আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান

ইরানের ঐতিহাসিক খোররামশাহর মুক্তি দিবস এবং জাতীয় প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ কৌশলগত বার্তায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক মার্কিন ও ইসরায়েলি অক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সাম্প্রতিক সামরিক বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) খোররামশাহর মুক্ত করার ৪৪ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে সিপাহ প্রধান এই বার্তা দেন। তিনি তাঁর বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশেও সচেতন ইরানি জাতি তাদের জাতীয় ঐক্য ও প্রজ্ঞাকে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে চুক্তিভঙ্গকারী ও প্রতারক শত্রুদের প্রতিটি গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের সমস্ত গোপন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।
প্রকাশিত বার্তায় সিপাহ প্রধান নওরোজ ক্যালেন্ডারের ৩রা খোরদদ তারিখের ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে বলেন, ৫৭৮ দিন সাদ্দাম বাহিনীর দখলে থাকার পর খোররামশাহর মুক্ত করার মধ্য দিয়ে ইরানি তরুণরা ‘আমরা পারি’ স্লোগানের বাস্তব রূপ দিয়েছিল। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর ‘খোররামশাহরকে আল্লাহ মুক্ত করেছেন’—এই ঐতিহাসিক উক্তিটি ঐশী ইচ্ছা ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী জাতীয় শক্তির এক বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, ৪৪ বছর আগের সেই গৌরবময় ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ইরানি জাতি আজ আবারও একটি ‘তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে’র মুখোমুখি হয়েছে, যা মূলত ইসরায়েলি ও মার্কিন শত্রুদের সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং ইরানের এক মহান নেতার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। শত্রুপক্ষ ইরানের দীর্ঘ ৪০ দিনের তীব্র প্রতিরোধ ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের মুখে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধে ইরানিদের উত্তাল ও মারমুখী অবস্থানের সাক্ষী হচ্ছে।
ঐতিহাসিক খোররামশাহরের শিক্ষা, পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের শহীদ এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি (রহ.)-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপাহ প্রধান ইরানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন।
প্রথমত, তিনি এই সাম্প্রতিক সংঘাতকে একটি সম্মিলিত বা ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের কারণে শত্রুর মূল লক্ষ্য ভেস্তে গেছে।
দ্বিতীয়ত, খোররামশাহরের মূল শিক্ষাই হলো অভ্যন্তরীণ শক্তির বিকাশ এবং সক্রিয় প্রতিরোধ; যার প্রমাণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা খাতের অভাবনীয় অগ্রগতি আজ শত্রুদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে।
তৃতীয়ত, ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হলো দেশের জনগণের দৃঢ় উপস্থিতি, যা যে কোনো আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।
চতুর্থ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের স্থল, আকাশ, নৌ, মহাকাশ এবং সাইবার—প্রতিরক্ষার এই পাঁচটি খাতের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতায় রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক এবং তা আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে।
পঞ্চমত এবং পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, খোররামশাহরের এই ঐতিহাসিক বিজয় হলো মূলত ভবিষ্যতের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি স্থায়ী আদর্শ, যা একদিন পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্তি এবং বিশ্ব ইসলামি প্রতিরোধের হাত ধরে ইসরায়েলি শাসনের সম্পূর্ণ পতনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেবে। সিপাহ প্রধান ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পবিত্র কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।’
সূত্র: ফার্সনিউজ
হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত ও প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও কঠোর, যা প্রতিপক্ষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। বিশেষ করে 'কুহ-ই কোলাং' বা 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' অঞ্চলে কোনো আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তার সমুচিত জবাব দিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই শত্রুদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও স্পর্শকাতর স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ড্রোন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ ও স্থলভাগের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পার্টনার নেটওয়ার্কের আওতায় এক হাজারের বেশি সামরিক উপকরণ ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে, যেখানে কিছু বিশেষ প্রযুক্তির অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি অর্জিত হয়েছে।
এ ছাড়াও মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে তালায়ি-নিক জানান, চলমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি, চুক্তি ও পরামর্শ মূলক লেনদেন বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও বেশি জোরদার ও সুসংহত হয়েছে। ইসরায়েল মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (CENTCOM) সহায়তায় নতুন করে ইরানে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর সতর্কবার্তা ও সক্ষমতার তথ্য সামনে আনা হলো।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা শঙ্কাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কিংবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশীয় একাধিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই কৌশলগত প্রস্তুতির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী বা তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক অক্ষ থেকে সম্ভাব্য আক্রমণের পাল্টা জবাব দেওয়া কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম (Preemptive) বিমান হামলা চালানোর লক্ষ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে জানানো হয়েছে যে, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত বা বিমান হামলায় জড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কম।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সামরিক সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্য ও সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’। বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিতে ইসরায়েলে প্রায় তিন হাজার মার্কিন সৈন্য সক্রিয় রয়েছে এবং তারা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।
অন্যদিকে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান সংঘাত এড়িয়ে একটি ন্যায়সংগত সমঝোতায় পৌঁছাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, তেহরানের দেওয়া শর্তাবলি ওয়াশিংটনের নিকট গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। একই সাথে হামলায় বিমানবন্দর দুটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার জাজান প্রদেশের কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জিএসিএ যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি বিবৃতির কড়া পর্যালোচনায় কোনো গোষ্ঠীর নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, ইয়েমেনের সানাভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুতিদের দাবি, তারা সৌদি আরবের জাজান ও নাজরানের কৌশলগত কেন্দ্র ছাড়াও রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা বিমানবন্দর, রাবিগে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান আরামকো এবং একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক হামলা ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও বেসামরিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রিয়াদ তার সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
মধ্যপ্রাচ্যের চরম নিরাপত্তা সংকট ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নিতেই সরকারি এই সফরে রিয়াদে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা-র বরাতে জানা গেছে, রাজধানী রিয়াদে পৌঁছে প্রেসিডেন্ট আল-শারা সৌদি যুবরাজের সাথে আনুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সিরিয়া-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আধুনিকায়ন এবং সার্বিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট আল-শারার এই সৌদি সফরের সময়কাল অত্যন্ত কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ও সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত যৌথ সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উদ্ভুত সংকটে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার অক্ষ হিসেবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই পরিবর্তিত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে রিয়াদে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠককে অত্র অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের অন্যতম কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরা
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক জরুরি ও অনির্ধারিত সফরে নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক একটার দিকে সাউথ ব্লকে দুই নেতার মাঝে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নতুন সরকারের রূপরেখা, আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করতেই হাইকমিশনারের এই হঠাৎ সফর। গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান তিনি। তবে কূটনৈতিক কৌশলগত কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে গত এপ্রিলে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকার সাথে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক, সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিষয়ে তিনি জানান, সফরটি অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে, তবে এর কার্যকর প্রস্তুতির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে ঢাকা-নয়াদিল্লির একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু ঝুলে রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া, দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার ৩০ বছর মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গ এতে প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকার এক অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেন, অমীমাংসিত সংবেদনশীল বিষয়গুলো রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; বরং নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই এগোতে হবে।
/আশিক
আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই নিজেদের নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'এম৫১.৩' (M51.3)-এর সফল প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে ফ্রান্স। পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অননাস্রিক বা অ-পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এই এম৫১.৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশের বির্টানি (Brittany) উপকূলীয় অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। সম্প্রতি বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন শেষে ফরাসি নৌবাহিনীর পারমাণবিক সাবমেরিন 'লে ভিজিলঁ' (Le Vigilant) সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের উপযোগী কি না, তা যাচাই করতেই এই সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে অনুসরণ করে চালোনো এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড রাখা হয়নি।
বিবৃতিতে কৌশলগত কারণে রাশিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি মস্কোর উদ্দেশ্যে এক স্পষ্ট বার্তা। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী রুশ ছিটমহল 'কালিনিনগ্রাদ' নিয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করে দেন এবং প্রয়োজনে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো সামরিক কার্যক্রমই রাশিয়ার ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করে দৃঢ়ভাবে জানান, আজ ফ্রান্স সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং যার কাছে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন, সেখানে তা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে পৌঁছানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী ফ্রান্স বার্ষিক প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে তাদের ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করছে। ফ্রান্সের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি তাদের চারটি ব্যালিস্টিক সাবমেরিন। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই এম৫১.৩ সংস্করণটির সুনির্দিষ্ট পাল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে অপ্রকাশিত থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে এটি প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরম দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী চরম ব্যর্থ হয়েছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন দেশটির চিফ অব স্টাফ এয়াল জামির। একই সাথে উক্ত নিরাপত্তা বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বহুবিধ ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা আকস্মিক হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকামীদের ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক বহরে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জামির এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জামির স্পষ্ট মন্তব্য করেন যে, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদানই ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল দায়িত্ব, যা ৭ অক্টোবরের আকস্মিক আক্রমণের মুখে সেনাবাহিনী পুরোপুরি পালনে ব্যর্থ হয়। এর আগে রোববার সামরিক ঘাঁটি গ্লিলটে জ্যেষ্ঠ সেনা কমান্ডারদের এক জরুরি বৈঠকে তিনি চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তের অগ্রগতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওই ট্র্যাজেডির শিক্ষণীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ ও সামরিক যুদ্ধের বিভিন্ন খুঁটিনাটি পর্যালোচনার জন্য ২০২৭ সালকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সেনাপ্রধানের মতে, এই গভীর সামরিক বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত মূল শিক্ষা হলো—ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কৌশলগত গভীরতা’ বহুলাংশে বৃদ্ধি করা এবং একই সাথে একাধিক সামরিক ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা হামলা প্রতিহতের সক্ষমতা অর্জন করা। ফলে যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পূর্বে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষার অন্যতম সুরক্ষিত স্তম্ভ ধরা হতো। তবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ওই রূঢ় আক্রমণ দেশটির গোয়েন্দা নজরদারি, কমান্ড স্ট্রাকচার ও কৌশলগত প্রস্তুতির কঙ্কালসার চিত্র উন্মোচন করে দেয়। হামলার পূর্বে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গোয়েন্দা তথ্যের অবমূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ভার কার ওপর বর্তায়—তা নিয়ে এখনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক বহাল রয়েছে।
পার্সটুডে
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
ফিলিস্তিন ইস্যুকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এ বাংলাদেশ ও ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।
সম্প্রতি করাচীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গাজা পদযাত্রায় (গাজা মার্চ) অংশ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় আমির হাফিজ নাঈম উর রহমান মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ সার্বভৌম রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে এই দাবি জানান।
সমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্যে হাফিজ নাঈম বলেন, উদীয়মান এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ও প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত গাজাসহ সমগ্র ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বর সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। গত আগস্টে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও, চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল আমেরিকার সহায়তায় ফিলিস্তিনে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জামায়াত প্রধান তাঁর বক্তব্যে ভৌগোলিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্য ভুলে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল ফিলিস্তিন বা গাজাই নয়, কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে দখলমুক্ত করতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একাত্ম হতে হবে। তিনি শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ ও আঞ্চলিক দূরত্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কালানুক্রমিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেন।
একই সাথে বীর ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, পাকিস্তানের জনগণের বিপুল ভালোবাসায় পরিচালিত তাঁদের দল ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘আল-খিদমাত’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে গাজাবাসীর জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন রুপির (এক হাজার কোটি টাকা) বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে অক্টোবরের পুরো প্রথম সপ্তাহজুড়ে বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ কর আরোপের প্রতিবাদে আগামী ৭ অক্টোবরের পর নতুন রাজনৈতিক কৌশল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত গোপন কূটনৈতিক জবাব নিয়ে গভীর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের এক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা ফিরতি জবাবে ঠিক কী কী শর্ত বা বার্তা রয়েছে, সে বিষয়গুলোই এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইরানের উক্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় পর্যবেক্ষণ জোরদার হয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
পাঠকের মতামত:
- শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
- হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
- সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত: নাহিদ ইসলাম
- ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো নিয়ে সরকারের নয়া ঘোষণা
- পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন
- গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা
- বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম ঢাকার অভিযোগ, তোপের মুখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি
- অনুশোচনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে মীমাংসা অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
- সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
- ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির
- ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব
- পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
- সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি
- আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
- আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
- প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- 'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
- বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
- ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
- ৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
- মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
- মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
- কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
- বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
- প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আশ্বিনের আবহাওয়ায় নতুন বদল, চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি
- মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
- লাইন পরিবর্তন কাজ: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি বার্তা তিতাসের








