করোনাভাইরাস

খুলনায় ফের করোনা শনাক্ত, খুমেকে ভর্তি বৃদ্ধা

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৮ ১৭:৫০:৫৩
খুলনায় ফের করোনা শনাক্ত, খুমেকে ভর্তি বৃদ্ধা

খুলনায় ফের করোনা শনাক্ত, খুমেকে ভর্তি বৃদ্ধাখুলনায় আবারও নতুন করে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের র‍্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ওই রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

চিহ্নিত রোগী করুণা (৬০), যিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অন্তর্গত বয়রা এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ও ডেঙ্গুবিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. খান আহমেদ ইশতিয়াক।

তিনি জানান,

“আজ দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালে ১৮টি র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে একজনের ফল পজিটিভ এসেছে। বাকি ১৭ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ।”

এর আগের দিন, মঙ্গলবার (১৭ জুন) খুলনায় আরও দুজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এদের একজন খুমেক হাসপাতালে এবং অপরজন খুলনা জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হন। interestingly, খুমেকে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি এবং আজ শনাক্ত হওয়া করুণা, দুজনই বয়রা এলাকার বাসিন্দা। জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত রোগীকে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন,

“গত ২৪ ঘণ্টায় (১৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) খুলনা, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর জেলায় র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা ও মেহেরপুরে একজন করে মোট দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ সময়ে বিভাগজুড়ে করোনা শনাক্তের হার ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হার কিছুটা উদ্বেগজনক এবং এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ ধীরে ধীরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফলে জনসচেতনতা ও পূর্ব প্রস্তুতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

—আশিক নিউজ ডেস্ক


খুলনায় ৬৭ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো জেলা

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:৪৭:০০
খুলনায় ৬৭ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো জেলা
ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতীকী ছবি

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, জেলার মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, খুলনার মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে এবার সিসি ক্যামেরা ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনা-৬ আসনটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এর বিপরীতে খুলনা-৩ আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক কম, যা প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যান্য আসনের মধ্যে খুলনা-১ আসনের ৭৬টি, খুলনা-২ আসনের ১০৫টি, খুলনা-৪ আসনের ৯৫টি এবং খুলনা-৫ আসনের ৮৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ ৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে মোবাইল পেট্রোলিং এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানিয়েছেন, ৫৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫৮টিতেই সিসি ক্যামেরা থাকবে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩০০টি কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের শরীরে থাকবে বিশেষ ‘বডি ক্যামেরা’, যার সরাসরি সম্প্রচার পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১২০০ সেনা সদস্যের উপস্থিতি ও এই আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারির ফলে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


কালীগঞ্জ থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে জিডি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
সাতক্ষীরা ব্যুরো
খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ২০:৫৮:২৫
কালীগঞ্জ থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে জিডি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

প্রবাসে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে ওমানের ভিসা দেওয়ার প্রলোভনে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

থানাসূত্রে জানা যায়,কালীগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের কলিযোগা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নূর ইসলাম মোড়ল (৭৩) গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে ‌ দায়ের করেন। জিডি নম্বর-১২৪০।জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নূর ইসলাম মোড়লের পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৬) একজন ওমান প্রবাসী।প্রবাসে অবস্থান কালে নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার এলাকার মোঃ তাজুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ মাহমুদ (৪৫)-এর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওমানের ভিসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও ওমানের একাধিক ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা ভিসা প্রদান তো করেইনি, বরং পাওনা টাকা ফেরত দিতেও টালবাহানা শুরু করে।যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা অধিকাংশ সময় ফোন বন্ধ রাখে এবং কখনো ফোন রিসিভ করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এছাড়া প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে অভিযুক্তরা ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের একটি রশিদ প্রদান করলেও পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমু অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা সরাসরি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং হুমকি দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ আইনগত সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়। ডায়েরিতে অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আবেদন জানানো হয়েছে।কালীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কঠোর বক্তব্য ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ভুয়া ভিসা ও বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা এখন নীরব সামাজিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে।

সহজ-সরল মানুষ ও প্রবাসগামী শ্রমজীবী পরিবারের স্বপ্নকে পুঁজি করে একের পর এক প্রতারক চক্র সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। এসব প্রতারণা কেবল আর্থিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নয় এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, সম্মান ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে-এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে প্রবাসে কর্মসংস্থানের নামে চলমান প্রতারণা বন্ধে সার্বিক নজরদারি জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ প্রতারকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পাবে-এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হাসান জানান প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছ।তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।


আজ খুলনায় জামায়াত আমিরের নির্বাচনি গর্জন: মঞ্চ প্রস্তুত ঐতিহাসিক ময়দানে

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১০:৫৪:৫৩
আজ খুলনায় জামায়াত আমিরের নির্বাচনি গর্জন: মঞ্চ প্রস্তুত ঐতিহাসিক ময়দানে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের আজকের এই নির্বাচনি সফরটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রথমে যশোরে পৌঁছাবেন এবং সকাল সাড়ে ৯টায় যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। যশোর থেকে সড়কপথে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে কলারোয়া ও ডুমুরিয়ায় সংক্ষিপ্ত কিন্তু জনবহুল পথসভায় অংশ নেবেন তিনি যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় বক্তব্য রাখার পর তিনি দুপুর ২টার দিকে খুলনা মহানগরে এসে পৌঁছাবেন। খুলনার এই মহতী সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেওয়ার পর তিনি আবারও সড়কপথে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আয়োজিত দিনের শেষ নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

খুলনার এই বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রভাবশালী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসাইন এবং খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করবেন খুলনা মহানগরী আমির ও জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে খুলনার এই জনসভাটি জামায়াতের জন্য একটি বিশেষ শক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির উপস্থিতি এবং আমিরের দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। সার্কিট হাউজ ময়দানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে নিরাপত্তা ও সাজসাজ রব তৈরি হয়েছে, তা নির্দেশ করে যে জামায়াত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকের এই ভাষণ থেকে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার ও জোটবদ্ধ নির্বাচনের পরবর্তী রূপরেখা সম্পর্কে নতুন কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
সাতক্ষীরা ব্যুরো
খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৮:৪২:৪১
নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ
পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ/ছবি : শিমুল হোসেন

অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক, দার্শনিক ও সুফি-সাধক—‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’ এই মহান আদর্শের প্রবক্তা, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনসহ অসংখ্য শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের অন্যতম কারিগর, মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত পীরে কামেল সুলতানুল আউলিয়া হজরত শাহ সুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর ৬২তম তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওরছ শরীফ আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নলতায় অনুষ্ঠিত হবে।

ওরছ শরীফ উপলক্ষে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নলতা পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমার নিকটবর্তী সময়ে অধিক জনসমাগম, সভা-সমাবেশ ও আনুষ্ঠানিকতা সীমিত থাকার বিধান অনুসারে পূর্বনির্ধারিত ফেব্রুয়ারির ৯, ১০ ও ১১ তারিখ পরিবর্তন করে পীরে কামেল হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর বেছালের আরবি তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্চ মাসে ওরছ শরীফের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা ও শিক্ষক আলহাজ আবুল ফজলের সঞ্চালনায় এবং সদ্য নির্বাচিত সভাপতি আলহাজ মো. মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রউফ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আলহাজ মো. সাইদুর রহমান, পাক রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ মো. আ. রাজ্জাক, সচিব আবু মাসুদ, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা ইকবাল মাসুদ, নলতা এ.এম.আর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, নলতা জামে মসজিদের খতিব গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক আবুল কালাম বিন আকবার ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলামসহ আহ্ছানিয়া মিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।পরামর্শ সভায় আলোচনা পেশ করেন নলতা আহ্ছানিয়া মিশন দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রমিজ উদ্দীন, হাফেজ হাবিবুর রহমান, আহ্ছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা আলহাজ মালেকুজ্জামান ও ডা. নজরুল ইসলাম।

সভায় পীর সাহেবের আওলাদসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য এবং এলাকার দানবীর ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দিন দিন ওরছ শরীফে বাড়তে থাকা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে সকল আহ্ছানিয়া শাখা মিশন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ওরছ শরীফ চলাকালে আগত মেহমানদের আবাসন, আপ্যায়ন ও খাবারের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।সভা শেষে জামাতের সঙ্গে যোহর নামাজ আদায় এবং মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।


কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৮:২৫:১৩
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জয়পত্রকাটি মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক পক্ষ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় জারি করা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নালিশী জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বিবাদী পক্ষ। রবিবার (১৮ জানুয়ারি -২০২৬) সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নির্মাণকাজের আলামত দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। মামলার বিবাদীদের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলার বাদী সন্ন্যাসী মন্ডল প্রশাসনের অগোচরে নালিশী জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বিবাদী ও একই গ্রামের বিলাত সরদারের ছেলে মো. আবু ইউছুপ মাস্টার বলেন, “আমরা আদালতের আদেশের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো কার্যক্রম চালাচ্ছি না। কিন্তু মামলার বাদী নিজেই আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় দায়েরকৃত ৪ পি মামলা নং-২১২২/২৫ (কালিগঞ্জ)-এ গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,সাতক্ষীরা উভয় পক্ষকে নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, নালিশী জমিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নালিশী জমির বিবরণ অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন জয়পত্রকাটি মৌজার জে.এল নং-২২০, এস.এ খতিয়ান নং-২০৮, এস.এ দাগ নং-৯৪ এবং হাল দাগ নং-৭৯-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ৪৮ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সন্ন্যাসী মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ঘর নির্মাণ করছি। এতে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। এদিকে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জুয়েল হাসান বলেন" আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।এ ঘটনায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মামলাটির পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল ২০২৬।


খুলনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৯ ০৯:০১:৪২
খুলনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
ইমদাদুল হক মিলন

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়া বাজারে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমদাদুল হক মিলন নামের পয়তাল্লিশ বছর বয়সী এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে আড্ডারত অবস্থায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেবাশীষ নামের এক পশু চিকিৎসকও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত মিলন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘খুলনার বর্তমান সময় ডটকম’-এর সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় মিলন শলুয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত সেখানে উপস্থিত হয় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সাংবাদিক মিলন। অন্যদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পশু চিকিৎসক দেবাশীষকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জনাকীর্ণ বাজারে এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


ঘুমেও নিরাপত্তা নেই: লুট হওয়া অস্ত্রে কাঁপছে খুলনা

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৫ ১৮:২২:০০
ঘুমেও নিরাপত্তা নেই: লুট হওয়া অস্ত্রে কাঁপছে খুলনা
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা মহানগরী ও জেলাজুড়ে আধিপত্য বিস্তার মাদক ব্যবসা এবং ভূমি দখলের জের ধরে খুন ও পাল্টা খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যার নেপথ্যে রয়েছে অবৈধ আধুনিক অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার। বিগত পনেরো মাসে এই অঞ্চলে ১০৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে যা নাগরিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চালান। পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন থেকে চোরাইপথে খুলনায় প্রবেশ করেছে এবং এগুলো সন্ত্রাসীদের শক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত জেলায় মোট ৬২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে রূপসা থানায় সর্বাধিক ১৫টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ডুমুরিয়া থানায় ১১টি ফুলতলায় ১০টি দাকোপে ৭টি এবং দিঘলিয়া পাইকগাছা ও কয়রাসহ অন্যান্য থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যা গ্রামীণ জনপাদেও অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে খুলনা মহানগরীতে গত পনেরো মাসে ৪৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং এই সময়ের মধ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শতাধিক মানুষ জখম হয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনাও অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে যা গত বছরের তুলনায় অপরাধের মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩২টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে যার মধ্যে বিদেশি পিস্তল রিভলভার এবং শ্যুটার গান রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত ৩৪টি মামলায় ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের অপরাধ চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন নামের দুইজন নির্মমভাবে নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় নগরীর জিন্নাপাড়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সম্রাট নামের এক যুবক আহত হন এবং এর আগে ২৮ অক্টোবর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশায় গভীর রাতে মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে দুই বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এছাড়া পহেলা অক্টোবর ঘুমের মধ্যে তানভীর হোসেন আগস্টে আলামিন এবং জুলাই মাসে যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলো খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। মাদক কারবারিদের আস্তানায় হামলার ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা যেমনটি দেখা গেছে রূপসার রাজাপুরে যেখানে গোলাগুলির সময় সাব্বির নামের এক সন্ত্রাসীর চোখ ভেদ করে গুলি বেরিয়ে যায়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে সর্বশেষ জোড়া খুনের ঘটনায় ভারতীয় ৯.৬৫ মডেলের অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বড় একটি অংশই ভারতীয় বা চাইনিজ তৈরি। তবে খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান দাবি করেছেন যে জেলা পুলিশ অধিকাংশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে ৫ আগস্টের পর খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ না করা গেলে এই সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।


খুলনায় জোড়াগেটে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান 

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২০:৪৩:১২
খুলনায় জোড়াগেটে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান 
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকা জোড়াগেটে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এইচআরসি ভবনের পাশের গলিতে অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের একেবারে মধ্যবর্তী ও জনবসতিপূর্ণ স্থানে এমন একটি অস্ত্রের কারখানা আবিষ্কার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জোড়াগেট এলাকার দোহা আয়রন ফাউন্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। সেখানে লোহার কারখানার আড়ালে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল।

পুলিশের অভিযানে কারখানাটি থেকে অস্ত্র তৈরির ছাঁচ সীসা ট্রিগার ও ট্রিগার গার্ডসহ অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে বড় ধরনের নাশকতার জন্য অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন দোহা আয়রন ফাউন্ডার কারখানার মালিক নজরুল এবং তার দুই কর্মচারী শহিদুল ও আকবর আলী। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান দোহা আয়রন ফাউন্ডারে সাধারণত লোহালক্কড়ের কাজ হতো বলে তারা জানতেন। কিন্তু এর ভেতরে যে মারণাস্ত্র তৈরি হতো তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। শহরের এমন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এতদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।


আগের মতো নির্বাচন হলে দুর্ভোগ নামবে: খুলনায় জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি 

খুলনা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৫ ১২:৫৩:৫০
আগের মতো নির্বাচন হলে দুর্ভোগ নামবে: খুলনায় জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি 
মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন, আগামী নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের নির্বাচনের মতো হয়, তবে তা জাতির জন্য 'চরম দুর্ভোগ' বয়ে আনবে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেখানকার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'মানুষ পরিবর্তন চায়।' তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা স্বাভাবিকভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের জনগণ 'শান্তির বাংলাদেশ' গড়ার জন্য তাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।

এসময় তিনি প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। গোলাম পরওয়ার বলেন, 'নিরপেক্ষ থাকুন, একটি স্বচ্ছ নির্বাচন দিন এবং সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করুন।'

জামায়াতের এই নেতা পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অতীতে যারা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেককেই পরে আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অন্যায় করলে কারও পালানোর পথ খোলা থাকবে না।

তিনি আরও দাবি করেন, 'নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকেই পরিবর্তনের এই ধারা শুরু হয়েছে।'

নির্বাচনে 'কালো টাকার প্রভাব' বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যারা শত কোটি টাকা খরচ করে মনোনয়ন নিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে দেশে দুর্নীতি আরও বাড়বে।

শোভাযাত্রাটি খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, চুকনগরসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পথের দুপাশে গ্রামবাসীরা হাত নেড়ে গোলাম পরওয়ারকে শুভেচ্ছা জানান। এসময় নেতাকর্মীরা 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

পথসভাটিতে সভাপতিত্ব করেন হরিণটানা থানা আমীর জি এম আব্দুল গফুর। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের দলীয় প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফ, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান এবং অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুসসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।

পাঠকের মতামত: