শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য
কিশোর-কিশোরীদের যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা জরুরি? বাস্তবতা, সামাজিক সংকট ও করণীয়

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সংস্কারপ্রবণ সমাজে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা এখনো ট্যাবু বা নিষিদ্ধ আলোচনার বিষয়। অথচ আজকের কিশোর-কিশোরীরা আগামী প্রজন্মের চালিকা শক্তি—তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে যৌনতা বিষয়ক বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান অনিবার্য। কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা যৌনরোগ প্রতিরোধ নয়, যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা মানে একটি প্রজন্মকে আত্মসচেতন, দায়িত্বশীল এবং সম্মাননির্ভর জীবনদর্শনের ভিত গড়ে দেওয়া।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও UNESCO বারবার বলেছে—Comprehensive Sexuality Education (CSE) যদি বয়সভিত্তিক, সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী ও বিজ্ঞানভিত্তিক হয়, তাহলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সুরক্ষিত যৌন আচরণ, আত্মবিশ্বাস, সম্মতির ধারণা এবং সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষমতা বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে:
- যৌন শিক্ষা কিশোর-কিশোরীদের যৌন কর্মকাণ্ডে রক্ষনশীল মনভাব সৃষ্টি করে এবং সুচিন্তিত ও সুরক্ষিত আচরণ বাড়ায়।
- HIV/STD সংক্রমণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
- সম্পর্ক, লিঙ্গসমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ে।
- যৌনতা ও প্রজনন নিয়ে ভুল তথ্য, ভয় এবং কুসংস্কার দূর হয়।
- মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাস উন্নত হয়, সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হয়।
মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক পরিবর্তন, ঋতুচক্র, স্বপ্নদোষ, যৌন উত্তেজনা ইত্যাদি নিয়ে অজ্ঞতা মানসিক উদ্বেগ, লজ্জা ও আত্মগ্লানি তৈরি করে। তথ্যের অভাবে ভুল ধারণা, পর্নোগ্রাফি নির্ভরতা ও বিকৃত আচরণ জন্ম নিতে পারে। যৌন শিক্ষা এসব ঝুঁকি প্রতিরোধে অব্যর্থ হাতিয়ার।
বাংলাদেশে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশে যৌনতা শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দ্বিধা-সংকোচ কাজ করছে। ফলে জাতীয় পাঠ্যক্রমে এখনও "যৌনতা শিক্ষা" নামে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় নেই। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শারীরিক শিক্ষা, কল্যাণ বা বিজ্ঞান বইয়ে আংশিকভাবে প্রজনন স্বাস্থ্য, ঋতুস্রাব বা বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে আলোচনা আছে। তবে এই পাঠ্যবিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অনিচ্ছা বা সমাজের চাপের কারণে এড়িয়ে যাওয়া হয় বা তাড়াহুড়ো করে পড়ানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০১৭-২০৩০কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য কৌশলে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিলেও বিদ্যালয়ে CSE বাস্তবায়নে কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। কিছু এনজিও যেমন ব্র্যাক, মেরী স্টোপস এবং উন্নয়ন সংস্থা যেমন UNFPA যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে কিছু প্রকল্প চালালেও তা শহর-কেন্দ্রিক এবং সীমিত পরিসরের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, "যৌনতা শিক্ষা মানে অনৈতিকতা শেখানো নয়, বরং এটি সন্তানদের আত্মরক্ষার পথ শেখায়। যদি তারা না জানে কীভাবে নিজের শরীর ও অধিকার রক্ষা করতে হয়, তাহলে তারা বিপদের মুখোমুখি হবে।"
যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা না থাকলে সম্ভাব্য বিপদ
১. অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণ: বাংলাদেশে প্রতি চার জন নারীর একজন ১৮ বছরের আগেই মা হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের জরিপে দেখা গেছে, ১৫-১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে গর্ভধারণের হার বেড়েই চলেছে। এই বয়সে গর্ভধারণ মানেই উচ্চ মাতৃমৃত্যু, অপুষ্টি এবং নবজাতকের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন।
২. শিশুবিবাহ: জাতিসংঘের মতে, বাংলাদেশে এখনও ৫১% মেয়ের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। যৌন শিক্ষা না থাকলে এই প্রবণতা কমানো অসম্ভব। কারণ মেয়েরা জানেই না তাদের অধিকার কী, এবং কীভাবে তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে।
৩. যৌন সহিংসতা ও হয়রানি: যৌন শিক্ষা থাকলে কিশোর-কিশোরীরা শিখতে পারে কীভাবে সম্মতির গুরুত্ব বোঝাতে হয়, নিজের সীমানা নির্ধারণ করতে হয় এবং হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির অন্যতম উপায় CSE।
৪. STD ও HIV সংক্রমণ: তরুণদের মধ্যে যৌনরোগ সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা। কিশোর-কিশোরীরা যদি না জানে কীভাবে রোগ ছড়ায় বা কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে তাদের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
৫. মানসিক চাপ, লজ্জা ও ভ্রান্ত ধারণা:অনেক কিশোর-কিশোরী শারীরিক পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক মনে করে আতঙ্কিত হয়। অনেকেই মাসিক, স্বপ্নদোষ বা আকর্ষণজনিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করে, যা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে।
কী করা দরকার?
১. পাঠ্যক্রমে যৌনতা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ধাপে ধাপে যৌনতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে বিষয়টি স্বাভাবিক হয় এবং শিক্ষার্থীরা গ্রহণযোগ্য মানসিকতা নিয়ে বড় হয়।
২. শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ চালু করা যৌনতা বিষয়ে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের আলাদা প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। এটি যেন লজ্জার বিষয় না হয়ে যায়, বরং মানবিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে পরিণত হয়।
৩. পিতামাতা ও অভিভাবকদের জড়িত করা শিশুরা স্কুলে যা শিখবে, তা যদি পরিবারে মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। তাই অভিভাবকদেরও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সংবেদনশীল ও সচেতন করতে হবে।
৪. কমিউনিটি লিডার ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যৌনতা বিষয়ে সমাজে যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, তা দূর করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা চাইলে সমাজে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।
৫. বিদ্যালয়েকিশোর-কিশোরী বান্ধব কাউন্সেলিং ও স্বাস্থ্য সেবা চালু করা প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ কাউন্সেলর থাকতে হবে, যিনি কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিষয়ে সাহায্য করতে পারবেন।
বাংলাদেশে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা জরুরি বাস্তবতা। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি কিশোর-কিশোরীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার হাতিয়ার। তথ্য না থাকলে ভুল সিদ্ধান্ত, অকাল মাতৃত্ব, যৌন সহিংসতা ও রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। সমাজ যদি সত্যিকার অর্থে কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চায়, তাহলে এখনই যৌনতা শিক্ষাকে স্বাভাবিক ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে হবে। সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি সচেতন, স্বাস্থ্যবান এবং মর্যাদাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
সচেতনতা ও জ্ঞানের আলোই পারে অন্ধকার দূর করতে – যৌন শিক্ষা সেই আলোর নাম।
চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
নিয়মিত টমেটো খাওয়া লিভার সুস্থ রাখতে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণায় মানবদেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং বিশেষভাবে লিভারের ওপর টমেটোর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।
গবেষকদের মতে, টমেটোতে বিপুল পরিমাণে লাইকোপিন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের সুরক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমার পরিমাণ কম থাকে। লাইকোপিন মূলত লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া টমেটোতে থাকা প্রাকৃতিক যৌগগুলো প্রদাহবিরোধী প্রভাব ফেলতে সক্ষম, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।
রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় সালাদ হিসেবে টমেটো সহজে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র টমেটো খাওয়াকে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র বা নিশ্চিত উপায় ভাবা উচিত নয়। লিভারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত ওজন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে, তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুষম জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
সূত্র: সামা টিভি
শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের মেজাজ বদলের কারণে গলা খুসখুস, ঢোক গিলতে ব্যথা বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ ও মিউকাসের অস্বস্তি ঘরে ঘরে বেড়ে যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে গলার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মিউকাস পাতলা করে দ্রুত স্বস্তি পেতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে পেঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েলের সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক পানীয়।
ঘরোয়া মিশ্রণটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পেঁয়াজ, এক টেবিল চামচ ভালো মানের অলিভ অয়েল এবং দুই টেবিল চামচ খাঁটি মধু। প্রস্তুতপ্রণালী অনুযায়ী, প্রথমে পেঁয়াজটি মোটা ও গোল চাকতির মতো কেটে কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ফোটাতে হবে। পেঁয়াজ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে অলিভ অয়েল ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় অল্প অল্প করে পান করতে হবে।
পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট 'কুয়েরসেটিন' শ্বাসনালির প্রদাহ কমায় এবং জমে থাকা ঘন কফ পাতলা করে স্বাভাবিক উপায়ে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অলিভ অয়েলে বিদ্যমান 'ওলিওক্যানথাল' গলার টিস্যুর ওপর একটি মসৃণ ও স্বস্তিদায়ক প্রলেপ সৃষ্টি করে কাসির ফলে তৈরি হওয়া জ্বালাভাব প্রশমিত করে। আর মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও মিউকাস উপশমকারী গুণাগুণ গলার খাঁজ কেটে দ্রুত আরাম পৌঁছে দেয়। তবে এই প্রাকৃতিক পানীয়টি কেবল সাময়িক লক্ষণীয় উপশমের জন্য কার্যকারী; যদি কফ বা গলার ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় কিংবা সঙ্গে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হরমোনের এই ঘাটতিকে ‘লো টেস্টোস্টেরন’ বা সংক্ষেপে ‘লো টি’ বলা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তদুর্ধ বয়সসীমার প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে অন্তত ২ জন এই হরমোনজনিত জটিলতায় ভুগে থাকেন।
অণ্ডকোষে উৎপাদিত এই অতি প্রয়োজনীয় হরমোনটি পুরুষাল যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির সুদৃঢ় গঠন, হাড়ের সঠিক ঘনত্ব, শক্তি বৃদ্ধি ও শুক্রাণু উৎপাদনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে হরমোন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় অসচেতনতার কারণে সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যৌন উদ্দীপনা বা লিবিডো অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়া এবং যৌন মিলনকালে উত্থানজনিত জটিলতা সৃষ্টি হওয়া। এ ছাড়া মাথার চুলের পাশাপাশি হাত, পা ও মুখের লোম কমে যাওয়া, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পেয়ে তা ভঙ্গুর হয়ে পড়া এবং দ্রুত শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া এর প্রধান উপসর্গ। চিকিৎসকরা আরও জানান, এই হরমোনের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, নিদ্রাহীনতা এবং সারাক্ষণ শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চরম ঘাটতির ক্ষেত্রে নিছক জীবনযাত্রার পরিবর্তন পর্যাপ্ত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টরা ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন, ট্রান্সডার্মাল জেল বা প্যাচ, সাবকিউটেনিয়াস ইমপ্ল্যান্ট কিংবা সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক পুরুষদের ক্ষেত্রে 'ক্লোমিফিন সাইট্রেট'-এর মতো সুনির্দিষ্ট থেরাপি প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো হরমোন থেরাপি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: ইউরোলজি স্পেশালিস্টস এনসি
বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স' নামে পরিচিত। যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারলেও সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রাত্যহিক ঘুম, সামাজিক আত্মবিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর সিংহভাগ কারণই নিরাময় সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী জিনিস তোলার সময় প্রস্রাব হওয়াকে বলা হয় ‘স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’, যা সাধারণত নারীদের প্রসবপরবর্তী সময়ে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট অস্ত্রোপচারের পর বেশি দেখা যায়। আবার হঠাৎ তীব্র বেগ সামলাতে না পারার ঘটনাকে ‘আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স’ এবং উভয় লক্ষণের উপস্থিতি থাকলে তাকে ‘মিক্সড ইনকন্টিনেন্স’ বলা হয়। এ ছাড়া মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হয়ে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ঝরাকে ‘ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, একাধিকবার স্বাভাবিক প্রসব, বয়সের ভারে পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হওয়া কিংবা মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। অপরদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার কিংবা বয়সজনিত কারণে মূত্রনালিতে বাধা তৈরি হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে গণ্য করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুরোগ এবং অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও উভয় লিঙ্গের মানুষের এই রোগ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর পেশির ব্যায়াম (কিগেল এক্সারসাইজ), অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার এবং সঠিক সময়ে প্রস্বাবের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্যাটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া, তলপেটে তীব্র ব্যথা বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটলে এটিকে কেবল বয়সকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন না ভেবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য শারীরিক ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতামত এবং আপনার প্রদান করা খবরের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং আন্তর্জাতিক অ-আয়নাইজিং রেডিয়েশন সুরক্ষা কমিশন (ICNIRP)-এর মতে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) হলো অ-আয়নাইজিং বিকিরণ (Non-ionizing radiation)। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু মোবাইল ফোনের অ-আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ অণুর বন্ধন ভাঙতে পারে না বা শরীরের কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে না। বহু বছরের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমানোর সাথে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পকেটে ফোন রাখা বা প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নিঃসৃত তাপ (Heat) ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োগে শুক্রাণুর গুণগত মানে আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সাথে সরাসরি রেডিয়েশনের সংযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ নেই।
তবে মাথার কাছে মোবাইল রাখার অন্যান্য বাস্তবসম্মত শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে
১. ঘুমের ব্যাঘাত
নোটিফিকেশনের শব্দ, ভাইব্রেশন এবং ডিসপ্লের 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার লক্ষণ তীব্র হতে পারে।
২. অগ্নিঝুঁকি ও বিস্ফোরণ
বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রাখলে বাতাসের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিরাপদ অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঘুমানোর সময় ফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা এবং রাত জেগে ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
/আশিক
গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ লুটিয়ে পড়াকে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত উপসর্গ এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই নীরব ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়ার মতো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে এসব সাধারণ শারীরিক উপসর্গও ক্ষেত্রবিশেষে হৃদরোগের মারাত্মক পূর্বসংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত ও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রথমত, বুকের মাঝখানে অসচ্ছলতা বা অস্বস্তি হওয়া, যা সব সময় খুব তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে; বরং বুক চেপে থাকা, ভারী লাগা বা চাপ বোধ হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কেবল বুকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, এক বা দুই হাত এবং পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির টান বা হজমের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।
তৃতীয় প্রধান সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। ভারী কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস লাগা হৃদযন্ত্রের জটিলতার অন্যতম লক্ষণ। চতুর্থত, হঠাৎ করেই শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার অনুভূতি হওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ফ্লু, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।
ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কারণ অন্য অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই ধরনের একাধিক উপসর্গ হঠাৎ করে শরীরে দেখা দেয় এবং তীব্র হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
/আশিক
হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা
দেশে বিগত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন রোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনায় চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ছয়জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া এক হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৯০ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।
এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জনে।
/আশিক
অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
কম বয়সেও অনেকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘদিনের কাশি কিংবা সামান্য কায়িক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা যায়। এসব সমস্যার পেছনে কেবল কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণই একমাত্র কারণ নয়, বরং প্রতিদিনের কিছু অসচেতন জীবনযাপনও দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান, পরিবেশের দূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া এবং বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।
ফুসফুস তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করলে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময়ে সাঁই-সাঁই শব্দ হওয়া কিংবা অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পায়। শ্বাসযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে চিকিৎসকেরা স্পাইরোমেট্রি নামক একটি বিশেষ পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ঠিক কতটা বাতাস ধারণ করতে সক্ষম এবং কত দ্রুত তা নির্গমন করতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা হয়। মূলত দৈনন্দিন জীবনের সাতটি বিশেষ অভ্যাসের কারণেই ফুসফুসের এই ক্ষতি তরান্বিত হয়।
শ্বাসনালির জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে তামাক সেবনের অভ্যাস। সিগারেট ও তামাকজাত বিভিন্ন পণ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসের ভেতরে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করে। তাই শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত রাখার মৌলিক শর্তই হলো ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা বা এটি থেকে দূরে থাকা।
একইভাবে অন্যের ছেড়ে দেওয়া সিগারেটের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলেও প্রায় সমপরিমাণ ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শ্বাসনালির জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। ফলে পরিবার, কর্মস্থল কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ধূমপায়ীদের আশপাশ থেকে সতর্কতার সাথে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।
সড়কে বা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ছাড়া চলাচল করাও ফুসফুসের সুরক্ষায় বড় অন্তরায়। যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর ভাসমান ধূলিকণা এবং কলকারখানার রাসায়নিক উপাদান শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত আবহে সুরক্ষা ছাড়া থাকলে বিদ্যমান শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয় এবং নতুন রোগের পথ তৈরি হয়। তাই অপ্রয়োজনে দূষিত স্থানে না থাকা এবং ধোঁয়া ও রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সঠিক সুরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা আবশ্যক।
বাইরের দূষণের পাশাপাশি আবদ্ধ পরিবেশের অপরিচ্ছন্ন বাতাসও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ না করা ঘরে রান্নার ধোঁয়া, মশার কয়েল কিংবা জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাস আটকে থাকলে ফুসফুস ক্রমাগত বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসে। তাই ঘরের ভেতরে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং রান্নার ক্ষতিকর ধোঁয়া সহজেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত দরকারি।
দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং কায়িক শ্রম থেকে দূরে থাকাও ফুসফুসের সহনশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। শারীরিক সক্রিয়তা মানুষের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা ও কার্যকারিতা অটুট রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস পরিহার করে কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুসারে নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সাধারণ সর্দি-কাশি দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা শরীরে নতুন বিপদের জন্ম দেয়। সাধারণ ফ্লু বা সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজেই আসে না। বরং অপ্রয়োজনীয় ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শরীরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যার ফলে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের সময় কোনো ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে।
অন্যদিকে শরীরে পানির ঘাটতি হলে শ্বাসনালির স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ফুসফুসের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে কেবল পর্যাপ্ত পানি পান করলেই ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ঠেকানো সম্ভব—এমন ধারণা অবৈজ্ঞানিক। ফুসফুস সুস্থ রাখতে পানি পানের পাশাপাশি ধূমপান এড়ানো, দূষণমুক্ত থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম অব্যাহত রাখাই হলো কার্যকর সমাধান।
স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির কারণে ফুসফুসের ক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দূষিত বায়ু, পরোক্ষ ধূমপান পরিহার, উন্মুক্ত বাতাসের নিশ্চয়তা এবং নিয়মিত চলাফেরার মাধ্যমেই ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘদিনের কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা ভাব কিংবা সামান্য নড়াচড়াতেও বুক ধড়ফড় করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
/আশিক
কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
মানবদেহে কোনো রোগ সাধারণত হঠাৎ করে বাসা বাঁধে না; বড় ধরনের অসুস্থতার আগে শরীর প্রায়ই বিভিন্ন নীরব সংকেত দিতে থাকে, যা অনেক সময় অবহেলার কারণে নজর এড়িয়ে যায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, মারণব্যাধি ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শরীর এমন কিছু মৃদু লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে, যা সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই ক্যানসার নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার সংকেতও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা প্রধান যে পাঁচটি লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো ধরনের ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া; বিশেষ করে কয়েক মাসে সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন হ্রাস পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ক্লান্তি ভাব থাকা, কোনো সংক্রমণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা (বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত ঘামসহ জ্বর), এবং কারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরের কোনো অংশে ক্রমাগত ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। টিউমারের চাপ বা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তৈরি হতে পারে।
পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণটি হলো ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বক বা চোখ হঠাৎ হলুদ হয়ে যাওয়া ছাড়াও শরীরের কোনো তিলের আকার, রঙ ও কিনারায় পরিবর্তন এলে, কিংবা তিলটি দ্রুত বড় ও অসমান হতে থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের পেছনে রক্তস্বল্পতা, মানসিক চাপ বা সাধারণ সংক্রমণের মতো অন্যান্য কারণও থাকতে পারে; তবে লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক পরীক্ষা করানোই সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী
- আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক যুগের অবসান ঘিরে দেশে দেশে আবেগের ঢল
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
- রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের নতুন খবর
- গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
- জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা
- জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
- তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
- ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
- দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হারের নতুন তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস
- নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম
- শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
- হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
- সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত: নাহিদ ইসলাম
- ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো নিয়ে সরকারের নয়া ঘোষণা
- পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন
- গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা
- বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম ঢাকার অভিযোগ, তোপের মুখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি
- অনুশোচনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে মীমাংসা অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
- সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
- ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির
- ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব
- পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
- সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি
- আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
- আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
- প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- 'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
- বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
- ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
- ৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
- মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
- মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
- কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
- বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
- প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরে এমপি মিষ্টির নাম, তদন্তে অপরাধী মিললে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রণোদনা: কৃষি মন্ত্রী
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- দেশে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ








