মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (Coastal Cruise Missile) মাধ্যমে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ২৬তম দিনে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।
ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের প্রতিটি মুভমেন্ট নিরবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এই রণতরী লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যার ফলে রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ তেহরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার শুরু হয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের অনবরত হামলা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, আল-আরাবিয়া
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় শত শত প্রাণহানি
গাজা উপত্যকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা থামেনি; বরং নতুন করে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত ‘সিজফায়ার’ সময়কালেই ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে আহতের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতে করে অঞ্চলটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও যদি এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি কার্যত একটি ‘অসম্পূর্ণ বা অকার্যকর যুদ্ধবিরতি’র প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। বাস্তবে সংঘাতের মাত্রা কমার পরিবর্তে তা নতুন রূপে অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই একটি গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অব্যাহত হামলা, চিকিৎসা সংকট, খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
'লেবাননে গাজার মতো ধ্বংস চান নেতানিয়াহু'
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরাসরি ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ওপর গাজার মতোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কৌশল অনুসরণ করছেন।
স্পেনের জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে সানচেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের ওপর সম্ভাব্য হামলার ধরন এবং গাজার ওপর ইতোমধ্যে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। তার মতে, এই নীতি শুধু একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।
তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে ‘একটি চরম বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ কোনো ন্যায়সঙ্গত কৌশলগত প্রয়োজনের ফল নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
সানচেজ প্রশ্ন তোলেন, এই সংঘাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। তার মতে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে এবং ইরাক ও লেবাননের মতো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পুনরুজ্জীবিত করার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গাজা ইতোমধ্যেই ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে লেবাননকে একই ধরনের পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য আরও গভীর সংকট তৈরি করবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হতে পারে ইউএস আর্মির এক হাজার প্যারাট্রুপার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং কূটনৈতিক দরকষাকষি এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের একটি শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের শক্তিশালী ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ১০০০ জন সদস্যকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কন্টিনজেন্টে ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার এবং তাঁর কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্রুত মোতায়েনকারী বাহিনী শত্রু অঞ্চলে প্যারাসুটের মাধ্যমে অবতরণ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও কৌশলগত এলাকা দখলে পারদর্শী। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আগে সামরিক চাপ, পরে আলোচনা’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান নতুন এক ‘সার্বভৌম শাসন ব্যবস্থা’ চালু করেছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি’র বরাতে ইন্ডিয়া টুডে ও ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে ইরান এখন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ট্রানজিট ফি’ বা পারাপার শুল্ক আদায় করছে। যদিও ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে নাকচ করা হয়েছে, তবে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে অনেক জাহাজকে এই উচ্চমূল্য দিয়েই নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, একটি বড় ধরনের সমঝোতা এখন হাতের নাগালে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া তাঁর জামাতা জারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও পর্দার আড়ালে কাজ করছেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার এই শান্তি পরিকল্পনার মূল শর্ত হলো— ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের গ্যারান্টি দিতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি ‘টেকসই’ (Sustainable) এবং সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যে কোনো চুক্তিতে ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনে তাদের নায্য অধিকারের স্বীকৃতি থাকতে হবে। ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া এই ১৫ দফার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
সূত্র: সিএনএন, ইন্ডিয়া টুডে
পাকিস্তানের হাত ধরে মার্কিন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের অবসান?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) নিশ্চিত করেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতির খসড়া দলিল ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো এই নথিপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং এখন বল ইরানের কোর্টে—তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই ঐতিহাসিক বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম সব মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যা এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাতের মোড় ঘুরাতে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরান তাদের দেওয়া ‘৫টি কঠোর শর্ত’ থেকে সরে আসবে কি না, কিংবা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব দেবে—তার ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
/আশিক
জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জনপ্রিয়তার চরম সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তাঁর জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রায়।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করছেন। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ইস্যুটিই ছিল তাঁর তুরুপের তাস। এছাড়া দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের যেকোনো সময়ের চেয়েও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অহেতুক যুদ্ধে’ জড়াবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করাটাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে, তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম প্রায় এক ডলার বাড়ায় বর্তমানে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি দেশের অর্থনীতিকে অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তাঁর অবস্থান এখনো শক্তিশালী থাকলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।
/আশিক
আলোচনায় ইরান কি এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন এক কূটনৈতিক ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে, যা একটি বৃহত্তর সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ছড়ানো ভুয়া তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অভ্যন্তরীণ অস্বীকার সত্ত্বেও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে কিছু যোগাযোগ সত্যিই চলছে। মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পরোক্ষ যোগাযোগ চ্যানেল গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। তবে এই সীমিত কূটনৈতিক জানালার মধ্যেও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট সন্দিহান, কারণ দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর তেহরান এখন শুধু যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। ইরান চাইছে এমন একটি সমঝোতা, যা ভবিষ্যতে তাদের ওপর হামলার ঝুঁকি কমাবে এবং আঞ্চলিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের অব্যাহত হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান এখনো যথেষ্ট নির্ভুলতার সঙ্গে পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে। বর্তমানে শত শত জাহাজ সেখানে কার্যত আটকে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি কাতারের একটি বড় গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান তার কৌশলগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ওই দেশের রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একইভাবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
বর্তমানে ইরানের লক্ষ্য শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করা। তাদের নতুন শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে। এমনকি দেশটির ভেতরে এই জলপথে ‘প্যাসেজ ফি’ আরোপের মতো ধারণাও আলোচনায় এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। ওয়াশিংটন চায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করুক। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সবচেয়ে বড় বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। অতীতে আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যেকোনো সম্ভাব্য আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নিরাপত্তা নেতৃত্বের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটি আপসের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতিতেই বেশি মনোযোগী।
সূত্র: আল জাজিরা
ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে, যেখানে রাশিয়া একদিনে নজিরবিহীন সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়ে সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাশিয়া প্রায় ৯৪৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যা এই যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিনের বেলাতেও হামলা চালানোর ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন এবং ভিন্নিৎসিয়া অঞ্চলে আরও একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
এদিকে লভিভ শহরে একটি ড্রোন ঐতিহাসিক স্থাপনার কাছে আঘাত হানার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অঞ্চলটির গভর্নর জানিয়েছেন, ১৭শ শতাব্দীর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চকে ঘিরে থাকা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও একটি বড় ধাক্কা।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো এই হামলাকে সরাসরি জনবহুল শহরকেন্দ্রে দিনের আলোয় চালানো আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
দিনের হামলার আগে রাতভর ইউক্রেনের অন্তত ১১টি অঞ্চলে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়। এতে মোট পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে পোলতাভা অঞ্চলে দুইজন এবং জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও খারকিভ অঞ্চলে একজন করে নিহত হন।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শিগগিরই ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাতেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চুক্তির কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনকে ভবিষ্যৎ আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত চার দিনে রাশিয়া অন্তত ৬১৯টি আক্রমণ চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (ISW) বলছে, এসব তৎপরতা রাশিয়ার নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বসন্ত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় রাশিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে থাকে।
তবে এত বড় আকারের হামলা সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো বড় শহর দখলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তাদের অগ্রগতি মূলত গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রিক এবং ধীরগতির বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও যুদ্ধের গতিপথ এখনো অনিশ্চয়তায় আবৃত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, আলোচনার এই দাবিগুলো মূলত আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে তেল ও শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল মাত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন বয়ান তুলে ধরছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে আলোচনা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিটি পক্ষের কৌশলগত লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করলে কিছুটা বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
ট্রাম্পের “অগ্রগতি হয়েছে” ধরনের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতে খুলেছে এবং একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এই সময়সীমা আবার ট্রেডিং সপ্তাহের শেষের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য ওঠানামা করেছে এবং এক পর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত বাজারকে স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান এই ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে বিপরীত কৌশল গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হতে পারে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ইরান মনে করে, এই অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধের বাস্তবতা ও পরিণতি সম্পর্কে পূর্বের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি বাড়ানো, অন্যদিকে একটি সমঝোতায় পৌঁছে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে ইরানি তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০১৯ সালের পর প্রথম এমন পদক্ষেপ। এটি ইঙ্গিত করে যে, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন কৌশলগত নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের অবস্থানও জটিল। একদিকে তারা উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসাবে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, তারা বিশ্বাস করে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ইরানের কৌশলগত হিসাব থাকতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়।
তবে ইরানের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী গোষ্ঠী মনে করে, একটি কার্যকর প্রতিরোধ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন আলোচনায় বসার সময় এসেছে। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা বা হরমুজ প্রণালিতে বেশি প্রভাবের মতো কিছু ছাড় আদায় করতে পারে, তাহলে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৌদি-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কূটনৈতিক মোড় নিয়েছে, যেখানে একদিকে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনাও ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে ইরানের সামনে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে, যার জবাবে তেহরানও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য পাঁচটি শর্ত তুলে ধরেছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে একটি সক্রিয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শরিফ জানান, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের ‘সংযমী’ ভূমিকার প্রশংসা করেন, যা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ করা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি তিনি মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা এই সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ইতোমধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগ সম্পর্কে সৌদি নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ সংঘাত নিরসনে একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পাকিস্তানের এই শান্তি প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। একই সঙ্গে উভয় নেতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
পাঠকের মতামত:
- মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!
- পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল
- তথ্য সংরক্ষণে আরও স্মার্ট চ্যাটজিপিটি; লাইব্রেরি ফিচারে বদলে যাবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
- ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
- যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় শত শত প্রাণহানি
- কুমিল্লা রেললাইনে রক্তের দাগ, পড়ে আছে চারটি জুতা
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেটে বাংলাদেশ
- 'লেবাননে গাজার মতো ধ্বংস চান নেতানিয়াহু'
- মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হতে পারে ইউএস আর্মির এক হাজার প্যারাট্রুপার
- সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
- পাকিস্তানের হাত ধরে মার্কিন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের অবসান?
- জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা
- পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড
- স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
- আলোচনায় ইরান কি এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী
- পেনি স্টকের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা
- স্বল্পমূল্যের শেয়ারে হঠাৎ উল্লম্ফন: ডিএসইর টপ গেইনার তালিকায় কী বার্তা দিচ্ছে বাজার?
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?
- তেল উত্তোলনে বড় ধস: উত্তাল পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার জেরে কুয়েতের পিছুটান
- বড় পর্দায় ফিরছে ‘মোআনা’: লাইভ-অ্যাকশনে চমক দেখাবেন ডোয়াইন জনসন
- মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৌদি-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ
- ১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল
- আবারও কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
- হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
- যুদ্ধের প্রভাবে থমকে গেছে দুবাইয়ের প্রোপার্টি মার্কেট: বিনিয়োগকারীদের পিছুটান
- যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল
- সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
- সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
- যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ক্রেতাদের মুখে হাসি
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- বুধবার দিনভর যেসব কর্মসূচিতে সরগরম থাকবে রাজধানী
- আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা
- ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়
- ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক
- ঈদের সরকারি বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ঢাকায় দুপুরে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: কাঁপতে পারে ৬ বিভাগ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ আপডেট
- মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
- এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়
- জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে মার্কিন চুক্তি: শামা ওবায়েদ
- ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
- ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: ১২০ সিগন্যাল হচ্ছে অটোমেশন
- যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনানের কাঁধে চড়ে জয়: সাফে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্স
- নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে পিএসএল মাতাতে ঢাকা ছাড়লেন তানজিদ-রিশাদ
- সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
- খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আইআরজিসি: ৭ রাউন্ডের হামলায় তছনছ ইসরায়েল
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- তেজাবি স্বর্ণের বাজারে ধস: ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি নিয়ে এল নতুন দাম
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান
- ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
- ইসরায়েলের গভীরে নজিরবিহীন হামলা: পাল্টাঘাতে ইরানের বার্তা, যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত








