ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব ‘ছুড়ে ফেলে দিল’ ইরান: পাল্টা কঠিন শর্তে বিপাকে হোয়াইট হাউস

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২১:৫৪:১৭
ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব ‘ছুড়ে ফেলে দিল’ ইরান: পাল্টা কঠিন শর্তে বিপাকে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার উচ্চাভিলাষী ‘শান্তি পরিকল্পনা’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাব পাওয়ার পর তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলো তাদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

এর পরিবর্তে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেশ যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিজস্ব একগুচ্ছ কঠোর ও একগুঁয়ে দাবি পেশ করেছে। এর আগে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করলেও ইরান শুরু থেকেই কোনো ধরনের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। তবে বুধবার ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়ার খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান তার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোতে যেমন পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রেস টিভি এই দাবিকে বাস্তববিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় প্রবল প্রভাব বিস্তারকারী ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না।

এছাড়া ইরান এখন থেকে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালির’ ওপর তাদের পূর্ণ আইনি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। তেহরানের পরিকল্পনা হলো মিসর যেভাবে সুয়েজ খাল থেকে শুল্ক আদায় করে, ইরানও সেভাবে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত ফি সংগ্রহ করবে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার মধ্যে ১৪টি পয়েন্টে মূলত ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল ইরানকে তাদের বিদ্যমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আইএইএ-র কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাল্লা ও পরিমাণ সীমিত করার প্রস্তাবও ছিল সেখানে। বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে বা এটি সীমিত করতে স্পষ্টভাবে রাজি হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই পাল্টা দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রকাশিত ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে ইরানের এই নতুন দাবিগুলোর সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের আয়ের একটি নতুন স্থায়ী উৎস নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো আলোচনায় না বসায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের নিজস্ব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেবল তারা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


খামেনি-পেজেশকিয়ান আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:৪৯:৩১
খামেনি-পেজেশকিয়ান আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলি খামেনির সঙ্গে রাজধানী তেহরানে এক দীর্ঘ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) বিস্তারিত কিছু না জানালেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই শীর্ষ নেতার এই আলোচনায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো সর্বোচ্চ নেতার বিনয়ী, আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ। পেজেশকিয়ানের মতে, খামেনির দৃষ্টিভঙ্গি ও কথোপকথনের ধরন পুরো বৈঠকের পরিবেশকে বিশ্বাস, শান্তি ও সরাসরি সংলাপভিত্তিক পরিবেশে রূপ দিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার এই ‘সবুজ সংকেত’ ইরানের আগামী দিনের বৈদেশিক নীতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

/আশিক


আমাদের আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব: ইরানের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:২৩:১৬
আমাদের আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব: ইরানের প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হুমকির মুখে চরম অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান কখনোই কোনো শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের বলপ্রয়োগে বাধ্য করা অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করবে আর অন্যদিকে ইরান তাদের একতরফা দাবি মেনে নেবে—এমন সমীকরণ কোনোদিন সফল হবে না।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক হুমকি সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ইরান সংলাপের জন্য সর্বদা প্রস্তুত, তবে হুমকি বা ভয়ভীতির ভাষায় কোনো ফল আসবে না। বিশেষ করে পারমাণবিক প্রযুক্তি ত্যাগের মার্কিন দাবি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে তিনি একে ইরানের বছরের পর বছর ধরে চলা জাতীয় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নিজেদের এই সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

ফোনালাপে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি ইরানের শক্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে জানান, ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কেবল তাদের একার নয়, বরং তা শিয়া অনুসারীসহ সকল মুসলমানের জন্য সহায়ক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী দায়েশ দমনে ইরানের অবদান ছিল নির্ণায়ক। আল-জাইদি মনে করেন, ইরানের কাছ থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া ইরাক কখনোই মেনে নেবে না, কারণ ইরানের শক্তিই ইরাকের শক্তি।

দুই দেশের সম্পর্ককে 'এক অভিন্ন আত্মার দুটি সত্তা' হিসেবে উল্লেখ করে আল-জাইদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অঙ্গীকার করেন। তিনি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। ওয়াশিংটন যেমন ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সক্ষম নয়, তেমনি কোনো সামরিক সংঘাতও এই সমস্যার টেকসই সমাধান হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র : আল-জাজিরা ও প্রেস টিভি


কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না হরমুজ প্রণালি? ফাঁস হলো ইরানের গোপন রণকৌশল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ২১:২৯:৪৯
কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না হরমুজ প্রণালি? ফাঁস হলো ইরানের গোপন রণকৌশল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইরানের সংসদের দ্বিতীয় ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আর কখনোই তার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলি নিকজাদ স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে আসা একটি আদেশ। মূলত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই সংকটের ফলে এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় রণক্ষেত্র ও জলপথের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরবর্তী দফার আলোচনার চেষ্টা চললেও হরমুজ প্রণালির এই ‘স্থায়ী পরিবর্তন’-এর ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


মার্কিন অর্থনীতি ধসের মুখে? বিনিয়োগকারীদের পালানোর পরামর্শ ইরানের

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২০:৫৭:১২
মার্কিন অর্থনীতি ধসের মুখে? বিনিয়োগকারীদের পালানোর পরামর্শ ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এক চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। শনিবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি বিনিয়োগ ও সম্পদের ওপর তেহরানের প্রভাব এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তিনি বড় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ থাকতেই মার্কিন বাজার থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গালিবাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই তাদের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে অঘোষিত বা গোপন বাধার মুখে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে মোট সম্পদের এক অঙ্কের শতাংশের বেশি বিক্রি করার ওপর অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন বন্ড বাজার ও ট্রেজারি বন্ডের আয়ের (Yield Curve) ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে ‘কারেন্সি সোয়াপ’ চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করে বলেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে তাদের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নিজেদের রক্ষা করতে একটি ‘আর্থিক নিরাপত্তা জাল’ বা ফিন্যান্সিয়াল সেফটি নেট নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দেশটি।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের হত্যার পর থেকে এই সংঘাত চরম রূপ নেয়। এর জবাবে ইরান প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা: মোজতবা খামেনির ক্ষমতা নিয়ে বিবিসির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ২১:২৪:০১
পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা: মোজতবা খামেনির ক্ষমতা নিয়ে বিবিসির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ক্ষমতা কাঠামোতে এখন এক রহস্যময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে গত মার্চ মাসে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তাঁকে কোনো জনসমক্ষে বা ভিডিও বার্তায় দেখা না যাওয়ায় তেহরানের প্রকৃত ক্ষমতা আসলে কার হাতে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি পর্দার আড়াল থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি নিজে সরাসরি সামনে আসছেন না, তবে তাঁর নামেই সব বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের ক্ষমতা মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে

১. আইআরজিসি-র প্রভাব

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে একটি সমান্তরাল সরকার হিসেবে কাজ করছে। যুদ্ধে অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হারালেও আইআরজিসি-র প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ এখনও অটুট।

২. মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ বর্তমানে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। আইআরজিসি-র সাথে তাঁর গভীর সম্পর্কের কারণে তিনি শাসনব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখছেন।

৩. প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

যদিও পেজেশকিয়ান নিয়মিত বিবৃতি দিচ্ছেন, তবে বিশ্লেষকদের মতে তাঁর হাতে ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

পর্দার আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনির ‘নির্দেশনা’ অনুযায়ী আলোচনাকারীরা কাজ করছেন বলে দাবি করা হলেও, খোদ সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এক বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরানের অনাগ্রহ মূলত আইআরজিসি এবং কট্টরপন্থীদের প্রভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে টোল আদায় শুরু: সাগরে ইরানের নয়া আধিপত্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৮:০২:৫৯
ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে টোল আদায় শুরু: সাগরে ইরানের নয়া আধিপত্য
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে প্রথমবারের মতো ‘টোল’ বা জাহাজ চলাচলের মাশুল আদায় করে বড় ধরনের আয়ের মুখ দেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে প্রাপ্ত প্রথম পর্যায়ের আয় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে।” তবে নিরাপত্তার খাতিরে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ আদায় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা হাতে নেয়। উল্লেখ্য যে, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই হয়ে থাকে। গত ৩০ মার্চ ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এই টোল আদায়ের প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ইরানের কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলাকালে এই জলপথে নৌচলাচল আর আগের মতো স্বাভাবিক বা বিনামূল্যে হবে না।

ইরানের এই পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্প শুরু থেকেই কোনো শর্ত ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ৩০টিরও বেশি দেশের সামরিক নীতিনির্ধারকরা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্বের এই চাপ ও সামরিক হুমকিকে তোয়াক্কা না করেই ইরান বাণিজ্যিকভাবে টোল আদায় শুরু করে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।


দাবার চাল এবার ইরানের? জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশালাকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১১:৪৩:০৫
দাবার চাল এবার ইরানের? জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশালাকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজপথ এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী আর যুদ্ধংদেহী স্লোগানে উত্তপ্ত। মঙ্গলবার রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে সরকারপন্থী বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে ইসরায়েল ও আমেরিকাকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান।

তেহরানের প্রধান একটি চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বিশালাকার গদর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশের ভিডিওতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা ও জনসাধারণের চলাচলের পথেই সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এই বিধ্বংসী অস্ত্র। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন এবং আইআরজিসি (IRGC)-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভির প্রশংসা করে তেল আবিব লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার আহ্বান জানান।

তেহরানের অন্য একটি চত্বরে প্রদর্শিত হয় ইরানের অন্যতম শক্তিশালী খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু রাজধানীই নয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক রাজধানী শিরাজ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ এবং পশ্চিম-কেন্দ্রীয় প্রদেশ জাঞ্জানেও একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং জাতীয় মনোবল চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন শহরে এই ধরণের সমাবেশ আয়োজিত হচ্ছে। এসব সমাবেশে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সূত্র : বিবিসি।


যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চমক দেখাবে ইরান: ট্রাম্পের চাপের মুখে গালিবাফের রহস্যময় পোস্ট

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১০:০৫:২২
যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চমক দেখাবে ইরান: ট্রাম্পের চাপের মুখে গালিবাফের রহস্যময় পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব এবং সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার মুখে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির ছায়ায় কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না তেহরান।

গালিবাফ অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নৌ-অবরোধ জারি রেখে চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ট্রাম্প ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছেন এবং চাপের মাধ্যমে আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের প্ল্যাটফর্মে’ পরিণত করার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব নয়।"

পার্লামেন্ট স্পিকার আরও সতর্ক করে দেন যে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে ‘নতুন কৌশল’ বা ‘নতুন তাস’ সামনে আনা হবে। সমুদ্রপথে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং মার্কিন কর্মকাণ্ডের ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহলও যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে।

সূত্র : প্রেসটিভি


লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর! উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে এবার ধর্মীয় আবেগে আঘাত

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ২১:৪৪:০৩
লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর! উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে এবার ধর্মীয় আবেগে আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দেবেল গ্রামে যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ও ক্রুশ ভাঙচুরের ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর চলমান যুদ্ধের কালো ছায়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের এই গ্রামটি মূলত খ্রিস্টান অধ্যুষিত, যেখানে পবিত্র প্রতীকের ওপর এমন আঘাত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং গাজা থেকে পশ্চিম তীর এবং দক্ষিণ লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের এক দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক তালিকার নতুন সংযোজন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে চামা গ্রামের ঐতিহাসিক মাকাম শামুন আল-সাফা মাজার ধ্বংস এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেবেলে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননা—সবই মধ্যপ্রাচ্যের বহুত্ববাদী সমাজের মূলে আঘাত করছে।

বিশেষ করে শামুন আল-সাফার মাজারটি মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত পবিত্র ছিল, যা সেন্ট পিটারের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কেবল অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং হাজার বছরের ধর্মীয় সহাবস্থানের ইতিহাসকেও সংকটে ফেলছে।

সূত্র: নিউ আরব

পাঠকের মতামত: