বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ নারী সংসদ সদস্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৭:৫২:৩৩
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ নারী সংসদ সদস্য
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ৪৯ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।

নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মঈন উদ্দীন খান জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ছিল। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন না করায় সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯টি শূন্য পদের বিপরীতে জমা পড়া ৪৯টি মনোনয়নপত্রই বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী, শূন্য পদের সমান প্রার্থী হওয়ায় তাদের সবাইকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার আরও জানান যে, বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যদের নাম ও ঠিকানাসহ চূড়ান্ত তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকা নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করা হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাদের নাম উল্লেখ করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত এসব সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসি সচিবালয় থেকে সংসদ সচিবালয়ে গেজেটটি পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বন্টন করা হয়েছিল। মনোনয়ন জমার সময় থেকেই একক প্রার্থী থাকায় এই নির্বাচনে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। ফলে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি আজ সম্পন্ন হলো।

/আশিক


ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২২:০১:২৮
ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন ও সাধারণ নাগরিকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন খবরের কাগজগুলো পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, সব পত্রিকায় একটি খবর বিশেষভাবে এসেছে। প্রতি বছর সাধারণত বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে, গত পরশু দিন নতুন বাজেট পেশ করার পর এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে এবং বাজারে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি।

কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন অতি দ্রুত এই মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের মূল কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরীর গুরুত্ব, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানাবিধ ভৌগোলিক কারণে কক্সবাজার অঞ্চলটি দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই সড়কটি অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।

যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যখন এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল, এবার এসেও ঠিক একই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এবার আর কোনো অবহেলা নয়, অচিরেই এই মহাসড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হবে।

জনসভায় স্থানীয় লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুঃখগাথা নিয়েও বিশদ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষিরা যে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, সেই বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তাই এই এলাকারই সন্তান এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ অনুরোধ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে চাষিদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষা পাবে এবং প্রান্তিক চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও বাজেটের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ যেন নাগালের মধ্যে থাকে, সেই লক্ষ্যে সদ্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় ট্যাক্স বা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় এর সরাসরি সুফল যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক পান। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অনর্থক অবস্থান নিয়েছে। তারা মূলত দেশের মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতি চায় না বলেই এই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করছে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সার্বিক কল্যাণে বর্তমান সরকার পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় নাগরিকদের আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি, এর মধ্যেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় এই কার্ড সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২০:৪৬:২৫
অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

অর্থনীতিতে সাম্য ও সমতা প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অলিগার্ক বা অবৈধ প্রভাবশালীদের চক্র ভেঙে দেওয়া বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, স্থিতিশীল ও শিল্পভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। এমন একটি দেশ গঠন করা হবে যেখানে প্রত্যেক নাগরিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং মর্যাদার ক্ষেত্রে সমান অধিকার লাভ করবেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনটির যৌথ আয়োজক ছিল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

সম্মেলনে নিজের উপস্থিতির উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে কোনো সাধারণ প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেননি। বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং জাতীয় মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে বর্তমান সরকারের যে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রয়েছে, তা সবার সামনে তুলে ধরতেই তিনি এই আয়োজনে এসেছেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, এই অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং নতুন উদ্দীপনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই ভাবনাটি মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সামগ্রিক মানসিকতাকেই নিখুঁতভাবে ধারণ করে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সম্মেলনটির আয়োজন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে বর্তমান সরকার যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সরকারের কাজের সময়কাল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় পার হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যেও সরকারের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং সুনির্দিষ্ট। দেশের নাগরিকদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও শিল্পোন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে সরকার বদ্ধপরিকর।

এর আগে একই দিন সকালে যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে গিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং অলিগার্কদের সিন্ডিকেট ধ্বংস করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিশন বাস্তবে রূপ দিতে যুবদলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। একই সাথে তরুণ প্রজন্মের হাতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও নেতৃত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমেই সরকার দেশকে প্রগতি ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৮:০০:২৮
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দূষণমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি এক আবেগঘন ও যুগান্তকারী আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যার যেখানে যতটুকু সম্ভব অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করার অনুরোধ করেছেন তিনি। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বেলা তিনটায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এই বিশেষ আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জলবায়ু ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকুল আহ্বান জানাব—আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন আগামী দিনে একটি চমৎকার ও সবুজ পরিবেশে বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজ থেকেই প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে খালি জায়গা আছে সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা যদি সবাই মিলে দেশব্যাপী এই মহৎ বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু নিশ্চিতভাবে আশা করা যায় যে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাবে। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সন্তানদের জন্য একটি পরিষ্কার ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তবে দেশজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজ আমরা আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এই মহাপরিকল্পনা শুরু করলাম।"

সবুজায়নের এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেশের বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সকলের প্রতি আমার কঠোর নির্দেশনা থাকবে যে, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।" বক্তব্যের শেষে দেশবাসীকে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করে তিনি বলেন, "আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ এই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

আমাদের তীব্র ইচ্ছা ও দৃঢ় প্রত্যাশা—আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত ও পরিষ্কার শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, ইনশাআল্লাহ।" সরকারের এই বিশাল পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

/আশিক


এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৩:৪৮:৩১
এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা মেট্রোরেল সেবায় শনিবার এক ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণে সাময়িক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সংযুক্ত ট্র্যাক এলাকায় একটি বিড়ালের প্রবেশ শনাক্ত হওয়ার পর যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে ঝুঁকির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই পুরো নেটওয়ার্কে সতর্কতা জারি করা হয় এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাধারণত কারিগরি ত্রুটি, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা কিংবা সিগন্যালিং জটিলতার কারণে মেট্রোরেল সেবায় বিঘ্ন ঘটার ঘটনা দেখা যায়। তবে একটি প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পুরো সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন। এ ধরনের স্থানে কোনো প্রাণীর অনুপ্রবেশ শুধু ওই প্রাণীর জন্যই নয়, পুরো সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া মানুষ হঠাৎ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও সেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় বাস, রাইড শেয়ারিং ও অন্যান্য বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ সীমিত করা হয়। একই সঙ্গে যেসব যাত্রী ইতোমধ্যে টিকিট কেটে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের জন্য ভাড়া ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিভিন্ন স্টেশনের কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আলাদা লাইনও দেখা যায়।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (বিএমটিসিএল)-এর কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া কোনোভাবেই ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে না। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কারিগরি দল ঘটনাস্থল এবং পুরো ট্র্যাক এলাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

তাদের মতে, মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে কয়েক হাজার ভোল্ট ক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বড় ধরনের দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যান্ত্রিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেবা চালুর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিড়ালটির অবস্থান শনাক্ত ও ট্র্যাক সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে। নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।

নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল ও রেলপথে প্রাণীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ঢাকা মেট্রোরেলের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

এদিকে সেবা বন্ধের কারণে সৃষ্ট সাময়িক ভোগান্তির জন্য কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। মেট্রোরেল পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রফিক


মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৩:৩০:২৩
মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ভাষ্য, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, সেই বাজেটেরও বিরোধিতা করা হলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পর অনেক সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হতো। তবে এবারের বাজেটে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর কারণে সেই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সরকার সচেতনভাবেই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মদ ও সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেই এসব পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এমন একটি পদক্ষেপেরও যদি বিরোধিতা করা হয়, তাহলে তা জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা বলেই প্রতীয়মান হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দল বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোকে আড়াল করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে অযৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

পথসভায় কৃষি খাতের প্রসঙ্গও বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা আরও সহজে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এলাকার কৃষি ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই খাল খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর পুনরায় খালটি খননের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে ৮ হাজারের বেশি কৃষক নিয়মিত সেচ সুবিধা লাভ করবেন। এতে অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কৃষিকে আরও লাভজনক করা এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া। অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং কৃষি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অতীতে যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে।

-রাফসান


রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৪:৫৯:৪৯
রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরের মধ্যেই উৎপাদনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সরকারের এই ঘোষণা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিটটি উৎপাদনে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে ক্যাপাসিটি চার্জ এখনও সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। অতীতের বিভিন্ন বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির কারণে এই ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা খাতটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করেছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ অধিকাংশ চুক্তিই আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় রয়েছে। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিদ্যমান চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এবং সঞ্চালন অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হয়েছে। কিন্তু একই হারে বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তার ভাষায়, উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও ভোক্তা পর্যায়ে তার পূর্ণ সুফল পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অতীতের সরকার বিদ্যুৎ সুবিধা দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। তবে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ এই তিন খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত সমন্বয় যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন স্থাপন, পুরোনো অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা বেশি ঘটছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত করা যাচ্ছে না।

পিজিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

-রফিক


উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৪:৫০:১৭
উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নিজেদের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা দিয়ে আসছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে আয়োজিত চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবেও চীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি একাধিকবার দেশটি সফর করার সুযোগ পেয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে চীনা অংশীদারদের আগ্রহের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও সফর করতে পারে। ওই সফরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে এখানে নতুন শিল্পায়নের সুযোগ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে জেলাটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ। শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির নেতৃত্ব দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত Yao Wen, জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের প্রতীকী এই আয়োজনের মাধ্যমে জেলার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর হাতে স্কুলব্যাগ, শিক্ষা সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসহায়ক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

-রাফসান


১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১১:১৭:৫৩
১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রায় ১১ বছর পর নবম জাতীয় পে-স্কেল চালুর সিদ্ধান্তকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয়ের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাস্তবতায় বেতন পুনর্গঠন অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দক্ষতা ও কর্মোদ্যম বাড়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় কয়েক দশ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের কর্মচারীরাও আগের তুলনায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন হবে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যম পর্যায়ের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এসেছে। ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার এবং অষ্টম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নবম ও দশম গ্রেডে যথাক্রমে ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্যও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একাদশ থেকে পঞ্চদশ গ্রেড পর্যন্ত বেতন ২২ হাজার ৮০০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ষোড়শ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ২০ হাজার থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে থাকবে।

সরকারি সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতনই নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার ক্ষেত্রেও পুনর্বিন্যাস আনা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বিভিন্ন ভাতা যোগ করে মাসে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় কয়েক লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেনশনভোগীরাও এর ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করবেন, কারণ নতুন বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে পেনশন হিসাব পুনর্নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

-রাফসান


১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১১:০৩:১৭
১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৫৫ লাখ স্বল্প আয়ের পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চাল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিটি পরিবার বছরে ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তার আওতায় রাখতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক খাদ্যবাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতো নানা বাস্তবতার মধ্যেও সরকার খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় একজন উপকারভোগী পরিবার ছয় মাসে মোট ১৮০ কেজি চাল সংগ্রহ করতে পারবে। বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে এই চাল সরবরাহ করায় নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছে সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, খাদ্যশস্যের সরকারি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন গুদাম নির্মাণ, বিদ্যমান সংরক্ষণাগারের আধুনিকায়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: