‘জীবন্ত’ কম্পিউটার তৈরির পথে বিজ্ঞানীরা, ডেটা সেন্টারে আসছে নতুন বিপ্লব

জীবন্ত কোষ ব্যবহার করে কম্পিউটার তৈরির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই যুগান্তকারী গবেষণার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়োকম্পিউটিং’। সুইজারল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য হলো এমন ডেটা সেন্টার তৈরি করা, যা চলবে ‘জীবন্ত’ সার্ভারে এবং প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় সামান্য শক্তি ব্যবহার করবে।
এই গবেষক দল আশা করছে, ভবিষ্যতে এমন ডেটা সেন্টার দেখা যাবে, যেখানে এই ‘জীবন্ত’ সার্ভারগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে শেখে, তার কিছু দিক অনুকরণ করবে।
‘ওয়েটওয়্যার’: মস্তিষ্কের মতো উপাদান
কম্পিউটারের উপাদানগুলো হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারে বিভক্ত। তবে এই বায়োকম্পিউটারের ক্ষেত্রে গবেষক দল নতুন শব্দ ‘ওয়েটওয়্যার’ (Wetware) ব্যবহার করছেন। ফাইনালস্পার্ক ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. ফ্রেড জর্ডান ব্যাখ্যা করেন, এই ‘ওয়েটওয়্যার’ হলো ল্যাবরেটরিতে স্টেম সেল থেকে উৎপাদিত নিউরন দিয়ে তৈরি ‘অর্গানয়েড’—যা মূলত নিউরন ও সহায়ক কোষের ক্লাস্টার। অর্গানয়েডগুলোকে ইলেকট্রোডে (তড়িৎদণ্ড) যুক্ত করে মিনি কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ড. জর্ডান স্বীকার করেন, বায়োকম্পিউটিং ধারণাটা অনেকের কাছে অদ্ভুত শোনাবে। তিনি বলেন, “যখন আপনি বলেন যে, আমি একটি নিউরনকে ছোট একটি যন্ত্রের মতো ব্যবহার করব, তখন এটি আমাদের মস্তিষ্ককে ভিন্নভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এবং আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেয়।”
গবেষণার পদ্ধতি ও অগ্রগতি
ফাইনালস্পার্ক ল্যাবে এই বায়োকম্পিউটার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় মানুষের ত্বক থেকে নেওয়া স্টেম সেল থেকে। এই মিনি ব্রেইনগুলো কয়েক মাসের প্রক্রিয়ার পর তড়িৎদ্বারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তুত হয়। গবেষকেরা বলছেন, এই মিনি ব্রেইনগুলো সরল কি-বোর্ড কমান্ডের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়।
স্ক্রিনে প্রদর্শিত কার্যকলাপের গ্রাফটি অনেকটা ইইজির (ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাম) মতো দেখতে। ড. জর্ডান জানান, তারা এখনো অনেক কিছু বুঝতে পারছেন না যে অর্গানয়েডগুলো কী করছে। তবে আপাতত এই মিনি ব্রেইনে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘রক্তনালী’
সাধারণ কম্পিউটার চালু রাখা সহজ হলেও, বায়োকম্পিউটারের ক্ষেত্রে অর্গানয়েড কীভাবে টিকে থাকবে বা শক্তি পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সাইমন শুল্জ বলেন, “অর্গানয়েডে রক্তনালি নেই। মানব মস্তিষ্কে রক্তনালি পুষ্টি সরবরাহ করে। আমরা এখনো সেগুলো ঠিকমতো তৈরি করতে পারি না। এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
ফাইনালস্পার্ক গত চার বছরে কিছু অগ্রগতি করেছে; তাদের অর্গানয়েড এখন চার মাস পর্যন্ত বাঁচে। তবে এগুলো মারা যাওয়ার সময় কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যেমন হঠাৎ করে কার্যক্রম খুব দ্রুত বেড়ে যায়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ফাইনালস্পার্ক একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়। অস্ট্রেলিয়ার কর্টিক্যাল ল্যাবস ২০২২ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত নিউরনকে দিয়ে প্রাথমিক কম্পিউটার গেম ‘পং’ খেলাতে সক্ষম হয়েছে।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ড. লেনা স্মিরনোভা মনে করেন, বায়োকম্পিউটিং সিলিকন এআই-এর বিকল্প নয় বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। এটি আলঝেইমার এবং অটিজমের মতো স্নায়বিক রোগের ওষুধ উন্নয়ন এবং রোগ নির্ণয় মডেল তৈরি করতে সাহায্য করবে।
ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হলো মহাবিশ্বের নিরন্তর প্রসারণ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের ইয়োনসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং উক লি-র নেতৃত্বে একদল গবেষক দাবি করেছেন যে মহাবিশ্ব আগের মতো দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে না বরং এর প্রসারণের গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণা মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি নিয়ে নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
গবেষণার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ‘ডার্ক এনার্জি’—যাকে মহাবিশ্বকে প্রসারিত করার প্রধান শক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিজ্ঞানীরা এতদিন মনে করতেন ডার্ক এনার্জির শক্তি স্থির বা ধ্রুবক। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই রহস্যময় শক্তি সময়ের সাথে সাথে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ১৯৯৮ সালে যখন ডার্ক এনার্জি আবিষ্কৃত হয় তখন ধারণা করা হয়েছিল এর প্রভাবে মহাবিশ্ব ‘বিগ রিপ’ বা সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন গবেষকরা বলছেন মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে উল্টো পথে অর্থাৎ ‘বিগ ক্রাঞ্চ’ বা সংকোচনের দিকে ধাবিত হতে পারে।
গবেষক দলটি তাদের দাবির সপক্ষে ‘টাইপ-১এ সুপারনোভা’ বা তারার ভয়াবহ বিস্ফোরণ বিশ্লেষণ করেছেন। আগে মহাজাগতিক দূরত্ব মাপার জন্য এই উজ্জ্বলতাকে মানদণ্ড ধরা হতো। তবে নতুন তথ্যে দেখা গেছে সুপারনোভার উজ্জ্বলতা দূরত্বের চেয়েও তারার বয়সের ওপর বেশি নির্ভর করে। বয়স্ক তারার বিস্ফোরণ বেশি উজ্জ্বল হওয়ায় পূর্বের অনেক দূরত্ব পরিমাপ এখন ভুল বলে প্রমাণিত হতে পারে। যদি ডার্ক এনার্জি সত্যিই দুর্বল হতে থাকে তবে মহাবিশ্ব এক সময় প্রসারণ থামিয়ে নিজের কেন্দ্রাভিমুখে সংকুচিত হওয়া শুরু করবে।
যদিও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মহাবিশ্বের এই সম্ভাব্য ধ্বংস বা পরিবর্তনের সময়কাল এখনও প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন বছর দূরে। তবে এই গবেষণা যদি পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হয় তবে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ থেকে শুরু করে মহাজাগতিক বিবর্তন—সবকিছুই নতুন করে লিখতে হবে। মহাবিশ্বের এই নতুন সমীকরণ বিজ্ঞানীদের ভাবনার জগতকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং তুষারযুগ— আপাতদৃষ্টিতে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয় মনে হলেও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এরা আসলে একটি নিবিড় চক্রে আবদ্ধ। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, উষ্ণায়ন যে হারে বাড়ছে, তা পরবর্তী তুষারযুগকে সময়ের আগেই টেনে আনতে পারে। প্রখ্যাত ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রচলিত ধারণাকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হলো শিলাক্ষয় বা পাথরের ক্ষয়। সাধারণত বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে বৃষ্টির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। এই অ্যাসিডিক জল যখন সিলিকেট পাথরের উপর পড়ে, তখন এক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং পাথর ক্ষয়ে যায়। এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের সঙ্গে কার্বন গিয়ে মেশে সমুদ্রে, যা পরে চুনাপাথর হিসেবে সমুদ্রগর্ভে জমা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারিত হয়, যা পৃথিবীকে শীতল করতে সহায়তা করে।
গবেষকদলের প্রধান অ্যান্ডি রিজওয়েল জানিয়েছেন, পৃথিবী যত উষ্ণ হবে, পাথরের ক্ষয় তত দ্রুত ঘটবে। এর ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারিত হয়ে সমুদ্রগর্ভে জমা হওয়ার গতি বেড়ে যাবে। এক পর্যায়ে এটি অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং কার্বন চক্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যে পৃথিবী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে যাবে। অর্থাৎ, যে উষ্ণায়নকে আমরা এখন বিপদ ভাবছি, সেটিই প্রকৃতিকে এমনভাবে উসকে দিতে পারে যে বিশ্ব আবার বরফে ঢাকা এক তুষারযুগের দিকে ধাবিত হবে।
এর আগেও পৃথিবীতে একাধিক তুষারযুগ এসেছে, যার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত তীব্র। সেই চরম শীতলতা কেন এসেছিল, তার উত্তর খুঁজতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা এই স্বয়ংক্রিয় শীতলকরণ প্রক্রিয়ার কথা জানতে পারেন। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই প্রাকৃতিক চক্রটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং মানবসভ্যতা এক নতুন মহাহিমযুগের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
মৃত্যুর পর মানবদেহে কী ঘটে, জানাচ্ছে বিজ্ঞান
পৃথিবীতে জন্ম যেমন অবধারিত, তেমনি মৃত্যুও অমোঘ সত্য। কিন্তু মৃত্যু ঘটার পর মানবদেহে ঠিক কী ধরনের শারীরিক ও জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানাশোনা খুবই সীমিত। আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের আলোকে জানা যায়, মৃত্যুর পরপরই মানবদেহে একের পর এক নাটকীয় ও জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত দেহকে কঙ্কালে রূপান্তরিত করে।
মৃত্যুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই শরীরে প্রথম দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় প্যালর মর্টিস। এ সময় দেহের ত্বক ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে। কারণ, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত চলাচল থেমে যায় এবং দেহের সূক্ষ্ম রক্তনালি বা ক্যাপিলারিগুলোতে আর রক্ত প্রবাহিত হয় না। এই প্রক্রিয়া সবার ক্ষেত্রেই একই হলেও গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক কম চোখে পড়ে।
মৃত্যুর পর শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (বা ১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হারে দেহ ঠান্ডা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলেও এর ভেতরে তখনও অসংখ্য অণুজীব সক্রিয় থাকে। বিজ্ঞানীরা মৃতদেহকে অনেক সময় একটি ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন।
মৃত্যুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় অটোলাইসিস নামের একটি প্রক্রিয়া, যার অর্থ নিজেকে নিজেই হজম করা। অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোষের ভেতরে থাকা এনজাইমগুলো কোষের ঝিল্লি ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ফলে কোষ ধ্বংস হয় এবং রক্তনালির ভেতর থেকে রক্তকণিকা বেরিয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রক্ত জমে যাওয়ার ফলে ত্বকের নিচে বেগুনি-নীলচে বা লালচে দাগ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় লিভর মর্টিস। যদিও এই প্রক্রিয়া মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়, সাধারণত কয়েক ঘণ্টা না পেরোলে তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় না।
মৃত্যুর দুই থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে দেহে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যাকে বলা হয় রিগর মর্টিস। জীবিত অবস্থায় পেশির ভেতরে থাকা অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামের প্রোটিন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পেশির সংকোচন-প্রসারণ ঘটায়। কিন্তু মৃত্যুর পর রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয়ে যায়, যা পেশিকে স্থায়ীভাবে সংকুচিত করে ফেলে।
এর ফলে শরীর শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও মরচুয়ারি কর্মীদের জন্য এই সময় মৃতদেহ নিয়ে কাজ করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে ওঠে।
মানবদেহে বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া বাস করে, যেগুলো জীবিত অবস্থায় মূলত অন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়াতে বাধা দেয়। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর সক্রিয় থাকে না।
ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো প্রথমে অন্ত্র ও আশপাশের টিস্যু হজম করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তারা রক্তনালির মাধ্যমে হৃদযন্ত্র, যকৃত এবং মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুর প্রায় ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পর্যায়কে বলা হয় পিউট্রিফ্যাকশন বা পচন। ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের লার্ভা শরীরের কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও অন্যান্য যৌগ ভেঙে গ্যাস তৈরি করে। এসব গ্যাস পেট ফাঁপিয়ে তোলে এবং একপর্যায়ে ত্বক ফেটে যেতে পারে। তখন আরও পোকামাকড় মৃতদেহে আকৃষ্ট হয়।
পচনের গতি নির্ভর করে মৃত্যুর কারণ, পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এমনকি মৃতের পোশাকের ধরনেও।
এই স্বাভাবিক পচন প্রক্রিয়া ধীর করার জন্য মানুষ যুগে যুগে নানা উপায় আবিষ্কার করেছে। অতীতে ভিনেগার, মধু, মদ বা ব্র্যান্ডির মতো উপাদান ব্যবহার করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হতো।
আধুনিক যুগে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো এম্বালমিং। এতে দেহের শিরা থেকে রক্ত বের করে ফরমালডিহাইডভিত্তিক সংরক্ষণকারী তরল ধমনীতে প্রবেশ করানো হয়। শরীরের গহ্বর থেকেও তরল অপসারণ করে সংরক্ষণকারী পদার্থ দেওয়া হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা
ফুরিয়ে আসছে ২৪ ঘণ্টার দিন, ঘড়ির কাঁটায় যোগ হচ্ছে নতুন সময়
ভূগোলের পাঠ্যবইয়ে আমরা পড়েছি পৃথিবী তার নিজের অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু বিজ্ঞানের আধুনিক ও সূক্ষ্ম গবেষণা বলছে, এই হিসাব চিরস্থায়ী নয়। মহাকাশে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের প্রভাবে পৃথিবীর আহ্নিক গতি ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই ঘূর্ণন গতি কমে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ঘড়ির কাঁটা আর ২৪ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একটি দিন হতে পারে ২৫ ঘণ্টার।
দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর আবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে মিউনিখের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (TUM) এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর এই গতি কমে যাওয়ার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে চাঁদ। চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তির টানে পৃথিবীতে যে জোয়ার-ভাটা হয়, তা কেবল সমুদ্রের জলরাশিকেই প্রভাবিত করে না বরং পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ওপর অনেকটা ‘ব্রেক’-এর মতো কাজ করে। চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি যখন ফুলে ওঠে, তখন সমুদ্রের তলদেশে এক ধরণের প্রচণ্ড ঘর্ষণ তৈরি হয়। এই ঘর্ষণই পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরার গতিকে প্রতি শতাব্দীতে প্রায় ১.৭ থেকে ২.৩ মিলি সেকেন্ড করে কমিয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে শক্তির এক ধরণের আদান-প্রদান চলে, যার ফলে চাঁদ নিজেও প্রতি বছর প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গবেষক স্টিফেন মায়ার্স এই প্রক্রিয়াকে একজন ‘ফিগার স্কেটার’-এর সাথে তুলনা করেছেন, যিনি হাত প্রসারিত করলে তাঁর ঘোরার গতি কমে যায়। ঠিক তেমনি চাঁদ দূরে সরে যাওয়ায় পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিও কমে আসছে। যদিও এই মন্থর হওয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ধরা পড়ে না, তবে কয়েক কোটি বছরের ব্যবধানে এটি বিশাল পরিবর্তন আনবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আজ থেকে প্রায় ১৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে একদিনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৮ ঘণ্টা। সেই সময় চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে ছিল। বর্তমান গতিতে যদি পৃথিবীর আবর্তন মন্থর হতে থাকে, তবে পূর্ণ ২৫ ঘণ্টার দিন পেতে মানবসভ্যতাকে আরও প্রায় ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) বছর অপেক্ষা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়াও পৃথিবীর এই গতির ওপর সামান্য প্রভাব ফেলছে বলে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। মহাকাশ গবেষকদের কাছে এই সামান্য চ্যুতি মেলাতে বর্তমানে মাঝেমধ্যেই ‘লিপ সেকেন্ড’ ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর এই মন্থর হয়ে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং মহাজাগতিক এক দীর্ঘস্থায়ী বিবর্তনের অংশ যা ভবিষ্যতের সময় গণনা পদ্ধতিকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
পৃথিবী থেকে সাহায্য ছাড়াই মঙ্গলে থাকা সম্ভব: বিজ্ঞানীদের অবিশ্বাস্য দাবি
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মঙ্গলের রুক্ষ ধূসর মাটির নিচে এবার বিশাল বরফের স্তরের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গলে বসবাসের স্বপ্নকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাস্তবে রূপান্তর করেছে। বিজ্ঞানীরা লাল গ্রহের ‘অ্যামাজোনিস প্লানিশিয়া’ নামক একটি অঞ্চলকে মানব অভিযানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অবতরণস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সায়েন্স ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই এলাকাটি গ্রহের মধ্য-অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং নিরাপদ সমতল ভূমি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই অঞ্চলের মাটির মাত্র এক মিটারেরও কম গভীরে জমাটবদ্ধ বরফের স্তরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষক এরিকা লুজ্জি এবং জিয়াকোমো নোদজুমির মতে, এই বরফই হবে মঙ্গলে মানুষের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। কারণ সেখান থেকে পানীয় জল পাওয়ার পাশাপাশি ‘ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন’ প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন এবং রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হবে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে জরুরি সাহায্য পৌঁছাতে যেখানে মাসের পর মাস সময় লাগে, সেখানে এই স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করেই মহাকাশচারীরা মাসের পর মাস টিকে থাকতে পারবেন।
বিজ্ঞানীরা আরও মনে করছেন, এই প্রাচীন বরফের স্তরের নিচে মঙ্গলের বিলুপ্ত প্রাণের রাসায়নিক চিহ্ন বা ‘বায়োমার্কার’ লুক্কায়িত থাকতে পারে। সমতল ভূমি হওয়ায় নভোযান অবতরণের জন্য এটি যেমন নিরাপদ, তেমনি পর্যাপ্ত সৌরশক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এই অঞ্চলটিকেই পৃথিবীর বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা ভাবছে ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সি ও মিসিসিপি মিনারেল রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট। এই আবিষ্কারের ফলে মঙ্গলে মানব কলোনি গড়ার লক্ষ্য এখন আর কেবল সায়েন্স ফিকশনের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের আদি নক্ষত্র এবং মহাবিশ্বের শৈশব দেখছে নাসা
মহাবিশ্বের সৃষ্টির সূচনাপর্ব কেমন ছিল তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহল নিরসনে এবার এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে তাঁরা মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকের বা প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্রগুলোর প্রমাণ পেয়েছেন যারা ‘পপুলেশন থ্রি’ বা ‘পপ থ্রি’ নামে পরিচিত। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘এলএপিওয়ান-বি’ নামক একটি গ্যালাক্সিতে এই আদি নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারসে এই সংক্রান্ত একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী এলি বিসবালের নেতৃত্বে একদল গবেষক জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের শক্তিশালী ইনফ্রারেড স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করে এই প্রাচীন নক্ষত্রগুলোর সন্ধান পেয়েছেন। এই নক্ষত্রগুলো অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং এগুলো থেকে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত হচ্ছে যা ভরের দিক থেকে আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বড় হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ‘এলএপিওয়ান-বি’ গ্যালাক্সিটি আদি নক্ষত্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক শর্তগুলো পূরণ করে। বিশেষ করে এই পরিবেশে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছাড়া অন্য কোনো ধাতব পদার্থের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে যা আদি মহাবিশ্বের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
এলি বিসবাল এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে মহাকর্ষীয় লেন্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত ১০০ গুণ বিবর্ধন এবং জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের অসামান্য সংবেদনশীলতা না থাকলে এই আদিম নক্ষত্রগুলোকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের শুরুতে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম যখন ডার্ক ম্যাটারের সাথে মিলিত হয়েছিল তখনই এই বিশালাকার নক্ষত্রগুলোর জন্ম হয়। ধারণা করা হয় যে এই নক্ষত্রগুলো আমাদের সূর্যের চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি ভারী এবং কয়েকশ কোটি গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে এই প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্রগুলোই সম্ভবত পরবর্তী বিশাল গ্যালাক্সিগুলোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে গবেষকরা পপুলেশন থ্রি থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নক্ষত্র বা পপুলেশন টু-তে পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই আবিষ্কার কেবল শুরু মাত্র এবং সামনের দিনগুলোতে মহাকর্ষীয় লেন্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করে মহাবিশ্বের প্রথম দিকের আরও অনেক রহস্যময় জগত ও নক্ষত্ররাজির সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের 'বাহুবলী' রকেটের কাঁধে চড়ে মহাকাশ জয়
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে তাদের সবচেয়ে ভারী এবং শক্তিশালী রকেট এলভিএম৩-এম৬ (LVM3-M6) ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ উপগ্রহ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। ৬ হাজার ১০০ কেজি ওজনের এই 'ব্লুবার্ড ব্লক-২' উপগ্রহটি ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপিত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী পেলোড। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে রকেটটি পাড়ি দেয় এবং উৎক্ষেপণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করে। ভারতের এই সাফল্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহাকাশ খাতে একটি "গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি" এবং "গর্বের মাইলফলক" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন সংস্থা এএসটি স্পেস মোবাইলের তৈরি এই উপগ্রহটি সরাসরি স্মার্টফোনে ৪জি এবং ৫জি ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো, কোনো মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই এটি সরাসরি ফোনে নেটওয়ার্ক প্রদান করবে। ইসরোর এই মিশনটি বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে আবারও বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করল। প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, এই সাফল্য গগনযানের মতো ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের ভিতকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ইসরো তার পূর্ববর্তী ৪ হাজার ৪১০ কেজির উপগ্রহ উৎক্ষেপণের রেকর্ডটিও ভেঙে ফেলেছে।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এলভিএম৩ রকেটের এই নির্ভরযোগ্যতা ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ বাজারে বড় অংশীদার হতে সাহায্য করবে। যেখানে মার্কিন এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর উৎক্ষেপণ খরচ অনেক বেশি, সেখানে ইসরো অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ভারী উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে। এটি ছিল এলভিএম৩ রকেটের ষষ্ঠ সফল অপারেশনাল ফ্লাইট। এই রকেটটি এর আগে চন্দ্রযান-৩ এবং ওয়ানওয়েবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতেও সফলতার পরিচয় দিয়েছিল। ভারতের এই ক্রমবর্ধমান মহাকাশ শক্তি ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যকেও আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
হীরার বৃষ্টি এবং হিলিয়ামের মেঘে ঢাকা রহস্যময় এক নতুন গ্রহ
সৌরজগতের বাইরে অসীম মহাকাশে বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার পিএসআর জে২৩২২-২৬৫০বি নামক একটি গ্রহ যা সাধারণ গ্রহের চিরাচরিত গোল আকৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে এই গ্রহটি মূলত লেবু বা আমেরিকান ফুটবলের মতো লম্বাটে ও ডিম্বাকার। মহাকাশ গবেষকদের মতে এটি এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে অস্বাভাবিক বহিঃগ্রহগুলোর মধ্যে একটি। গ্রহটি একটি মৃত নক্ষত্র বা পালসারকে কেন্দ্র করে ঘুরছে যা ক্রমাগত শক্তিশালী বিকিরণ ছুড়ে দিয়ে তার চারপাশের পরিবেশকে চরম প্রতিকূল করে তোলে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরণের ব্যবস্থাকে 'ব্ল্যাক উইডো পালসার সিস্টেম' বলা হয়।
এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল আরও বড় বিস্ময় হয়ে ধরা দিয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। এখানে পানি বা মিথেনের মতো পরিচিত উপাদানের কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিবর্তে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল গঠিত হয়েছে হিলিয়াম এবং বিশুদ্ধ কার্বন দিয়ে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এই ঘনীভূত কার্বন কণা জমে সেখানে কালচে মেঘের সৃষ্টি হয় যেখান থেকে গ্রহের বুকে হীরার মতো ক্ষুদ্র কণা ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন বিশুদ্ধ কার্বনভিত্তিক বায়ুমণ্ডল এর আগে মহাবিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি যা এই আবিষ্কারকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।
গ্রহটি তার কেন্দ্রীয় পালসার নক্ষত্র থেকে মাত্র ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে যা মহাজাগতিক হিসেবে অত্যন্ত কাছাকাছি। এই তীব্র সান্নিধ্যের কারণেই গ্রহটি মাত্র ৮ ঘণ্টায় একবার তার কক্ষপথ ঘুরে আসে অর্থাৎ সেখানে একদিনের চেয়েও কম সময়ে এক বছর পূর্ণ হয়। পালসারের প্রচণ্ড মাধ্যাকর্ষণ শক্তির চাপে গ্রহটির আকৃতি চ্যাপ্টা এবং লম্বাটে হয়ে গেছে। গ্রহটি 'টাইডালি লকড' অবস্থায় থাকায় এর একটি পাশ সবসময় নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্য পাশটি তুলনামূলক শীতল হলেও সেখানে তাপমাত্রা ১ হাজার ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নামে না।
গবেষকরা বলছেন যে কীভাবে একটি গ্রহ এমন চরম পরিবেশে টিকে আছে এবং এর বিশুদ্ধ কার্বনভিত্তিক বায়ুমণ্ডল কীভাবে তৈরি হলো তা এখনো বড় রহস্য। এই আবিষ্কার মহাজাগতিক রসায়ন এবং গ্রহের গঠন সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ধারণাকে বদলে দিতে পারে। নক্ষত্রের চরম বিকিরণ সত্ত্বেও কীভাবে একটি গ্রহ হীরা ঝরা বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ধরণের রহস্যময় গ্রহের সন্ধান ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের আরও অনেক অজানা দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ: যে নম্বর থেকে কল এলেই আপনি বিপদে পড়বেন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘২৫০ কোটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে’ সংক্রান্ত খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গুজব বলে নিশ্চিত করেছে গুগল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তি জায়ান্টটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে জিমেইল বা গুগল ক্লাউডের কোনো সার্ভার হ্যাক হয়নি এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। তবে তারা একটি গুরুতর বিষয়ে সতর্ক করেছে যে যদিও বড় কোনো ডেটা ব্রিচ ঘটেনি কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে হ্যাকাররা জিমেইল ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অননুমোদিত লগইন প্রচেষ্টা এবং ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণার হার সবচেয়ে বেশি।
হ্যাকাররা এখন অত্যন্ত আধুনিক ও সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে জিমেইল ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গুগলের অফিশিয়াল সাপোর্ট নম্বর ‘+১ ৬৫০-২৫৩-০০০০’ স্পুফিং বা নকল করে ফোন কল আসার ঘটনা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়ায় কলদাতার ক্যালিফোর্নিয়ান উচ্চারণে সাবলীল ইংরেজিতে নিজেকে গুগলের কর্মী পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরা পড়েছে। এরপর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ধাপে ধাপে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা বিশেষ লিঙ্কে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা হয়। গুগল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা কখনোই কোনো ব্যবহারকারীকে ফোন করে পাসওয়ার্ড রিসেট করতে বা অ্যাকাউন্টের সমস্যা সমাধান করতে বলে না।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা প্রোটনের দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে এই ধরণের ফোন কল মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ আক্রমণের একটি অংশ। হ্যাকাররা এমনভাবে কথা বলে যেন ব্যবহারকারী আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং অজান্তেই নিজের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন। রেডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন যে প্রতারকদের কথার ধরন এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে অনেক কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে যারা সরাসরি গুগল অ্যাপের নোটিফিকেশন বা সিকিউরিটি অ্যালার্টে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই ধরণের ফোন কল একটি নতুন ধরণের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাইবার বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত কোনো অপরিচিত কল বা বার্তার অনুরোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা যাবে না। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই করতে সরাসরি ‘সিকিউরিটি’ সেকশনে গিয়ে ‘রিভিউ সিকিউরিটি অ্যাক্টিভিটি’ চেক করতে হবে। দ্বিতীয়ত সাধারণ এসএমএস-ভিত্তিক টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) এখন আর যথেষ্ট নিরাপদ নয়। এর পরিবর্তে গুগল অথেন্টিকেটর অ্যাপ বা হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি কি ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। সম্ভব হলে ‘পাসকি’ (Passkey) সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা যা হ্যাকারদের পক্ষে অ্যাকাউন্ট দখল করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। শক্তিশালী ও অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত সিকিউরিটি চেকআপ জিমেইল অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
সূত্র : ফোর্বস ও সংবাদ প্রতিদিন
পাঠকের মতামত:
- এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
- ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন
- শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
- ভাঙনের পথে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক
- মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
- মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
- চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ, আসছে এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তি
- ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপ দলগুলোকে কীভাবে দেবে
- ঈদ ও রমজান মিলিয়ে টানা লম্বা ছুটি
- মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
- ৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
- মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
- মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
- মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় শিক্ষক নিয়োগ
- ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
- ২ লাখ ১২ হাজার টাকায় কেনা যাবে এক ভরি সোনা
- জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
- হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ
- আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ আউট, রেকর্ড দামে দল পেয়েও কেন বাদ মোস্তাফিজ?
- খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
- কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
- হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
- ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
- কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
- শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
- শুরু হচ্ছে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি যুদ্ধ: শেষ সময়ের প্রস্তুতি জানুন
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
- অবহেলার জবাব মাঠেই দিলেন মাহমুদউল্লাহ
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আমরা থানা পুড়িয়েছি ও এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী নেতা
- শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- আজ শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








