হরমুজের দখল কার হাতে যাবে? যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:৩০:৫০
হরমুজের দখল কার হাতে যাবে? যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব জেনারেল জিম ম্যাটিস এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান এই মুহূর্তে বন্ধ করা হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার্যত তেহরানের হাতে চলে যেতে পারে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

সোমবার এক নীতিনির্ধারণী সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাটিস বলেন, গত চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক চাপের পর যদি এখনই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তাহলে ইরান এটিকে নিজেদের কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরান শুধু সামরিকভাবে নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে প্রণালীটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর কর বা শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপও তারা নিতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে এক নতুন ধরনের ‘চোকপয়েন্ট পলিটিক্স’ তৈরি করবে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী ইতোমধ্যে আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত ছিল।

তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে। এই বিরতির উদ্দেশ্য হিসেবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হলেও বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে কৌশলগত দ্বিধার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ম্যাটিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিবর্তন করা ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। ইরানের সামরিক অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন এখনো অনিশ্চিত। এর ফলে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যালমেট’ বা কৌশলগত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে বিজয়ী নয়, কিন্তু প্রত্যাহারও ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষক ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে একটি স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা ঘাঁটি গড়ে তুলবে, যাতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু হঠাৎ করে আলোচনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বৈদেশিক নীতি বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালনি মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে এগোবে এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তার মতে, ইরান এই সংঘাতকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত দিতে পারে। এই ধরনের দাবি ওয়াশিংটনের পক্ষে মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব, ফলে আলোচনার পথ জটিল হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যেমন ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে যুদ্ধ থামানোও কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: পলিটিকো


মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:০৫:৩৮
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (Coastal Cruise Missile) মাধ্যমে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ২৬তম দিনে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।

ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের প্রতিটি মুভমেন্ট নিরবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এই রণতরী লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যার ফলে রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ তেহরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার শুরু হয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের অনবরত হামলা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, আল-আরাবিয়া


যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় শত শত প্রাণহানি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৮:০৬:০৭
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় শত শত প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা থামেনি; বরং নতুন করে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত ‘সিজফায়ার’ সময়কালেই ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

একই সময়ে আহতের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতে করে অঞ্চলটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও যদি এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি কার্যত একটি ‘অসম্পূর্ণ বা অকার্যকর যুদ্ধবিরতি’র প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। বাস্তবে সংঘাতের মাত্রা কমার পরিবর্তে তা নতুন রূপে অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজার পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই একটি গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অব্যাহত হামলা, চিকিৎসা সংকট, খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


'লেবাননে গাজার মতো ধ্বংস চান নেতানিয়াহু'

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৫৮:২৬
'লেবাননে গাজার মতো ধ্বংস চান নেতানিয়াহু'
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরাসরি ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ওপর গাজার মতোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কৌশল অনুসরণ করছেন।

স্পেনের জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে সানচেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের ওপর সম্ভাব্য হামলার ধরন এবং গাজার ওপর ইতোমধ্যে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। তার মতে, এই নীতি শুধু একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।

তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে ‘একটি চরম বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ কোনো ন্যায়সঙ্গত কৌশলগত প্রয়োজনের ফল নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

সানচেজ প্রশ্ন তোলেন, এই সংঘাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। তার মতে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে এবং ইরাক ও লেবাননের মতো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পুনরুজ্জীবিত করার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গাজা ইতোমধ্যেই ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে লেবাননকে একই ধরনের পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য আরও গভীর সংকট তৈরি করবে।

সূত্র: আল জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হতে পারে ইউএস আর্মির এক হাজার প্যারাট্রুপার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৫২:২১
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হতে পারে ইউএস আর্মির এক হাজার প্যারাট্রুপার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং কূটনৈতিক দরকষাকষি এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের একটি শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের শক্তিশালী ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ১০০০ জন সদস্যকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কন্টিনজেন্টে ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার এবং তাঁর কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্রুত মোতায়েনকারী বাহিনী শত্রু অঞ্চলে প্যারাসুটের মাধ্যমে অবতরণ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও কৌশলগত এলাকা দখলে পারদর্শী। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আগে সামরিক চাপ, পরে আলোচনা’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান নতুন এক ‘সার্বভৌম শাসন ব্যবস্থা’ চালু করেছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি’র বরাতে ইন্ডিয়া টুডে ও ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে ইরান এখন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ট্রানজিট ফি’ বা পারাপার শুল্ক আদায় করছে। যদিও ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে নাকচ করা হয়েছে, তবে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে অনেক জাহাজকে এই উচ্চমূল্য দিয়েই নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, একটি বড় ধরনের সমঝোতা এখন হাতের নাগালে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া তাঁর জামাতা জারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও পর্দার আড়ালে কাজ করছেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার এই শান্তি পরিকল্পনার মূল শর্ত হলো— ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের গ্যারান্টি দিতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি ‘টেকসই’ (Sustainable) এবং সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যে কোনো চুক্তিতে ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনে তাদের নায্য অধিকারের স্বীকৃতি থাকতে হবে। ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া এই ১৫ দফার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

সূত্র: সিএনএন, ইন্ডিয়া টুডে


পাকিস্তানের হাত ধরে মার্কিন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের অবসান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৪৪:৩৭
পাকিস্তানের হাত ধরে মার্কিন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের অবসান?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) নিশ্চিত করেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতির খসড়া দলিল ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো এই নথিপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং এখন বল ইরানের কোর্টে—তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই ঐতিহাসিক বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম সব মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যা এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাতের মোড় ঘুরাতে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরান তাদের দেওয়া ‘৫টি কঠোর শর্ত’ থেকে সরে আসবে কি না, কিংবা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব দেবে—তার ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।

/আশিক


জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩৯:৩২
জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা
ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জনপ্রিয়তার চরম সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তাঁর জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রায়।

জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করছেন। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ইস্যুটিই ছিল তাঁর তুরুপের তাস। এছাড়া দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের যেকোনো সময়ের চেয়েও কম।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অহেতুক যুদ্ধে’ জড়াবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করাটাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে, তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম প্রায় এক ডলার বাড়ায় বর্তমানে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি দেশের অর্থনীতিকে অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তাঁর অবস্থান এখনো শক্তিশালী থাকলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।

/আশিক


আলোচনায় ইরান কি এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:১৪:৩৩
আলোচনায় ইরান কি এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী
ইরানের নিজস্বভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযানগুলো উত্তর তেহরানের একটি বিনোদন এলাকায় স্থায়ী প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন এক কূটনৈতিক ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে, যা একটি বৃহত্তর সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ছড়ানো ভুয়া তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অভ্যন্তরীণ অস্বীকার সত্ত্বেও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে কিছু যোগাযোগ সত্যিই চলছে। মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পরোক্ষ যোগাযোগ চ্যানেল গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। তবে এই সীমিত কূটনৈতিক জানালার মধ্যেও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট সন্দিহান, কারণ দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর তেহরান এখন শুধু যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। ইরান চাইছে এমন একটি সমঝোতা, যা ভবিষ্যতে তাদের ওপর হামলার ঝুঁকি কমাবে এবং আঞ্চলিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের অব্যাহত হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান এখনো যথেষ্ট নির্ভুলতার সঙ্গে পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে। বর্তমানে শত শত জাহাজ সেখানে কার্যত আটকে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি কাতারের একটি বড় গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান তার কৌশলগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ওই দেশের রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একইভাবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।

বর্তমানে ইরানের লক্ষ্য শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করা। তাদের নতুন শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে। এমনকি দেশটির ভেতরে এই জলপথে ‘প্যাসেজ ফি’ আরোপের মতো ধারণাও আলোচনায় এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। ওয়াশিংটন চায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করুক। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। অতীতে আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যেকোনো সম্ভাব্য আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নিরাপত্তা নেতৃত্বের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটি আপসের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতিতেই বেশি মনোযোগী।

সূত্র: আল জাজিরা


ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:৩৯:৪৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে, যেখানে রাশিয়া একদিনে নজিরবিহীন সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়ে সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাশিয়া প্রায় ৯৪৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যা এই যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিনের বেলাতেও হামলা চালানোর ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন এবং ভিন্নিৎসিয়া অঞ্চলে আরও একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

এদিকে লভিভ শহরে একটি ড্রোন ঐতিহাসিক স্থাপনার কাছে আঘাত হানার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অঞ্চলটির গভর্নর জানিয়েছেন, ১৭শ শতাব্দীর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চকে ঘিরে থাকা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও একটি বড় ধাক্কা।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো এই হামলাকে সরাসরি জনবহুল শহরকেন্দ্রে দিনের আলোয় চালানো আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

দিনের হামলার আগে রাতভর ইউক্রেনের অন্তত ১১টি অঞ্চলে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়। এতে মোট পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে পোলতাভা অঞ্চলে দুইজন এবং জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও খারকিভ অঞ্চলে একজন করে নিহত হন।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শিগগিরই ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাতেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চুক্তির কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনকে ভবিষ্যৎ আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত চার দিনে রাশিয়া অন্তত ৬১৯টি আক্রমণ চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (ISW) বলছে, এসব তৎপরতা রাশিয়ার নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বসন্ত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় রাশিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে থাকে।

তবে এত বড় আকারের হামলা সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো বড় শহর দখলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তাদের অগ্রগতি মূলত গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রিক এবং ধীরগতির বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:১৬:৪১
যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও যুদ্ধের গতিপথ এখনো অনিশ্চয়তায় আবৃত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, আলোচনার এই দাবিগুলো মূলত আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে তেল ও শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল মাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন বয়ান তুলে ধরছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে আলোচনা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিটি পক্ষের কৌশলগত লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করলে কিছুটা বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

ট্রাম্পের “অগ্রগতি হয়েছে” ধরনের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতে খুলেছে এবং একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এই সময়সীমা আবার ট্রেডিং সপ্তাহের শেষের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য ওঠানামা করেছে এবং এক পর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত বাজারকে স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরান এই ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে বিপরীত কৌশল গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হতে পারে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ইরান মনে করে, এই অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধের বাস্তবতা ও পরিণতি সম্পর্কে পূর্বের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

এই অবস্থায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি বাড়ানো, অন্যদিকে একটি সমঝোতায় পৌঁছে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে ইরানি তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০১৯ সালের পর প্রথম এমন পদক্ষেপ। এটি ইঙ্গিত করে যে, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন কৌশলগত নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অবস্থানও জটিল। একদিকে তারা উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসাবে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, তারা বিশ্বাস করে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ইরানের কৌশলগত হিসাব থাকতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়।

তবে ইরানের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী গোষ্ঠী মনে করে, একটি কার্যকর প্রতিরোধ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন আলোচনায় বসার সময় এসেছে। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা বা হরমুজ প্রণালিতে বেশি প্রভাবের মতো কিছু ছাড় আদায় করতে পারে, তাহলে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: