মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:০৫:৩৮
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (Coastal Cruise Missile) মাধ্যমে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ২৬তম দিনে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।

ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের প্রতিটি মুভমেন্ট নিরবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এই রণতরী লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যার ফলে রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ তেহরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার শুরু হয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের অনবরত হামলা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, আল-আরাবিয়া


গাজায় অলৌকিক ঘটনা: মৃত্যুসনদ হাতে পাওয়ার পর মিলল ছেলের জীবিত থাকার খবর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৯:৫৪:৪১
গাজায় অলৌকিক ঘটনা: মৃত্যুসনদ হাতে পাওয়ার পর মিলল ছেলের জীবিত থাকার খবর
গাজায় ঈদ আবু শার মা মাহা আবু শার মোবাইলে ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কাঁদছেন। ইসরায়েলের কারাগারে তাঁর ছেলে জীবিত আছেন, এ খবর জানার পর একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছবি: আল–জাজিরার স্ক্রিনশট

দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে যে পরিবারটি শোকের চাদরে আবৃত ছিল এবং যে ছেলেটিকে মৃত ধরে নিয়ে যার মৃত্যুসনদ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই পরিবারের জীবনে হঠাৎ নেমে এলো এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক সংবাদ। গাজার হাসপাতাল, মর্গ এবং ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি কোণে খুঁজেও যার হদিস মেলেনি, সেই ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণ ঈদ নায়েল আবু শার দীর্ঘ দেড় বছর পর জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে ইসরায়েলি কারাগারে। সোমবার (৪ মে) এক আইনজীবীর ফোনকল গাজার এই পরিবারটির জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ঈদ আবু শার। গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিম করিডর, যা যুদ্ধের সময় 'অ্যাক্সিস অব ডেথ' বা মৃত্যুফাঁদ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিল, সেখানে কাজের সন্ধানে গিয়ে তিনি উধাও হয়ে যান। ছেলের সন্ধানে তার বাবা নায়েল আবু শার দিনের পর দিন গাজার প্রতিটি মর্গ এবং হাসপাতালের হিমঘরে অজ্ঞাত মরদেহের মুখ দেখে বেড়িয়েছেন।

ছেলের কোনো চিহ্ন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রেডক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থাও যখন হাল ছেড়ে দেয়, তখন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে শোকের তাঁবু খাটানো হয় এবং পাড়া-প্রতিবেশীরাও শোক প্রকাশে সামিল হন।

সবাই যখন গায়েবানা জানাজা পড়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, তখন একমাত্র মা মাহা আবু শারই ছিলেন অটল। তিনি বিশ্বাস করতেন তার ছেলে এখনো বেঁচে আছে। প্রায় এক মাস আগে ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি প্রথম দাবি করেন যে, তিনি সেখানে ঈদ আবু শারকে দেখেছেন।

এরপর গত সোমবার একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঈদ বর্তমানে ইসরায়েলের ওফার কারাগারে বন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন। এই খবর পাওয়ামাত্রই সেই বাড়িতে শোকের মাতম ছাপিয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

ঈদের ঘটনাটি একটি আনন্দের খবর হলেও এটি গাজার বর্তমান পরিস্থিতির এক ভয়াবহ রূপ উন্মোচন করেছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও গুমবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক নাদা নাবিল জানান, বর্তমানে গাজায় প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের কারাগারে গোপনে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের কোনো তথ্য পরিবারকে জানানো হচ্ছে না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জন বেঁচে আছে না কি মারা গেছে তা না জানার এই অবস্থাকে 'সাসপেন্ডেড গ্রিফ' বলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক নির্যাতনের শামিল।

নাদা নাবিলের অভিযোগ, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দিদের তালিকা গোপন রাখছে এবং রেডক্রসকে কারাগার পরিদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না। এর ফলে শুধু মানসিক নয়, সামাজিক ও আইনগত জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। অনেক নারী জানেন না তারা বিধবা কি না, ফলে উত্তরাধিকার বা পুনর্বিবাহের মতো বিষয়গুলো ঝুলে আছে। ঈদ আবু শারের পরিবার এখন ছেলের বেঁচে থাকার খবর পেলেও নতুন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।

কারাগারে তাদের সন্তান কী অবস্থায় আছে এবং তাকে কবে মুক্তি দেওয়া হবে—এই অনিশ্চয়তা এখন তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা। মা মাহা আবু শারের একটাই চাওয়া, প্রিয় সন্তানকে যেন খুব দ্রুত সুস্থ অবস্থায় বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন।

সূত্র: আল–জাজিরা


আহত হওয়ার পর রহস্যময় অবস্থানে খামেনি: কোথায় আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৭:৫৫:৩৮
আহত হওয়ার পর রহস্যময় অবস্থানে খামেনি: কোথায় আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মোজতবা খামেনি নেপথ্যে থেকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকে এক ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তাকে দ্রুত উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, খামেনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না; বরং গোপন বার্তাবাহক বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো এই সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের কিছুটা সামরিক ক্ষতি হলেও তাদের মূল সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে। কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান আরও কয়েক মাস এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে, খামেনিই নেপথ্য থেকে নির্ধারণ করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিল কতটা প্রসারিত হবে।

অন্যদিকে, শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি এক জনসমাবেশে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ওঠা সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, খামেনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং ধীরে ধীরে তার ক্ষত সেরে উঠছে। হোসেইনি অভিযোগ করেন যে, শত্রুরা তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সঠিক সময়ে তিনি নিজেই সবার সামনে উপস্থিত হবেন।"

সূত্র: সিএনএন


মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে তেলের বাজার গড়ছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৭:৪৯:৩০
মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে তেলের বাজার গড়ছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান জ্বালানি তেল চীনের কাছে বিক্রি করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। তেহরানভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ডিপ্লোহাউস’-এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদেহ সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন অবরোধ এবং সমুদ্রপথে নানামুখী বাধার মুখে ইরান তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সঙ্গে এই বিশেষ সমন্বয় করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেন।

এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত তেলের ব্যারেলগুলো বিক্রির পথ সুগম করা। বর্তমানে ইরানের বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা বিক্রির জন্য বেইজিংয়ের সরাসরি সহযোগিতা চাইছে তেহরান।

তেল কূটনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আরাগচি।

বিশেষ করে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করতে আরাগচি বিভিন্ন দেশের সমকক্ষদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।


ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে কর্পোরেট খেলা: যুদ্ধের আড়ালে বিলিয়ন ডলারের মুনাফা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৩:৫০:৫৭
ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে কর্পোরেট খেলা: যুদ্ধের আড়ালে বিলিয়ন ডলারের মুনাফা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। একদিকে যখন সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানির উচ্চমূল্যে পিষ্ট হচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু বড় করপোরেট জায়ান্ট এই সংকটকে পুঁজি করে ইতিহাসের রেকর্ড মুনাফা লুটে নিচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পার হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধের ফলে এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি সুফল পেয়েছে বিপি (BP), শেল এবং টোটালএনার্জিসের মতো বড় কোম্পানিগুলো। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিপির মুনাফা দ্বিগুণ বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে ঠেকেছে। একইভাবে শেল ৬৯২ কোটি এবং টোটালএনার্জিস ৫৪০ কোটি ডলার মুনাফা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক বাজারের অস্থিরতা কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো। জেপি মরগান এককভাবে প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে। এর পাশাপাশি অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যেমন লকহিড মার্টিন ও বোয়িংয়ের অর্ডারের তালিকা এখন রেকর্ড উচ্চতায়, যা প্রতিরক্ষা খাতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তেলের অস্থিরতা একদিকে সংকট বাড়ালেও অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের পথ প্রশস্ত করেছে। নেক্সটএরা এনার্জি বা ওরসটেড-এর মতো কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েকগুণ। তেলের বিকল্প হিসেবে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ সাধারণের পকেট খালি করলেও বিশ্বের শক্তিশালী কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


ইরান যুদ্ধেই মুনাফার পাহাড় গড়ছে যেসব কোম্পানি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৭:৩৩:৪৬
ইরান যুদ্ধেই মুনাফার পাহাড় গড়ছে যেসব কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই অস্থিতিশীল করে তোলেনি, একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তৈরি করেছে গভীর চাপ। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার অচলাবস্থা এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতায় বিশ্বের বহু দেশ যখন চাপে, তখন কিছু বহুজাতিক করপোরেশনের জন্য এই যুদ্ধ পরিণত হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগে।

বিশেষ করে তেল-গ্যাস, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও বাজারের ভয়কেই ব্যবসায়িক সুবিধায় রূপান্তর করছে এসব করপোরেশন।

তেলের বাজারে অস্থিরতা, মুনাফায় জ্বালানি জায়ান্ট

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সেখানে সামরিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি সুবিধা পেয়েছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো।

ব্রিটিশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বিপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কোম্পানিটি বলছে, অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিতে তাদের ট্রেডিং বিভাগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করেছে।

একই সময়ে শেল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে প্রায় ৬৯২ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি আয় করে ৫৪০ কোটি ডলারের মুনাফা দেখিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় কিছুটা কমেছে, তবুও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় আরও বাড়বে।

যুদ্ধের ভয়েই বাড়ছে ব্যাংকগুলোর আয়

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। শেয়ারবাজার, পণ্যবাজার এবং মুদ্রাবাজারে প্রতিদিন বড় ধরনের ওঠানামা হচ্ছে। আর এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করছে ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো।

জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে।

ব্যাংক অব আমেরিকা, মরগান স্ট্যানলি, সিটিগ্রুপ, গোল্ডম্যান স্যাকস ও ওয়েলস ফার্গোসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ, তেল, সোনা ও ডলারে ঝুঁকছেন। ফলে ট্রেডিং কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কমিশন ও লেনদেন আয়ও দ্রুত বাড়ছে।

অস্ত্র ব্যবসায় স্বর্ণসময়

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দ্রুত লাভবান খাতগুলোর একটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা শিল্প। ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র কেনার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বড় বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড অর্ডার পাচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে তাদের বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যানও নতুন সামরিক অর্ডারের তথ্য দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাজেট আরও বাড়বে, যা অস্ত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ

ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। তেলের দামের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে অনেক দেশ আবারও সৌর, বায়ু ও বৈদ্যুতিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ারের দাম চলতি বছরে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ডেনমার্কের ভেসটাস ও ওরস্টেডও মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অক্টোপাস এনার্জি জানিয়েছে, সৌর প্যানেল ও হিট পাম্পের বিক্রি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে চীনা নির্মাতারা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।

সূত্র:বিবিসি


যুদ্ধবিরতি বহাল, তবু ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৪:১৭:১০
যুদ্ধবিরতি বহাল, তবু ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবুও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কথা স্বীকার করছে না।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তার বক্তব্যে নতুন সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আল্টিমেটামের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ছিল সীমিত পরিসরের এবং সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ইরানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। তবে তেহরান বারবার অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। ইরানি সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষায় তারা ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, কীভাবে ছড়ায়?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১১:২৮:০৮
বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, কীভাবে ছড়ায়?
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়া বিরল হান্টাভাইরাসকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে ইতোমধ্যে তিনজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি ধরন মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমদিকে জ্বর, দুর্বলতা, শরীর ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে পানি জমা, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নেই।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার আগেই এক যাত্রী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মাধ্যমেই জাহাজের অন্য যাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ নামে পরিচিত এই ধরনটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা সাধারণ হান্টাভাইরাসের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক।

এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামানো হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীও মারা যান। এছাড়া ২ মে জাহাজে থাকা এক জার্মান নারী পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া পাঁচজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্রিটেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন করে আর কারও শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, হান্টাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্ত সময় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসতর্কতা জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রভিত্তিক ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান, সীমিত চিকিৎসা সুবিধা এবং বন্ধ পরিবেশ ভাইরাস বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

-রফিক


তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১১:১০:১৮
তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। একইসঙ্গে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজার চালু হলে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দাম এখনও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টা পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ১২ ডলার। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে এটি ১০৩ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যেকোনো ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট আক্রমণ নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে।

অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং কাছাকাছি থাকা আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি বেসামরিক এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় চলাচল সীমিত করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার এশিয়ার বাজার খোলার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক এক শতাংশের বেশি কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও চাপ তৈরি হয়েছে। আগের দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মন্দার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

-রাফসান


ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:৩২:৫৪
ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী (ফাইল ছবি)

ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণাত্মক অবস্থানে গিয়ে দেশটিকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব এখন আর ভারতের কোনো কথা বিশ্বাস করে না এবং ভারতীয় বয়ান এখন পুরোপুরি ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রাজনীতিকরণ ঘটেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ হয়েছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন আড়াল করতে বারবার পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা দায় চাপিয়ে থাকে। পেহেলগাম হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভারত এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জেনারেল আহমেদ শরিফ বলেন, ভারত আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ভারতের ‘ভণ্ডামি’ বুঝতে পারছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: