আকাশে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের চরম পরিণতি: চাবাহার উপকূলে বড় ধামাকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২১:২৩:০৮
আকাশে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের চরম পরিণতি: চাবাহার উপকূলে বড় ধামাকা
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার কাছে চাবাহার উপকূলে একটি মার্কিন এফ-১৮ (F-18) যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের ৮১তম ধাপে ‘এমাদ’, ‘কিয়াম’, ‘খোররামশাহর-৪’ এবং ‘কদর’—এর মতো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের হাইফা, দিমোনা ও হাদেরাসহ ৭০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। একই সময়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র আরও জানান, তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ‘আলি আল সালেম’, ‘ক্যাম্প আরিফজান’ এবং ‘মুয়াফফাক সালতি’। এছাড়া এরবিলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ও জেরুজালেম কমান্ড সেন্টারে ইরানের ভয়াবহ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২০:১০:০৭
ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ও জেরুজালেম কমান্ড সেন্টারে ইরানের ভয়াবহ হামলা
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কড়া নজরদারি এড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক হৃদপিণ্ড জেরুজালেমের ‘মিলিটারি কমান্ড সেন্টার’ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করল ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে আইআরজিসি-র পরিচালিত এই হামলায় বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী ড্রোন ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিনের তীব্র উত্তেজনার মাঝে এটিই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের চালানো সবচেয়ে বড় ও সরাসরি আঘাত।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলি পরমাণু কেন্দ্রে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান দাবি করছে, তাদের এই হামলা সফল হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কবচ ‘আয়রণ ডোম’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসি-র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের কমান্ডারদের হত্যার যে দুঃসাহস জায়নিস্টরা দেখিয়েছে, এটি তার কেবল শুরু। আমাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল তাদের কমান্ড সেন্টার এবং পারমাণবিক শক্তির উৎস।”

এদিকে, জেরুজালেমে আইডিএফ-এর কমান্ড দপ্তরে হামলার খবরের পর শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও দেশটির গণমাধ্যমগুলো আকাশসীমায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু স্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক ভয়ংকর ও নিয়ন্ত্রণহীন মোড় নিল।

/আশিক


হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৯:৪১:৪১
হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত আলিরেজা তাংসিরি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে বান্দর আব্বাসে এক ‘ল্যাথাল’ বা মারাত্মক অভিযানে তাকে ও তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগীকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান একে একে তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে। এই তালিকায় তাংসিরি হলেন সর্বশেষ হাই-প্রোফাইল টার্গেট। ২০১৮ সাল থেকে আইআরজিসি-র নৌপ্রধানের দায়িত্বে থাকা তাংসিরি গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিচ্ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই বিশ্ববাজারের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ইরান সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং তারা এখন একটি চুক্তির জন্য ‘বেগিং’ বা ভিক্ষা করছে। এদিকে, তাংসিরির মৃত্যুর খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে আরও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বান্দর আব্বাসের একটি গোপন ডেরায় তাংসিরি যখন নৌ-কৌশল নিয়ে বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই ৩টি নিখুঁত মিসাইল আঘাত হানে।

/আশিক


একবার সময় পেরিয়ে গেলে আর ফেরার পথ নেই: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৯:৩২:৩২
একবার সময় পেরিয়ে গেলে আর ফেরার পথ নেই: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌপ্রধান কমোডোর আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবির মুখে ইরানকে পুনরায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “খুব দেরি হওয়ার আগেই ইরানি আলোচকদের সিরিয়াস হওয়া উচিত। কারণ একবার সময় পেরিয়ে গেলে আর ফেরার পথ থাকবে না এবং পরিস্থিতি মোটেও ভালো হবে না।”

ট্রাম্পের এই হুমকি এমন এক সময়ে এল যখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন যে, বুধবার রাতে বন্দর আব্বাসে এক নিখুঁত বিমান হামলায় আলিরেজা তাংসিরি এবং আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নৌ-কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, তাংসিরিই মূলত হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো এবং জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির মূল কারিগর ছিলেন। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি, তবে বন্দর আব্বাসে বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন যে, ইরান সামরিকভাবে প্রায় ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ এবং সেখান থেকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে গত কয়েক দিন ধরে ট্রাম্প বারবার ‘গোপন ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের মাধ্যমে কেবল বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যা কোনোভাবেই ‘সরাসরি আলোচনা’ নয়। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবিগুলোকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি কেবল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর একটি অপকৌশল।

/আশিক


হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জন্য সেফ প্যাসেজ: বিশেষ পাহারায় চলবে জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৮:০৯:০২
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জন্য সেফ প্যাসেজ: বিশেষ পাহারায় চলবে জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই বিশেষ তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তবে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও শত্রু দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইরান তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র বা যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্যমতে, গত ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। এমন অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি


তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৭:২৯:৫৩
তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

তেল আবিবের আকাশে হঠাৎ হাজারো কাকের রহস্যময় ওড়াউড়ি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকেলে শহরের সুউচ্চ আজরিয়েলি টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বিশাল এক ঝাঁক কাককে চক্কর দিতে দেখা যায়। এই নাটকীয় দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা ও ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কোনো ‘মহাবিপর্যয়ের সংকেত’ বা অশুভ লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনাও তুঙ্গে উঠেছে। অনেক ব্যবহারকারী বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৯তম অধ্যায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করছেন, এটি হয়তো ‘আর্মাগেডন’ বা চূড়ান্ত যুদ্ধের সেই ক্ষণ, যেখানে পাখিদের ‘ঈশ্বরের মহাভোজে’ জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, কাকের এই বিশাল বাহিনী তেল আবিবের আকাশকে এমনভাবে ঢেকে ফেলেছিল যে মনে হচ্ছিল কালো মেঘ একদিক থেকে অন্যদিকে ছুটে যাচ্ছে, যা শহরবাসীর মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

তবে জনসাধারণের এই ভীতি আর অলৌকিক বিশ্বাসের বিপরীতে বিজ্ঞানীরা একে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। পাখি গবেষকদের মতে, এটি কোনো অতিপ্রাকৃত বা অশুভ লক্ষণ নয়; বরং ইসরায়েল ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরিযায়ী পাখি চলাচল পথের ওপর অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বসন্তকালে প্রায় ৫০ কোটি পাখি ইসরায়েলের আকাশপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে। এই সময়ে বিশেষ করে ‘হুডেড’ জাতের কাকগুলো দলবদ্ধভাবে উঁচু এলাকায় জড়ো হয় এবং আকাশে এমন মহড়া দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে যা ‘মহাপ্রলয়ের সংকেত’ মনে হচ্ছে, বিজ্ঞানীদের মতে তা প্রকৃতির এক নিয়মিত বার্ষিক প্রক্রিয়া মাত্র।

সূত্র- ডেইলি মেইল


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন সেনা মোতায়েন করছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৪:০৬:০৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন সেনা মোতায়েন করছে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে পরিবর্তন করছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এমন কোনো আলোচনা বাস্তবে হচ্ছে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক যুদ্ধের পর এটিই এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ।

বর্তমানে আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিকে কেন্দ্র করে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয়ভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করছে। অন্যদিকে জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরিটি মেরামতের জন্য ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করায় সাময়িকভাবে অভিযানের বাইরে রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৯ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদরদপ্তর, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন যুদ্ধের কৌশলগত মূল ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার স্থলবাহিনী মোতায়েনও জোরদার করছে। পেন্টাগনের নির্দেশে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি দুইটি মেরিন বাহিনী ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রিপোলি এবং বক্সার নামের উভচর আক্রমণ জাহাজকে কেন্দ্র করে গঠিত এই বাহিনীসমূহ সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের জন্য নয়, বরং সীমিত ও দ্রুত সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত। সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপ দখল, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় দ্রুত আঘাত হানা।

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও সমান্তরালে চলছে। পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে যোগাযোগের তথ্যও সামনে এসেছে।

তবে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এই দ্বৈত বাস্তবতা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপের মাধ্যমে আলোচনায় সুবিধা আদায় করতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলের দুটি ট্যাংকে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:৩৯:৪৩
ইসরায়েলের দুটি ট্যাংকে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তাদের যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি দুটি যুদ্ধ ট্যাংক সফলভাবে আঘাত করেছে। ঘটনাটি মারজায়ুন জেলার কান্তারা এলাকার কাছে সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু দুটি ট্যাংক নয়, একই দিনে ওই এলাকায় মোট সাতটি ইসরায়েলি ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংঘর্ষের মাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর দক্ষিণাংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:১৫:২১
হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পারদ চড়িয়ে এবার তেহরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে’ খুলে না দিলে ইরানের বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অচল থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই ওয়াশিংটন এই চরম আল্টিমেটাম দিল।

ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাল্টা উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের আঘাত করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যেই তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া এই ‘৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা’ এখন পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের আশঙ্কায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষই যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

/আশিক


বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১১:৫০:২০
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, গত মঙ্গলবার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল ১ নম্বর ইউনিটের একেবারে গা-ঘেঁষে এই হামলা চালানো হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি প্রলয়ঙ্করী পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে একটি বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত সাধারণ ইরানি নাগরিক এবং সেখানে অবস্থানরত রুশ বিশেষজ্ঞদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

ক্রেমলিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সেফগার্ড চুক্তির আওতাভুক্ত এই স্থাপনার আশেপাশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আইএইএ এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা বা আশ্বাস এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। ফলে শঙ্কা কাটছে না বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে তার শীর্ষ নেতৃত্বকে হারিয়েছে, যার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বুশেহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: