকৃতিক শর্করা পাওয়া যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি একটি সহজ ও কার্যকরী উপায় হিসেবে বিবেচিত।
পঞ্চমত এটি হজম শক্তি বাড়ায়। বেশি খাওয়াদাওয়ার পরে হজমে সমস্যা হলে খেজুর হজমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি পাকস্থলীর কার্যক্রমকে প্রাকৃতিকভাবে সমর্থন করে এবং খাবারের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।
ষষ্ঠত কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে খেজুরের জুড়ি নেই। খেজুরে থাকা ফাইবার ও প্রাকৃতিক উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে এবং নিয়মিত ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি পাচন প্রক্রিয়াকে সুস্থ রাখার জন্য খুবই কার্যকর।
সপ্তমত ক্যানসার প্রতিরোধে খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে খেজুর বিশেষ করে পেটের ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খাওয়া মানেই শুধু রমজানে নয় বরং সারা বছর সুস্থতা বজায় রাখা। ছোট এই ফলটিতে লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্যগত সম্ভাবনা যা শরীরকে শক্তিশালী রোগমুক্ত ও সতেজ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
পাঠকের মতামত:
- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ডা. জাহিদের সর্বশেষ বার্তা
- টিকিট কাটার আগে জেনে নিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার তালিকা
- দায়িত্ব পালনকালে বাগদানের পর এবার বিয়ে করেও ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
- বরিশাল ৪: ধানের শীষের রাজীব নাকি জামায়াতের জব্বার কার পাল্লা ভারী
- বিশ্বের সব দেশের জন্য নিবন্ধন উন্মুক্ত হওয়ার পর অ্যাপে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া
- বিচ্ছেদ হলেই ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে করতে চান পাকিস্তানি মুফতি
- পাইলট ও মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আকাশপথ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
- শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি
- বিমানে ওঠার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
- উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে প্রস্তুত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিমান
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্পষ্ট বার্তা
- ঘরোয়া রান্নাকে রেস্টুরেন্টের মতো সুস্বাদু করতে জেনে নিন ৩টি সহজ টিপস
- ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ সকালের অভ্যাস
- গ্যাস ও পেট ফাঁপা এড়াতে খালি পেটে বর্জন করুন এই ৪ খাবার
- খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলাম
- বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন এনামুল হক বিজয়
- সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া, দেশজুড়ে সুস্থতা কামনায় দোয়া
- খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য হাসিনাকে জবাবদিহি করতে হবে: রুমিন ফারহানা
- সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত,বিপাকে আশ্রয়প্রার্থীরা
- খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর শোনালেন ১০ বছরের কঠিন বাস্তবতার কথা
- স্বাক্ষর যন্ত্রের মাধ্যমে জারি করা বাইডেনের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর সিদ্ধান্ত
- এভারকেয়ারে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে এনসিপি নেতারা জানালেন সর্বশেষ খবর
- জিয়াউর রহমানই ওপেন ইকোনমি যুগের সূচনা করেছিলেন: মির্জা ফখরুল
- সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হলে জীবনযাত্রায় আনুন ৩টি ছোট পরিবর্তন
- আজকের রাশিফল: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ, ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে শনিবারের পূর্বাভাস
- ভাঙা পা নিয়ে মাঠে নেমে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স নেইমারের
- ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা
- মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও কেন ফিরতে পারছেন না জানালেন তারেক রহমান
- আমরা আপনাদের বাদ দেব না: বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমিরের বার্তা
- সিসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে দলের জরুরি বার্তা
- ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল
- আজ রাতে ফুটবলের ডাবল থ্রিলার
- এখন কী অবস্থায় আছেন খালেদা জিয়া
- শুক্রবার ঢাকায় যেসব মার্কেট–জাদুঘর বন্ধ
- সুপারফুড সয়াবিনও হতে পারে ক্ষতিকর যদি আপনার শারীরিলে ৫টি সমস্যা থাকে
- খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ছাত্রশিবিরের বিশেষ দোয়া আয়োজন
- দেশের বিচারকদের উদ্দেশে ১৪ ডিসেম্বর শেষ ভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
- অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারে মুরগির মাংস হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক
- বিশ্বজুড়ে সুযোগ মিললেও ঠিকানার গেরোয় আটকে গেল ৭ দেশের প্রবাসীদের ভোট
- যুদ্ধবিরতির নামে বিশ্বকে বোকা বানাচ্ছে ইসরায়েল, অ্যামনেস্টির ভয়ংকর রিপোর্ট
- টানা ৩০ দিন রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে
- ধানের শীষের সান্টু নাকি জামায়াতের মান্নান বরিশাল ২ আসনে কার পাল্লা ভারী
- স্ট্রেঞ্জার থিংস এর ক্রেজ সামলাতে হিমশিম খেল নেটফ্লিক্স
- বাউলদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রেস সচিব
- নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা জানালেন আসিফ মাহমুদ
- মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি
- এক ডোজেই কার্যকর নতুন ডেঙ্গু টিকা অনুমোদন
- ৮১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেয়ার আর্থ’ বিপ্লব শুরু করল ভারত
- হঠাৎ অবনতি, সিসিইউতে খালেদা জিয়া
- মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প!
- শিরোপা জয়ের রেসে আজ বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান কার পাল্লা ভারীে
- মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি
- বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড আজ মাঠে, শুরু হচ্ছে উত্তেজনার লড়াই
- ২৬ নভেম্বরের নামাজের সময়সূচি
- ২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কবে কার বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ জেনে নিন সময়সূচি
- ভূমিকম্পের পর আগামী ৭২ ঘণ্টাকে কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- নয়্যারের ভুলে সর্বনাশ এবং বদলি খেলোয়াড়দের কাঁধে চড়ে আর্সেনালের বড় জয়
- ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ সকালের অভ্যাস
- আজকের রাশিফল: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- চট্টগ্রাম ৪ আসনে বিএনপির অভিজ্ঞতা নাকি জামায়াতের কৌশল কার পাল্লা ভারী
- চট্টগ্রাম ১ আসনে বিএনপির নুরুল আমিন নাকি জামায়াতের সাইফুর রহমান কার পাল্লা ভারী
- ভূমিকম্প মুহূর্তে যে দোয়া পড়তেন রাসূল (সা.)








