ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়

ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যাধুনিক চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) বহরে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটেছে। পেন্টাগনের যুদ্ধপূর্ববর্তী মোট রিপার ড্রোন মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশই ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে তেহরান। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ (Bloomberg)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) এই মেগা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ইরান এ পর্যন্ত আকাশ ও মাটিতে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মোট ৩০টি সংবেদনশীল এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে উড্ডয়নরত অবস্থায় ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে, আর বাকিগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর চলতি মাসের শুরুর দিকের ডেটার (২৪টি ড্রোন) চেয়েও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মোট মার্কিন সামরিক ব্যয় ইতিমধ্যেই রেকর্ড ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
হোয়াইট হাউসে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘বিধ্বস্ত’ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও, একের পর এক রিপার ড্রোন এবং গত এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle) ফাইটার জেট ভূপাতিত করে তেহরান প্রমাণ করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কতটা শক্তিশালী।
নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা সম্ভবত ওই অঞ্চলে মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানগুলোর নিয়মিত ওড়ার পথ বা ‘ফ্লাইট প্যাটার্ন’ (Flight Pattern) নিখুঁতভাবে ম্যাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জটিল প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে ক্রেমলিনের প্রত্যক্ষ ভূ-রাজনৈতিক হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কারণ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে ব্যাকআপ দিচ্ছে।
মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মারাত্মক মিশ্রণ (Hybrid Air Defense) ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে এই পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই মেগা হামলার পরেই চীন ইরানকে তাদের অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করে, যা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য পারস্য উপসাগরে এক বড় কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়া আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক অবিবাহিত নারী ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে একটি মঞ্চে প্রকাশ্যে ১০০ বার করে বেত্রাঘাত করার মধ্যযুগীয় বর্বর শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
শাস্তি কার্যকরের একপর্যায়ে তীব্র যন্ত্রণায় ওই নারী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহের একটি মসজিদের সামনে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই মেগা শাস্তি কার্যকর করে স্থানীয় ইসলামিক ধর্মীয় পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ অবিবাহিত অবস্থায় একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বসবাস ও রাত কাটানোর (লিভ-ইন টুগেদার) অপরাধে এই যুগলকে শরিয়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শাস্তি কার্যকরের সময় ওই যুগলের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পুরো শরীর ঢাকা বাদামি ওভ্যারল পোশাক ও সাদা মুখোশ পরা একজন পেশাদার জল্লাদ (শরিয়া এনফোর্সার) বেতের লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকলে পুরুষটিকেও তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হতে দেখা যায়। একই দিনে আচেহ প্রদেশে অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানো এবং জুয়া খেলার অপরাধে আরও বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে ২৫ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত বেত্রাঘাতের পৃথক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র আচেহ প্রদেশেই সরকারি ও আইনি পর্যায়ে স্বাধীনভাবে নিজস্ব শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে; যেখানে সমকামিতা, মদ্যপান ও অবিবাহিত নারী-পুরুষের ডেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা, নীতিহীন পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান দ্বিপাক্ষিক শান্তিসংলাপে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুধু তা-ই নয়, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার টেবিলে কূটনীতির ভণ্ডামি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক তেহরানের এই কড়া ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
টেলিফোনে আলাপকালে আব্বাস আরাগচি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার লিখিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা এবং আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধের মতো অবাস্তব শর্ত তোলাই বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মূল কারণ।
ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের গভীর ও ঐতিহাসিক অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ইরান একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত সমাধানে পৌঁছাতে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে বলে তিনি জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেন। এর জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যেকোনো স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে কূটনৈতিক উপায়ে এই আঞ্চলিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে একই দিন শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি টেলিভিশনে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংলাপে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। তবে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তেহরান সফরের পর আলোচনাটি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : প্রেস টিভি
যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
ভোটাভুটিতে নিশ্চিত হারের আশঙ্কা এবং নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের বড় ধরণের অনুপস্থিতির মুখে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে (House of Representatives) ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি অতি সংবেদনশীল ভোট মাঝপথেই আকস্মিক বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান সংঘাত বন্ধে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস মেম্বাররা। একই সাথে এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাসূচক মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত পরশু বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মেমোরিয়াল ডে-র ছুটির ঠিক আগে মার্কিন হাউসে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।
হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে এই বিশেষ ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির শীর্ষ সদস্য গ্রেগরি মিকস। ভোট চলাকালীন রিপাবলিকান পার্টির অন্তত ১০ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় এবং ডেমোক্র্যাটদের সাথে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য যোগ দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এই ভরাডুবি এড়াতে ট্রাম্প অনুগামী ও হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারা তড়িঘড়ি করে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা—সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার একটি কড়া যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা রিপাবলিকান নেতৃত্বকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (Wholly-owned subsidiary) মতো আচরণ করে চলেছে।” তবে হাউস মেজরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস দাবি করেছেন, অনুপস্থিত সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিলম্ব। অন্যদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেও আগামী জুন মাসের শুরুতে ছুটির পর হাউস পুনরায় বসলে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের পরমাণু ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পেন্টাগন (Pentagon) ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু করেছিল। ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Act) অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন (এবং সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন) তা চালিয়ে যেতে পারেন; যার সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে।
গত ৫ মে সামরিক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ইরানে বড় ধরণের হামলার গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পেন্টাগন সূত্রে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানেরBrian Fitzpatrick এবং Thomas Massie-র মতো শীর্ষ আইনপ্রণেতারাও এখন এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে ভোট দেওয়ায় হোয়াইট হাউস এখন বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাটে শত শত মেগা গরুর চিরাচরিত আকর্ষণকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়ে দেশজুড়ে এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এক অবিশ্বাস্য ও ব্যতিক্রমী গোলাপি মহিষ। রেকর্ড ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির অদ্ভুত রাজকীয় চেহারা এবং কপালে ঝুলে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো সোনালি-লালচে চুলের কারণে শখ করে তার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
শুধু দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, নিজের বিচিত্র নামকরণের জোরে এই মহিষটি এখন বিশ্বের বাঘা বাঘা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মূল পাতায়ও জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই মহিষটিকে নিয়ে একটি বিশেষ এক্সক্লুসিভ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ছিল— “বাংলাদেশের বিরল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঈদের সেনসেশন।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কুচকুচে কালো রঙের মহিষ দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এই বিশেষ ‘অ্যালবিনো’ (Albino) জাতের মহিষটির গায়ের রং সম্পূর্ণ আলাদা—হালকা গোলাপি বা ক্রিমের মতো। মহিষটির সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো আকর্ষণ হলো তার কপালে থাকা একগুচ্ছ সোনালি চুলের স্টাইল, যা দেখতে হুবহু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার হেয়ারস্টাইলের অবিকল নকল। এই অদ্ভুত ও নিখুঁত মিল দেখেই খামারিরা মজার ছলে মহিষটির নাম ট্রাম্পের নামে নামকরণ করেন। মহিষটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’।
খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছোট ভাই প্রথমে শখের বশে মহিষটির চুলের কাটিং দেখে ট্রাম্পের নাম দেন; কিন্তু পরবর্তীতে এটি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হবে তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি। বর্তমানে রয়টার্স ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ এইট্টিনসহ বিশ্বের অন্তত ডজনখানেক মেগা মিডিয়া এই ‘গোলাপি ট্রাম্প’কে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করেছে, যার ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ খামারে ভিড় করছেন স্রেফ একটি সেলফি তোলার জন্য।
/আশিক
আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা বিজনেসসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বা সাময়িক ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বর্তমান বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। গত পরশু শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (USCIS) এই সংক্রান্ত একটি কড়া নতুন নির্দেশনা বা পলিসি গাইডলাইন জারি করেছে।
নতুন এই পরিমার্জিত নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে সাময়িক ভিসা বদলে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (Adjustment of Status) করা কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনি অধিকার নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অফিশিয়ালি জানিয়েছে, “যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদনের জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে।” তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (Case-by-Case) মূল্যায়ন করবেন।
আবেদন মূল্যায়নকালে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় থাকা (Overstay), অনুমতি ছাড়া চাকরি করা কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তবে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত (যেমন- এইচ-১বি বা এল-১) কিছু নির্দিষ্ট ভিসার ক্যাটাগরিকে এই নিয়মের বাইরে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম কট্টর অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকার মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো। শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ (HIAS) সতর্ক করে বলেছে, এই অমানবিক নিয়মের কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে এবং তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে বিদেশিদের দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে মাস্টারপ্ল্যান চলছে, এই নির্দেশনা তারই সর্বশেষ বড় ধাক্কা। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড ১ লাখেরও বেশি বিদেশির মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
/আশিক
ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ড্রোন বহরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বহু অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান।
সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে তেহরান। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মোট এমকিউ-৯ রিপার বহরের প্রায় ২০ শতাংশের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সংখ্যাগত ক্ষতি নয়; বরং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। কারণ এমকিউ-৯ রিপারকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কার্যকর নজরদারি ও আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।
MQ-9 Reaper ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক সেন্সর, হাই-রেজুলেশন ক্যামেরা এবং দূরপাল্লার নজরদারি সক্ষমতায় সমৃদ্ধ। এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেডিএএমের মতো নির্ভুল নিশানার বোমা বহন করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট ট্র্যাকিং এবং নির্ভুল হামলায় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একেকটি রিপার ড্রোন নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। ফলে ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে বাতিল করা ড্রোনগুলোও হিসাবের মধ্যে আনলে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় ৩০-এ পৌঁছাতে পারে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা এবং মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক মার্কিন ড্রোন অভিযানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম উচ্চতায় উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও মার্কিন ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে পেন্টাগনকে।
সূত্র: তাস
ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বৈশ্বিক সামরিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভবিষ্যৎ বিশ্বযুদ্ধের কৌশল, বিমানশক্তির কার্যকারিতা এবং চীনকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের হিসাবও নতুন করে বদলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি Congressional Research Service–এর একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল, এ-১০ থান্ডারবোল্ট, কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট এবং একাধিক দীর্ঘপাল্লার ড্রোন।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক উচ্চমূল্যের সামরিক প্ল্যাটফর্ম হারানো সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে এমন ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন বিমানবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা ও আকাশে আধিপত্য ধরে রাখার সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে মার্কিন বাহিনীর একাধিক বিমান ভুলবশত নিজেদের পক্ষের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সামরিক ভাষায় যাকে বলা হয় “ফ্রেন্ডলি ফায়ার”। কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান এভাবে ধ্বংস হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির মোবাইল এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি Tor-M1 এবং S-300–এর মতো সিস্টেমগুলো মার্কিন ড্রোন ও নিম্নউড্ডয়নকারী বিমানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি “নেটওয়ার্কড ওয়ারফেয়ার” সক্ষমতা অর্জন করেছে, যেখানে স্যাটেলাইট ডাটা, এআই-চালিত নজরদারি এবং রিয়েল-টাইম টার্গেটিং বড় ভূমিকা রাখছে।
রুশ-ইরান সামরিক সহযোগিতাও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, মস্কো ইতোমধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক “ভেরবা” ম্যানপ্যাড সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। কাঁধে বহনযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কম উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান ও ড্রোন ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত “ডিস্ট্রিবিউটেড বেসিং” কৌশলের দুর্বলতাও প্রকাশ করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাধারণত তাদের যুদ্ধবিমান বিভিন্ন ছোট ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখে, যাতে শত্রুর হামলায় বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। কিন্তু ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের Prince Sultan Air Base–এর মতো সুরক্ষিত ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের ধারণা, ইরানের পেছনে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজ, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং এআই-ভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান ইস্যুতেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরানের মতো একটি দেশ উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীকে চাপে ফেলতে পারে, তবে সরাসরি চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ চীনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, শিল্পভিত্তি ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ইরানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী।
-রাফসান
ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মুখে চরম ভূরাজনৈতিক সংকটের মাঝেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবের প্রধান শর্ত সরাসরি উড়িয়ে দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ জারি করে বলেছেন, ইরানের কষ্টার্জিত ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Enriched Uranium) কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না এবং এই মজুত অবশ্যই ইরানেই রাখতে হবে।
ইরানের নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই এক্সক্লুসিভ ও চাঞ্চল্যকর খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় ডিক্রির ফলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় হোয়াইট হাউসের প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান এখন ইস্পাতকঠিন রূপ নিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই নজিরবিহীন আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ করতে পারে, যা ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এক নিমেষেই খাদের কিনারায় ঠেলে দিল।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প তেল আবিবকে ব্যক্তিগতভাবে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন—পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ইরানের ভূখণ্ড থেকে চিরতরে বাইরে পাঠানো হবে এবং যেকোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে ওয়াশিংটন এই ধারাটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।
এর বিপরীতে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সম্পূর্ণ সরানো হবে, তেহরান তার আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের (হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি) সামরিক তহবিল বন্ধ না করবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে কোনোভাবেই বিবেচনা করবেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারকদের গভীর আশঙ্কা—এই কৌশলগত পারমাণবিক উপাদান যদি কোনো চুক্তির আওতায় বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন তখন ইরানে বিমান হামলা চালাতে পারে এবং তখন দেশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পর বর্তমানে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই শান্তি প্রচেষ্টায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি; উল্টো ওমান উপসাগর ও ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের মূল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর তেহরানের নতুন কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরো সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের প্রধান শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি আসলে মার্কিন প্রশাসনের একটি সুনিপুণ ‘কৌশলগত প্রতারণা’ বা ফাঁদ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে একটি ভ্রান্ত নিরাপত্তার মাঝে রেখে গোপনে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গতকাল পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাঁদের শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে সই না করে, তবে তেহরানকে গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও মেগা হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন, কঠোর ও নজিরবিহীন এক তদারকি এবং আগাম অনুমতি ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক হুমকির রেশ ধরে বুধবার (২০ মে) তেহরানের সংশ্লিষ্ট নৌ-কর্তৃপক্ষ নতুন এই বিশেষ নজরদারি অঞ্চলের নিখুঁত সীমানাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই কড়া নজরদারি অঞ্চলটি একদিকে ইরানের কুহ মোবারক থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ঐতিহাসিক কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমায় বিস্তৃত থাকবে।
নতুন জারি করা এই বিশেষ সামুদ্রিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের পণ্যবাহী বা তেলবাহী কার্গো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে অগ্রিম ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নিতে হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের (Reuters) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালির এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের শক্তিশালী এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) অতিরিক্ত কিছু কঠোর শর্ত ও ডিক্রি আরোপ করেছে।
এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রধান বিষয়টি হলো—প্রণালি পার হওয়ার আগে প্রতিটি জাহাজকে একটি বিশেষ ‘সম্পৃক্ততা বা দায়বদ্ধতা নথি’ (Affidavit Certificate) জমা দিতে হবে, যেখানে লিখিতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজ, ক্রু বা পণ্যের মালিকানার সাথে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।
রয়টার্সের ওই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন এবং দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে জাহাজ চলাচলে একেকটি কোম্পানির এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব (Delay) হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশেষ ক্লিয়ারেন্স ও নতুন ট্যাক্স বা ফি বাবদ কিছু কিছু জাহাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দেড় লাখ মার্কিন ডলারের (১,৫০,০০০+) গণ্ডিও ছাড়িয়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত মিত্র রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ ট্রাফিক অগ্রাধিকার (Priority) দিচ্ছে বলেও বৈশ্বিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এই কড়াকড়ির বিষয়ে সাফাই গেয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান মূলত প্রতিবেশী দেশ ওমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বহু দেশের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক চ্যানেলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে এই রুট পার হতে পারে; তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন কোনো পশ্চিমা কর্মকাণ্ড বা উস্কানি ইরান কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না।
সূত্র: শাফাক নিউজ
পাঠকের মতামত:
- ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
- শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
- পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
- ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
- সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
- স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
- ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
- সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন পে স্কেলে বড় উদ্যোগ
- দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য আজকের মুদ্রার দর
- নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
- কোরবানির ঈদের আগে জুয়েলারি পাড়ায় বড় ধস: নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- বৃষ্টির পরও কমেনি গরম; আজ সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে, দিনের শুরুতেই একনজরে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- দূষণে আবারও বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকা
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- আজ মিলবে যে দিনের ঈদ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ
- এবার ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মেগাস্টার শাকিব খান
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- আগামীকাল টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
- চরভদ্রাসনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬ পালিত
- ফেসবুকের ট্রেন্ড এবার ফিফার পাতায়: নেইমারের ছবিতে বাংলা ডায়ালগ নিয়ে তোলপাড়
- ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ: শিশু হত্যার প্রতিবাদে এককাট্টা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা
- ঈদের ছুটিতে মেট্রোর ট্রিপ বিন্যাস ও সময়সূচি বদল
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
- রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
- আমি কন্যাসন্তানের বাবা, খবরটি হৃদয়বিদারক: পল্লবী ট্র্যাজেডিতে স্তব্ধ তারকা ক্রিকেটার
- সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস
- ২১ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২১ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
- ডলার থেকে ইউরো, জেনে নিন আজকের কারেন্সি রেটের লেটেস্ট আপডেট
- পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় এবার বাধ্যতামূলক হলো বন্দে মাতরম গান
- ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








