ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব ‘ছুড়ে ফেলে দিল’ ইরান: পাল্টা কঠিন শর্তে বিপাকে হোয়াইট হাউস

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২১:৫৪:১৭
ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব ‘ছুড়ে ফেলে দিল’ ইরান: পাল্টা কঠিন শর্তে বিপাকে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার উচ্চাভিলাষী ‘শান্তি পরিকল্পনা’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাব পাওয়ার পর তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলো তাদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

এর পরিবর্তে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেশ যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিজস্ব একগুচ্ছ কঠোর ও একগুঁয়ে দাবি পেশ করেছে। এর আগে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করলেও ইরান শুরু থেকেই কোনো ধরনের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। তবে বুধবার ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়ার খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান তার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোতে যেমন পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রেস টিভি এই দাবিকে বাস্তববিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় প্রবল প্রভাব বিস্তারকারী ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না।

এছাড়া ইরান এখন থেকে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালির’ ওপর তাদের পূর্ণ আইনি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। তেহরানের পরিকল্পনা হলো মিসর যেভাবে সুয়েজ খাল থেকে শুল্ক আদায় করে, ইরানও সেভাবে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত ফি সংগ্রহ করবে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার মধ্যে ১৪টি পয়েন্টে মূলত ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল ইরানকে তাদের বিদ্যমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আইএইএ-র কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাল্লা ও পরিমাণ সীমিত করার প্রস্তাবও ছিল সেখানে। বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে বা এটি সীমিত করতে স্পষ্টভাবে রাজি হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই পাল্টা দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রকাশিত ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে ইরানের এই নতুন দাবিগুলোর সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের আয়ের একটি নতুন স্থায়ী উৎস নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো আলোচনায় না বসায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের নিজস্ব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেবল তারা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি হামলার লক্ষ্য কী? বিবিসির বিশেষ বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:৪৮:৫৪
প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি হামলার লক্ষ্য কী? বিবিসির বিশেষ বিশ্লেষণ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়েছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকালে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ অঞ্চলের একাধিক দেশে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইনও এই অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে এই দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হানা শুরু করে। যদিও প্রাথমিক কিছু হামলার পর তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-আশার এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ‘নিরাপদ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করতে চাইছে। এছাড়া বিশ্ববাজারের জন্য অপরিহার্য তেল ও গ্যাস খাতে বিঘ্ন ঘটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৌশলগত চাপ তৈরি করাই ইরানের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এই আক্রমণের মাধ্যমে ইরান আসলে আরব বিশ্বকে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে। তেহরান চায়, আরব দেশগুলো তাদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করুক। এই বহুমুখী সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় নেই, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বুধবার সকালের এই হামলার পর সৌদি ও কুয়েতি কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


তেল উত্তোলনে বড় ধস: উত্তাল পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার জেরে কুয়েতের পিছুটান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:১৫:২৯
তেল উত্তোলনে বড় ধস: উত্তাল পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার জেরে কুয়েতের পিছুটান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তা সংকটের জেরে খনিজ তেল উত্তোলন ব্যাপক হারে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে উৎপাদন কমিয়ে আনার এই কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, গত ১০ মার্চ কুয়েতের দৈনিক তেল উত্তোলনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ লাখ ব্যারেল, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। উল্লেখ্য যে, কুয়েত সাধারণত প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল উৎপাদন করে থাকে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এই উৎপাদন হ্রাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী জাহাজ এই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটে একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান এই সংকটে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, যতদিন যুদ্ধ চলবে, ততদিন এসব দেশের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে কুয়েতের এই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


যুদ্ধের প্রভাবে থমকে গেছে দুবাইয়ের প্রোপার্টি মার্কেট: বিনিয়োগকারীদের পিছুটান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:৩৫:৩৯
যুদ্ধের প্রভাবে থমকে গেছে দুবাইয়ের প্রোপার্টি মার্কেট: বিনিয়োগকারীদের পিছুটান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দুবাইয়ের আবাসন খাতে। দীর্ঘকাল ধরে বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘নিরাপদ স্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই শহরের প্রোপার্টি মার্কেটে ধস নামার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় গত কয়েক সপ্তাহে আবাসন খাতের লেনদেনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও ভিলা বিক্রির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমেছে।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি সাম্প্রতিক নোট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম ১২ দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। এমনকি গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই পতনের হার ৪৯ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করা যাচ্ছে বুর্জ খলিফার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ারের দরেও; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ২৬ শতাংশেরও বেশি কমেছে। আবাসন এজেন্টদের বরাতে জানা গেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে 'কুইক সেল' বা দ্রুত বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দুবাইয়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত কয়েক বছর ধরে বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে তা ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মন্দা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ের প্রোপার্টি মার্কেটে প্রতি বছর গড়ে ৭ শতাংশ হারে দাম কমতে পারে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের আকাশচুম্বী উত্থানের পর দুবাইয়ের আবাসন খাত এখন তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।

/আশিক


যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:২৫:২৯
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মাসব্যাপী চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) হিব্রু সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের এই ‘পাল্টা চাল’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের উত্থাপিত ৫টি দাবি পূরণ ছাড়া তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না। ইরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। চতুর্থত, যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পঞ্চমত, ইরান বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে এবং ইরান বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। তবে ইরানের এই ‘পাঁচ কঠিন শর্ত’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহারের মতো দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন এই পাঁচ শর্তের টেবিল আর রণক্ষেত্রের বাস্তবতার মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

/আশিক


সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:১৪:৩৭
সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকাল পর্যন্ত ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সৌদি আরব, কুয়েত, ইসরায়েল এবং বাহরাইন লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, কুয়েতে এক রাতেই সর্বোচ্চ ১৩ বার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা কয়েক ডজন ড্রোন ও একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। বাহরাইনেও আকস্মিক হামলার সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও তেল আবিব এলাকাতেও হিজবুল্লাহ ও ইরানের বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। লেবানন সীমান্ত থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে কিরিয়াত শমোনা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত এবং তেল আবিবের নিকটবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : আলজাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:১৩:১৪
মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সুর নরম করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও এই পরিকল্পনার প্রতিটি দফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আনা হয়নি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, মার্কিন এই শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

বিনিময়ে ইরানকে দেওয়া বড় ধরনের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই খসড়া প্রস্তাবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ১৫টি শর্ত মেনে নেয়, তবে দেশটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে আরোপিত সব ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র দেখেনি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই শান্তি প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২১:২৮:৩৬
ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফা এলাকার প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

বিশেষ করে তেহরান দাবি করেছে যে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অভিযান ব্যাহত করা যায়।

ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, কেবল বেসামরিক বিমানবন্দর নয়, তারা বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সামরিক ও মহাকাশ শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বন্দর নগরী হাইফাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া। বেন গুরিয়নের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ড্রোন হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিলেও বিমানবন্দরের চারপাশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত ড্রোন হামলা ইসরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

হাইফা ও তেল আবিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একের পর এক হামলার ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

/আশিক


খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আইআরজিসি: ৭ রাউন্ডের হামলায় তছনছ ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৯:৪৮:৪৭
খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আইআরজিসি: ৭ রাউন্ডের হামলায় তছনছ ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এক বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮২৯ জন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ১২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের ‘৭৭তম’ দফার হামলা শুরু করেছে। এই দফায় 'খাইবার শেকান' ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ অংশে একযোগে আঘাত হানা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এবং 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন'-এর প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান এই পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমা বাহিনীর হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। ইরানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ইরান এখন ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েতের আলি আল সালেম, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এবং আমিরাতের আল-দাফরা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একদিকে ইরানের 'সুপার-হেভি' ও 'পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট' মিসাইল সিস্টেমের ব্যবহার, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মুহুর্মুহু বিমান হামলা—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক ও কৌশলগত সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমে বেড়েই চলেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ভূখণ্ড থেকে পিছু হঠছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:৪৯:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই একটু ও পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, 'পূর্ণাঙ্গ বিজয়' অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর 'খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স'-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জেনারেল আলিয়াবাদি তার বক্তব্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত এবং অবিচল। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পথচলা থামবে না।" যদিও তিনি 'পূর্ণ বিজয়' বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আলোচনায় ইরানের সামরিক বাহিনী যে সহজে নতি স্বীকার করবে না, এটি তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের এই অনড় মনোভাবের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: